📄 প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল ওয়াহহাব ইবন আবদুল হাকাম আল-ওয়াররাক (২৫১ হিজরী)
ইবন 'আব্বাসের হাদীস "সপ্তম আসমান থেকে আল্লাহর কুরসী পর্যন্ত সাত হাজার নূর আছে। আর আল্লাহ তার উপরে" বর্ণনা করার সময় আবদুল ওয়াহহাব ইবন আবদুল হাকাম আল- ওয়াররাক বলেন, مَنْ زَعَمَ أَنَّ اللَّهَ هاهنا فهو جَهْمِيٌّ خَبِيثٌ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وجلَّ فَوْقَ العَرْشِ، وَعِلْمُهُ يُحِيطُ بالدُّنيا والآخِرَةِ». "যে মনে করে আল্লাহ এখানে (পৃথিবীতে) আছে, সে জঘন্য জাহমী। আল্লাহ তো 'আরশের উপরে। আর তাঁর জ্ঞান দুনিয়া ও আখেরাতকে বেষ্টন করে আছে." (৪৫৬)
টিকাঃ
৪৫৬. যাহাবী, আল-'উলু, ১৪২; আল-ארش ২/৩২৩, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, ২৩২। তিনি সহীহ বলেছেন।
📄 প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবূ আসেম খাশাইশ ইবন আসরাম (২৫৩ হিজরী)
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও গ্রন্থকার আবু আসেম খাশাইশ ইবন আসরাম বলেন, وقد أنكر جهم أن يكون الله على العَرْشِ ، وقال الله تبارك وتعالى: اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٍ ) [السجدة: ٤]، وقال: ﴿إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ ﴾ [الأعراف: ٥٤]، وقالَ: الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: 5] وقال : ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَانُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ﴾ [الفرقان: ٥٩]. قال أبو عاصم: من كفر بآية من كتاب الله ؛ فقد كفر به أجمع، فمن أنكر العرش؛ فقد كفر بالله. وجاءت الآثارُ بأنَّ الله عرضًا، وأنه على عرشه». "জাহম ইবন সাফওয়ান আল্লাহকে 'তাঁর 'আরশের উপর' থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে অথচ আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা বলেন, "আল্লাহ তো তিনিই, যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদুভয়ের মাঝে যা আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবকও নেই, শুপারিশকারীও নেই”. [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৪] আরও বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন.” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] আরও বলেন, "দয়াময় (আল্লাহ্) 'আরশের উপর উঠেছেন.” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] আরও বলেন, "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনিই 'রহমান', সুতরাং তাঁর সম্বন্ধে যে অবহিত তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন.” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৯]
আবু 'আসেম বলেন, যে কেউ আল্লাহর একটি আয়াতকে অস্বীকার করবে সে যেন সকল আয়াতকে অস্বীকার করলো, সুতরাং যে কেউ 'আরশ অস্বীকার করলো সে আল্লাহর সাথে কুফুরী করলো। দলীল-প্রমাণ দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর 'আরশ রয়েছে এবং তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন. (৪৫৭)
তিনি আরও বলেন, وَأَنكَرَ جَهمٌ أَن يَكُونَ اللهُ في السَّماء دون الأرض ... وقد دلَّ في كتابه أَنَّهُ في السَّماء دون الأرض ... ثم ذكر الآيات الدَّالَّةِ على عُلو الله إلى أن قال: لو كان في الأرض كما هو في السَّماء لم ينزل مِنَ السَّماءِ إلى الأرض شيء، ولكان يصعدُ مِنَ الأرضِ إلى السَّماءِ كما ينزل مِنَ السَّماءِ إلى الأرض، وقد جاءت الآثارُ عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم : أَنَّ الله عزَّ وجلَّ فِي السَّماء دون الأرض. "জাহম অস্বীকার করেছে আল্লাহকে যমীন বাদ দিয়ে আসমানের উপর বলতে..., অথচ কুরআন প্রমাণ দিচ্ছে যে, তিনি আসমানের উপর, যমীনে নয়.” তারপর তিনি আল্লাহ সর্বোপরে থাকার বিষয়টির ওপর কুরআনের আয়াত থেকে দলীল পেশ করেন। তারপর বলেন, "যদি তিনি যমীনেও থাকতেন যেভাবে তিনি আসমানের উপর রয়েছেন, তাহলে আসমান থেকে যমীনে কিছুই নাযিল হতো না। অবশ্যই যমীন থেকে উত্থিত হয় আসমানের দিকে, যেমনিভাবে আসমান থেকে যমীনের দিকে অবতীর্ণ করা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু হাদীস এসেছে যে, মহান আল্লাহ আসমানের উপরে, যমীনে নন.”(৪৫৮)
টিকাঃ
৪৫৭. আল-মালাত্বী, আত-তানবীহ ওয়ার রাদ্দু 'আলা আহলিল আহওয়ায়ি ওয়াল বিদা'য়ি পৃ. ১১৩-১১৪।
৪৫৮. আল-মালাত্বী, আত-তানবীহ ওয়ার রাদ্দু 'আলা আহলিল আহওয়ায়ি ওয়াল বিদা'য়ি পৃ. ১১৮-১২১।
📄 ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইসমা‘ঈল আল-বুখারী (২৫৬ হিজরী)
ইমাম বুখারী রাহimahuallah তার সহীহ'র শেষের অনুচ্ছেদ; 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যা'য় আল্লাহর বাণী: ﴾وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ﴿ “আর আল্লাহর 'আরশ পানির উপরে ছিল”-অধ্যায়ে ইমাম বুখারী বলেন, আবুল 'আলিয়াহ বলেন, استوى إلى السماء অর্থাৎ আসমানের উপরে উঠেছেন এর অর্থ হচ্ছে, ارتفع। উপরে উঠেছেন। মুজাহিদ বলেন, علا على العرش 'আরশের উপরে হয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী যয়নাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহা বলেন, زوجني الله من فوق سبع سموات ‘আমার বিবাহ দিয়েছেন আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে।(৪৫৯) অনুরূপভাবে তিনি সেসব আয়াতও উল্লেখ করেছেন যাতে আমলনামা আল্লাহ তা'আলার দিকে উত্থিত হয় বুঝা যায়।
তদ্রূপ তিনি অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন, অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, “তাঁর কাছেই উত্থিত হবে উত্তম কালেমাসমূহ”. [সূরা ফাতির: ১০] যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপরে সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "যা আমি নিজ দু' হাতে সৃষ্টি করেছি.” [সূরা সাদ: ৭৫] যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর দু' হাত সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "যাতে আপনি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হতে পারেন.” [সূরা ত্বা-হা: ৩৯] যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর চোখ সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর সত্তার ব্যাপারে ভয় দেখাচ্ছেন” [সূরা আলে ইমরান: ২৮] এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর জন্য সত্তা, নফস, ব্যক্তি গুণ সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে কেবল তাঁর চেহারা ব্যতীত” [সূরা আর-ক্বাসাস: ৮৮] এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তা'আলার চেহারা সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "বলুন, সাক্ষী হিসেবে বড় জিনিস কী” [সূরা আল-আন'আম: ১৯] এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে জিনিস সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার চেয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নেই" [বুখারী, ৭৪১৬] এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর জন্য ব্যক্তি শব্দের ব্যবহার সাব্যস্ত করেছেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, "আর তাঁর আরশ পানির উপর” [সূরা হৃদ: ৭] "তিনি মহা 'আরশের রব". [সূরা আত-তাওবাহ: ১২৯] এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপরে হওয়া, 'আরশের উপরে তাঁর উঠা, 'আরশের উপরে তাঁর নিজেকে সমুন্নত করা, এ ব্যাপারে আবুল আলিয়া, মুজাহিদের বর্ণনা নিয়ে আসেন। তারপর তিনি আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর থাকা সংক্রান্ত হাদীসসমূহ নিয়ে আসেন।
অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী, “প্রতিদিন তিনি কোনো কাজে থাকেন” [সূরা আর-রহমান: ২৯].. আল্লাহর বাণী, "যাতে করে আল্লাহ নতুন কিছু উদ্ভব ঘটাবেন” [সূরা আত-ত্বালাক: ১] এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তা'আলার কর্ম সাব্যস্ত করেন, তিনি এখনও প্রতিনিয়ত তাঁর কাজ করে যান, যা ইচ্ছা তিনি নতুন করে করেন সে গুণ সাব্যস্ত করেন।
অনুচ্ছেদসমূহ, আল্লাহ তা'আলার বাণী সংক্রান্ত অনেকগুলো অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেন। আল্লাহ তা'আলার বাণীর শব্দ রয়েছে, বর্ণের মাধ্যমে হয়, আল্লাহ তা'আলা জিবরীলকে শব্দ করে ডাকেন, আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদেরকে শব্দ করে ডাকেন, এসব প্রমাণ করেন।
অনুচ্ছেদ, আসমান, যমীনসহ সকল সৃষ্টিকে অস্তিত্ব প্রদান, এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তা'আলার কর্ম ও নির্দেশ দেয়া সাব্যস্ত করেন, সুতরাং রব তো এমন সত্তা যাঁর রয়েছে সত্তা, গুণ, কর্ম ও নির্দেশ। তিনি স্রষ্টা অস্তিত্বপ্রদানকারী সৃষ্ট নন, আর যা তাঁর কর্ম, নির্দেশ, সৃষ্টিকরণ ও অস্তিত্বে আনয়ন করা দ্বারা হবে তা হবে কর্ম, সৃষ্ট ও অস্তিত্ব প্রদানকৃত. (৪৬০)
তাছাড়া তিনি তাঁর খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ গ্রন্থে ইসলামে প্রসিদ্ধ ইমামদের থেকে বহু বর্ণনা নিয়ে এসেছেন, যা দ্বারা তিনি আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করেছেন. (৪৬১)
টিকাঃ
৪৫৯. সহীহ বুখারী পৃ. ১৫৫৪-১৫৫৫; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরश, পৃ.৬৬-৬৭; যাহাবী, আল-ארশ ২/৯, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৪৬০. সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ ওয়ার রাদ্দি আলাল জাহমিয়া।
৪৬১. দেখুন: খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ২৯-৪৫।
📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মুআয আর-রাযী (২৫৮ হিজরী)
ইয়াহইয়া ইবন মু'আয আর-রাযী বলেন, إِنَّ اللَّهَ عَلَى الْعَرْشِ بَائِنٌ مِنَ الْخَلْقِ، وَقَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা, আর তিনি সবকিছু জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে আছেন.” (৪৬২)
টিকাঃ
৪৬২. যাহাবী, দেখুন, মুখতাসারুল 'উলু ১৩৯।