📄 আবদুল আযীয ইবন ইয়াহইয়া আল-কিনানী (২৪০ হিজরী)
আবদুল আযীয ইবন ইয়াহইয়া আল-কিনানী হলেন বিখ্যাত 'হাইদাহ' গ্রন্থকার। তিনি কুরআন সৃষ্টির মাসআলায় মামুন ইবন হারুনুর রশীদের দরবারে বিশর আল-মারিসীর সাথে বাহাস-মুনাযারা করেন। সে মুনাযারা ২১৮ হিজরীতে হওয়ার কথা। কেননা সে বছর মামুন এ ফিতনার জন্ম দেন। কুরআনের মাসআলায় মানুষ ফিতনায় নিপতিত হয়। সে বছরের শেষের দিকে বিশর আল-মারীসী মারা যায়। আবদুল আযীয ইবন ইয়াহইয়া কিনানী স্বীয় আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে বলেন, باب قول الجهمي في قوله تعالى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى زعمت الجهمية أنما معنى استوى: استولى، من قول العرب استوى فلان على مصر، يريد استولى عليها. والبيان لذلك يقال له: هل يكون خلق من خلق الله أنت عليه مدة ليس الله بمستول عليه؟، فإذا قال: لا، قيل له: فمن زعم ذلك فمن قوله، فمن زعم ذلك فهو كافر، فيقال له: يلزمك أن تقول إن العرش قد أنت عليه مدة ليس الله بمستول عليه، وذلك لأنه أخبر سبحانه وتعالى أنه خلق العرش قبل خلق السموات والأرض ثم استوى عليه بعد خلقهن، فيلزمك أن تقول المدة التي كان العرش قبل خلق السموات والأرض ليس الله بمستول عليه “অনুচ্ছেদ, আল্লাহর বাণী: “রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন” এ ব্যাপারে জাহমিয়্যাদের মত। জাহমিয়্যারা মনে করে থাকে, 'ইস্তিওয়া- অর্থ 'ইস্তাওলা' বা দখল করা, যেমন আরববাসী বলে থাকে- অমুক মিসরে ইস্তিওয়া হয়েছে, অর্থাৎ সে মিসরের ক্ষমতা দখল করেছে। জবাবে তাকে বলা হবে, আল্লাহর কোনো সৃষ্টি কি এমন সময় অতিক্রম করেছে, যে সময় আল্লাহ তার উপরে ক্ষমতা রাখতেন না? যদি সে বলে, না। তখন তাকে বলতে হবে, কেউ যদি এরূপ কথা বলে তার হুকুম কী? সে অবশ্যই জবাব দিবে যে, এমন ব্যক্তি কাফির। তখন তাকে বলতে হবে, আপনার কথানুসারে আপনি বলতে বাধ্য যে, 'আরশ এমন একটা সময় অতিক্রম করেছে যখন তার ওপর আল্লাহর ক্ষমতা ছিল না। কেননা আল্লাহ বলেছেন, "তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পূর্বে 'আরশ সৃষ্টি করেছেন। 'আরশের উপর ইস্তিওয়া বা উপরে উঠেছেন আসমান ও যমীন সৃষ্টির পরে." অতএব, আপনি আপনার কথানুযায়ী বলতে বাধ্য, আসমান ও যমীন সৃষ্টি পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ 'আরশের উপর ক্ষমতা রাখতেন না। (না'উযুবিল্লাহ) তারপর তিনি তা প্রমাণ করার জন্য অনেক লম্বা আলোচনা করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলীল পেশ করেছেন. (৪৩৯)
যাহাবী বলেন, অনুরূপভাবে যে বলে ইস্তিওয়া শব্দের অর্থ মিলক বা ক্বাহার তথা রাজত্ব ও কর্তৃত্ব তার উত্তরও একই রকম। কেননা তার কথানুসারেও আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির পূর্বে 'আরশের কর্তৃত্ব ও রাজত্বের অধিকারী ছিলেন না। (না'উযুবিল্লাহ) (৪৪০)
টিকাঃ
৪৩৯. ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তাআরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকল (৬/১১৫-১১৯); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৯-২১০; কাসিমী, মাহাসিনুল তা'ওয়ীল, পৃ. ২৭৯।
৪৪০. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৯৩।
📄 ইমাম কুতাইবাহ ইবন সা‘ঈদ আল-বাগালানী (২৪০ হিজরী)
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম কুতাইbah ইবন সা'ঈদ আল-বাগলানী রাহimahuallah বলেন, هَذَا قَوْلُ الْأَئِمَّةِ الْمَأْخُوذِ فِي الْإِسْلَامِ وَالسُّنَّةِ : الرِّضَا بِقَضَاءِ اللهِ وَالاسْتِسْلَامُ لَأَمْرِهِ، وَالصَّبْرُ عَلَى حُكْمِهِ، وَالْإِيمَانُ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ.... وَيَعْرِفَ اللَّهَ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ عَلَى عَرْشِهِ كَمَا قَالَ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى). "এ হচ্ছে ইসলাম ও সুন্নায় যাদের কথা গ্রহণযোগ্য সেসব ইমামদের মত, আল্লাহর ফয়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হওয়া, তাঁর নির্দেশের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া, তাঁর হুকুমের ওপর সবর করা, তাক্বদীরে ভালো ও মন্দ সবই আছে তার ওপর ঈমান আনা,... আর আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত তারা আল্লাহকে চিনে যে, তিনি সপ্ত আসমানে তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, তাঁর সবকিছুর মালিকানা, যা আসমানসমূহে রয়েছে, যা যমীনে রয়েছে, যা এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে আর যা মাটির নিচে রয়েছে". (৪৪১) ইমাম যাহাবী রাহimahuallah এ ইমামের ভাষ্যের ওপর মন্তব্য করে বলেন, এ হচ্ছেন ইমাম কুতাইbah যিনি প্রখ্যাত ইমাম ছিলেন, তাঁর সত্যবাদিতা দিয়ে জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন, তিনি এ মাসআলায় (আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়ে) আহলুল ইসলাম ওয়া আহলুস সুন্নাহ'র ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন, যিনি ইমাম মালিক, লাইস, হাম্মাদ ইবন যায়েদ এবং বড় বড় আলেমগণের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন আর তার দরজায় তৎকালীন সকল হাফেযদের ভীড় লেগেই থাকতো. (৪৪২)
টিকাঃ
৪৪০. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৯৩।
৪৪১. আবু আহমاد আল-হাকিম, শি'আরু আসহাবিল হাদীস পৃ. ৩০-৩১।
৪৪২. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১০৩।
📄 ইমাম আবদুস সালাম ইবন সা‘ঈদ ইবন হাবীব সাসূমূন আল-কাইরোয়ানী (২৪০ হিজরী)
প্রখ্যাত ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইমাম আব্দুস সালাম ইবন সা'ঈদ ইবন হাবীব 'সাহনূন' আল- ক্কাইরোয়ানী আল-মালেকী রাহimahuallah বলেন, عَنْ يَحْيَى بْنِ عَوْنٍ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ سَحْنُوْنَ عَلَى ابْنِ القَصَّارِ وَهُوَ مَرِيضُ، فَقَالَ : مَا هَذَا القَلَقُ ؟ قَالَ لَهُ: الْمَوْتُ وَالقُدُوْمُ عَلَى اللَّهِ. قَالَ لَهُ سَحْنُوْنُ: أَلَسْتَ مُصَدِّقاً بِالرُّسُلِ وَالبَعْثِ وَالحِسَابِ، وَالجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَأَنَّ أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمُرُ، وَالقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، وَأَنَّ اللَّهَ يُرَى يَوْمَ القِيَامَةِ، وَأَنَّهُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى، وَلَا تَخْرُجُ عَلَى الْأَئِمَّةِ بِالسَّيْفِ، وَإِنْ جَارُوا. قَالَ: إِي وَالله . فَقَالَ : مُتْ إِذَا شِئْتَ، مُتْ إِذَا شِئْتَ. “ইয়াহইয়া ইবন 'আউন বলেন, আমি সাহনূনকে সাথে নিয়ে ইবনুল কাসসার এর অসুস্থতায় তাকে দেখতে গেলাম, সাহনূন তখন বললেন, কিসের জন্য এত পেরেশান ও দুশ্চিন্তায়? তিনি বললেন: মৃত্যু ও আল্লাহর কাছে আগমনের আশঙ্কায়। তখন সাহনূন তাকে বললেন: আপনি কি রাসূলগণের ওপর, পুনরুত্থানের ওপর, হিসাব- নিকাশের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস করেন না? আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে, এ উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হচ্ছেন, আবু বকর ও 'উমার? আর কুরআন আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্ট নয়, আর আল্লাহকে কিয়ামতের দিন দেখা যাবে, আর এটাও কি বিশ্বাস করেন না যে আল্লাহ তার 'আরশের উপর উঠেছেন? আর শাসকদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা যাবে না, যদিও তারা যুলুম করে? উত্তরে ইবনুল কাসসার বললেন: অবশ্যই হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ করে বলছি। সাহনূন বলেন, তাহলে যখন ইচ্ছা আপনি মারা যান, যখন ইচ্ছা আপনি মারা যান.” (৪৪৩)
টিকাঃ
৪৪৩. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৬৭)।
📄 ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (২৪১ হিজরী)
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইমাম, যিনি জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে একাই পাহাড়সম দাঁড়িয়েছিলেন, যার দিকে সম্পর্কযুক্ত হতে পারা ঈমানদারের জন্য গর্বের বিষয়। যার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকে অন্তরের বক্রতা হিসেবে ধর্তব্য, যিনি আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এবং 'আরশের উপর থাকা সংক্রান্ত আকীদায় তারই মতো আরও ইমাম যেমন আবু হানীফা, আওযা'ঈ, সুফইয়ান সাওরী, মালিক ও শাফেয়ীসহ অন্যান্য মহৎ ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন। নিম্নে আমরা তার কয়েকটি নমুনা তুলে ধরছি:
• ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল আর-রাদ্দু 'আলায যানাদিকাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে বলেন, সে গ্রন্থ সংকলন ও বর্ণনা করেছেন তার সন্তান আবদুল্লাহ- باب بيان ما أنكرت الجهمية أن يكون الله على العرش قلت لهم: أنكرتم أن يكون الله على العرش، وقد قال: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وقد قال : الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى فقالوا: هو تحت الأرض السابعة، كما هو على العرش، وفي السموات وفي الأرض. فقلنا: قد عرف المسلمون أماكن كثيرة ليس فيها من عظمة الرب شيء، أجسامكم وأجوافكم والحشوش والأماكن القذرة ليس فيها من عظمته شيء، وقد أخبرنا عز وجل أنه في السماء فقال تعالى: أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ . أَمْ أَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا، إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ] ، إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى ، بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ يَخَافُونَ رَبَّهُم مِنْ فَوْقِهِم فقد أخبر سبحانه أنه في السماء "অধ্যায়: জাহমিয়্যারা আল্লাহর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করে। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা আল্লাহর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করো। অথচ আল্লাহ বলেন, "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন” তারা বললো, আল্লাহ সাত যমীনের নিচে যেমনটি তিনি 'আরশের উপরে, আসমানে, যমীনে। আমরা বললাম, মুসলিমরা এমন অনেক স্থান জানে যেখানে রবের মহত্ত্বের কিছুই নেই। তোমাদের দেহে, তোমাদের ভিতরে, পায়খানায় ও খারাপ স্থানে আল্লাহর মহত্ত্বের কিছুই নেই। আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আসমানের উপরে। আল্লাহ বলেন, "যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ?" "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা আর নেক আমল তিনি তা উপরে উঠান." "নিশ্চয় আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব, তোমাকে আমার দিকে উপরে উঠিয়ে নিবো.” “বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন." "তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে.” এভাবে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আসমানের উপরে."
ইমাম যাহাবী বলেন, আবু বকর আল-খাল্লাল আস-সুন্নাহতে পুরোটাই বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশরা ভিন্ন ভিন্নভাবে একাধিক জায়গায় বর্ণনা করেছেন। কাযী আবু ইয়া'লা আল-ফাররা ইবতালুত তাবীল গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন. (৪৪৪)
• অনুরূপভাবে মারওয়াযী বলেন, قلت لأبي عبد الله أحمد بن حنبل، إن رجلاً قال: أقول كما قال الله : مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ ، أقول هذا ولا أجاوزه إلى غيره. فقال أبو عبد الله: هذا كلام الجهمية. قلت: فكيف نقول؟ قال: مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُم علمه في كل مكان وعلمه معهم ثم قال: أول الآية يدل على أنه علمه. আমি আবু 'আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলকে বললাম, এক ব্যক্তি বলে "আমি বলবো যেমন আল্লাহ বলেছেন "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না" আমি এতটুকুই বলবো, এর বেশি বলবো না." আহমاد ইবন হাম্বল বললেন, এটা জাহমিয়্যাদের কথা। আমি বললাম, তাহলে আমরা কীভাবে বলবো? তিনি বললেন, "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না, আর পাঁচজনেরও হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না." আল্লাহর জ্ঞান সর্বত্র, আল্লাহর জ্ঞান তাদের সাথে। তারপর আরও বললেন, আয়াতের প্রথমাংশ প্রমাণ করে, তিনি তাদের সাথে মানে তাঁর ইলম তাদের সাথে.
এটি ইবন বাত্তাহ 'উমার ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন দাউদ, তিনি মারওয়াযী থেকে. (৪৪৫)
• অপর বর্ণনায় এসেছে, وسئل الإمام أحمد عن رجل قال: إن الله معنا وتلا: ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم ) فقال: قد تجهم هذا! يأخذون بآخر الآية ويدعون أولها أقرأتم عليه : ألم تر أن الله يعلم ؟ فالعلم معهم، وقال في (ق) ونعلم ما توسوس به نفسه ونحن أقرب إليه من حبل الوريد، فعلمه معهم. "ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলেন, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন আর তিলাওয়াত করে, ("তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না) তখন ইমাম আহমাদ বলেন, সে তো জাহমীদের মত অবলম্বন করেছে, তারা আয়াতের শেষের অংশ নিয়েছে, প্রথম অংশ ছেড়ে দিয়েছে, তোমরা তার উপর (প্রথম অংশ) তিলাওয়াত করে শোনাও (আপনি কি দেখেন না যে আল্লাহ জানেন...) [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] সুতরাং তাঁর ইলম বা জ্ঞান তাদের সাথে। আর আল্লাহ তা'আলা সূরা 'কাফ' এ বলেন, [আমরা জানি তা তার (মানুষের) অন্তরে ওয়াসওয়াসা হিসেবে আসে, আর আমরা তার নিকটে তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও] সুতরাং তাঁর ইলম (জ্ঞান) তাদের সাথে.”(৪৪৬)
• হাম্বাল ইবন ইসহাক্ব বলেন, قلت لأبي عبد الله : ما معنى قوله وَهُوَ مَعَكُم ، و مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ ؟. قال: «علمه محيط بالكل، وربنا على العرش بلا صفة ولا حد "আমি আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলকে বললাম, আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের সাথে" ও "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না" -এর অর্থ কী? তিনি বললেন, তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে। আমাদের রব 'আরশের উপরে, পরিধি ও ধরন জানা ছাড়াই। এটি লালেকাঈ আস-সুন্নাহ'তে বর্ণনা করেছেন. (৪৪৭)
• ইউসুফ ইবন মূসা আল-কাত্তান বলেন, وقيل لأبي عبد الله الله فوق السماء السابعة على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه وقدرته بكل مكان؟ قال: «نعم هو على عرشه ولا يخلو شيء من علمه "আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলা হলো, আল্লাহ সাত আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাঁর 'আরশের উপর, কোনো কিছু তার জ্ঞানের অগোচরে নয়.” এটি খাল্লাল ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন. (৪৪৮)
টিকাঃ
৪৪৪. আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ, ৯২-৯৩; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, ২০১-২০২।
৪৪৫. ইباناه (৩/১৬০-১৬১), নং ১১৭; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩০; আল-ארش ২/৩১৪, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২০১।
৪৪৬. যাহাবী আল-'উলু, পৃ. ৩০; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমাউল জুয়ুشিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৭৭।
৪৪৭. আস-সুন্নah (৩/৪০২), নং ৬৭৫; ইবনে কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলূ, পৃ. ১১৬ নং ৯৫; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩۰; আল-ארش ২/৩১৫, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আরও অন্যান্য কিতাবে।
৪৪৮. ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানah (৩/১৫৯)/হা ১১৫; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (৩/৪০১-৪০২), নং ৬৭৪; ইবনু কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১১৬, নং ৯৬; যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ১২৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুש, পৃ. ২০০; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরש, পৃ. ৬৪।