📄 ইমামে রাব্বানী মুহাম্মাদ ইবন আসলাম আত-ত্বসী (২৪২ হিজরী)
ইমাম মুহাম্মاد ইবন আসলাম আত-ত্বসী রাহimahuallah বলেন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবন ত্বাহের জিজ্ঞাসা করেছেন যে, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, আপনি আসমানের দিকে মাথা উঠান, এটা কেন করেন? তখন আমি তাকে বললাম, কেন উঠাব না? আমি কি যাবতীয় কল্যাণ তাঁর কাছ থেকেই কেবল আশা করি না যিনি আসমানের উপর রয়েছেন? (৪৪৯) সুবহানাল্লাহ, যাদের নিয়ে মুসলিম জাতি গর্ব করে এমন একজন ব্যক্তিত্ব আল্লাহকে 'আরশের উপর সাব্যস্ত করছেন এবং এটাই প্রকৃত আকীদাহ-বিশ্বাস হওয়া উচিত বলে আমাদের জানাচ্ছেন.
টিকাঃ
৪৪৯. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ২১০।
📄 প্রখ্যাত ওয়ায়েয হারেস ইবন আসাদ আল-মুহাসেবী (২৪৩ হিজরী)
হারেস আল-মুহাসেবী হচ্ছেন, বিখ্যাত দুনিয়াবিমুখ যাহেদ ইমাম। তিনি আশ'আরী ও কুল্লাবী মতবাদের অনুসারীদের একজন প্রখ্যাত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। অনেক বিষয়ে সহীহ আকীদাহ বিরোধী হওয়ার কারণে ইমাম আহমاد ইবন হাম্বল রাহimahuallah হারেস আল-মুহাসেবীর কাছে যাওয়ার ব্যাপারে মানুষদের সাবধান করতেন। কিন্তু তিনি আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠা, সবকিছুর উপরে থাকার আকীদাহ পোষণ করতেন। এর বিপরীত আকীদাহ পোষণকারীদের পথভ্রষ্ট বলতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায় তাদের পূর্বসূরীদের আকীদাও গ্রহণ করতে পারেনি। হারেস ইবন আসاد আল-মুহাসেবী রাহimahuallah তার 'ফাহমুল কুরআন' গ্রন্থে আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এবং 'আরশের উপরে অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বর্ণনা করে বলেন, ﴿ الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) :وأما قوله﴾ [طه: ٥] ﴿ وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ﴾ [الأنعام: ١٨]، و ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ﴾ [الملك: ١٦ ] , و ﴿وَإِذَا لابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴾ [الإسراء: ٤٢]. فهذهِ وغيرها مثل قوله: ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ١٠]، وقوله: ﴿يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ٥]. فهذا مَقْطَع يوجبُ أَنَّهُ فوق العرش، فوق الأشياء، منزَّهُ عَنِ الدُّخول في خلقه، لا يخفى عليه منهم خافية، لأنه أبان في هذه الآيات أنَّ ذاته بنفسه فوق عبادهِ لأَنَّهُ قال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ﴾ [الملك: ١٦]، يعني: فوق العرش، والعرش على السَّمَاءِ، لأنَّ مَنْ كَانَ فَوقَ شَيء على السَّمَاءِ فَهُوَ فِي السَّمَاءِ، وقد قال مثل ذلك: ﴿فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ) [التوبة: ٢] ، يعني: على الأرض لا يريد الدخول في جوفها، وكذلك قولُهُ: ﴿وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ) [طه: ۷۱] ، يعني: فوقه. وقال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ﴾ [الملك: ١٦ ] ، ثمَّ فَصَّلَ فقالَ: ﴿أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ ﴾ [الملك: ١٦ ] ... ثمَّ اسْتَأْنَفَ التخويف بِالخَسْفِ - إِلَّا أَنَّهُ عَلَى العَرْشِ فَوْقَ السَّمَاءِ. আর তাঁর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] "তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৮] "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন?" [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] "তাহলে তারা 'আরশের অধিপতির সাথে যাওয়ার পথ তালাশ করত" [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৪২] এগুলো এবং অনুরূপ অন্যান্য আয়াত যেমন, "তাঁর দিকেই উত্তম বাণীসমূহ উত্থিত হয় আর উত্তম আমল তিনিই তা উপরে উঠান” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] আরও তাঁর বাণী "তিনি আসমান থেকে যমীন পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর কাছে উত্থিত হয়” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] এসব এমন অকাট্য বিষয়, যা এটা মানতে বাধ্য করে যে, তিনি 'আরশের উপর আছেন, সকল কিছুর উপর, তাঁর সৃষ্টির ভেতরে প্রবেশ করা থেকে তিনি পবিত্র, তাঁর কাছে সৃষ্টির কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকে না। কারণ, তিনি এসব আয়াতে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সত্তা স্বয়ং তাঁর সকল সৃষ্টির উপরে, কারণ তিনি বলেন, "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন?" [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] অর্থাৎ 'আরশের উপরে। আর 'আরশ আসমানের উপরে; কারণ যা কিছু আসমানের উপরে কোনো কিছুর উপরে থাকবে তা তো আসমানের উপর হবেই। আল্লাহ তা'আলা অনুরূপ কথা কুরআনের অন্যত্রও বলেছেন, "সুতরাং তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ কর" [আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] অর্থাৎ যমীনের উপর। এর উদ্দেশ্য যমীনের অভ্যন্তরভাগে বিচরণ করা নয়। অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "অচিরেই আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিতে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১] অর্থাৎ কাণ্ডের উপর। আরও বলেন, "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] তারপর আল্লাহ সেটার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, “যে তোমাদেরকে যমীনের বুকে ধ্বসিয়ে দিবেন” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬]... তারপর আল্লাহ তা'আলা পুণরায় ধ্বসিয়ে দেয়ার ভয় প্রদান করেছেন। তবে তিনি 'আরশের উপর আসমানের উপর.
তিনি আরও বলেন, وقال: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ٥]، وقال: تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ) [المعارج: ٤] ، فبين عروج الأمر، وعروج الملائكة، ثم وصف صعودها بالارتفاع صاعدة إليه. فإذا صَعَدُوا إلى العرش فقد صَعَدُوا إلى الله جل وعزَّ، ... فإنَّهم قد صَعَدُوا مِنَ الأرضِ، وَعَرَجُوا بالأمر إلى العُلُو الذي اللهُ عَزَّ وجل فوقه .... "তিনি আসমান থেকে যমীনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর দিকে তা উত্থিত হয়." [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] আরও বলেন, "ফিরিশতাগণ ও রূহ তাঁর দিকে আরোহন করে যায়” [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ০৪] এর মাধ্যমে তিনি বর্ণনা করলেন যে, নির্দেশ উপরে উঠে যায়, ফিরিশতাগণ উপরে উঠে যান। তারপর তাদের উপরে আরোহন করার বিষয়টির বর্ণনা দিয়েছেন যে, তা তাঁর দিকে উত্থিত হয়। সুতরাং তারা যখন 'আরশের দিকে উঠে যায় তখন তারা তো মহান আল্লাহর দিকেই উঠে যায়... তারা তো যমীন থেকে উপরের দিকেই উঠে যায়, তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সে উপরের দিকে যান, যার উপরে আল্লাহ রয়েছেন.
তিনি আরও বলেন, إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ ) [فاطر: ١٠]. وكلام الملائكة أكثر وأطيب من كلام الآدميين، فلمْ يَقُلْ يَنزِلُ إِليهِ الكَلِمُ الطَّيِّبُ. وقال عن عيسى عليه السلام: بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ١٥٨]. وقال عن فرعونَ: لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ * أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا ﴾ [غافر: ٣٦ - ٣٧]، فيما قال لي إنَّهُ في السَّماءِ، فطلبه حيث قال له موسى مَعَ الظَّنِّ منه بموسى عليه السلام أنه كاذب، ولو أنَّ موسى عليه السلام، أخبره أنه في كل مكان بذاته، لطلبه في الأرض أو في بيته وَبَدَنِهِ وَلَمْ يَتَعَنَّ بِبُنْيَانِ الصَّرْحِ». "তাঁর দিকেই উত্তম বাক্যসমূহ উঠে যায়” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] আর ফিরিশতাদের কথা মানুষের কথা থেকে অনেক বেশি ও অনেক উত্তম। এখানে বলা হয়নি যে, তাঁর কাছে উত্তম বাণীসমূহ নাযিল হয়ে আসে। আর তিনি 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন, “বরং আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নিয়েছেন." [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৮]
তিনি ফির'আউন সম্পর্কে বলেছেন, "যাতে আমি উপায় অবলম্বন করতে পারি, আসমানের উপায়, যাতে করে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই” [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৬-৩৭] তারপর আবার বলছেন, "আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি" [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৭] কারণ মূসা 'আলাইহিস সালাম তাকে বলেছিলেন যে, তিনি (আল্লাহ) আসমানে আছেন। তখন সে এটা করতে চাইল; কারণ মূসা তাকে এটা বলেছেন, যদিও তার ধারণা ছিল যে, মূসা 'আলাইহিস সালাম এ ব্যাপারে মিথ্যাবাদী। যদি মূসা 'আলাইহিস সালাম তাকে জানাতেন যে, তিনি সত্তাগতভাবে সব জায়গায়, তাহলে অবশ্যই তাকে যমীনেই খুঁজতো অথবা তার ঘরে ও শরীরে খুঁজতো, টাওয়ার বানানোর কষ্ট করতো না.” (৪৫০)
তিনি আরও বলেন, وكذلك قوله : ﴿ فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الأَرْضِ إِلَهُ ﴾ [الزخرف: ٨٤] فلم يقل في السَّمَاءِ ثم قطع ... فقال: في السَّمَاءِ إله) [الزخرف: ٨٤]، فأخبر أنَّهُ إِلهُ أهلِ السَّماءِ وإله أهل الأرض. وذلك موجودٌ فِي اللُّغَةِ إِذْ يقول القائل: مَنْ بخراسان؟ فيقال: ابن طاهر. وإنَّما هو في موضع. فجايز أن يقال : ابن طاهر أمير في خراسان، فيكون أميرًا في بلخ و سمرقند وكل مدنها. لو كان هذا معنى الكون، فكيف العالي فوق كل شيء ؟! لا يخفى عليه شيءٌ مِنَ الأشياء يُدَبِّرُه، فهو إله أهلِ السَّماءِ، وإله أهل الأرض لا إله فيهما سواه، فهو فيهما إله إذ كان مديرا لهما وما فيهما وهُوَ على عَرْشِهِ فَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ بَاقٍ. "আর অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "তিনি আসমানেও মা'বুদ ও যমীনেও মা'বুد” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪], তিনি বলেননি যে, শুধু আসমানে, তারপর কথা কর্তন করেননি। ...তারপর আল্লাহ বলেন, "আর যমীনেও মা'বুদ” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪] এভাবে তিনি জানালেন যে, তিনি (আল্লাহ) আসমানবাসীদের জন্যও ইলাহ বা মা'বুদ, তেমনি তিনি যমীনবাসীদের জন্যও মা'বুদ। আর এ বাকরীতি আরবী ভাষায় প্রচুর; যেমন কেউ বলে, খুরাসানে কে? তখন বলা হয়, ইবন তাহের। যদিও তিনি তো মাত্র খুরাসানের এক জায়গায়; সুতরাং এটা বলাও জায়েয, 'ইবন তাহের খুরাসানের আমীর' অথচ তিনি বলখ, সমরকন্দ ও অন্যান্য স্থানেরও আমীর.. যদি একজন সৃষ্টির জন্য তা বলা যায়, তবে সে সত্তার ব্যাপারে কেন বলা যাবে না, যিনি সবকিছুর উপরে? যার কাছে কোনো কিছু গোপন নেই, তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন, তিনি আসমানবাসীদের জন্যও ইলাহ, যমীনবাসীদের জন্যও ইলাহ, আসমান ও যমীনে তিনি ব্যতীত আর কোনো হক্ক ইলাহ নেই। কারণ, তিনিই এ দু'টিকে পরিচালনা করছেন এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে তাও পরিচালনা করছেন। অথচ তিনি তাঁর 'আরশের উপর সবকিছুর উপরে রয়েছেন.” (৪৫১)
আর তিনি সে সকল জাহমিয়্যাদের মত খণ্ডন করেন, যারা আল্লাহ তা'আলাকে সত্তাগতভাবে সবজায়গায় বলে থাকে, তিনি বলেন, وقد ادعى بعض أهل الضلال فزعموا أن الله جل وعز في كل مَكَانَ بِنَفْسِهِ كَائِنَا كَمَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ، لَا فَرقَ بَين ذَلِكَ عندهم... "কোনো কোনো পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী দাবি করে থাকে, তাদের ধারণা অনুযায়ী 'মহান আল্লাহ সত্তাগতভাবে সব জায়গায়, যেমন তিনি 'আরশের উপরে রয়েছেন', তাদের নিকট এ দু'য়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই”. (৪৫২)
চিন্তা করে দেখুন, কীভাবে তিনি বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী ও তাদের মতো লোকদের আকীদাকে পথভ্রষ্টদের আকীদাহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বস্তুত বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায় তাদের পূর্বসূরী এ ইমামের আকীদাহ থেকেও যোজন দূরে অবস্থান করছে। আল্লাহ আমাদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে হিফাযত করুন। আমীন.
টিকাঃ
৪৫০. হারেস আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন, পৃ. ৩৪৯-৩৫২।
৪৫১. হারেس আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন পৃ. ৩৫৫-৩৫৬।
৪৫২. হারেس আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন পৃ. ৩৫২।
📄 মুনযর আল-মিহরী (২৪৫ হিজরী)
প্রখ্যাত ইবাদাতগুযার, নেককার বান্দা যুন্নুন আল-মিসরীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ما أراد الله بخلق العرش؟ فقال: أراد الله أن لا تتيه قلوب العارفين ولم يخلقه لحاجته إليه، فإذا قيل للعبد المؤمن أين الله؟ قال: على العرش “আল্লাহ তা'আলা 'আরশ সৃষ্টির মাধ্যমে কী চেয়েছেন? তখন তিনি বললেন, আল্লাহ চেয়েছেন, তাঁকে যারা চিনে সেসব 'আরেফ' বান্দাদের অন্তরসমূহ বিক্ষিপ্ত না করতে। সেটার প্রতি কোনো প্রয়োজনে তিনি সেটাকে সৃষ্টি করেননি। সুতরাং যখন মুমিন বান্দাকে বলা হয়, আল্লাহ কোথায়? তখন সে বলে, 'আরশের উপর.”(৪৫৩) অর্থাৎ বান্দার জন্য তার রবকে চেনা, তার দিকে নিজেকে নিবদ্ধ করা, তাঁর কাছে চাওয়া সেসবের জন্য তিনি নির্দিষ্ট করে 'আরশের উপর উঠেছেন.
অন্যত্র তিনি বলেন, أشرقت لنوره السموات، وأنار لوجهه الظلمات، وحُجِبَ جلاله عن العيون، وناجاه على عرشه ألسنة الصدور. “আল্লাহর নূরের আলোতে আসমানসমূহ আলোকিত হয়েছে, তাঁর চেহারার কারণে অন্ধকার আলোকিত হয়েছে, তাঁর সম্মান মর্যাদার সত্তা চোখসমূহ থেকে পর্দার অন্তরালে, অন্তরের জিহ্বা তাঁর সাথে তাঁর 'আরশের উপরেই গোপন আলাপ করে.”(৪৫৪)
টিকাঃ
৪৫৩. আবুল কাসেম আত-তাইমী (২/১১৩), নং ৬২; ইয়াহইয়া আল-ইমরানী, আল-ইন্তেসার ফির রাদ্দি 'আলাল মু'তাযিলাতিল কাদারিয়্যahtil আশরার (২/৬২২)।
৪৫৪. আবুশ শাইখ, আল-আযামah (১/৩৯৮); যাহাবী, আল-'আরش (২/৩১৯); অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আল-'উলু, পৃ. ১৩৪; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুשיל ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ২৭১।
📄 ইবন কুতাব (২৪৫ হিজরী)
আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্লাব রাহimahuallah ছিলেন একজন মুনাযির, তিনি মু'তাযিলাদের সাথে মুনাযারা করতেন। কারণ তখন মু'তাযিলাদের জয়-জয়কার ছিল। মু'তাযিলারা আল্লাহ তা'আলাকে উপরে থাকা অস্বীকার করতো, তাঁর আরশের উপরে উঠাকেও অস্বীকার করতো। তখন তাদের বিরুদ্ধ ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্লাব দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সে অবস্থান ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তিনি তাদের সাথে মুনাযারা ও বহس-মুবাহাসায় তাদের কিছু কালাম শাস্ত্রীয় নীতির যথার্থতা মেনে নিয়েছিলেন, যার কারণে আল্লাহ তা'আলার 'সিফাতে ফি'লিয়্যah 'ইখতিয়ারিয়্যাহ' (কর্মগত ইচ্ছাকৃত গুণ) অস্বীকার করে ফেলেছিলেন। এ সময় ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরী রাহimahuallah তাঁর অনুসারী থাকার কারণে তিনিও তখন আল্লাহ তা'আলার 'সিফাতে ফি'লিয়্যah ইখতিয়ারিয়্যাহ অস্বীকার করতেন। ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্লাব ও ইমাম আবুল হাসান আশ'আরী যে মত পোষণ করতেন পরবর্তীতে তা-ই আশ'আরী মতবাদ নামে সারা দুনিয়াতে প্রসারিত হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কয়েকটি:
১- ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরী পরবর্তীতে ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্লাব এর অনুসরণ ছেড়ে দিয়ে খাঁটি সহীহ আকীদাহ গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন, যাতে তাঁর মত থেকে সরে আসার ধারাবাহিকতা ও খাঁটিভাবে সহীহ আকীদাহ ও মানহাজ গ্রহণ করা প্রমাণ করে। যে কেউ তাঁর আল-উমاد, মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ও আল-ইবানاه ধারাবাহিকভাবে পড়বে সে সহজেই বুঝতে পারবে যে, ইমাম আশ'আরী রাহimahuallah এর সর্বশেষ আকীদাহ ছিল আল্লাহ তা'আলার সকল সত্তাগত ও কর্মগত গুণাবলি কোনো প্রকার বিকৃতি, অর্থহীনতা, তা'ওয়ীল নামক অপব্যাখ্যা, কিংবা সাদৃশ্য স্থাপন ব্যতীত স্বীকার করে নেয়া।
২- কিন্তু বর্তমান সময়ের সারা দুনিয়ার আশ'আরী মতবাদের অনুসারীরা ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর সর্বশেষ বিশুদ্ধ মতটিকে গ্রহণ করে না। তারা ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্লাব এর মত অনুসরণ করে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তারা ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ এর অনসুরণও করে না। তারা কিছু জায়গায় ইমাম ইবনু কুল্লাবের অনুসরণ করলেও কিছু ব্যাপারে ধীরে ধীরে তারা তার মত থেকে সরে গিয়ে আবার জাহমিয়্যাদের মতবাদই অনুসরণ করে, তার প্রমাণ আমরা পাই এভাবে যে, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবন সা'ঈদ ইবন কুল্যাব আল্লাহ তা'আলার জন্য সর্বোচ্চে থাকা স্বীকার করতেন। তিনি আল্লাহ তা'আলা কোথায় এ প্রশ্ন করাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে জাহমিয়্যahদের দ্বারা তা অস্বীকার করাকে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, فرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو صفوة الله من خلقه، وخيرته من بريته، وأعلمهم جميعاً به، يجيز السؤال بأين، ويقوله، ويستصوب قول القائل: إنه في السماء، ويشهد له بالإيمان عند ذلك، وجهم بن صفوان وأصحابه لا يجيزون الأين زعموا، ويحيلون القول به.... "সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর সবচেয়ে পবিত্র ও পছন্দনীয় ব্যক্তি, সৃষ্টিকুলের মধ্যকার সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি, সকলের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, তিনি "আল্লাহ কোথায়" এটাকে জায়েয করেছেন আর তিনি জিজ্ঞাসাও করেছেন, তাছাড়া তিনি এর উত্তরে যে বলেছিল 'তিনি আসমানের উপরে' তার উত্তরকে যথাযথ বলে সত্যায়ণও করেছিলেন, সে উত্তরদাতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সেটার ওপর ভিত্তি করে ঈমানের সাক্ষ্যও প্রদান করেছেন। অথচ জাহম ইবন সাফওয়ান ও তার অনুসারীরা আল্লাহ তা'আলা "কোথায়” এ প্রশ্ন করা জায়েয মনে করে না, বরং এ প্রশ্ন করা অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে থাকে”. (৪৫৫)
একটু চিন্তা করলেই আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে কারা বর্তমানে 'আল্লাহ কোথায়' এ প্রশ্ন করা জায়েয মনে করে না? আর কারা এ প্রশ্ন করা জায়েয মনে করে এবং এর উত্তরে 'আল্লাহ তা'আলা উপরে' এ উত্তরকে সঠিক উত্তর বলে এবং তার জন্য ঈমানের সাক্ষ্য দেয়?
এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, ইমাম আবু সা'ঈদ ইবন কুল্যাব কাদেরকে জাহমিয়্যাহ বলেছেন? তারা কারা যারা সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, 'আল্লাহ কোথায়' এ হাদীসের প্রামাণ্যতা নিয়ে অযথা ঘোলা পানিতে মৎস শিকার করে? ইমাম আবু সা'ঈদ ইবন কুল্লাবের মত অনুযায়ী তারা কাদের অনুসারী হয়? তারা কি বাস্তবেই জাহমিয়্যাহদের অনুসারী নয়?
ভালো করে দেখুন, ইমাম আবু সা'ঈদ ইবন কুল্লাব জাহমিয়্যাদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা আল্লাহ তা'আলার ব্যাপারে 'আইন' (কোথায়?) এটা বলা জায়েযে মনে করতো না। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে বর্তমানে কারা জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের আকীদাহ ধারণ করে আছে.
এরপর ইমাম আবু সা'ঈদ ইবন কুল্লাব আরো বলেন, أولو كان خطأ كان رسول صلى الله عليه وسلم أحق بالإنكار له، وكان ينبغي أن يقول لها: لا تقولي ذلك، فتوهمين أن الله عز وجل محدود، وأنه في مكان دون مكان، ولكن قولي: إنه في كل مكان لأنه الصواب دون ما قلت. "আর যদি তা ভুল হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা অস্বীকারকারী প্রধান ব্যক্তি হতেন। যদি এটা অগ্রহণযোগ্য হতো, তবে তিনি অবশ্যই বলতেন, 'হে দাসী, তুমি এটা বলো না, তোমার এটা বলার দ্বারা তো আল্লাহ তা'আলা সীমাবদ্ধ হয় যাবে, আর তাকে এক স্থান বাদে অন্য স্থানে নির্ধারণ করা হয়ে যাবে, তুমি বরং বলো, তিনি তো সব জায়গায়, কারণ সত্য সঠিক হচ্ছে যা তুমি বলেছ সেটা ব্যতীত অন্য কিছু'.” (অথচ রাসূল তা বলেননি, বরং দাসীর কথাকে সমর্থন করে গেছেন, তার ওপর ঈমানের বৈশিষ্ট্যের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন)।
তাহলে ইমাম ইবন কুল্লাবের বক্তব্য থেকে বুঝা গেল যে, দাসীর কথার মূল্য রয়েছে, অর্থ আছে, যা জাহমিয়্যারা এ ধারণার বশবর্তী হয়ে অস্বীকার করে থাকে যে, এর মাধ্যমে আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করা হয়, আল্লাহকে সব জায়গায় না বলে নির্দিষ্ট জায়গায় বলা হচ্ছে। তাহলে ইমাম ইবন কুল্লাবের কথাতেই বুঝা গেল যে, দাসীর কথা দ্বারা কেবল উচ্চ মর্যাদা বুঝানো হয়নি যা জাহমিয়্যারা অপব্যাখ্যা করে বলে থাকে। বরং উপরে থাকা দ্বারা এমন একটি জিনিস বুঝাচ্ছে যা জাহমিয়্যা সম্প্রদায় অস্বীকার করে থাকে যেমনটি ইবন কুল্লাব রাহimahuallah তুলে ধরেছেন.
এরপর ইবন কুল্লাব রাহimahuallah বলেন, كلا لقد أجازه رسول الله صلى الله عليه وسلم مع علمه بما فيه، وأنه أصوب الأقاويل، والأمر الذي يجب الإيمان به لقائله، ومن أجله شهد لها بالإيمان حين قالته، فكيف يكون الحق في خلاف ذلك، والكتاب ناطق به وشاهد له.... ولو لم يشهد لصحة مذهب الجماعة في هذا الفن خاصة إلا ما ذكرنا من هذه الأمور، لكان فيه ما يكفي، كيف وقد غرس في بنية الفطرة ومعارف الآدميين من ذلك ما لا شيء أبين منه ولا أوكد ؟ لأنك لا تسأل أحداً من الناس عنه، عربياً ولا عجمياً، ولا مؤمناً، ولا كافراً، فتقول: أين ربك؟ إلا قال: (في السماء) إن أفصح، أو أوما بيده، أو أشار بطرفه، إذا كان لا يفصح، لا يشير إلى غير ذلك من أرض ولا سهل ولا جبل، ولا رأينا أحداً داعياً له إلا رافعاً يديه إلى السماء، ولا وجدنا أحداً غير الجهمية يسأل عن ربه فيقول: في كل مكان، كما يقولون: وهم يدعون أنهم أفضل الناس كلهم، فتاهت العقول، وسقطت الأخبار، واهتدى جهم وحده وخمسون رجلاً معه، نعوذ بالله من مضلات الفتن "কখনও নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার উপরে থাকার এ সাক্ষ্যটি অনুমোদন করেছেন। তিনি ভালো করেই জেনেছেন এ সাক্ষ্যের অর্থ কী? তিনি এটাও জানতেন যে এটিই হচ্ছে সঠিক বক্তব্য, এটিই হচ্ছে এমন বিষয় যার ওপর ঈমান আনা ফরয, সেজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীর ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন যখন দাসী তা বলেছে। তাহলে হক ও সত্য এর বিপরীতে কীভাবে হতে পারে? তাছাড়া কুরআন তা বলছে, এর ওপর সাক্ষ্য দিচ্ছে.... যদি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মত বিশুদ্ধ হওয়ার পক্ষে যা আমরা উল্লেখ করেছি তাই কেবল সাক্ষ্য দিত, অন্য কোনো প্রমাণ নাও থাকতো তবুও তাতে যা এসেছে তা যথেষ্ট হতো, অথচ মানুষের স্বাভাবিক (ফিত্বরী) অস্তিত্বের সাথে, মানুষের জ্ঞানের মাঝে তা এমন স্পষ্টভাবে গেঁথে দেয়া আছে যে স্পষ্টতার থেকে স্পষ্টতা, যে তাকীদের চেয়ে তাকীদ কোনো কিছু নেই, সুতরাং সেটাকে তুমি কীভাবে অস্বীকার করবে? কারণ তুমি আরব, অনারব, ঈমানদার, কাফের, যাকেই জিজ্ঞেস কর, তোমার রব কোথায়? জবাবে সে বলবেই, "আসমানের উপরে" যদি সে কথা বলতে সক্ষম হয়, আর যদি কথা বলতে না পারে তো ইঙ্গিত করে আসমানের দিকে দেখাবে, অথবা চোখের কোণ সেদিকে তুলে ধরবে। কখনও সে উপরের দিক ব্যতীত অন্য কোনো ভূমি, পাহাড় বা সমতল ভূমিকে দেখাবে না। আর আমরা কাউকে আল্লাহকে আহ্বানকারী হিসেবে পাইনি যিনি উপরে আসমানের দিকে হাত তুলেন না। অনুরূপ আমরা জাহমিয়্যাহ ব্যতীত অপর কাউকে পাইনি যাকে তার রব কোথায় প্রশ্ন করা হলে সে বলেছে, তিনি সবজায়গায়, যেমনটি জাহমিয়্যারা বলে থাকে। অথচ এ জাহমিয়্যা সম্প্রদায়ের লোকেরা দাবি করে থাকে তারা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এভাবে তারা তাদের বিবেক হারিয়ে ফেলেছে, কুরআন ও হাদীসের বাণী তাদের হাত থেকে পড়ে গেছে, আর জাহমের দাবী অনুযায়ী সে ও তার পঞ্চাশজনজন সাথীই হিদায়াত পেয়ে গেছে। আল্লাহ তা'আলার কাছে আমরা পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই."
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ইবুন কুল্লাব রাহimahuallah'র নিকট 'দাসীর উত্তর' (আল্লাহ আসমানের উপরে) এটি মানুষের স্বভাবজাত সত্য বিষয়, যা ফিত্বরাত নামে অভিহিত। সে স্বভাবজাত বিষয় কী?
ইবন কুল্লাব রাহimahuallah বলেন, তা হচ্ছে, যখনই কাউকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'আল্লাহ কোথায়' তখনই সে জবাবে দাসীর জবাবটিই বলবে, অথবা হাত দিয়ে বা চোখ দিয়ে আসমানের দিকে ইঙ্গিত করবে। যমীনের দিকে নয়। এটিই সে স্বভাবজাত ফিত্বরী বিষয় যার কারণে আল্লাহ তা'আলাকে আহ্বানকারী তার হাত নিয়ে আসমানের অভিমুখী হয়।
তারপর তিনি জানালেন যে, এর বিপরীতে জাহমিয়্যারাই বলে থাকে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান.
এসব বর্ণনা থেকে এটা স্পষ্ট হলো যে, ইবন কুল্লাব রাহimahuallah আল্লাহ তা'আলার জন্য শুধু উচ্চ মর্যাদার কথা বলতেন না, অথবা শুধু শব্দগত উপরে বলতেন না যার অর্থ তাফওয়ীদ্ব নাম অর্থহীনতার মাধ্যমে বিকৃত করা হয়ে থাকে। বরং তিনি সত্তাগত উপরে থাকাকেই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা স্বভাবজাতভাবে মানুষের মনের কন্দরে গ্রথিত।
তারপর তিনি তাদেরকে নাস্তিকদের সাথে তুলনা করেন, যারা বলে রাব্বুল আলামীন জগত থেকে পৃথক নন, আবার তিনি অভ্যন্তরেও নন। এরপর তিনি তাদের বাণীকে সত্য বলে প্রমাণ করেন যারা বলে, রাব্বুল আলামীন সৃষ্টকুল থেকে পৃথক একক সত্তা।
এসবই প্রমাণ করে যে, ইবন কুল্লাব রাহimahuallah যিনি ইমাম আশ'আরীর উস্তাদ, তিনিও আল্লাহ তা'আলার জন্য সবকিছুর উপরে থাকা সাব্যস্ত করতেন। এর বিপরীত যারা বলতো তাদেরকে জাহমিয়্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অবশ্য বর্তমানে যারা আশ'আরী নামে নিজেদের অভিহিত করে তারা হুবহু জাহমিয়্যাদের আকীদাকেই ধারণ করে চলেছে, তাদের সে বোধটুকুও নেই.
টিকাঃ
৪৫৫. ইবনু তাইমিয়्यাহ, দার'উ তা'আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাক্কলি, ৬/১৯৩।