📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ হাতিম আর-রাযী (২৭৭ হিজরী) ও আবূ যুর‘আ আর-রাযী (২৬৪ হিজরী)

📄 আবূ হাতিম আর-রাযী (২৭৭ হিজরী) ও আবূ যুর‘আ আর-রাযী (২৬৪ হিজরী)


হাদীসের জারহ ও তা'দীলের প্রখ্যাত ইমাম আব্দুর রহমান ইবন আবু হাতিম বলেন, سألت أبي وأبا زرعة عن مذاهب أهل السنة في أصول الدين، وما أدركا عليه العلماء في جميع الأمصار وما يعتقدان في ذلك ؟ فقالا : أدركنا العلماء في جميع الأمصار - حجازًا وعراقا وشامًا ويَمَنَّا - فكان من مذهبهم: وأنَّ اللَّهَ عَزَّ وجَلَّ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ كَمَا وصف نفسه في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم بلا كيف، أحاط بكل شيء علما لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ) [الشورى: ١١]). "আমি আবু হাতিম রাযী ও আবু যুর'আ রাযী রাহimahuallah'র কাছে দীনের মৌলিক বিষয়ে আহলে সুন্নাহ'র মানহাজ সম্পর্কে জানতে চাই এবং এও জানতে চাই যে, তারা উভয়ে সকল এলাকার আলিমদের কী আকীদায় পেয়েছেন এবং উভয়ে কী আকীদাহ পোষণ করেন? উভয়েই বলেন, আমরা হিজায, ইরাক, মিসর, শাম, ইয়ামানসহ সকল এলাকার আলিমদের পেয়েছি এ মতের ওপর যে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা। যেমনটি স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে বর্ণনা দিয়েছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে বর্ণনা দিয়েছেন। কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। তিনি সকল কিছুকে জ্ঞানের মাধ্যমে বেষ্টন করে আছেন.” (৪৭২) তাছাড়া ইমাম ইসমা'ঈل আত-তাইমী ইমাম আবু যুর'আহ আর-রাযীর আকীদাহ বর্ণনা করে বলেন, المعطلة النافية الذين ينكرون صفات الله عزَّ وجل التي وصف بها نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، ويكذبون بالأخبار الصحاح التي جاءت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصفات ويتأولونها بآرائهم المنكوسة على موافقة ما اعتقدوا من الضلالة وينسبون رواتها إلى التشبيه، فمن نسب الواصفين ربهم تبارك وتعالى بما وصف به نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم من غير تمثيل ولا تشبيه إلى التشبيه فهو معطل ناف، ويستدل عليهم بنسبتهم إياهم إلى التشبيه أنهم معطلة نافية، كذلك كان أهل العلم يقولون منهم: عبد الله بن المبارك ووكيع بن الجراح». "আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী মু'আত্তিলা গোষ্ঠী, যারা আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে আল্লাহ নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন সেসব গুণকে অস্বীকার করে, এসব গুণ বর্ণনায় বিশুদ্ধভাবে আসা সহীহ হাদীসগুলোতে মিথ্যারোপ করে, সেগুলোকে তাদের উল্টো বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে তাদের পথভ্রষ্ট আকীদাহ অনুযায়ী করার জন্য অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়, আর এসব হাদীসের বর্ণনাকারীদেরকে 'মুশাব্বিহা' (দেহবাদী) বলে তারাই হচ্ছে আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ যা দিয়ে তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে নিজেকে গুণান্বিত বলেছেন সে গুণগুলোকে যারা কোনো প্রকার পূর্ণ সাদৃশ্য কিংবা আংশিক সাদৃশ্য ব্যতীতই সাব্যস্ত করে, তাদেরকে যারা 'মুশাব্বিহা' (দেহবাদী) ইত্যাদি বলে সেই তো এগুলোর অর্থশূন্যকারী ও অস্বীকারকারী। তারা যখন হকপন্থীদেরকে 'তাশবীহ' সাদৃশ্য স্থাপনকারী বলবে, তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করে বলা হবে যে, তারাই 'মু'আত্তিলা' তারাই 'নাফিয়া' অর্থাৎ তারাই আল্লাহ তা'আলার গুণকে অর্থশূন্যকারী ও অস্বীকারকারী। সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ যেমন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ওকী' ইবনুল জাররাহ সর্বদা এটাই বলতেন.” (৪৭৩)
আবু যুর'আহ আর-রাযী ]الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) [طه: ٥ এর তাফসীরে বলেন, هو على عرشه، بائن من خلقه، أحاط بكل شيء علماً، من قال غير ذلك فعليه لعنة الله». "তিনি তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, সকল কিছুকে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে আছেন, যে কেউ এর বিপরীতটি বলবে, তার উপর আল্লাহর লা'নত.”(৪৭৪) অন্যত্র আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবন ইদরীس আল-হানযালী তার আকীদাহ বর্ণনায় বলেন, مَذْهَبُنَا وَاخْتِيَارُنَا اتْبَاعُ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ بِإِحْسَانٍ وَتَرْكُ النَّظَرِ فِي مَوْضِعِ بِدَعِهِمْ وَالنَّمَسُّكُ بِمَذْهَبِ أَهْلِ الْأَثَرِ مِثْلِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَأَبِي عُبَيْدِ الْقَاسِمِ بْنِ سَلَّامٍ وَالشَّافِعِيُّ، وَلُزُومُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالدَّبُّ عَنِ الْأَئِمَّةِ التَّبِعَةِ لِآثَارِ السَّلَفِ وَاخْتِيَارُ مَا اخْتَارَهُ أَهْلُ السُّنَّةِ مِنَ الْأَئِمَّةِ فِي الْأَمْصَارِ مِثْلُ : مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فِي المَدِينَةِ وَالْأَوْزَاعِيُّ بِالشَّامِ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ بِمِصْرَ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَحَمَّادِ بْنِ زِيَدٍ بِالْعِرَاقِ مِنَ الْحَوَادِثِ مِمَّا لَا يُوجَدُ فِيهِ رِوَايَةٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ ... وَالصَّوَابَ نَعْتَقِدُ وَنَزْهُمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾ [الشورى: ١١] . وَلَا نَرَى الخرُوجَ عَلَى الْأَئِمَّةِ وَلَا نُقَاتِلُ فِي الْفِتْنَةِ وَنَسْمَعُ وَنُطِيعُ لَمَنْ وَلَّى اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَمْرَنَا، وَنَرَى الصَّلَاةَ وَالْحَجَّ وَالْجِهَادَ مَعَ الْأَئِمَّةِ وَدَفْعَ صَدَقَاتِ الْمَوَاشِي إِلَيْهِمْ وَنُؤْمِنُ بِمَا جَاءَتْ بِهِ الْآثَارُ الصَّحِيحَةُ بِأَنَّهُ يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ مِنَ الْمُوَحَدِينَ بِالشَّفَاعَةِ ... وَعَلَامَةُ أَهْلِ الْبِدَعِ الْوَقِيعَةُ فِي أَهْلِ الْأَثَرِ. وَعَلَامَةُ الْجَهْمِيَّةِ أَنْ يُسَمُّوا أَهْلَ السُّنَّةِ مُشَبِّهَةٌ وَنَابِتَةٌ. "আমাদের মত ও পছন্দনীয় বিষয় হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যথাযথ অনুসরণ, তাঁর সাহাবীদের অনুসরণ, তাদের পরবর্তী তাবে'য়ী ও তৎ পরবর্তী লোক যারা সাহাবায়ে কেরামের সুন্দর অনুসরণ করেছে তাদের অনুসরণ করা। বিদ'আতীদের বিদ'আতের দিকে তাকানো বর্জন করা, যারা 'আছার' তথা উক্ত সম্মানিত মনীষীগণের পদাঙ্কে চলেছে তাদের মত ধরে রাখা, যেমন আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক্ক ইবন ইবরাহীম, আবু উবাইদ আল-কাসেম ইবন সাল্লাম, শাফে'য়ী। আমাদের আরও মত হচ্ছে, কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে থাকা, সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণকারী ইমামগণ থেকে প্রতিরোধ করা, নতুন যেসব ঘটনা ঘটবে, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবে'য়ীন থেকে কিছু পাওয়া না যায়, তাতে বিখ্যাত আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ইমামগণ যা পছন্দ করেছেন তা পছন্দ করা, যেমন মালিক ইবন আনাস মদীনায়, আওযা'ঈ শামে, লাইস ইবন সা'দ মিসরে, সুফইয়ান আস-সাওরী ও হাম্মاد ইবন যায়েد ইরাক্কে.. এদের কথাকে পছন্দ করা। আর সঠিক যে জিনিসটি আমরা বিশ্বাস করি এবং সঠিক বলে মনে করি, তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে রয়েছেন, তাঁর সকল সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা”. [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] আর আমরা রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েয মনে করি না, ফিতনায় কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি না, শুনি ও মানি তার কথা যাকে আল্লাহ আমাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আর আমরা মত দিই সালাত, হজ ও জিহাদ রাষ্ট্র প্রধানের সাথে করার, বাহ্যিক সদকা যেমন চতুষ্পদ প্রাণীসমূহের যাকাত আমরা তাদের কাছে প্রদান করার পক্ষে মত দিই। আমরা তাওহীদবাদী ঈমানদার যারা জাহান্নামে গেছে তারা সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে যেসব সহীহ আছার এসেছে সেগুলোর ওপর ঈমান রাখি। বিদ'আতীদের আলামت হচ্ছে তারা আছার অনুসারীদের বিরুদ্ধে লেগে থাকবে। জাহমিয়্যাদের আলামت হচ্ছে তারা আহলুস সুন্নাহকে মুশাব্বিহা (দেহবাদী) নব্য উত্থিত ইত্যাদি খারাপ ট্যাগ লাগাবে.” (৪৭৫)
• ইমাম যাহাবী বলেন, আবু হাতিম হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস আল-হানযালী। মুখস্থ ও আয়ত্তের দিক থেকে রাই এলাকার ইমাম। জ্ঞানার্জনের জন্য ইরাক, শাম, হিজায ও খুরাসান সফর করেন। তিনি আহলে ইলমদের নিকট এতটাই প্রসিদ্ধ যে, তার পরিচয় তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। আবু হাতিম থেকে আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু যুর'আ থেকে মুসলিম, তিরমিযী ও নাসায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন. (৪৭৬)

টিকাঃ
৪৭২. আকীদাতুর রাযীইয়াইন পৃ.১; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (১/১৭৬-১৭৯), নং ৩২১; যাহাবী, সিয়ার (১৩/৮৪); আল-'উলু, পৃ. ১২৫, নং ১১۰; ইবন তাইমিয়‍्यাহ, দারউ তা'আরুযিল আকলি ওয়ান নাকল (৬/২৫৭); আলবানী সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২০৪-২০৫; আল-ארש ২/৩২৮, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৪৭৩. আল-হুজ্জاه ফী বায়ানিল মাহাজ্জاه (১/১৮৭)।
৪৭৪. আল-'উলু, পৃ. ১২৭।
৪৭৫. শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ (১/২০২), নং ৩২৩।
৪৭৬. যাহাবী, আল-ארש ২/৩৩০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম ইবন মাজাহ (২৭৫ হিজরী)

📄 ইমাম ইবন মাজাহ (২৭৫ হিজরী)


প্রসিদ্ধ হাফিয আবু আবদুল্লাহ ইবন মাজাহ তার আস-সুনান গ্রন্থের আস-সুন্নাহ অনুচ্ছেদের সূচনায় অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: باب فيما أنكرت الجهمية অধ্যায়: জাহমিয়্যারা যা অস্বীকার করে। তারপর তিনি বিভিন্ন হাদীস নিয়ে আসেন, তন্মধ্যে আবু রাযীন এর বিখ্যাত হাদীসও নিয়ে আসেন যাতে 'আরশের উল্লেখ রয়েছে। (হাদীস নং ১৮২) আর উল্লেখ করেছেন তাঁর অন্যান্য কর্মগত গুণ যেমন, হাশরের মাঠে কাউকে কাছে ডেকে নেয়া (হাদীস নং ১৮৩), বিবিধ কারণে আল্লাহর হাসি (হাদীস নং ১৮১, ১৯১, ২০০), জান্নাতীদের সাথে উপর থেকে তাকানো, কথা বলা, নিজেকে জান্নাতীদেরকে দেখানো, তারা সে নি'আমত ভোগ করা, সেখানে রবের নূর ও বরকত অবশিষ্ট থাকা (হাদীস নং ১৮৪, ১৮৭), হাশরের মাঠে প্রত্যেকের সাথে রবের কথা বলা (হাদীস নং ১৮৫), জাবের ইবন আবদুল্লাহ'র পিতা আবদুল্লাহ ইবন হারামের মৃত্যুর পর রাব্বুল আলামীন তার সাথে সরাসরি কথা বলা (হাদীস নং ১৯০), হাশরের দিন যমীনকে মুষ্টিবদ্ধ করা, আসমানকে ডান হাতে ভাঁজ করে রাখা (হাদীস নং ১৯২, ১৯৮), 'আরশের উপর রাব্বুল আলামীনের অবস্থান (হাদীস নং ১৯৩), আল্লাহ তা'আলা যখনই ফয়সালাগত নির্দেশ প্রদান করেন, তখন ফিরিশতাদের অবস্থা কেমন হয় (হাদীস নং ১৯৪) মহান আল্লাহ রাত-দিন বান্দার আমলের ওজন বাড়ান ও কমান (হাদীস নং ১৯৫, ১৯৫, ১৯৭), মানুষের অন্তর আল্লাহর দু' আঙ্গুলের মাঝখানে হওয়ায় চাইলে তিনি ঠিক রাখেন, চাইলে তিনি বক্র করে দেন, (হাদীস নং ১৯৯), আল্লাহর কথা আর নবীর প্রচার (হাদীস নং ২০১), প্রতিদিনই আল্লাহ তা'আলা বিশেষ অবস্থায় থাকেন, কাউকে ক্ষমা করেন, কাউকে বিপদমুক্ত করেন, কাউকে উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন, কাউকে মর্যাদায় নীচু করেন (হাদীস নং ২০২) (৪৭৭), এভাবে তিনি আল্লাহ তা'আলার যাবতীয় সিফাতে ফি'লিয়্যাহ বা কর্মগত গুণ সাব্যস্ত করেন। এ সবগুলোই আশ'আরী ও মাতুরিদীরা হয় অর্থহীন করে, না হয় অপব্যাখ্যা করে থাকে। তারা এটার নাম দিয়েছে 'হুলুল হাওয়াদিস বিল্লাহ' বা আল্লাহর প্রাচীন সত্তায় নতুন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটা. (না'উযুবিল্লাহ)

টিকাঃ
৪৭৭. যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন আশ‘আস আস-সিজিস্তানী (২৭৫ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ দাউদ সুলাইমান ইবন আশ‘আস আস-সিজিস্তানী (২৭৫ হিজরী)


ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবন আশ'আস আস-সিজিস্তানী রাহimahuallah তাঁর কিতাবে এমনসব হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে এটা সুস্পষ্ট হয় যে, তিনি আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর হওয়ার বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্ত বিষয় হিসেবে মনে করতেন। যেমন তিনি তাঁর কিতাবে জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে অধ্যায় বিন্যাস করে বলেছেন, 'বাবুন ফিল জাহমিয়্যাহ' তারপর তিনি আল্লাহ তা'আলার গুণসমূহ করে এমন হাদীসসমূহ নিয়ে এসেছেন, বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের উপর তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন সেটার ওপর কয়েকটি হাদীস নিয়ে এসেছেন। তারপর 'আরশ বহনকারীদের বর্ণনায় আসা হাদীস নিয়ে এসেছেন. (৪৭৮)

টিকাঃ
৪৭৮. আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (৭/১১১), কিতাবুস সুন্নাহ, অধ্যায় নং ১৯, হাদীس নং ৪৭২১-৪৭২৮।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবাহ (২৭৬ হিজরী)

📄 আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবাহ (২৭৬ হিজরী)


আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইbah স্বীয় গ্রন্থ মুখতালাফুল হাদীসে বলেন, نحن نقول في قوله مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ إنه معهم يعلم ما هم عليه، كما تقول للرجل وجهته إلى بلد شاسع، احذر التقصير فإني معك، تريد أنه لا يخفى على تقصيرك وكيف يسوغ لأحد أن يقول: إنه سبحانه بكل مكان على الحلول فيه مع قوله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ومع قوله إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ؟ وكيف يصعد إليه شيء هو معه؟ وكيف تعرج الملائكة إليه وهي معه؟ ولولا أن هؤلاء رجعوا إلى فطرهم، وما ركبت عليه خِلَقهم من معرفة الخالق لعلموا أن الله هو العلي وهو الأعلى، وأن الأيدي ترتفع بالدعاء إليه، والأمم كلها أعجميها وعربيها، تقول: إن الله في السماء . ما تركت على فطرتها». আল্লাহর বাণী: "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না." -এর ক্ষেত্রে আমরা বলি, তিনি তাদের সাথে, তিনি জানেন তারা কী করছে। যেমন, তুমি কাউকে দূর এলাকায় পাঠালে বলো, অবহেলা করবে না, আমি তোমার সাথে আছি। তুমি বুঝাতে চাও তোমার অবহেলা আমার কাছে গোপন থাকবে না। একজন ব্যক্তির পক্ষে কীভাবে বলা সমীচীন হতে পারে যে, আল্লাহ তা'আলা সর্বত্র সত্তাগতভাবে মিশে গেছেন? অথচ আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন" আরও বলেন- “তাঁর দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ উঠে." তাঁর দিকে কোনো জিনিস কীভাবে উঠতে পারে, যদি তিনি সেই জিনিসের সাথেই থাকেন? ফিরিশতা কীভাবে তাঁর দিকে উঠে, যদি তিনি ফিরিশতার সাথেই থাকেন?
স্রষ্টাকে চেনার জন্য তারা যদি তাদের স্বভাবজাত ধর্মের দিকে আসত ও তাদেরকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে তার দিকে ফিরে আসত, তাহলে তারা জেনে ফেলতো, আল্লাহ সুউচ্চ, তিনি ঊর্ধ্বে। দো'আ করার সময় হাতসমূহ তার দিকে তুলে ধরা হয়। আরব অনারব সকলেই বলে, আল্লাহ আসমানের উপরে। কারণ, তারা মূলত তাদের স্বভাবজাত ধর্মের উপরেই আছে. (৪৭৯) তাছাড়া তিনি তাঁর "আল-ইখতিলাফ ফিল লাফয" গ্রন্থে বলেন, (الرد على متأولي الاستواء) وقالوا في قوله: الرحمن على العرش استوى أنه استولى وليس يعرف في اللغة استويت على الدار : أي استوليت عليها وإنما استوى في هذا المكان: استقر كما قال الله تعالى: ﴿فإذا استويت أنت ومن معك على الفلك أي استقررت وقد يقول الرجل لصاحبه إذا رآه مستوفزاً (استو) يريد: استقر .
وأما قوله: ثم استوى إلى السماء ) فإنه أراد عمد لها وقصد فكل من كان في شيء ثم تركه لفراغ أو غير فراغ وعمد لغيره فقد استوى إليه. "যারা আল্লাহর 'সিফাত' ইস্তেওয়া বা উপরে উঠাকে অপব্যাখ্যা করে, তাদের মত খণ্ডন" আর তারা আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' এ গুণটিকে অপব্যাখ্যা করে বলে, তার অর্থ অধিকার করা। অথচ তা আরবী ভাষায় পরিচিত অর্থ নয়। আরবী ভাষায় 'ইস্তাওয়াইতু 'আলাদ দারি' বলে কখনো বুঝানো হয় না: আমি ঘরটির উপর কবজা করেছি। এখানে 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ হচ্ছে উপরে থাকা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'অতঃপর যখন আপনি ও আপনার সাথে যারা আছে তারা জাহাজে অবস্থান নিবে' অর্থাৎ সেখানে উঠে অবস্থান নিবে। এজন্যই কখনও কখনও কোনো লোক অপর কাউকে কোনো লোককে কোনো জায়গায় অবস্থান নিতে দেখলে বলে, 'ইস্তাওয়া' অর্থাৎ অবস্থান নিল.
আর আল্লাহর বাণী 'তারপর তিনি আসমানের দিকে ইচ্ছা করলেন' সেটার অর্থ তিনি ইচ্ছা করলেন, ইরাদা করলেন। সুতরাং যে কেউ কোথাও ছিল তারপর সে তা খালি করার জন্য বা খালি না করার জন্যই হোক যদি সেটা ত্যাগ করে অন্য কিছুর ইচ্ছা করলো এটাকেই বলা হবে 'ইস্তাওয়া 'আলাইহি'."(৪৮০)
অন্যত্র বলেন, مجمل اعتقاد السلف في الصفات وعدل القول في هذه الأخبار أن نؤمن بها صح منها بنقل الثقات لها فنؤمن بالرؤية والتجلي وإنه يعجب وينزل إلى السماء الدنيا وأنه على العرش استوى وبالنفس واليدين من غير أن نقول في ذلك بكيفية أو بحد أو أن نقيس على ما جاء ما لم يأت فنرجو أن نكون في ذلك القول والعقد على سبيل النجاة غداً إن شاء الله تعالى. "[আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের আকীদাহ'র সংক্ষিপ্ত বর্ণনা]: আর এ সকল হাদীসের ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ কথা হচ্ছে, এগুলোর মধ্যে যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হবে তার উপর ঈমান আনা। সুতরাং আমরা আল্লাহকে দেখা, আল্লাহর তাজাল্লী বা প্রকাশিত হওয়া, তাঁর আশ্চর্যান্বিত হওয়া, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, 'আরশের উপরে উঠা, তাঁর জন্য সত্তা, দু' হাত' এর ওপর আমরা ঈমান আনি। তবে সেগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ করি না, কোনো সীমা বেঁধে দেই না। অথবা যা আসেনি তাকে যা এসেছে তার ওপর কিয়াস করি না। সুতরাং আমরা আশা করি যে, এরকম কথা বলা ও আকীদাহ রাখার মাধ্যমে আগামী দিন নাজাতের অধিকারীদের পথে থাকতে পারবো ইনশাআল্লাহ.” (৪৮১)

টিকাঃ
৪৭৯. মুখতালাফুল হাদীস, ১৮২-১৮৩; যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৪৬) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইبن আবদুল হাদী, আল-কাلام আলা মাসআلاতিল ইস্তেওয়া 'আلال 'আরש, পৃ. ৬৮।
৪৮۰. আল-ইখতিলাফু ফিল লাফযি, পৃ. ৫৩।
৪৮১. আল-ইখতিলাফু ফিল লাফযি, পৃ. ৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00