📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবদুস সালাম ইবন সা‘ঈদ ইবন হাবীব সাসূমূন আল-কাইরোয়ানী (২৪০ হিজরী)

📄 ইমাম আবদুস সালাম ইবন সা‘ঈদ ইবন হাবীব সাসূমূন আল-কাইরোয়ানী (২৪০ হিজরী)


প্রখ্যাত ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইমাম আব্দুস সালাম ইবন সা'ঈদ ইবন হাবীব 'সাহনূন' আল- ক্কাইরোয়ানী আল-মালেকী রাহimahuallah বলেন, عَنْ يَحْيَى بْنِ عَوْنٍ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ سَحْنُوْنَ عَلَى ابْنِ القَصَّارِ وَهُوَ مَرِيضُ، فَقَالَ : مَا هَذَا القَلَقُ ؟ قَالَ لَهُ: الْمَوْتُ وَالقُدُوْمُ عَلَى اللَّهِ. قَالَ لَهُ سَحْنُوْنُ: أَلَسْتَ مُصَدِّقاً بِالرُّسُلِ وَالبَعْثِ وَالحِسَابِ، وَالجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَأَنَّ أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمُرُ، وَالقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، وَأَنَّ اللَّهَ يُرَى يَوْمَ القِيَامَةِ، وَأَنَّهُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى، وَلَا تَخْرُجُ عَلَى الْأَئِمَّةِ بِالسَّيْفِ، وَإِنْ جَارُوا. قَالَ: إِي وَالله . فَقَالَ : مُتْ إِذَا شِئْتَ، مُتْ إِذَا شِئْتَ. “ইয়াহইয়া ইবন 'আউন বলেন, আমি সাহনূনকে সাথে নিয়ে ইবনুল কাসসার এর অসুস্থতায় তাকে দেখতে গেলাম, সাহনূন তখন বললেন, কিসের জন্য এত পেরেশান ও দুশ্চিন্তায়? তিনি বললেন: মৃত্যু ও আল্লাহর কাছে আগমনের আশঙ্কায়। তখন সাহনূন তাকে বললেন: আপনি কি রাসূলগণের ওপর, পুনরুত্থানের ওপর, হিসাব- নিকাশের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস করেন না? আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে, এ উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হচ্ছেন, আবু বকর ও 'উমার? আর কুরআন আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্ট নয়, আর আল্লাহকে কিয়ামতের দিন দেখা যাবে, আর এটাও কি বিশ্বাস করেন না যে আল্লাহ তার 'আরশের উপর উঠেছেন? আর শাসকদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা যাবে না, যদিও তারা যুলুম করে? উত্তরে ইবনুল কাসসার বললেন: অবশ্যই হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ করে বলছি। সাহনূন বলেন, তাহলে যখন ইচ্ছা আপনি মারা যান, যখন ইচ্ছা আপনি মারা যান.” (৪৪৩)

টিকাঃ
৪৪৩. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৬৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (২৪১ হিজরী)

📄 ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (২৪১ হিজরী)


আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইমাম, যিনি জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে একাই পাহাড়সম দাঁড়িয়েছিলেন, যার দিকে সম্পর্কযুক্ত হতে পারা ঈমানদারের জন্য গর্বের বিষয়। যার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকে অন্তরের বক্রতা হিসেবে ধর্তব্য, যিনি আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এবং 'আরশের উপর থাকা সংক্রান্ত আকীদায় তারই মতো আরও ইমাম যেমন আবু হানীফা, আওযা'ঈ, সুফইয়ান সাওরী, মালিক ও শাফেয়ীসহ অন্যান্য মহৎ ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন। নিম্নে আমরা তার কয়েকটি নমুনা তুলে ধরছি:
• ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল আর-রাদ্দু 'আলায যানাদিকাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে বলেন, সে গ্রন্থ সংকলন ও বর্ণনা করেছেন তার সন্তান আবদুল্লাহ- باب بيان ما أنكرت الجهمية أن يكون الله على العرش قلت لهم: أنكرتم أن يكون الله على العرش، وقد قال: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وقد قال : الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى فقالوا: هو تحت الأرض السابعة، كما هو على العرش، وفي السموات وفي الأرض. فقلنا: قد عرف المسلمون أماكن كثيرة ليس فيها من عظمة الرب شيء، أجسامكم وأجوافكم والحشوش والأماكن القذرة ليس فيها من عظمته شيء، وقد أخبرنا عز وجل أنه في السماء فقال تعالى: أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ . أَمْ أَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا، إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ] ، إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى ، بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ يَخَافُونَ رَبَّهُم مِنْ فَوْقِهِم فقد أخبر سبحانه أنه في السماء "অধ্যায়: জাহমিয়্যারা আল্লাহর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করে। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা আল্লাহর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করো। অথচ আল্লাহ বলেন, "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন” তারা বললো, আল্লাহ সাত যমীনের নিচে যেমনটি তিনি 'আরশের উপরে, আসমানে, যমীনে। আমরা বললাম, মুসলিমরা এমন অনেক স্থান জানে যেখানে রবের মহত্ত্বের কিছুই নেই। তোমাদের দেহে, তোমাদের ভিতরে, পায়খানায় ও খারাপ স্থানে আল্লাহর মহত্ত্বের কিছুই নেই। আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আসমানের উপরে। আল্লাহ বলেন, "যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ?" "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা আর নেক আমল তিনি তা উপরে উঠান." "নিশ্চয় আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব, তোমাকে আমার দিকে উপরে উঠিয়ে নিবো.” “বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন." "তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে.” এভাবে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আসমানের উপরে."
ইমাম যাহাবী বলেন, আবু বকর আল-খাল্লাল আস-সুন্নাহতে পুরোটাই বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশরা ভিন্ন ভিন্নভাবে একাধিক জায়গায় বর্ণনা করেছেন। কাযী আবু ইয়া'লা আল-ফাররা ইবতালুত তাবীল গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন. (৪৪৪)
• অনুরূপভাবে মারওয়াযী বলেন, قلت لأبي عبد الله أحمد بن حنبل، إن رجلاً قال: أقول كما قال الله : مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ ، أقول هذا ولا أجاوزه إلى غيره. فقال أبو عبد الله: هذا كلام الجهمية. قلت: فكيف نقول؟ قال: مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُم علمه في كل مكان وعلمه معهم ثم قال: أول الآية يدل على أنه علمه. আমি আবু 'আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলকে বললাম, এক ব্যক্তি বলে "আমি বলবো যেমন আল্লাহ বলেছেন "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না" আমি এতটুকুই বলবো, এর বেশি বলবো না." আহমاد ইবন হাম্বল বললেন, এটা জাহমিয়্যাদের কথা। আমি বললাম, তাহলে আমরা কীভাবে বলবো? তিনি বললেন, "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না, আর পাঁচজনেরও হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না." আল্লাহর জ্ঞান সর্বত্র, আল্লাহর জ্ঞান তাদের সাথে। তারপর আরও বললেন, আয়াতের প্রথমাংশ প্রমাণ করে, তিনি তাদের সাথে মানে তাঁর ইলম তাদের সাথে.
এটি ইবন বাত্তাহ 'উমার ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন দাউদ, তিনি মারওয়াযী থেকে. (৪৪৫)
• অপর বর্ণনায় এসেছে, وسئل الإمام أحمد عن رجل قال: إن الله معنا وتلا: ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم ) فقال: قد تجهم هذا! يأخذون بآخر الآية ويدعون أولها أقرأتم عليه : ألم تر أن الله يعلم ؟ فالعلم معهم، وقال في (ق) ونعلم ما توسوس به نفسه ونحن أقرب إليه من حبل الوريد، فعلمه معهم. "ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলেন, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন আর তিলাওয়াত করে, ("তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না) তখন ইমাম আহমাদ বলেন, সে তো জাহমীদের মত অবলম্বন করেছে, তারা আয়াতের শেষের অংশ নিয়েছে, প্রথম অংশ ছেড়ে দিয়েছে, তোমরা তার উপর (প্রথম অংশ) তিলাওয়াত করে শোনাও (আপনি কি দেখেন না যে আল্লাহ জানেন...) [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] সুতরাং তাঁর ইলম বা জ্ঞান তাদের সাথে। আর আল্লাহ তা'আলা সূরা 'কাফ' এ বলেন, [আমরা জানি তা তার (মানুষের) অন্তরে ওয়াসওয়াসা হিসেবে আসে, আর আমরা তার নিকটে তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও] সুতরাং তাঁর ইলম (জ্ঞান) তাদের সাথে.”(৪৪৬)
• হাম্বাল ইবন ইসহাক্ব বলেন, قلت لأبي عبد الله : ما معنى قوله وَهُوَ مَعَكُم ، و مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ ؟. قال: «علمه محيط بالكل، وربنا على العرش بلا صفة ولا حد "আমি আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলকে বললাম, আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের সাথে" ও "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না" -এর অর্থ কী? তিনি বললেন, তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে। আমাদের রব 'আরশের উপরে, পরিধি ও ধরন জানা ছাড়াই। এটি লালেকাঈ আস-সুন্নাহ'তে বর্ণনা করেছেন. (৪৪৭)
• ইউসুফ ইবন মূসা আল-কাত্তান বলেন, وقيل لأبي عبد الله الله فوق السماء السابعة على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه وقدرته بكل مكان؟ قال: «نعم هو على عرشه ولا يخلو شيء من علمه "আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলা হলো, আল্লাহ সাত আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাঁর 'আরশের উপর, কোনো কিছু তার জ্ঞানের অগোচরে নয়.” এটি খাল্লাল ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন. (৪৪৮)

টিকাঃ
৪৪৪. আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়‍্যাহ, ৯২-৯৩; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, ২০১-২০২।
৪৪৫. ইباناه (৩/১৬০-১৬১), নং ১১৭; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩০; আল-ארش ২/৩১৪, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২০১।
৪৪৬. যাহাবী আল-'উলু, পৃ. ৩০; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমাউল জুয়ুشিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৭৭।
৪৪৭. আস-সুন্নah (৩/৪০২), নং ৬৭৫; ইবনে কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলূ, পৃ. ১১৬ নং ৯৫; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩۰; আল-ארش ২/৩১৫, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আরও অন্যান্য কিতাবে।
৪৪৮. ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানah (৩/১৫৯)/হা ১১৫; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (৩/৪০১-৪০২), নং ৬৭৪; ইবনু কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১১৬, নং ৯৬; যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ১২৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, পৃ. ২০০; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরש, পৃ. ৬৪।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমামে রাব্বানী মুহাম্মাদ ইবন আসলাম আত-ত্বসী (২৪২ হিজরী)

📄 ইমামে রাব্বানী মুহাম্মাদ ইবন আসলাম আত-ত্বসী (২৪২ হিজরী)


ইমাম মুহাম্মاد ইবন আসলাম আত-ত্বসী রাহimahuallah বলেন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবন ত্বাহের জিজ্ঞাসা করেছেন যে, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, আপনি আসমানের দিকে মাথা উঠান, এটা কেন করেন? তখন আমি তাকে বললাম, কেন উঠাব না? আমি কি যাবতীয় কল্যাণ তাঁর কাছ থেকেই কেবল আশা করি না যিনি আসমানের উপর রয়েছেন? (৪৪৯) সুবহানাল্লাহ, যাদের নিয়ে মুসলিম জাতি গর্ব করে এমন একজন ব্যক্তিত্ব আল্লাহকে 'আরশের উপর সাব্যস্ত করছেন এবং এটাই প্রকৃত আকীদাহ-বিশ্বাস হওয়া উচিত বলে আমাদের জানাচ্ছেন.

টিকাঃ
৪৪৯. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ২১০।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 প্রখ্যাত ওয়ায়েয হারেস ইবন আসাদ আল-মুহাসেবী (২৪৩ হিজরী)

📄 প্রখ্যাত ওয়ায়েয হারেস ইবন আসাদ আল-মুহাসেবী (২৪৩ হিজরী)


হারেস আল-মুহাসেবী হচ্ছেন, বিখ্যাত দুনিয়াবিমুখ যাহেদ ইমাম। তিনি আশ'আরী ও কুল্লাবী মতবাদের অনুসারীদের একজন প্রখ্যাত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। অনেক বিষয়ে সহীহ আকীদাহ বিরোধী হওয়ার কারণে ইমাম আহমاد ইবন হাম্বল রাহimahuallah হারেস আল-মুহাসেবীর কাছে যাওয়ার ব্যাপারে মানুষদের সাবধান করতেন। কিন্তু তিনি আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠা, সবকিছুর উপরে থাকার আকীদাহ পোষণ করতেন। এর বিপরীত আকীদাহ পোষণকারীদের পথভ্রষ্ট বলতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায় তাদের পূর্বসূরীদের আকীদাও গ্রহণ করতে পারেনি। হারেস ইবন আসاد আল-মুহাসেবী রাহimahuallah তার 'ফাহমুল কুরআন' গ্রন্থে আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এবং 'আরশের উপরে অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বর্ণনা করে বলেন, ﴿ الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) :وأما قوله﴾ [طه: ٥] ﴿ وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ﴾ [الأنعام: ١٨]، و ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ﴾ [الملك: ١٦ ] , و ﴿وَإِذَا لابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴾ [الإسراء: ٤٢]. فهذهِ وغيرها مثل قوله: ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ١٠]، وقوله: ﴿يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ٥]. فهذا مَقْطَع يوجبُ أَنَّهُ فوق العرش، فوق الأشياء، منزَّهُ عَنِ الدُّخول في خلقه، لا يخفى عليه منهم خافية، لأنه أبان في هذه الآيات أنَّ ذاته بنفسه فوق عبادهِ لأَنَّهُ قال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ﴾ [الملك: ١٦]، يعني: فوق العرش، والعرش على السَّمَاءِ، لأنَّ مَنْ كَانَ فَوقَ شَيء على السَّمَاءِ فَهُوَ فِي السَّمَاءِ، وقد قال مثل ذلك: ﴿فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ) [التوبة: ٢] ، يعني: على الأرض لا يريد الدخول في جوفها، وكذلك قولُهُ: ﴿وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ) [طه: ۷۱] ، يعني: فوقه. وقال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ﴾ [الملك: ١٦ ] ، ثمَّ فَصَّلَ فقالَ: ﴿أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ ﴾ [الملك: ١٦ ] ... ثمَّ اسْتَأْنَفَ التخويف بِالخَسْفِ - إِلَّا أَنَّهُ عَلَى العَرْشِ فَوْقَ السَّمَاءِ. আর তাঁর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] "তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৮] "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন?" [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] "তাহলে তারা 'আরশের অধিপতির সাথে যাওয়ার পথ তালাশ করত" [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৪২] এগুলো এবং অনুরূপ অন্যান্য আয়াত যেমন, "তাঁর দিকেই উত্তম বাণীসমূহ উত্থিত হয় আর উত্তম আমল তিনিই তা উপরে উঠান” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] আরও তাঁর বাণী "তিনি আসমান থেকে যমীন পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর কাছে উত্থিত হয়” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] এসব এমন অকাট্য বিষয়, যা এটা মানতে বাধ্য করে যে, তিনি 'আরশের উপর আছেন, সকল কিছুর উপর, তাঁর সৃষ্টির ভেতরে প্রবেশ করা থেকে তিনি পবিত্র, তাঁর কাছে সৃষ্টির কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকে না। কারণ, তিনি এসব আয়াতে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সত্তা স্বয়ং তাঁর সকল সৃষ্টির উপরে, কারণ তিনি বলেন, "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন?" [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] অর্থাৎ 'আরশের উপরে। আর 'আরশ আসমানের উপরে; কারণ যা কিছু আসমানের উপরে কোনো কিছুর উপরে থাকবে তা তো আসমানের উপর হবেই। আল্লাহ তা'আলা অনুরূপ কথা কুরআনের অন্যত্রও বলেছেন, "সুতরাং তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ কর" [আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] অর্থাৎ যমীনের উপর। এর উদ্দেশ্য যমীনের অভ্যন্তরভাগে বিচরণ করা নয়। অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "অচিরেই আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিতে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১] অর্থাৎ কাণ্ডের উপর। আরও বলেন, "তোমরা কি নিঃশঙ্ক হয়ে গেছো তার ব্যাপারে যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] তারপর আল্লাহ সেটার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, “যে তোমাদেরকে যমীনের বুকে ধ্বসিয়ে দিবেন” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬]... তারপর আল্লাহ তা'আলা পুণরায় ধ্বসিয়ে দেয়ার ভয় প্রদান করেছেন। তবে তিনি 'আরশের উপর আসমানের উপর.
তিনি আরও বলেন, وقال: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ٥]، وقال: تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ) [المعارج: ٤] ، فبين عروج الأمر، وعروج الملائكة، ثم وصف صعودها بالارتفاع صاعدة إليه. فإذا صَعَدُوا إلى العرش فقد صَعَدُوا إلى الله جل وعزَّ، ... فإنَّهم قد صَعَدُوا مِنَ الأرضِ، وَعَرَجُوا بالأمر إلى العُلُو الذي اللهُ عَزَّ وجل فوقه .... "তিনি আসমান থেকে যমীনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর দিকে তা উত্থিত হয়." [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] আরও বলেন, "ফিরিশতাগণ ও রূহ তাঁর দিকে আরোহন করে যায়” [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ০৪] এর মাধ্যমে তিনি বর্ণনা করলেন যে, নির্দেশ উপরে উঠে যায়, ফিরিশতাগণ উপরে উঠে যান। তারপর তাদের উপরে আরোহন করার বিষয়টির বর্ণনা দিয়েছেন যে, তা তাঁর দিকে উত্থিত হয়। সুতরাং তারা যখন 'আরশের দিকে উঠে যায় তখন তারা তো মহান আল্লাহর দিকেই উঠে যায়... তারা তো যমীন থেকে উপরের দিকেই উঠে যায়, তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সে উপরের দিকে যান, যার উপরে আল্লাহ রয়েছেন.
তিনি আরও বলেন, إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ ) [فاطر: ١٠]. وكلام الملائكة أكثر وأطيب من كلام الآدميين، فلمْ يَقُلْ يَنزِلُ إِليهِ الكَلِمُ الطَّيِّبُ. وقال عن عيسى عليه السلام: بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ١٥٨]. وقال عن فرعونَ: لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ * أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا ﴾ [غافر: ٣٦ - ٣٧]، فيما قال لي إنَّهُ في السَّماءِ، فطلبه حيث قال له موسى مَعَ الظَّنِّ منه بموسى عليه السلام أنه كاذب، ولو أنَّ موسى عليه السلام، أخبره أنه في كل مكان بذاته، لطلبه في الأرض أو في بيته وَبَدَنِهِ وَلَمْ يَتَعَنَّ بِبُنْيَانِ الصَّرْحِ». "তাঁর দিকেই উত্তম বাক্যসমূহ উঠে যায়” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] আর ফিরিশতাদের কথা মানুষের কথা থেকে অনেক বেশি ও অনেক উত্তম। এখানে বলা হয়নি যে, তাঁর কাছে উত্তম বাণীসমূহ নাযিল হয়ে আসে। আর তিনি 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন, “বরং আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নিয়েছেন." [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৮]
তিনি ফির'আউন সম্পর্কে বলেছেন, "যাতে আমি উপায় অবলম্বন করতে পারি, আসমানের উপায়, যাতে করে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই” [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৬-৩৭] তারপর আবার বলছেন, "আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি" [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৭] কারণ মূসা 'আলাইহিস সালাম তাকে বলেছিলেন যে, তিনি (আল্লাহ) আসমানে আছেন। তখন সে এটা করতে চাইল; কারণ মূসা তাকে এটা বলেছেন, যদিও তার ধারণা ছিল যে, মূসা 'আলাইহিস সালাম এ ব্যাপারে মিথ্যাবাদী। যদি মূসা 'আলাইহিস সালাম তাকে জানাতেন যে, তিনি সত্তাগতভাবে সব জায়গায়, তাহলে অবশ্যই তাকে যমীনেই খুঁজতো অথবা তার ঘরে ও শরীরে খুঁজতো, টাওয়ার বানানোর কষ্ট করতো না.” (৪৫০)
তিনি আরও বলেন, وكذلك قوله : ﴿ فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الأَرْضِ إِلَهُ ﴾ [الزخرف: ٨٤] فلم يقل في السَّمَاءِ ثم قطع ... فقال: في السَّمَاءِ إله) [الزخرف: ٨٤]، فأخبر أنَّهُ إِلهُ أهلِ السَّماءِ وإله أهل الأرض. وذلك موجودٌ فِي اللُّغَةِ إِذْ يقول القائل: مَنْ بخراسان؟ فيقال: ابن طاهر. وإنَّما هو في موضع. فجايز أن يقال : ابن طاهر أمير في خراسان، فيكون أميرًا في بلخ و سمرقند وكل مدنها. لو كان هذا معنى الكون، فكيف العالي فوق كل شيء ؟! لا يخفى عليه شيءٌ مِنَ الأشياء يُدَبِّرُه، فهو إله أهلِ السَّماءِ، وإله أهل الأرض لا إله فيهما سواه، فهو فيهما إله إذ كان مديرا لهما وما فيهما وهُوَ على عَرْشِهِ فَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ بَاقٍ. "আর অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "তিনি আসমানেও মা'বুদ ও যমীনেও মা'বুد” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪], তিনি বলেননি যে, শুধু আসমানে, তারপর কথা কর্তন করেননি। ...তারপর আল্লাহ বলেন, "আর যমীনেও মা'বুদ” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪] এভাবে তিনি জানালেন যে, তিনি (আল্লাহ) আসমানবাসীদের জন্যও ইলাহ বা মা'বুদ, তেমনি তিনি যমীনবাসীদের জন্যও মা'বুদ। আর এ বাকরীতি আরবী ভাষায় প্রচুর; যেমন কেউ বলে, খুরাসানে কে? তখন বলা হয়, ইবন তাহের। যদিও তিনি তো মাত্র খুরাসানের এক জায়গায়; সুতরাং এটা বলাও জায়েয, 'ইবন তাহের খুরাসানের আমীর' অথচ তিনি বলখ, সমরকন্দ ও অন্যান্য স্থানেরও আমীর.. যদি একজন সৃষ্টির জন্য তা বলা যায়, তবে সে সত্তার ব্যাপারে কেন বলা যাবে না, যিনি সবকিছুর উপরে? যার কাছে কোনো কিছু গোপন নেই, তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন, তিনি আসমানবাসীদের জন্যও ইলাহ, যমীনবাসীদের জন্যও ইলাহ, আসমান ও যমীনে তিনি ব্যতীত আর কোনো হক্ক ইলাহ নেই। কারণ, তিনিই এ দু'টিকে পরিচালনা করছেন এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে তাও পরিচালনা করছেন। অথচ তিনি তাঁর 'আরশের উপর সবকিছুর উপরে রয়েছেন.” (৪৫১)
আর তিনি সে সকল জাহমিয়্যাদের মত খণ্ডন করেন, যারা আল্লাহ তা'আলাকে সত্তাগতভাবে সবজায়গায় বলে থাকে, তিনি বলেন, وقد ادعى بعض أهل الضلال فزعموا أن الله جل وعز في كل مَكَانَ بِنَفْسِهِ كَائِنَا كَمَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ، لَا فَرقَ بَين ذَلِكَ عندهم... "কোনো কোনো পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী দাবি করে থাকে, তাদের ধারণা অনুযায়ী 'মহান আল্লাহ সত্তাগতভাবে সব জায়গায়, যেমন তিনি 'আরশের উপরে রয়েছেন', তাদের নিকট এ দু'য়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই”. (৪৫২)
চিন্তা করে দেখুন, কীভাবে তিনি বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী ও তাদের মতো লোকদের আকীদাকে পথভ্রষ্টদের আকীদাহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বস্তুত বর্তমান আশ'আরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায় তাদের পূর্বসূরী এ ইমামের আকীদাহ থেকেও যোজন দূরে অবস্থান করছে। আল্লাহ আমাদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে হিফাযত করুন। আমীন.

টিকাঃ
৪৫০. হারেস আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন, পৃ. ৩৪৯-৩৫২।
৪৫১. হারেس আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন পৃ. ৩৫৫-৩৫৬।
৪৫২. হারেس আল-মুহাসেবী, আল-আকলু ওয়া ফাহমুল কুরআন পৃ. ৩৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00