📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মুআয আর-রাযী (২৫৮ হিজরী)
ইয়াহইয়া ইবন মু'আয আর-রাযী বলেন, إِنَّ اللَّهَ عَلَى الْعَرْشِ بَائِنٌ مِنَ الْخَلْقِ، وَقَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা, আর তিনি সবকিছু জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে আছেন.” (৪৬২)
টিকাঃ
৪৬২. যাহাবী, দেখুন, মুখতাসারুল 'উলু ১৩৯।
📄 ইমাম মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (২৬১ হিজরী)
ইমাম মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাপূরী রাহimahuallah তাঁর সহীহতে 'আরশ সংক্রান্ত হাদীসগুলো নিয়ে এসেছেন, তিনি যেসব হাদীস নিয়ে এসেছেন তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,
• আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিকট তাঁর 'আরশের উপর তাঁর কিতাবে এটা লিখে রাখা যে, তাঁর ক্রোধের ওপর দয়া প্রাধান্য পাবে, যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন, لَمَّا خَلَقَ اللهُ الْخَلْقَ، كَتَبَ فِي كِتَابِهِ، فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ: إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي. "যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাবে লিখলেন, যা তাঁর নিকট 'আরশের উপর রয়েছে, নিশ্চয় আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে.” (৪৬৩)
• সূর্য কর্তৃক 'আরশের নিচে সাজদাহ করা, তিনি বর্ণনা করেন, إِنَّ هَذِهِ تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى مُسْتَقَرِّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ ، فَتَخِرُّ سَاجِدَةٌ، فَلَا تَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُقَالَ لَهَا: ارْتَفِعِي، ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ. “এ সূর্য চলতে থাকে, অবশেষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানস্থলে 'আরশের নিচে যায়, তখন সেটি 'আরশের নিচে সাজদায় পড়ে যায়, এভাবে প্রতিনিয়ত সে তা করতে থাকবে, অবশেষে তাকে বলা হবে, উঠ, যে দিক থেকে এসেছ সেদিকে ফিরে যাও.”(৪৬৪)
বড় শাফা'আতের জন্য 'আরশের নিচে সাজদায় পড়ে যাবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমন হাদীসে এসেছে, فَأَنْطَلِقُ، فَآتِي تَحْتَ الْعَرْشِ، فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي، ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيَّ وَيُلْهِمُنِي مِنْ تَحَامِدِهِ، وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ لِأَحَدٍ قَبْلِي، ثُمَّ يُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ، اِرْفَعْ رَأْسَكَ، سَلْ تُعْطَهُ، اِشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَرْفَعُ رَأْسِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ، أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ، أَدْخِلْ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنَ الْبَابُ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ. “অতঃপর আমি সামনে চলবো, 'আরশের নিচে আসবো এবং সাজদায় পড়ে যাবো, তারপর আল্লাহ আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন এবং আমাকে তাঁর উত্তম প্রশংসা, সুন্দর স্তুতির কিছু অংশ ইলহাম করবেন যা তিনি আমার আগে আর কারও জন্য উন্মুক্ত করেননি। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ, আপনার মাথা উঠান, আপনি চান আপনাকে দেয়া হবে, আপনি সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাবো এবং বলব, হে রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতের মধ্যে তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডান দিকের দরজাসমূহ দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান, যাদের ওপর কোনো হিসাব নেই। তদুপরি অন্য দরজাতেও তারা অন্যান্য মানুষের সাথে অংশীদার থাকবে.”(৪৬৫)
'আরশ থেকে আল্লাহর নির্দেশ জারী করা ও কথা বলার বর্ণনা প্রদান। হাদীসে এসেছে, رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى اسْمُهُ، إِذَا قَضَى أَمْرًا سَبَّحَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ، ثُمَّ سَبَّحَ أَهْلُ السَّمَاءِ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، حَتَّى يَبْلُغَ التَّسْبِيحُ أَهْلَ هَذِهِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا» ثُمَّ قَالَ: الَّذِينَ يَلُونَ حَمَلَةَ الْعَرْشِ لِحَمَلَةِ الْعَرْشِ: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ فَيُخْبِرُونَهُمْ مَاذَا قَالَ. "আমাদের রব যিনি বরকতময়, তাঁর নাম সুউচ্চ, তিনি যখন কোনো ফয়সালার নির্দেশ জারী করেন, 'আরশের বাহকরা তখন তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন, তারপর তাদের নিকটবর্তী আসমানের ফিরিশতাগণ তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন, তারপর সে তাসবীহ পৌঁছে যায় নিকটতম আসমান পর্যন্ত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যারা 'আরশ বহনকারীদের নিকটবর্তী আসমানে আছেন, তারা 'আরশ বহনকারীদের বলেন, তোমাদের রব কী বলেছেন? তখন 'আরশ বহনকারীগণ তাদেরকে আল্লাহ যা বলেছেন যা জানায়.” (৪৬৬)
মি'রাজের হাদীস, যাতে স্পষ্টভাবে আসমানের দিকে উত্থিত হওয়া, প্রতিটি আসমান পার হয়ে উপরে উত্থিত হওয়ার বর্ণনা এসেছে. (৪৬৭)
টিকাঃ
৪৬৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫১।
৪৬৪. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ১৫৯।
৪৬৫. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ১৯৪।
৪৬৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২২৯।
৪৬৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭২।
📄 ইমামুদ্দীন ইবন হাজ্জাজ (২৬১ হিজরী)
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাকেম বলেন, আমি আবু 'আমর আল-মুস্তামিল্লির হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেছেন, সুইل মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন হাদীس আব্দুল্লাহ বিন মু'আবিয়া আনিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম : “লিয়া'লামিল আবদু আন্নাল্লাহা মা'আহু হাইসু কানা”, ফাকাল : ইউরিদু আন্নাল্লাহা ইলমুহু মুহিতুন বিকুল্লি মাকان, ওয়াল্লাহু আলাল আরশ। "ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া আয-যুহলীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আবদুল্লাহ ইবন মু'আওয়িয়াহ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে এসেছে, 'একজন বান্দা যেন এটা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তার সাথে রয়েছে সে যেখানেই থাকুক না কেন'(৪৬৮) এর অর্থ কী? জবাবে ইমাম যুহলী বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর তিনি আল্লাহ 'আরশের উপর রয়েছেন”. (৪৬৯)
টিকাঃ
৪৬৮. ত্বাবারানী, আস-সাগীর (১/৩৩৪), ৫৫৫; সহীহ।
৪৬৯. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৪৭।
📄 ইসমাঈল ইবন আহমাদ ইবন মুয়ামী (২৬৪ হিজরী)
মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈل আত-তিরমিযী রাহimahuallah বলেন, আমি ইমাম মুযানীকে বলতে শুনেছি, «لا يَصِحُ لأحدٍ توحيد حتى يعلم أن الله تعالى على العَرْشِ بصفاته. قلتُ له : مثل أي شيء؟ قَالَ: سَمِيعٌ بَصِيرٌ علِيمٌ». "কোনো মানুষের তাওহীদ ততক্ষণ শুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না সে এটা জানছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সকল গুণসহ 'আরশের উপর, আমি তাকে বললাম, সকল গুণ বলতে যেমন? তিনি জবাবে বললেন, সামী' (সর্বশ্রোতা), বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), আলীম (সর্বজ্ঞ)."(৪৭০)
ইসমা'ঈل ইবন ইয়াহইয়া আল-মুযানী তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেন, الحمد لله أحق ما بدئ، وأولى من شكر، وعليه أثني الواحد الصمد، ليس له صاحبة ولا ولد، جل عن المثل فلا شبيه له ولا عديل السميع البصير العليم الخبير المنيع الرفيع، عالي على عرشه في مجده بذاته، وهو دان بعلمه من خلقه» - إلى أن قال: والقرآن كلام الله ومن الله ليس بمخلوق فيبيد، وكلمات الله وقدرة الله، ونعته وصفاته كلها كاملات غير مخلوقات دائمات أزليات ليست محدثات فتبيد، ولا كان ربنا ناقصاً فيزيد، جلت صفاته عن شبه المخلوقين ... عال على العرش، بائن من خلقه. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যা দ্বারা শুরু করা হয়েছে তার তিনি হকদার। শুকরিয়া পাওয়ার অধিকারীদের মধ্যে সর্বাগ্রে। তাঁর গুণ বর্ণনা করছি। তিনি এক, অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো স্ত্রী ও সন্তান নেই। তিনি দৃষ্টান্তের ঊর্ধ্বে। তাঁর সাদৃশ্য ও সমকক্ষ নেই। সর্বশ্রোতা, সবদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে অবহিত, শক্তিশালী, সুউচ্চ, তাঁর মর্যাদা সহকারে সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর সমুন্নত। তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে সৃষ্টির নিকটে।... তিনি আরও বলেন, কুরআন আল্লাহর কালাম। আল্লাহর থেকে এসেছে। মাখলুক নয় যে ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর বাণী, তাঁর ক্ষমতা, প্রশংসা ও গুণাবলি পূর্ণাঙ্গ, মাখলুক নয়, চিরন্তন চিরস্থায়ী। মাখলুক নয় যে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের রব অপূর্ণাঙ্গ ছিলেন না যে বৃদ্ধি পেয়েছেন। মাখলুকের সাদৃশ্য থেকে তাঁর গুণাবলি ঊর্ধ্বে। ... 'আরশের উপরে সমুন্নত, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা. এরপর তিনি বাকী আকীদাহ উল্লেখ করেন. (৪৭১)
টিকাঃ
৪৭০. যাহাবী, সিয়ার (১২/৪৯৪)।
৪৭১. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩৫; আল-ארش ২/৩২৭, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, পৃ. ১৬৬-১৭০।