📄 ইমাম আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন আশ‘আস আস-সিজিস্তানী (২৭৫ হিজরী)
ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবন আশ'আস আস-সিজিস্তানী রাহimahuallah তাঁর কিতাবে এমনসব হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে এটা সুস্পষ্ট হয় যে, তিনি আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর হওয়ার বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্ত বিষয় হিসেবে মনে করতেন। যেমন তিনি তাঁর কিতাবে জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে অধ্যায় বিন্যাস করে বলেছেন, 'বাবুন ফিল জাহমিয়্যাহ' তারপর তিনি আল্লাহ তা'আলার গুণসমূহ করে এমন হাদীসসমূহ নিয়ে এসেছেন, বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের উপর তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন সেটার ওপর কয়েকটি হাদীস নিয়ে এসেছেন। তারপর 'আরশ বহনকারীদের বর্ণনায় আসা হাদীস নিয়ে এসেছেন. (৪৭৮)
টিকাঃ
৪৭৮. আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (৭/১১১), কিতাবুস সুন্নাহ, অধ্যায় নং ১৯, হাদীس নং ৪৭২১-৪৭২৮।
📄 আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবাহ (২৭৬ হিজরী)
আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইbah স্বীয় গ্রন্থ মুখতালাফুল হাদীসে বলেন, نحن نقول في قوله مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ إنه معهم يعلم ما هم عليه، كما تقول للرجل وجهته إلى بلد شاسع، احذر التقصير فإني معك، تريد أنه لا يخفى على تقصيرك وكيف يسوغ لأحد أن يقول: إنه سبحانه بكل مكان على الحلول فيه مع قوله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ومع قوله إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ؟ وكيف يصعد إليه شيء هو معه؟ وكيف تعرج الملائكة إليه وهي معه؟ ولولا أن هؤلاء رجعوا إلى فطرهم، وما ركبت عليه خِلَقهم من معرفة الخالق لعلموا أن الله هو العلي وهو الأعلى، وأن الأيدي ترتفع بالدعاء إليه، والأمم كلها أعجميها وعربيها، تقول: إن الله في السماء . ما تركت على فطرتها». আল্লাহর বাণী: "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না." -এর ক্ষেত্রে আমরা বলি, তিনি তাদের সাথে, তিনি জানেন তারা কী করছে। যেমন, তুমি কাউকে দূর এলাকায় পাঠালে বলো, অবহেলা করবে না, আমি তোমার সাথে আছি। তুমি বুঝাতে চাও তোমার অবহেলা আমার কাছে গোপন থাকবে না। একজন ব্যক্তির পক্ষে কীভাবে বলা সমীচীন হতে পারে যে, আল্লাহ তা'আলা সর্বত্র সত্তাগতভাবে মিশে গেছেন? অথচ আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন" আরও বলেন- “তাঁর দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ উঠে." তাঁর দিকে কোনো জিনিস কীভাবে উঠতে পারে, যদি তিনি সেই জিনিসের সাথেই থাকেন? ফিরিশতা কীভাবে তাঁর দিকে উঠে, যদি তিনি ফিরিশতার সাথেই থাকেন?
স্রষ্টাকে চেনার জন্য তারা যদি তাদের স্বভাবজাত ধর্মের দিকে আসত ও তাদেরকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে তার দিকে ফিরে আসত, তাহলে তারা জেনে ফেলতো, আল্লাহ সুউচ্চ, তিনি ঊর্ধ্বে। দো'আ করার সময় হাতসমূহ তার দিকে তুলে ধরা হয়। আরব অনারব সকলেই বলে, আল্লাহ আসমানের উপরে। কারণ, তারা মূলত তাদের স্বভাবজাত ধর্মের উপরেই আছে. (৪৭৯) তাছাড়া তিনি তাঁর "আল-ইখতিলাফ ফিল লাফয" গ্রন্থে বলেন, (الرد على متأولي الاستواء) وقالوا في قوله: الرحمن على العرش استوى أنه استولى وليس يعرف في اللغة استويت على الدار : أي استوليت عليها وإنما استوى في هذا المكان: استقر كما قال الله تعالى: ﴿فإذا استويت أنت ومن معك على الفلك أي استقررت وقد يقول الرجل لصاحبه إذا رآه مستوفزاً (استو) يريد: استقر .
وأما قوله: ثم استوى إلى السماء ) فإنه أراد عمد لها وقصد فكل من كان في شيء ثم تركه لفراغ أو غير فراغ وعمد لغيره فقد استوى إليه. "যারা আল্লাহর 'সিফাত' ইস্তেওয়া বা উপরে উঠাকে অপব্যাখ্যা করে, তাদের মত খণ্ডন" আর তারা আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' এ গুণটিকে অপব্যাখ্যা করে বলে, তার অর্থ অধিকার করা। অথচ তা আরবী ভাষায় পরিচিত অর্থ নয়। আরবী ভাষায় 'ইস্তাওয়াইতু 'আলাদ দারি' বলে কখনো বুঝানো হয় না: আমি ঘরটির উপর কবজা করেছি। এখানে 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ হচ্ছে উপরে থাকা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'অতঃপর যখন আপনি ও আপনার সাথে যারা আছে তারা জাহাজে অবস্থান নিবে' অর্থাৎ সেখানে উঠে অবস্থান নিবে। এজন্যই কখনও কখনও কোনো লোক অপর কাউকে কোনো লোককে কোনো জায়গায় অবস্থান নিতে দেখলে বলে, 'ইস্তাওয়া' অর্থাৎ অবস্থান নিল.
আর আল্লাহর বাণী 'তারপর তিনি আসমানের দিকে ইচ্ছা করলেন' সেটার অর্থ তিনি ইচ্ছা করলেন, ইরাদা করলেন। সুতরাং যে কেউ কোথাও ছিল তারপর সে তা খালি করার জন্য বা খালি না করার জন্যই হোক যদি সেটা ত্যাগ করে অন্য কিছুর ইচ্ছা করলো এটাকেই বলা হবে 'ইস্তাওয়া 'আলাইহি'."(৪৮০)
অন্যত্র বলেন, مجمل اعتقاد السلف في الصفات وعدل القول في هذه الأخبار أن نؤمن بها صح منها بنقل الثقات لها فنؤمن بالرؤية والتجلي وإنه يعجب وينزل إلى السماء الدنيا وأنه على العرش استوى وبالنفس واليدين من غير أن نقول في ذلك بكيفية أو بحد أو أن نقيس على ما جاء ما لم يأت فنرجو أن نكون في ذلك القول والعقد على سبيل النجاة غداً إن شاء الله تعالى. "[আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের আকীদাহ'র সংক্ষিপ্ত বর্ণনা]: আর এ সকল হাদীসের ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ কথা হচ্ছে, এগুলোর মধ্যে যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হবে তার উপর ঈমান আনা। সুতরাং আমরা আল্লাহকে দেখা, আল্লাহর তাজাল্লী বা প্রকাশিত হওয়া, তাঁর আশ্চর্যান্বিত হওয়া, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, 'আরশের উপরে উঠা, তাঁর জন্য সত্তা, দু' হাত' এর ওপর আমরা ঈমান আনি। তবে সেগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ করি না, কোনো সীমা বেঁধে দেই না। অথবা যা আসেনি তাকে যা এসেছে তার ওপর কিয়াস করি না। সুতরাং আমরা আশা করি যে, এরকম কথা বলা ও আকীদাহ রাখার মাধ্যমে আগামী দিন নাজাতের অধিকারীদের পথে থাকতে পারবো ইনশাআল্লাহ.” (৪৮১)
টিকাঃ
৪৭৯. মুখতালাফুল হাদীস, ১৮২-১৮৩; যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৪৬) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইبن আবদুল হাদী, আল-কাلام আলা মাসআلاতিল ইস্তেওয়া 'আلال 'আরש, পৃ. ৬৮।
৪৮۰. আল-ইখতিলাফু ফিল লাফযি, পৃ. ৫৩।
৪৮১. আল-ইখতিলাফু ফিল লাফযি, পৃ. ৫৩।
📄 ‘উসা মুহাম্মাদ ইবন ‘ঈসা আত-তিরমিযী (২৭৯ হিজরী)
ইমাম আবু 'ঈসা মুহাম্মاد ইবন 'ঈসা আত-তিরমিযী, যিনি জামে'উত তিরমিযীর গ্রন্থকার, তিনি তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ সম্পর্কে তার আকীদাহ তুলে ধরেন। যেমন তিনি বলেন, وَهُوَ عَلَى العَرْشِ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ». "আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে তাঁর নিজেকে গুণান্বিত করেছেন.” (৪৮২)
অন্যত্র ইমাম তিরমিযী রাহimahuallah আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক 'জাহান্নামে পা রাখার কারণে তা পূর্ণ হবে' উক্ত হাদীসটি বর্ণনার পরে বলেন, وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِوَايَاتٌ كَثِيرَةٌ مِثْلُ هَذَا مَا يُذْكَرُ فِيهِ أَمْرُ الرُّؤْيَةِ أَنَّ النَّاسَ يَرَوْنَ رَبَّهُمْ وَذِكْرُ القَدَمِ وَمَا أَشْبَهَ هَذِهِ الْأَشْيَاءَ وَالمَذْهَبُ فِي هَذَا عِنْدَ أَهْلِ العِلْمِ مِنَ الأَئِمَّةِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَابْنِ الْمُبَارَكِ، وَابْنِ عُيَيْنَةَ، وَوَكِيعٍ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ رَوَوْا هَذِهِ الأَشْيَاءَ، ثُمَّ قَالُوا : تُرْوَى هَذِهِ الْأَحَادِيثُ وَنُؤْمِنُ بِهَا، وَلَا يُقَالُ: كَيْفَ؟ وَهَذَا الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْحَدِيثِ أَنْ يَرْوُوا هَذِهِ الْأَشْيَاءُ كَمَا جَاءَتْ وَيُؤْمَنُ بِهَا وَلَا تُفَسِّرُ وَلَا تُتَوَهَّمُ وَلَا يُقَالُ: كَيْفَ، وَهَذَا أَمْرُ أَهْلِ العِلْمِ الَّذِي اخْتَارُوهُ وَذَهَبُوا إِلَيْهِ. "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকম অনেক অনেক বর্ণনা এসেছে, যাতে দেখার বিষয়টি এসেছে যে, নিশ্চয় মানুষ তাদের রবকে দেখবে, অনুরূপভাবে 'পা' এর উল্লেখ, তদ্রূপ আরও যা এসেছে, এ ব্যাপারে আলেম (জ্ঞানী) ইমামগণ যেমন সুفیان আস-সাওরী, মালিক ইবন আনাস, ইবনুল মুবারক, ইবন 'উয়াইনাহ, ওকী' অনুরূপ আরও যারা আছেন, তারা এগুলো বর্ণনা করেছেন, তারপর বলেছেন, এ হাদীসগুলো বর্ণনা করা হবে, আমরা এগুলোর অর্থের ওপর ঈমান আনব, বলা যাবে না, সেটা কেমন বা সেটার ধরন কী? এই যে মত হাদীস বিশারদগণ গ্রহণ করেছেন যে, এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে বর্ণনা করা হবে, আমরা এগুলোর অর্থের ওপর ঈমান আনব, কিন্তু ব্যাখ্যা করা হবে না, ধারণা করা হবে না, জিজ্ঞাসা করা হবে না যে সেটা কেমন বা সেটার ধরন কী? এটাই হচ্ছে আলেমগণের নীতি যা তারা অবলম্বন করেছেন এবং সেটার দিকেই গিয়েছেন.” (৪৮৩)
অন্যত্র বান্দার দান আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক ডান হাতে গ্রহণ করার হাদীসটি আনয়ন করার পর তিনি বলেন, وَقَدْ قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ العِلْمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنَ الرِّوَايَاتِ مِنَ الصِّفَاتِ: وَنُزُولِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، قَالُوا: قَدْ تَثْبُتُ الرِّوَايَاتُ فِي هَذَا وَيُؤْمَنُ بِهَا وَلَا يُتَوَهَّمُ وَلَا يُقَالُ: كَيْفَ هَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكٍ، وَسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُمْ قَالُوا فِي هَذِهِ الأَحَادِيثِ: أَمِرُّوهَا بِلَا كَيْفٍ، وَهَكَذَا قَوْلُ أَهْلِ العِلْمِ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، وَأَمَّا الْجَهْمِيَّةُ فَأَنْكَرَتْ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ وَقَالُوا: هَذَا تَشْبِيهُ، وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي غَيْرِ مَوْضِعِ مِنْ كِتَابِهِ البَدَ وَالسَّمْعَ وَالبَصَرَ، فَتَأَوَّلَتِ الْجَهْمِيَّةُ هَذِهِ الآيَاتِ فَفَسَّرُوهَا عَلَى غَيْرِ مَا فَسَّرَ أَهْلُ العِلْمِ، وَقَالُوا: إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَخْلُقُ آدَمَ بِيَدِهِ، وَقَالُوا : إِنَّ مَعْنَى اليَدِ هَاهُنَا القُوَّةُ ، وقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ: إِنَّمَا يَكُونُ التَّشْبِيهُ إِذَا قَالَ: يَدْ كَيْدٍ، أَوْ مِثْلُ يَدٍ، أَوْ سَمْعٌ كَسَمْعِ، أَوْ مِثْلُ سَمْعٍ، فَإِذَا قَالَ: سَمْعٌ كَسَمْعِ، أَوْ مِثْلُ سَمْعِ، فَهَذَا التَّشْبِيهُ، وَأَمَّا إِذَا قَالَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى بَدْ، وَسَمْعٌ، وَبَصَرٌ ، وَلَا يَقُولُ كَيْفَ ، وَلَا يَقُولُ مِثْلُ سَمْعِ ، وَلَا كَسَمْعِ، فَهَذَا لَا يَكُونُ تَشْبِيهَا، وَهُوَ كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ : لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ) [الشورى: ١١] "একাধিক আলেম বলেছেন যে, এ হাদীস ও এর মতো অনুরূপ বর্ণনা যাতে আল্লাহর সিফাত বা গুণের বর্ণনা এসেছে, যেমন মহান আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা কর্তৃক প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করা, এগুলোর ব্যাপারে তারা বলেছেন, এ বর্ণনাগুলো অবশ্য সাব্যস্ত করতে হবে, এগুলোর ওপর ঈমান আনতে হবে, তবে ধারণা করা যাবে না এবং প্রশ্ন করা হবে না, কীভাবে তা হলো? এ রকমই বর্ণিত হয়েছে, মালিক থেকে সুفیان ইবন 'উয়াইনাহ থেকে ও ইবনুল মুবারক থেকে। তারা এসব হাদীস সম্পর্কে বলেছেন, এগুলোকে ধরন নির্ধারণ না করে চালিয়ে নাও। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আলেমগণ এ রকমই বলেছেন। কিন্তু জাহমিয়্যাহ, তারা এসব বর্ণনাকে অস্বীকার করেছে। তারা বলে যে, এগুলো সাব্যস্ত করলে তাশবীহ হয়ে যায়। অথচ আল্লাহ তা'আলা কুরআনের একাধিক জায়গায় তাঁর জন্য শোনা, দেখা ও হাত গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। জাহমিয়্যারা এসব আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছে, তারা এগুলোর এমনসব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে যা কোনো আলেম কখনও করেননি। তারা বলে যে, আল্লাহ তা'আলা আদমকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেননি। তারা আরও বলে, এখানে 'ইয়াদ' অর্থ শক্তি। অথচ ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রাহওয়াইহ) বলেন, তাশবীহ বা সাদৃশ্য স্থাপন তো তখন হবে যখন বলা হবে, হাত কোনো হাতের মত, বা কোনো হাতের অনুরূপ, শোনা কোনো শোনার মত বা কোনো শোনার অনুরূপ। সুতরাং যখন বলা হবে, কোনো শোনার মত শোনা কিংবা কোনো শোনার অনুরূপ তখনই কেবল সেটা দ্বারা সাদৃশ্য স্থাপন করা হয়ে যায়। কিন্তু যদি বলা হয়, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, হাত, শোনা ও দেখা, তারপর আর সেটা কী রকম বা সেটার ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন না করে, কোনো শোনার মত শোনা কিংবা কোনো শোনার অনুরূপ না বলে, তখন সেটা দ্বারা তাশবীহ বা সাদৃশ্য স্থাপন করা হয় না। আর তিনি তো তেমন, যেমন তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন, "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা.” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] (৪৮৪)
টিকাঃ
৪৮২. তিরমিযী, আল-জামে'উ (৫/৪০৩); হাদীس নং ৩২৯৮ এর ব্যাখ্যয়।
৪৮৩. জামে'উত তিরমিযী (৪/৬৯১), হাদীس নং ২৫৫৭ এর ব্যাখ্যা।
৪৮৪. জামে'উত তিরমিযী (৩/৪১), হাদীস নং ৬৬২ এর ব্যাখ্যায়।
📄 উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী (২৮০ হিজরী)
ইমাম যাহাবী এ মহান ইমাম সম্পর্কে বলেন, 'উসমান আদ-দারেমী বিদ'আতীদের চোখের কাঁটা ছিলেন। (৪৮৫) তিনি সহীহ আকীদাহ'র এক অনন্য সিপাহসালার। তিনি জাহমীদের বিরুদ্ধেই দু'টি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। একটি হচ্ছে আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, আরেকটি হচ্ছে, আন-নাক্কছু আলাল বিশর আল-মারীসী। তন্মধ্যে 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যা' গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বলেন, الْحَمْدُ للهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى ، عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ، يَعْلَمُ سَرَّ خَلْقِهِ وَجَهْرَهُمُ، وَيَعْلَمُ مَا يَكْسِبُونَ ، نَحْمَدُهُ بِجَمِيعِ تَحَامِدِهِ، وَنَصِفُهُ بُمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَوَصَفَهُ بِهِ الرَّسُولُ، فَهُوَ اللهُ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، قَرِيبٌ مُجِيبٌ، مُتَكَلَّمٌ قَائِلٌ، وَشَاءٍ مُرِيدٌ، فَقَالٌ لِمَا يُرِيدُ، الْأَوَّلُ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ، وَالْآخِرُ بَعْدَ كُلِّ شَيْءٍ، لَهُ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَلَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ، وَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى ، يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ، يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ، وَيَتَكَلَّمُ، وَيَرْضَى وَيَسْخَطُ، وَيَغْضَبُ، وَيُحِبُّ، وَيَبْغَضُ، وَيَكْرَهُ، وَيَضْحَكُ، وَيَأْمُرُ وَيَنْهَى، ذُو الْوَجْهِ الْكَرِيمِ، وَالسَّمْعِ السَّمِيعِ وَالْبَصَرِ الْبَصِيرِ، وَالْكَلَامِ الْمُبِينِ، وَالْيَدَينِ وَالْقَبْضَتَينِ، وَالْقُدْرَةِ وَالسُّلْطَانِ وَالْعَظَمَةِ، وَالْعِلْمِ الْأَزَلِيِّ، لَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ وَلَا يَزَالُ، اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهَ فَبَانَ مِنْ خَلْقِهِ، لَا تَخْفَى عَلَيْهِ مِنْهُمْ خَافِيَةٌ، عِلْمُهُ بِهِمْ مُحِيطٌ ، وَبَصَرُهُ فِيهِمْ نَافِةٌ، لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ. فَبِهَذَا الرَّبِ نُؤْمِنُ، وَإِيَّاهُ نَعْبُدُ، وَلَهُ نَصَلِّي وَنَسْجُدُ، فَمَنْ قَصَدَ بِعِبَادَتِهِ إِلَى إِلَهِ بِخَلَافِ هَذِهِ الصَّفَاتِ، فَإِنَّمَا يَعْبُدُ غَيْرَ اللَّهِ، وَلَيْسِ مَعْبُودُهُ بِإِلَهِ». "হামদ জাতীয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁরই মালিকানায় আসমান, যমীন, এতদুভয়ের মাঝে, মাটির নিচে যা কিছু আছে সব। গায়েব এর জ্ঞানী তিনি, আসমান ও যমীনের শষ্য দানা পরিমাণ বস্তুতও তাঁর অগোচরে নেই। সৃষ্টির গোপন রহস্য ও প্রকাশ্য জিনিস সবই তিনি জানেন, তিনি জানেন যা তোমরা অর্জন করো। আমরা আল্লাহর হামد ঘোষণা করছি তাঁর যাবতীয় হামد দিয়ে, আমরা তাকে গুণান্বিত ঘোষণা করছি যাতে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং রাসূল তাকে গুণান্বিত করেছেন। তিনিই আল্লাহ, পরম দয়ালু, অনুগ্রহকারী, নিকটে, ডাকে সাড়া প্রদানকারী, কথা বলতে সক্ষম, কথা বলেন, ইচ্ছা করেন, ইরাদা করেন, যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তিনি সবকিছুর প্রথম, তিনি সবকিছুর শেষ, যাবতীয় নির্দেশ তাঁর আগের ও পরের। তাঁরই যাবতীয় সৃষ্টি ও নির্দেশ, সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ কতই না বরকতময়। তাঁর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর তাসবীহ পাঠ করে, আর তিনিই প্রবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। তিনি সংকুচিত করেন, প্রসারিত করেন, কথা বলেন, সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন, রাগ করেন, পছন্দ করেন, ঘৃণা করেন, অপছন্দ করেন, হাসেন, নির্দেশ দেন ও নিষেধ করেন, সম্মানিত চেহারার অধিকারী, সর্বশ্রোতার গুণ হিসেবে শ্রোতা, সর্বদ্রষ্টার গুণ হিসেবে দ্রষ্টা, স্পষ্ট বাণীর অধিকারী, দু' হাতের অধিকারী, দুই মুষ্ঠির অধিকারী, ক্ষমতার অধিকারী, প্রতিপত্তির অধিকারী, বড়ত্বের অধিকারী, প্রাচীন ইলমের অধিকারী, সর্বদা এরকম আছেন, এ রকম থাকবেন। তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক, সেখানে থাকার সৃষ্টির কোনো কিছু তার থেকে অনুপস্থিত নেই। তাঁর জ্ঞান তাদের সবাইকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাঁর চোখ তাদের মধ্যে কার্যকর, তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। সুতরাং আমরা এ রবের উপরই ঈমান আনি, তাঁরই ইবাদাত করি, তাঁর জন্যই সালাত আদায় করি, তাঁর জন্যই সাজদাহ করি। তাই যে কেউ এমন কোনো ইলাহের ইবাদাত করবে যার গুণ এর বিপরীতে, সে তো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদাত করলো, তাঁর উপাস্যকে ইলাহ বলার সুযোগ নেই.” (৪৮৬)
অন্যত্র গ্রন্থের অধ্যায় বিন্যাসে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করার বিষয়ে বলেন, بَابُ اسْتِوَاءِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى الْعَرْشِ وَارْتِفَاعِهِ إِلَى السَّمَاءِ، وَبَيْنُونَتِهِ مِنَ الْخُلْقِ وَهُوَ أَيْضًا مِمَّا أَنْكَرُوهُ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ﴿إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَقَالَ: تَنْزِيلًا مِمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَوَاتِ الْعُلَى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى). وَقَدْ قَالَ: الله الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَالُكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ذَلِكَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ). "রব তাবারকা ওয়া তা'আলার 'আরশের উপর উঠা, আসমানের উপরে থাকা, সৃষ্টি থেকে আলাদা সত্তা হওয়ার বিষয়ে আলোচনার অধ্যায়". এটাও তারা অস্বীকার করেছে, অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন." তিনি আরও বলেন, "যিনি যমীন ও সমুচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর কাছ থেকে এটা নাযিলকৃত, দয়াময় (আল্লাহ্) 'আরশের উপর উঠেছেন। যা আছে আসমানসমূহে ও যমীনে এবং এ দু'য়ের মধ্যবর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তা তাঁরই। আর যদি আপনি উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন, তবে তিনি তো যা গোপন ও অতি গোপন সবই জানেন। আল্লাহ্, তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই, সুন্দর নামসমূহ তাঁরই.” তিনি আরও বলেন, "আল্লাহ্, যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু'য়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে। তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সবকিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর। তিনি, গায়েব ও উপস্থিত (যাবতীয় বিষয়ে) জ্ঞানী, প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু.”(৪৮৭)
তাছাড়া এ গ্রন্থের অন্যত্র তিনি 'আরশ ও মহান আল্লাহর তার উপর থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন, আরও সাব্যস্ত করেছেন আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক 'আরশের উপর অবস্থানের পর বান্দাদের থেকে পর্দা গ্রহণ, আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক শেষ রাত্রে, 'আরাফার মাঠে বিকাল বেলা, হাশরের মাঠে, জান্নাতীদের জন্য বিশেষ করে নেমে আসা, আল্লাহ তা'আলাকে 'আরশের উপরে দেখা ইত্যাদি বিষয়াদি আলোচনা করেন. (৪৮৮) অতঃপর তিনি বলেন, وَالْأَحَادِيثُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ أَصْحَابِهِ، وَالتَّابِعِينَ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ فِي هَذَا أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُحْصِيَهَا كِتَابُنَا هَذَا، غَيْرَ أَنَّا قَدِ اخْتَصَرْنَا مِنْ ذَلِكَ مَا يَسْتَدِلُّ بِهِ أُولُو الْأَلْبَابِ أَنَّ الْأُمَّةَ كُلَّهَا وَالْأُمَمَ السَّالِفَةَ قَبْلَهَا لَمْ يَكُونُوا يَشُكُونَ فِي مَعْرِفَةِ اللَّهِ تَعَالَى أَنَّهُ فَوْقَ السَّمَاءِ، بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, সাহাবী, তাবেয়ীগণ এবং তাদের পরের লোকদের এ বিষয়ের ভাষ্য এত বেশি যে তা আমাদের এ কিতাবে জায়গা হবে না। তবে আমরা কেবল সেটা তাতে সংক্ষেপ করেছি যা দিয়ে বিবেকবানরা দলীল নিতে পারে যে, পুরো উম্মত এমনকি পূর্ববর্তী উম্মতগণও আল্লাহকে চেনার ব্যাপারে কখনও সন্দেহ প্রকাশ করতেন না যে, তিনি আসমানের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা.”(৪৮৯)
অনুরূপভাবে ইমাম 'উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী তার আন-নাকছু 'আলা বিশর আল-মারীসী নামক গ্রন্থেও আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপর থাকার বিষয়ে বলেন, قد اتفقت الكلمة من المسلمين، أن الله بكماله فوق عرشه فوق سمواته. "মুসলিমরা একমত যে, আল্লাহ তাঁর পূর্ণাঙ্গতার সাথে 'আরশের উপরে, আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে.” ইমাম যাহাবী এর ব্যাখ্যা করে বলেন, আমি বলি, এ ব্যাপারে সবচেয়ে স্পষ্ট কথা হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন”. [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] সুতরাং যেভাবে আসছে সেভাবে বলা হোক, যেমনটি সালাফে সালেহীনের মানহাজ, কোনো প্রকার প্রতীক্ষা কিংবা ঝগড়া কিংবা মু'তাযিলাদের অপব্যাখ্যা থেকে দূরে থাকা হোক, “হে আমাদের রব আমরা ঈমান আনলাম তাতে যা আপনি নাযিল করেছেন আর আমরা রাসূলের অনুসরণ করলাম” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৩](৪৯০)
উক্ত গ্রন্থে আরও বলেন, قال أهل السنة : إن الله بكماله فوق عرشه، يعلم ويسمع من فوق العرش، لا يخفى عليه خافية من خلقه، ولا يحجبهم عنه شيء. "আহলে সুন্নাহ'র মতে, আল্লাহ তাঁর পূর্ণাঙ্গতার সাথে তাঁর 'আরশের উপরে, তিনি জানেন ও শুনেন 'আরশের উপর থেকে। সৃষ্টিজগতের গোপন কোনো বস্তু তাঁর থেকে গোপন নেই। কোনো কিছু তাঁর থেকে আড়ালে নয়.”(৪৯১)
• ইমাম যাহাবী বলেন, 'উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী হচ্ছেন একজন ইমাম এবং পূর্ববাসীদের হাফিয। তিনি ২৮২ হিজরীতে মারা যান। সা'ঈদ ইবন আবু মারইয়াম, নু'আাইম ইবন হাম্মাদ, মূসা ইবন ইসমা'ঈل, ফারওয়া ইবন আবিল মাগরা, আবদুল্লাহ ইবন রাজা, মুসলিম ইবন ইবরাহীমসহ অন্যান্য ইমাম থেকে তিনি হাদীস শুনেন। ইমাম বুখারী তার ব্যাপারে বলেন, আমি উসমান ইবন সাঈদের মতো কাউকে দেখিনি। আর 'উসমানও তার মতো কাউকে দেখেননি। তিনি ইবনুল আরাবী থেকে আরবী সাহিত্য শিখেন। ফিকহ শিখেন বুওয়াইতী থেকে। আর হাদীস শিখেন ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈن ও আলী ইবন আল-মাদীনী থেকে। এসব শাস্ত্রে তিনি বুৎপত্তি অর্জন করেন। তার প্রশংসা করেছেন একাধিক আহলে ইলم.(৪৯২)
টিকাঃ
৪৮৫. সিয়ার (১৩/৩২২)।
৪৮৬. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়्यাহ, পৃ. ০১।
৪৮৭. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়्यাহ, পৃ. ৪০।
৪৮৮. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়्यাহ, ১-১০২।
৪৮৯. আর-রাদ্দو আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ৬৩, নং ৯৮।
৪৯۰. যাহাবী, আস-সিয়ার: (১৩/৩২৫); যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৪৯১. আর-রাদ্দো 'আলাল বিশر, ৪০৮, ৪৩৮; যাহাবী, সিয়ার (১৩/৩২৫); যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, ২২৮ ইত্যাদি।
৪৯২. যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (২/৬২২); আল-'ארש (২/৩৩৫), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; আল-'উলু, পৃ. ১৪৩।