📄 আবূ আছিম আন-নাবীল (২৮৭ হিজরী)
ইমাম আবু বাকর আহমাদ ইবন 'আমর ইবন আবি 'আসিম হলেন একজন ইমাম ও হাফিয ও আসবাহানের একজন লেখক। তিনি তাঁর আস-সুন্নাহ কিতাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ কী হবে তা বর্ণনা করেছেন। অনেক অধ্যায় বিন্যাস করেছেন, তন্মধ্যে একটি অধ্যায় হচ্ছে, بَابٌ : مِنْ ذِكْرِ عَرْشِ رَبَّنَا تَعَالَى مِنْ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَتَقَدَّسَ عُلُوًّا كَبِيرًا "অধ্যায়: আমাদের মহান রবের 'আরশের বর্ণনা, তিনি যে 'আরশের উপর উঠেছেন তার বর্ণনা, পবিত্র সে সত্তা অনেক বড় উঁচুতে রয়েছেন". তারপর তিনি এ বিষয়ে অনেক হাদীস নিয়ে আসেন. (৪৯৬) অন্যত্র তিনি বলেন, وجميع ما في كتابنا كتاب السنة الكبير» الذي فيه الأبواب من الأخبار التي ذكرنا أنها توجب العلم، فنحن نؤمن بها لصحتها، وعدالة ناقليها، ويجب التسليم لها على ظاهرها، وترك تكلف الكلام في كيفيتها আমাদের কিতাবুস সুন্নাহ আল-কাবীর গ্রন্থে যেসব হাদীস উল্লেখ করেছি সেগুলো ইলমকে আবশ্যক করে। সেগুলোতে আমরা বিশ্বাস রাখবো, সেগুলো সহীহ হওয়া ও তার বর্ণনাকারীগণ ন্যায়পরায়ণ হওয়ার কারণেই। সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থের ওপর মেনে নেয়া কর্তব্য, তাঁর ধরন নির্ধারণ নিয়ে অযথা কথাবার্তা ত্যাগ করাও জরুরী. (৪৯৭) তারপর তিনি নিকটবর্তী আসমানে আল্লাহর নেমে আসা, 'আরশের উপর উঠার সংক্রান্ত আলোচনা করেন. (৪৯৮)
টিকাঃ
৪৯৬. আস-সুন্নাহ ইবন আবী আসেম পৃ. ২৪২; তাহকীক: বাসেম ইবন ফায়সাল আল-জাওয়াবেরাহ।
৪৯৭. যাহাবী, আল-'ארש (২/৩৪৯-৩৫০), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; আল-উলু, পৃ. ১৪৬।
৪৯৮. আস-সুন্নاه, ইবন আবী আসেম (১/২১৫); আরও দেখুন, ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরש, পৃ. ৬৯।
📄 আবুল আব্বাস সালাম (২৯১ হিজরী)
* ইমাম দারাকুতনী সনদসহ বর্ণনা করেন, আবুল 'আব্বাস সা'লাব বলেন, 'ইস্তেওয়া আলাল 'আরশ অর্থ, 'আরশের উপর উঠেছেন. (৪৯৯)
* ইসহাক্ব আল-কাযী বলেন, আমি আবুল 'আব্বাস সা'লাবকে বলতে শুনেছি, “ওয়াস্তাওয়া আলাল 'আরশ” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] অর্থাৎ 'আলা' বা উপরে উঠলেন. (৫০০)
* তাছাড়া আবুল 'আব্বাস সা'লাব 'ইস্তেওয়া' সংক্রান্ত মু'তাযিলাদের আকীদাহ বর্ণনা করে তার প্রতিবাদও করেছেন. (৫০১)
টিকাঃ
৪৯৯. লালেকাঈ, শারহু উসুলিল ই'তিকাদ (৩/৩৯৭)।
৫০০. শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৪৪৩), নং ৬৬৮।
৫০১. মাজালিসু সা'লাব (১/২৬৯), ১৭৪।
📄 মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন আবী শাইবাহ (২৯৭ হিজরী)
মুহাম্মاد ইবন 'উসমান ইবন আবী শাইbah তার কিতাবুল 'আরশ গ্রন্থে বলেন, ذكروا أن الجهمية يقولون: ليس بين الله وبين خلقه حجاب، وأنكروا العرش، وأن يكون الله فوقه، وقالوا إنه في كل مكان জাহমিয়্যারা বলে, আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে পর্দা নেই (ভেদাভেদ নেই, আলাদা নয়)। তারা 'আরশ ও তার উপরে আল্লাহর থাকাকে অস্বীকার করে। তারা বলে- আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তারপর তিনি আরও অনেক কিছু উল্লেখ করে বলেন, فسرت العلماء هو معكم يعني بعلمه». وقال عز وجل: (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، فَاللَّهُ تَعَالَى اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَرَى كُلَّ شيء في السموات والأرضين، وَيَعْلَمُ وَيَسْمَعُ كُلَّ ذَلِكَ بِعَيْنِهِ وَهُوَ فَوْقَ الْعَرْشِ، لَا الْحُجُبُ الَّتِي احتجب بها عن خَلْقِهِ تَحْجُبُهُ مِنْ أَنْ يَرَى وَيَسْمَعَ مَا فِي الْأَرْضِ السُّفْلَى، وَلَكِنَّهُ خَلَقَ الْحُجُبَ وَخَلَقَ الْعَرْشَ كَمَا خَلَقَ الخَلْقَ لِمَا شَاءَ وَكَيْفَ شَاءَ وَمَا يَحْمِلُهُ إِلَّا عَظَمَتُه ... ثم قال : توافرت الأخبار أن الله خلق العرش فاستوى عليه بذاته، ... فهو فوق السموات وفوق العرش بذاته، متخلصا من خلقه بائنا منهم. "আলিমগণ "আল্লাহ তোমাদের সাথে”-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তিনি ইলমের দ্বারা তোমাদের সাথে। আর মহান আল্লাহ বলেন, “রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন”; সুতরাং আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন, আসমান ও যমীনের সবকিছু তিনি দেখেন, এসবই তিনি জানেন ও শুনেন তাঁর চোখের দ্বারা এমতাবস্থায় যে, তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন। যত পর্দা দিয়েই তিনি সৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করেন না কেন, তা যমীনের নিচ পর্যন্ত দেখতে ও শুনতে তার জন্য বাধা হয় না। বরং তিনি পর্দা সৃষ্টি করেছেন, 'আরশ সৃষ্টি করেছেন যেমন তিনি সকল সৃষ্টকে সৃষ্টি করেছেন, যে জন্য তিনি চেয়েছেন, যে ধরনের ইচ্ছা তিনি করেছেন, তাকে তো তার মহত্বই শুধু বহন করে. ..... তারপর বলেন, আল্লাহ 'আরশ সৃষ্টি করেছেন তারপর সত্তাগতভাবে তিনি তার উপরে উঠেছেন, এ মর্মে প্রচুর হাদীস আছে। সুতরাং তিনি আসমানসমূহের উপরে, তিনি সত্তাগতভাবে তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাদের থেকে আলাদা.”(৫০২)
টিকাঃ
৫০২. ইবন আবী শাইbah, কিতাবুল 'আরش (২/২৭৮-২৯۰); তাহকীক, ড. মুহাম্মাদ ইবন খলীফা আত-তামীমী; যাহাবী, আল-ארশ, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৬৭।
📄 ইমাম ‘আরিক আবূ আবদুল্লাহ ‘আযর ইবন ‘উসমান আল-মাক্কী (২৯৮ হিজরী)
তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে যারা কথা বলেছেন তাদের মধ্যকার প্রথম যুগের সেসব আল্লাহর বান্দা, যাদেরকে মানুষ সূফী নামে অভিহিত করে থাকে, আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণের ব্যাপারে তাদের আকীদাহ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ। কারণ তারা আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণের মাধ্যমে ইবাদাত করেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পেরেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম 'আরিফ আবু আবদুল্লাহ 'আমর ইবন 'উসমান রাহimahuallah। তিনি তার (আদাবুল মুরীদীন ওয়াত তা'আররুফ লি আহওয়ালিল 'উব্বাদ) গ্রন্থের "তাওবাকারীদের কাছে শয়তান যেভাবে আসে” অধ্যায়ে বলেন, তাওবাকারীরা শয়তানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করলে এবং আল্লাহকে আঁকড়ে ধরলে তাদের তাওহীদ নষ্ট করে দেয়ার লক্ষ্যে শয়তান তাদের মাঝে স্রষ্টার ব্যাপারে ওয়াসওয়াসা তৈরি করে। এরপর তিনি লম্বা আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, "তাওহীদের ব্যাপারে শয়তানের সবচেয়ে বড় ওয়াসওয়াসা হচ্ছে, আকৃতি প্রদান করা (সন্দেহ তৈরি করা) অথবা আল্লাহর গুণাবলিতে সবচেয়ে বড় ওয়াসওয়াসা হলো, দৃষ্টান্ত ও সাদৃশ্য দেয়া, অস্বীকার করা এবং তা'তীল বা অর্থশূন্য করা। তাদের মাঝে এ কথা ঢুকিয়ে দেয় যে, রবের শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হচ্ছে তাদের বিবেক-বুদ্ধি। তারা তা কবুল করলে ধ্বংস হয়ে যায় অথবা তাদের রুকন-আরকান নষ্ট হয়ে যায়, যদি তারা ইলমের আশ্রয় না নেয়। আল্লাহর মারেফাতের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যা আল্লাহ নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন ও যার মাধ্যমে নিজেকে গুণান্বিত বা তাঁর রাসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন সেটায় যথাযথ বিশ্বাস করা.
তিনি আরও বলেন, فهو تعالى القائل أنا الله لا الشجرة؛ الجائي قبل أن يكون جائياً لا أمره، المستوي على عرشه بعظمة جلاله دون كل مكان، الذي كلم موسى تكليماً، وأراه من آياته عظيمها، فسمع موسى كلام الله الوارث لخلقه، السميع الأصواتهم، الناظر بعينه إلى أجسامهم، يداه مبسوطتان، وهما غير نعمته وقدرته، خلق آدم بيده "আল্লাহ বলেছেন, أنا الله আমি আল্লাহ, গাছ নয়। তিনি স্বয়ং আগমনকারী, আগমন করার আগেই, আগমনকারী বলে তার আদেশের আগমন বুঝানো হয়নি। তিনি তাঁর বিরাট মর্যাদা সহকারে তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত, সর্বত্র নন। তিনি মূসা 'আলাইহিস সালামের সাথে মাধ্যম ব্যতীত কথা বলেছেন। তিনি তাকে তাঁর মহান নিদর্শন দেখিয়েছেন। মূসা আল্লাহর কথা শুনেছেন। তিনি সৃষ্টিজগতের মালিক। তাদের আওয়াজ শুনেন, তাঁর চোখ দিয়ে তাদের দেহ দেখেন। তাঁর দুই হাত প্রশস্ত। তাঁর হাত বলতে নি'আমত ও ক্ষমতা উদ্দেশ্য নয়। তাঁর হাত দ্বারা আদমকে সৃষ্টি করেছেন. এরপর তিনি আরও অনেক বিষয় উল্লেখ করেন.”(৫০৩)
টিকাঃ
৫০৩. ইবন তাইমিয়್ಯाह, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৬২-৬৫); নাকছু তা'সীسيل জাহמיয়্যاه (২/৫২৭); যাহাবী, আল-ארش, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৬৫; ইবনুল কাইয়્યেম, ইজতিমা'উল জুయুש, ২৭৪-২৭৫; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৬৯।