📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (২৬১ হিজরী)

📄 ইমাম মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (২৬১ হিজরী)


ইমাম মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাপূরী রাহimahuallah তাঁর সহীহতে 'আরশ সংক্রান্ত হাদীসগুলো নিয়ে এসেছেন, তিনি যেসব হাদীস নিয়ে এসেছেন তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,
• আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিকট তাঁর 'আরশের উপর তাঁর কিতাবে এটা লিখে রাখা যে, তাঁর ক্রোধের ওপর দয়া প্রাধান্য পাবে, যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন, لَمَّا خَلَقَ اللهُ الْخَلْقَ، كَتَبَ فِي كِتَابِهِ، فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ: إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي. "যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাবে লিখলেন, যা তাঁর নিকট 'আরশের উপর রয়েছে, নিশ্চয় আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে.” (৪৬৩)
• সূর্য কর্তৃক 'আরশের নিচে সাজদাহ করা, তিনি বর্ণনা করেন, إِنَّ هَذِهِ تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى مُسْتَقَرِّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ ، فَتَخِرُّ سَاجِدَةٌ، فَلَا تَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُقَالَ لَهَا: ارْتَفِعِي، ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ. “এ সূর্য চলতে থাকে, অবশেষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানস্থলে 'আরশের নিচে যায়, তখন সেটি 'আরশের নিচে সাজদায় পড়ে যায়, এভাবে প্রতিনিয়ত সে তা করতে থাকবে, অবশেষে তাকে বলা হবে, উঠ, যে দিক থেকে এসেছ সেদিকে ফিরে যাও.”(৪৬৪)
বড় শাফা'আতের জন্য 'আরশের নিচে সাজদায় পড়ে যাবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমন হাদীসে এসেছে, فَأَنْطَلِقُ، فَآتِي تَحْتَ الْعَرْشِ، فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي، ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيَّ وَيُلْهِمُنِي مِنْ تَحَامِدِهِ، وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ لِأَحَدٍ قَبْلِي، ثُمَّ يُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ، اِرْفَعْ رَأْسَكَ، سَلْ تُعْطَهُ، اِشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَرْفَعُ رَأْسِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ، أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ، أَدْخِلْ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنَ الْبَابُ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ. “অতঃপর আমি সামনে চলবো, 'আরশের নিচে আসবো এবং সাজদায় পড়ে যাবো, তারপর আল্লাহ আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন এবং আমাকে তাঁর উত্তম প্রশংসা, সুন্দর স্তুতির কিছু অংশ ইলহাম করবেন যা তিনি আমার আগে আর কারও জন্য উন্মুক্ত করেননি। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ, আপনার মাথা উঠান, আপনি চান আপনাকে দেয়া হবে, আপনি সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাবো এবং বলব, হে রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতের মধ্যে তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডান দিকের দরজাসমূহ দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান, যাদের ওপর কোনো হিসাব নেই। তদুপরি অন্য দরজাতেও তারা অন্যান্য মানুষের সাথে অংশীদার থাকবে.”(৪৬৫)
'আরশ থেকে আল্লাহর নির্দেশ জারী করা ও কথা বলার বর্ণনা প্রদান। হাদীসে এসেছে, رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى اسْمُهُ، إِذَا قَضَى أَمْرًا سَبَّحَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ، ثُمَّ سَبَّحَ أَهْلُ السَّمَاءِ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، حَتَّى يَبْلُغَ التَّسْبِيحُ أَهْلَ هَذِهِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا» ثُمَّ قَالَ: الَّذِينَ يَلُونَ حَمَلَةَ الْعَرْشِ لِحَمَلَةِ الْعَرْشِ: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ فَيُخْبِرُونَهُمْ مَاذَا قَالَ. "আমাদের রব যিনি বরকতময়, তাঁর নাম সুউচ্চ, তিনি যখন কোনো ফয়সালার নির্দেশ জারী করেন, 'আরশের বাহকরা তখন তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন, তারপর তাদের নিকটবর্তী আসমানের ফিরিশতাগণ তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন, তারপর সে তাসবীহ পৌঁছে যায় নিকটতম আসমান পর্যন্ত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যারা 'আরশ বহনকারীদের নিকটবর্তী আসমানে আছেন, তারা 'আরশ বহনকারীদের বলেন, তোমাদের রব কী বলেছেন? তখন 'আরশ বহনকারীগণ তাদেরকে আল্লাহ যা বলেছেন যা জানায়.” (৪৬৬)
মি'রাজের হাদীস, যাতে স্পষ্টভাবে আসমানের দিকে উত্থিত হওয়া, প্রতিটি আসমান পার হয়ে উপরে উত্থিত হওয়ার বর্ণনা এসেছে. (৪৬৭)

টিকাঃ
৪৬৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫১।
৪৬৪. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ১৫৯।
৪৬৫. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ১৯৪।
৪৬৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২২৯।
৪৬৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭২।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমামুদ্দীন ইবন হাজ্জাজ (২৬১ হিজরী)

📄 ইমামুদ্দীন ইবন হাজ্জাজ (২৬১ হিজরী)


প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাকেম বলেন, আমি আবু 'আমর আল-মুস্তামিল্লির হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেছেন, সুইل মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন হাদীس আব্দুল্লাহ বিন মু'আবিয়া আনিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম : “লিয়া'লামিল আবদু আন্নাল্লাহা মা'আহু হাইসু কানা”, ফাকাল : ইউরিদু আন্নাল্লাহা ইলমুহু মুহিতুন বিকুল্লি মাকان, ওয়াল্লাহু আলাল আরশ। "ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া আয-যুহলীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আবদুল্লাহ ইবন মু'আওয়িয়াহ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে এসেছে, 'একজন বান্দা যেন এটা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তার সাথে রয়েছে সে যেখানেই থাকুক না কেন'(৪৬৮) এর অর্থ কী? জবাবে ইমাম যুহলী বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর তিনি আল্লাহ 'আরশের উপর রয়েছেন”. (৪৬৯)

টিকাঃ
৪৬৮. ত্বাবারানী, আস-সাগীর (১/৩৩৪), ৫৫৫; সহীহ।
৪৬৯. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৪৭।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইসমাঈল ইবন আহমাদ ইবন মুয়ামী (২৬৪ হিজরী)

📄 ইসমাঈল ইবন আহমাদ ইবন মুয়ামী (২৬৪ হিজরী)


মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈل আত-তিরমিযী রাহimahuallah বলেন, আমি ইমাম মুযানীকে বলতে শুনেছি, «لا يَصِحُ لأحدٍ توحيد حتى يعلم أن الله تعالى على العَرْشِ بصفاته. قلتُ له : مثل أي شيء؟ قَالَ: سَمِيعٌ بَصِيرٌ علِيمٌ». "কোনো মানুষের তাওহীদ ততক্ষণ শুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না সে এটা জানছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সকল গুণসহ 'আরশের উপর, আমি তাকে বললাম, সকল গুণ বলতে যেমন? তিনি জবাবে বললেন, সামী' (সর্বশ্রোতা), বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), আলীম (সর্বজ্ঞ)."(৪৭০)
ইসমা'ঈل ইবন ইয়াহইয়া আল-মুযানী তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেন, الحمد لله أحق ما بدئ، وأولى من شكر، وعليه أثني الواحد الصمد، ليس له صاحبة ولا ولد، جل عن المثل فلا شبيه له ولا عديل السميع البصير العليم الخبير المنيع الرفيع، عالي على عرشه في مجده بذاته، وهو دان بعلمه من خلقه» - إلى أن قال: والقرآن كلام الله ومن الله ليس بمخلوق فيبيد، وكلمات الله وقدرة الله، ونعته وصفاته كلها كاملات غير مخلوقات دائمات أزليات ليست محدثات فتبيد، ولا كان ربنا ناقصاً فيزيد، جلت صفاته عن شبه المخلوقين ... عال على العرش، بائن من خلقه. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যা দ্বারা শুরু করা হয়েছে তার তিনি হকদার। শুকরিয়া পাওয়ার অধিকারীদের মধ্যে সর্বাগ্রে। তাঁর গুণ বর্ণনা করছি। তিনি এক, অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো স্ত্রী ও সন্তান নেই। তিনি দৃষ্টান্তের ঊর্ধ্বে। তাঁর সাদৃশ্য ও সমকক্ষ নেই। সর্বশ্রোতা, সবদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে অবহিত, শক্তিশালী, সুউচ্চ, তাঁর মর্যাদা সহকারে সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর সমুন্নত। তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে সৃষ্টির নিকটে।... তিনি আরও বলেন, কুরআন আল্লাহর কালাম। আল্লাহর থেকে এসেছে। মাখলুক নয় যে ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর বাণী, তাঁর ক্ষমতা, প্রশংসা ও গুণাবলি পূর্ণাঙ্গ, মাখলুক নয়, চিরন্তন চিরস্থায়ী। মাখলুক নয় যে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের রব অপূর্ণাঙ্গ ছিলেন না যে বৃদ্ধি পেয়েছেন। মাখলুকের সাদৃশ্য থেকে তাঁর গুণাবলি ঊর্ধ্বে। ... 'আরশের উপরে সমুন্নত, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা. এরপর তিনি বাকী আকীদাহ উল্লেখ করেন. (৪৭১)

টিকাঃ
৪৭০. যাহাবী, সিয়ার (১২/৪৯৪)।
৪৭১. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩৫; আল-ארش ২/৩২৭, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, পৃ. ১৬৬-১৭০।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ হাতিম আর-রাযী (২৭৭ হিজরী) ও আবূ যুর‘আ আর-রাযী (২৬৪ হিজরী)

📄 আবূ হাতিম আর-রাযী (২৭৭ হিজরী) ও আবূ যুর‘আ আর-রাযী (২৬৪ হিজরী)


হাদীসের জারহ ও তা'দীলের প্রখ্যাত ইমাম আব্দুর রহমান ইবন আবু হাতিম বলেন, سألت أبي وأبا زرعة عن مذاهب أهل السنة في أصول الدين، وما أدركا عليه العلماء في جميع الأمصار وما يعتقدان في ذلك ؟ فقالا : أدركنا العلماء في جميع الأمصار - حجازًا وعراقا وشامًا ويَمَنَّا - فكان من مذهبهم: وأنَّ اللَّهَ عَزَّ وجَلَّ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ كَمَا وصف نفسه في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم بلا كيف، أحاط بكل شيء علما لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ) [الشورى: ١١]). "আমি আবু হাতিম রাযী ও আবু যুর'আ রাযী রাহimahuallah'র কাছে দীনের মৌলিক বিষয়ে আহলে সুন্নাহ'র মানহাজ সম্পর্কে জানতে চাই এবং এও জানতে চাই যে, তারা উভয়ে সকল এলাকার আলিমদের কী আকীদায় পেয়েছেন এবং উভয়ে কী আকীদাহ পোষণ করেন? উভয়েই বলেন, আমরা হিজায, ইরাক, মিসর, শাম, ইয়ামানসহ সকল এলাকার আলিমদের পেয়েছি এ মতের ওপর যে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা। যেমনটি স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে বর্ণনা দিয়েছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে বর্ণনা দিয়েছেন। কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। তিনি সকল কিছুকে জ্ঞানের মাধ্যমে বেষ্টন করে আছেন.” (৪৭২) তাছাড়া ইমাম ইসমা'ঈل আত-তাইমী ইমাম আবু যুর'আহ আর-রাযীর আকীদাহ বর্ণনা করে বলেন, المعطلة النافية الذين ينكرون صفات الله عزَّ وجل التي وصف بها نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، ويكذبون بالأخبار الصحاح التي جاءت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصفات ويتأولونها بآرائهم المنكوسة على موافقة ما اعتقدوا من الضلالة وينسبون رواتها إلى التشبيه، فمن نسب الواصفين ربهم تبارك وتعالى بما وصف به نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم من غير تمثيل ولا تشبيه إلى التشبيه فهو معطل ناف، ويستدل عليهم بنسبتهم إياهم إلى التشبيه أنهم معطلة نافية، كذلك كان أهل العلم يقولون منهم: عبد الله بن المبارك ووكيع بن الجراح». "আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী মু'আত্তিলা গোষ্ঠী, যারা আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে আল্লাহ নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন সেসব গুণকে অস্বীকার করে, এসব গুণ বর্ণনায় বিশুদ্ধভাবে আসা সহীহ হাদীসগুলোতে মিথ্যারোপ করে, সেগুলোকে তাদের উল্টো বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে তাদের পথভ্রষ্ট আকীদাহ অনুযায়ী করার জন্য অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়, আর এসব হাদীসের বর্ণনাকারীদেরকে 'মুশাব্বিহা' (দেহবাদী) বলে তারাই হচ্ছে আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ যা দিয়ে তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে নিজেকে গুণান্বিত বলেছেন সে গুণগুলোকে যারা কোনো প্রকার পূর্ণ সাদৃশ্য কিংবা আংশিক সাদৃশ্য ব্যতীতই সাব্যস্ত করে, তাদেরকে যারা 'মুশাব্বিহা' (দেহবাদী) ইত্যাদি বলে সেই তো এগুলোর অর্থশূন্যকারী ও অস্বীকারকারী। তারা যখন হকপন্থীদেরকে 'তাশবীহ' সাদৃশ্য স্থাপনকারী বলবে, তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করে বলা হবে যে, তারাই 'মু'আত্তিলা' তারাই 'নাফিয়া' অর্থাৎ তারাই আল্লাহ তা'আলার গুণকে অর্থশূন্যকারী ও অস্বীকারকারী। সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ যেমন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ওকী' ইবনুল জাররাহ সর্বদা এটাই বলতেন.” (৪৭৩)
আবু যুর'আহ আর-রাযী ]الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) [طه: ٥ এর তাফসীরে বলেন, هو على عرشه، بائن من خلقه، أحاط بكل شيء علماً، من قال غير ذلك فعليه لعنة الله». "তিনি তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, সকল কিছুকে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে আছেন, যে কেউ এর বিপরীতটি বলবে, তার উপর আল্লাহর লা'নত.”(৪৭৪) অন্যত্র আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবন ইদরীس আল-হানযালী তার আকীদাহ বর্ণনায় বলেন, مَذْهَبُنَا وَاخْتِيَارُنَا اتْبَاعُ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ بِإِحْسَانٍ وَتَرْكُ النَّظَرِ فِي مَوْضِعِ بِدَعِهِمْ وَالنَّمَسُّكُ بِمَذْهَبِ أَهْلِ الْأَثَرِ مِثْلِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَأَبِي عُبَيْدِ الْقَاسِمِ بْنِ سَلَّامٍ وَالشَّافِعِيُّ، وَلُزُومُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالدَّبُّ عَنِ الْأَئِمَّةِ التَّبِعَةِ لِآثَارِ السَّلَفِ وَاخْتِيَارُ مَا اخْتَارَهُ أَهْلُ السُّنَّةِ مِنَ الْأَئِمَّةِ فِي الْأَمْصَارِ مِثْلُ : مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فِي المَدِينَةِ وَالْأَوْزَاعِيُّ بِالشَّامِ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ بِمِصْرَ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَحَمَّادِ بْنِ زِيَدٍ بِالْعِرَاقِ مِنَ الْحَوَادِثِ مِمَّا لَا يُوجَدُ فِيهِ رِوَايَةٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ ... وَالصَّوَابَ نَعْتَقِدُ وَنَزْهُمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾ [الشورى: ١١] . وَلَا نَرَى الخرُوجَ عَلَى الْأَئِمَّةِ وَلَا نُقَاتِلُ فِي الْفِتْنَةِ وَنَسْمَعُ وَنُطِيعُ لَمَنْ وَلَّى اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَمْرَنَا، وَنَرَى الصَّلَاةَ وَالْحَجَّ وَالْجِهَادَ مَعَ الْأَئِمَّةِ وَدَفْعَ صَدَقَاتِ الْمَوَاشِي إِلَيْهِمْ وَنُؤْمِنُ بِمَا جَاءَتْ بِهِ الْآثَارُ الصَّحِيحَةُ بِأَنَّهُ يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ مِنَ الْمُوَحَدِينَ بِالشَّفَاعَةِ ... وَعَلَامَةُ أَهْلِ الْبِدَعِ الْوَقِيعَةُ فِي أَهْلِ الْأَثَرِ. وَعَلَامَةُ الْجَهْمِيَّةِ أَنْ يُسَمُّوا أَهْلَ السُّنَّةِ مُشَبِّهَةٌ وَنَابِتَةٌ. "আমাদের মত ও পছন্দনীয় বিষয় হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যথাযথ অনুসরণ, তাঁর সাহাবীদের অনুসরণ, তাদের পরবর্তী তাবে'য়ী ও তৎ পরবর্তী লোক যারা সাহাবায়ে কেরামের সুন্দর অনুসরণ করেছে তাদের অনুসরণ করা। বিদ'আতীদের বিদ'আতের দিকে তাকানো বর্জন করা, যারা 'আছার' তথা উক্ত সম্মানিত মনীষীগণের পদাঙ্কে চলেছে তাদের মত ধরে রাখা, যেমন আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক্ক ইবন ইবরাহীম, আবু উবাইদ আল-কাসেম ইবন সাল্লাম, শাফে'য়ী। আমাদের আরও মত হচ্ছে, কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে থাকা, সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণকারী ইমামগণ থেকে প্রতিরোধ করা, নতুন যেসব ঘটনা ঘটবে, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবে'য়ীন থেকে কিছু পাওয়া না যায়, তাতে বিখ্যাত আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ইমামগণ যা পছন্দ করেছেন তা পছন্দ করা, যেমন মালিক ইবন আনাস মদীনায়, আওযা'ঈ শামে, লাইস ইবন সা'দ মিসরে, সুফইয়ান আস-সাওরী ও হাম্মاد ইবন যায়েد ইরাক্কে.. এদের কথাকে পছন্দ করা। আর সঠিক যে জিনিসটি আমরা বিশ্বাস করি এবং সঠিক বলে মনে করি, তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে রয়েছেন, তাঁর সকল সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা”. [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] আর আমরা রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েয মনে করি না, ফিতনায় কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি না, শুনি ও মানি তার কথা যাকে আল্লাহ আমাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আর আমরা মত দিই সালাত, হজ ও জিহাদ রাষ্ট্র প্রধানের সাথে করার, বাহ্যিক সদকা যেমন চতুষ্পদ প্রাণীসমূহের যাকাত আমরা তাদের কাছে প্রদান করার পক্ষে মত দিই। আমরা তাওহীদবাদী ঈমানদার যারা জাহান্নামে গেছে তারা সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে যেসব সহীহ আছার এসেছে সেগুলোর ওপর ঈমান রাখি। বিদ'আতীদের আলামت হচ্ছে তারা আছার অনুসারীদের বিরুদ্ধে লেগে থাকবে। জাহমিয়্যাদের আলামت হচ্ছে তারা আহলুস সুন্নাহকে মুশাব্বিহা (দেহবাদী) নব্য উত্থিত ইত্যাদি খারাপ ট্যাগ লাগাবে.” (৪৭৫)
• ইমাম যাহাবী বলেন, আবু হাতিম হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস আল-হানযালী। মুখস্থ ও আয়ত্তের দিক থেকে রাই এলাকার ইমাম। জ্ঞানার্জনের জন্য ইরাক, শাম, হিজায ও খুরাসান সফর করেন। তিনি আহলে ইলমদের নিকট এতটাই প্রসিদ্ধ যে, তার পরিচয় তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। আবু হাতিম থেকে আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু যুর'আ থেকে মুসলিম, তিরমিযী ও নাসায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন. (৪৭৬)

টিকাঃ
৪৭২. আকীদাতুর রাযীইয়াইন পৃ.১; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (১/১৭৬-১৭৯), নং ৩২১; যাহাবী, সিয়ার (১৩/৮৪); আল-'উলু, পৃ. ১২৫, নং ১১۰; ইবন তাইমিয়‍्यাহ, দারউ তা'আরুযিল আকলি ওয়ান নাকল (৬/২৫৭); আলবানী সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২০৪-২০৫; আল-ארש ২/৩২৮, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৪৭৩. আল-হুজ্জاه ফী বায়ানিল মাহাজ্জاه (১/১৮৭)।
৪৭৪. আল-'উলু, পৃ. ১২৭।
৪৭৫. শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ (১/২০২), নং ৩২৩।
৪৭৬. যাহাবী, আল-ארש ২/৩৩০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00