📄 ইমাম ‘আরিক আবূ আবদুল্লাহ ‘আযর ইবন ‘উসমান আল-মাক্কী (২৯৮ হিজরী)
তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে যারা কথা বলেছেন তাদের মধ্যকার প্রথম যুগের সেসব আল্লাহর বান্দা, যাদেরকে মানুষ সূফী নামে অভিহিত করে থাকে, আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণের ব্যাপারে তাদের আকীদাহ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ। কারণ তারা আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণের মাধ্যমে ইবাদাত করেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পেরেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম 'আরিফ আবু আবদুল্লাহ 'আমর ইবন 'উসমান রাহimahuallah। তিনি তার (আদাবুল মুরীদীন ওয়াত তা'আররুফ লি আহওয়ালিল 'উব্বাদ) গ্রন্থের "তাওবাকারীদের কাছে শয়তান যেভাবে আসে” অধ্যায়ে বলেন, তাওবাকারীরা শয়তানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করলে এবং আল্লাহকে আঁকড়ে ধরলে তাদের তাওহীদ নষ্ট করে দেয়ার লক্ষ্যে শয়তান তাদের মাঝে স্রষ্টার ব্যাপারে ওয়াসওয়াসা তৈরি করে। এরপর তিনি লম্বা আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, "তাওহীদের ব্যাপারে শয়তানের সবচেয়ে বড় ওয়াসওয়াসা হচ্ছে, আকৃতি প্রদান করা (সন্দেহ তৈরি করা) অথবা আল্লাহর গুণাবলিতে সবচেয়ে বড় ওয়াসওয়াসা হলো, দৃষ্টান্ত ও সাদৃশ্য দেয়া, অস্বীকার করা এবং তা'তীল বা অর্থশূন্য করা। তাদের মাঝে এ কথা ঢুকিয়ে দেয় যে, রবের শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হচ্ছে তাদের বিবেক-বুদ্ধি। তারা তা কবুল করলে ধ্বংস হয়ে যায় অথবা তাদের রুকন-আরকান নষ্ট হয়ে যায়, যদি তারা ইলমের আশ্রয় না নেয়। আল্লাহর মারেফাতের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যা আল্লাহ নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন ও যার মাধ্যমে নিজেকে গুণান্বিত বা তাঁর রাসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন সেটায় যথাযথ বিশ্বাস করা.
তিনি আরও বলেন, فهو تعالى القائل أنا الله لا الشجرة؛ الجائي قبل أن يكون جائياً لا أمره، المستوي على عرشه بعظمة جلاله دون كل مكان، الذي كلم موسى تكليماً، وأراه من آياته عظيمها، فسمع موسى كلام الله الوارث لخلقه، السميع الأصواتهم، الناظر بعينه إلى أجسامهم، يداه مبسوطتان، وهما غير نعمته وقدرته، خلق آدم بيده "আল্লাহ বলেছেন, أنا الله আমি আল্লাহ, গাছ নয়। তিনি স্বয়ং আগমনকারী, আগমন করার আগেই, আগমনকারী বলে তার আদেশের আগমন বুঝানো হয়নি। তিনি তাঁর বিরাট মর্যাদা সহকারে তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত, সর্বত্র নন। তিনি মূসা 'আলাইহিস সালামের সাথে মাধ্যম ব্যতীত কথা বলেছেন। তিনি তাকে তাঁর মহান নিদর্শন দেখিয়েছেন। মূসা আল্লাহর কথা শুনেছেন। তিনি সৃষ্টিজগতের মালিক। তাদের আওয়াজ শুনেন, তাঁর চোখ দিয়ে তাদের দেহ দেখেন। তাঁর দুই হাত প্রশস্ত। তাঁর হাত বলতে নি'আমত ও ক্ষমতা উদ্দেশ্য নয়। তাঁর হাত দ্বারা আদমকে সৃষ্টি করেছেন. এরপর তিনি আরও অনেক বিষয় উল্লেখ করেন.”(৫০৩)
টিকাঃ
৫০৩. ইবন তাইমিয়್ಯाह, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৬২-৬৫); নাকছু তা'সীسيل জাহמיয়্যاه (২/৫২৭); যাহাবী, আল-ארش, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৬৫; ইবনুল কাইয়્યেম, ইজতিমা'উল জুయুש, ২৭৪-২৭৫; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৬৯।
📄 ইমাম আহমাদ ইবন শু‘আইব আন-নাসায়ী (৩০৩ হিজরী)
বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ সুনান নাসায়ীর গ্রন্থকার ইমাম আবু আবদুর রহমান আহমად ইবন শু'আইب ইবন আলী আল-খোরাসানী, আন-নাসায়ী (৩০৩ হিজরী) তিনি বলেন, أخبرنا مَحْمُود بن غيلان قَالَ ثَنَا وَكِيعٌ وَأَبُو دَاوُد الْخُفِرِي عَن سُفْيَانِ عَنِ الْأَعْمَشِ عَن أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما فرغ الله من الخلق كتب على عرشه إِن رَحْمَتي سبقت غَضَبي) قَالَ أَبُو دَاوُد رحمتي تغلب غَضَبي وَهُوَ فَوقَ الْعَرْشِ "আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন মাহমূদ ইবন গায়লান, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন ওকী' ও আবু দাঊদ আল-হাফরী, তিনি সুفیان থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকর্ম সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি তাঁর 'আরশের উপর লিখলেন, নিশ্চয় আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে." তন্মধ্যে আবু দাঊদ আল-হাফরী বলেন, (রাসূল বলেছেন, আল্লাহ বলেন,) "আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে, আর তিনি 'আরশের উপর." (৫০৪)
তাছাড়া তিনি আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তার উপর দলীল হিসেবে নিয়ে আসেন, আল-আ'লা নামটি, আল-আলীয়্যু নামটি. (৫০৫)
আর তিনি আল্লাহ তা'আলাকে সর্বোচ্চ সত্তা সাব্যস্ত করার জন্য দলীল হিসেবে সূরা আল-হাদীদের আয়াত ﴾ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ﴿ ]আয়াত নং ০৩] "তিনিই সর্বপ্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই সর্বোপরে আর তিনিই সর্বনিকটে". এর তাফসীর হিসেবে তিনি বিখ্যাত হাদীসটি নিয়ে আসেন, যাতে এসেছে, اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ، وَرَبَّ الْأَرْضِ، وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحُبِّ وَالنَّوَى، مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ، وَالْإِنْجِيلِ، وَالْقُرْآنِ، نَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرِّ ، أَنْتَ آخُذْ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، أَقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِي مِنَ الْفَقْرِ “হে আল্লাহ! হে আকাশসমূহের রব, যমিনের রব, প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সবকিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন.” (৫০৬)
তিনি 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ 'উপরে উঠা' সাব্যস্ত করার জন্য সূরা ফুসসিলাতের আয়াত, ﴾ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ ﴿ "তারপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন”. [আয়াত নং ১১] এর তাফসীরে প্রথমে নিয়ে আসেন বিখ্যাত 'আল্লাহ কোথায়' প্রশ্নের হাদীসটি, أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ جَارِيَةٌ لِي كَانَتْ تَرْعَى غَنَمَا لِي ، فَجِئْتُهَا وَفَقَدْتُ شَاةٌ مِنَ الْغَنَمِ، فَسَأَلْتُهَا فَقَالَتْ: أَكَلَهَا الذَّنْبُ، فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا، وَكُنْتُ مِنْ بَنِي آدَمَ، فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَيَّ رَقَبَةٌ، أَفَأُعْتِقُهَا؟ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيْنَ اللَّهُ؟» قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «فَمَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «فَأَعْتِقْهَا» "ইমাম নাসায়ী বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন, কুতাইbah ইবন সা'ঈদ, তিনি মালেক থেকে, তিনি হিলাল ইবন উসামah থেকে, তিনি 'আতা ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি 'উमर ইবনুল হাকام থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার একটি দাসী ছাগল চরাতো, আমি সেগুলো নিয়ে আসলাম, একটি ছাগল কম ধরা পড়লো, তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, এটা নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে, ফলে আমি দুঃখিত হলাম সে ছাগলটির জন্য, আর আমি আদম সন্তানদের একজন, তাই তাকে তার চেহারায় চড় দিয়ে বসলাম, আর আমার ওপর একটি দাসমুক্তি করা পূর্ব থেকেই কর্তব্য হয়ে আছে, তাই আমি কি এ দাসীটিকে স্বাধীন করে দিব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীটিকে বললেন, "আল্লাহ কোথায়? দাসী উত্তর করলো, আসমানের উপরে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তারপর বলো আমি কে? তখন দাসীটি জবাব দিল, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাকে স্বাধীন করে দাও.”(৫০৭)
তারপর তিনি 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ উপরে উঠা সাব্যস্ত করার জন্য একটি হাদীস নিয়ে আসেন, যাতে 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ 'উপরে উঠা' করা ছাড়া কারও কোনো গত্যন্তর নেই। তিনি হাদীস বর্ণনা করে বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ كَبَّرَ ثَلَاثًا وَقَالَ: ﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبَّنَا لَمُنْقَلِبُونَ﴾ [الزخرف: ١٤]، اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمُنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ. "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তিনি তাঁর বাহনের উপরে উঠার পর, সফরে বের হতেন, তখন তিনবার তাকবীর দিতেন এবং বলতেন, “পবিত্র মহান সেই সত্তা, যিনি আমাদের জন্য একে বশীভূত করে দিয়েছেন, অন্যথায় আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব.” [সূরা আয-যুখরুফ: ১৪] হে আল্লাহ! আমরা এই সফরে আপনার কাছে চাই পুণ্য ও তাকওয়া এবং এমন কাজ যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ্! আপনিই সফরে আমাদের সাথী এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের তত্ত্বাবধায়ণকারী। হে আল্লাহ! আমরা আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট-ক্লেশ থেকে, অবাঞ্ছিত অবস্থার দৃশ্য থেকে এবং সম্পদ ও পরিবারে অনিষ্টকর প্রত্যাবর্তন থেকে.”(৫০৮)
আল্লাহু আকবার! কীভাবে আমাদের সালাফগণ জাহমিয়্যা ও তাদের দোসরদের পরাভূত করার জন্য কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল গ্রহণ করেন তা পর্যবেক্ষণ করলে আশ্চর্য হতে হয়। তারপরও যাদের অন্তরে তালা রয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই।
তাছাড়া উক্ত গ্রন্থে ইমাম নাসায়ী রাহimahuallah আল্লাহ তা'আলার সকল সত্তাগত গুণ যেমন চেহারা, হাত, পা, মুষ্টি, চোখ, আঙুল, সর্বোচ্চ সত্তা ইত্যাদি সাব্যস্ত করার পর অন্যান্য কর্মগত গুণ যেমন ভালোবাসা, অপছন্দ করা, খুশি হওয়া, সন্তুষ্ট হওয়া, অসন্তুষ্ট হওয়া, ক্রোধান্বিত হওয়া, রহমত প্রদান করা, হাসা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণের অসীলা দিয়ে দো'আ করা, আল্লাহর কালামের আশ্রয় নেয়া ইত্যাদিও সাব্যস্ত করেছেন. (৫০৯)
টিকাঃ
৫০৪. নাসায়ী, আন-নু'য়ূত, হাদীস নং ৯৩।
৫০৫. নাসায়ী, সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, কিতাব আন-নু'যূত, ৭/১২৬-১৩০, হাদীস নং ৭৬২৯, ৭৬৩০।
৫০৬. নাসায়ী, সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, কিতাব আন-নু'যূত, ৭/১২৬, হাদীس নং ৭৬২১।
৫০৭. নাসায়ী, সুনান আন-নাসায়ী আল-কুবরা, কিতাব আন-নু'যূত, ১০/২৪৫, হাদীস নং ১১৪۰১। নিঃসন্দেহে হাদীসটি সহীহ। যা মালেক তাঁর মুওয়াত্তায় নিয়ে এসেছেন, ২/৭৭৬, হাদীস নং ৮; শাফে'ঈ, কিতাবুর রিসালাহ পৃ. ৭৫, নং ২৪২, কিতাবুল উمم ৫/২৬৬-২৬৭; বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ ৯/২৪৬, হাদীস নং ২৩৬৫; বাইহাক্বী, আল-কুবরা, ৭/৩৮৭; দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ৩৮, হাদীস নং ৬২; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ ১/২৮৩; নং ১৮০, সবাই হাদীসটিকে ইমাম শাফে'ঈ, মালেক, হিলাল এভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় মালেক রাহimahuallah মুওয়ওয়িয়ah ইবনুল হাকামের জায়গায় 'উमर ইবনুল হাকাম বলেছেন, যা নিতান্তই ভুল ছিল। [ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ ২২/৭৬; দারাকুত্বনী, আল-ইলাল ৭/৮২, নং ১২২৮; মিযযী, তুহফাতুল আশরাফ ৮/৪২৭, ইবন হাজার, তালখীসুল হাবীর ৩/২২২]
৫০৮. নাসায়ী, সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, কিতাব আন-নু'যূত, ১০/২৪৫, হাদীস নং ১১৪۰২
৫০৯. নাসায়ী, সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, কিতাব আন-নুয়ূত, ৭/১২৬-১৬৭; হাদীস নং ৭৬২১, ৭৬২২, ৭৬২৯, ৭৬৩০, ৭৬৪৫, ৭৬৪৮, ৭৬৪৯, ৭৬৬২।
📄 আহমাদ ইবন ‘উসাইত ইবন সুয়াইজ (৩০৬ হিজরী)
ইমাম যাহাবী বলেন, প্রসিদ্ধ ইমাম আবুল কাসিম সা'দ ইবন আলী আল-যানজানী বলেন, আল্লাহ তোমাকে অটল রাখুন! তুমি আবেদন করেছো এ মর্মে যে, গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফ ও খালাফের সঠিক নীতির বর্ণনা দিতে। আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারাহ করেছি। আবুল 'আব্বাস আহমاد ইবন 'উমার ইবন সুরাইজ যে জবাব দিয়েছেন তাই আমি জবাব হিসেবে উল্লেখ করলাম: حرام على العقول أن تمثل الله، وعلى الأوهام أن تحده، وعلى الألباب أن تصف، إلا ما وصف به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله؛ وصح عند جميع أهل الديانة والسنة إلى زماننا أن جميع الآي والأخبار الصادقة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يجب على المسلم الإيمان بكل واحد منه كما ورد، وأن السؤال عن معانيها بدعة، والجواب كفر وزندقة، مثل قوله تعالى ﴿هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ) وقوله تعالى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَجَاءَ رَبُّكَ وَالمُلكُ صَفًّا صَفًّا ) ونظائرها مما نطق بها القرآن كالفوقية، والنفس، واليدين، والسمع، والبصر، وصعود الكلام الطيب إليه، والضحك، والتعجب، والنزول كل ليلة» إلى أن قال: «اعتقادنا فيه وفي الآي المتشابهة في القرآن، أن نقبلها ولا نردها، ولا نتأولها بتأويل المخالفين، ولا نحملها على تشبيه المشبهين، ولا نترجم عن صفاته بلغة غير العربية، ونسلم الخبر لظاهره والآية لظاهر تنزيلها. বিবেক-বুদ্ধির জন্য হারাম আল্লাহর দৃষ্টান্ত দেয়া, কল্পনার জন্য হারাম আল্লাহর সীমা নির্ধারণ করা, অন্তরের জন্য হারাম আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনা দেয়া। তবে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের ক্ষেত্রে যে গুণের বর্ণনা দিয়েছেন বা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন তা ব্যতীত। বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল দীনের অনুসারী ও আহলে সুন্নাহ'র মত হচ্ছে, সমস্ত আয়াত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্য হাদীসের প্রতি ঈমান রাখা মুসলিমের ওপর ওয়াজিব, যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবেই। এর অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করা বিদ'আত। জবাব দেয়া কুফুরী ও নাস্তিকতা। যেমন, আল্লাহ বলেন, 'তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ তাদের নিকট আগমন করবেন.' পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন, আর তোমার রব ও ফিরিশতাগণ উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে ও এ জাতীয় বিষয় যে ব্যাপারে কুরআন কথা বলেছে। যেমন, আল্লাহর ঊর্ধ্বে থাকা, নফস, দুই হাত, কান, চোখ, উত্তম কথা তাঁর দিকে উঠা, হাসি, আশ্চর্য হওয়া, প্রত্যেক রাতে অবতরণ করা। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় এবং কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতের ব্যাপারে আমাদের আকীদাহ হচ্ছে- আমরা তা গ্রহণ করবো, প্রত্যাখান করবো না, বিরোধীদের তা'বীলের ন্যায় তা'ওয়ীল করবো না, সাদৃশ্যদাতাদের ন্যায় সাদৃশ্য দিবো না, তাঁর গুণাবলি অনারব ভাষায় অনুবাদ করবো না। হাদীসকে ও আয়াতকে বাহ্যিকভাবে মেনে নিবো. (৫১০)
এরপর তিনি আরও বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা আমি এখানে উল্লেখ করলাম না. (৫১১)
টিকাঃ
৫১০. ইমাম আবুল কাসেম আয-যাঞ্জানীর ভাষ্য থেকে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হয়ে যায়: ১- আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ মুতাশাবিহাত নয়। তাঁর সময় পর্যন্ত কেউ এগুলোকে মুতাশাবিহাত বলতো না। তাই তিনিও বলেছেন, "এসব আয়াত এবং মুতাশাবিহাত..." অর্থাৎ তখন পর্যন্ত সবাই এটা বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ তা'আলার সিফাতের আয়াতগুলো মুতাশাবিহাত নয়। বরং এগুলো মূলত মুহকাম। ২- আল্লাহ তা'আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অনুবাদের ক্ষেত্রে খুবই সাবধান হতে হবে। আগে আরবীতে এর প্রকৃত অনুবাদ কী হয় তা জেনে নিব। কারণ একই শব্দের একাধিক অনুবাদ আরবীতেই রয়েছে, কোনটি আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রয়োগ করা যাবে তা ভালো করে নির্ধারণ করে নিতে হবে। তারপর সেটার অন্য ভাষায় এমন অনুবাদ করতে হবে, যে শব্দ ব্যবহার করলে কোনো নিষিদ্ধ জিনিস সাব্যস্ত করতে না হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলার 'জাওয়াদ' গুণটি। তার অনুবাদ যদি আমরা অতি দাতা অনুবাদ করি তাহলে সেটা সঠিক অনুবাদ হবে। কিন্তু যদি অনুবাদ করি বড় মনের অধিকারী বা মহৎ প্রাণের অধিকারী, তবে তা আল্লাহ তা'আলার জন্য মানানসই হবে না। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে সবই ব্যবহারযোগ্য। ৩- আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণাবলির প্রকাশ্য অর্থ বলতে সে অর্থই বুঝাবে, যা তাঁর শান, মান-মর্যাদা, মহত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রকাশ্য অর্থ করার মানে এটা নয় যে, মনে যা আসে তাই অনুবাদ করে দিব। এ জন্য পূর্বসূরী আলেমগণের মতামতের শ্মরণাপন্ন হতে হবে।
৫১১. যাহাবী, আল-'ארש, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আল-উলু ১৫২-১৫৩; আল-আরبا'ঈন ৯০-৯১; ইবুনল কাইয়્યেম, ইজতিমা'উল জুയুשิล ইসলামিয়্যاه ১৭১-১৭৩।
📄 যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী (৩০৭ হিজরী)
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী, তিনি ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর শিক্ষক ছিলেন, এ যাকারিয়া আস-সাজী রাহimahuallah থেকে তিনি ফিকহ ও হাদীস গ্রহণ করেন। ইমাম যাকারিয়া আস-সাজী বলেন, القول في السنة التي رأيت عليها أصحابنا أهل الحديث، أن الله تعالى على عرشه، في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء "আমি যে নীতির উপরে আমাদের আহলে হাদীস সাথীদের দেখেছি তা হলো- আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন।” তারপর তিনি সমস্ত আকীদাহ বর্ণনা করেন. (৫১২)
টিকাঃ
৫১২. ইবন তাইমিয়્યاه, নাকছু তা'সীسيل জাহמיয়्यاه (২/৫২৭-৫২৮); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৫০; আল-ארশ (২/৩৫৪), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭০।