📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ ইবনুল আ‘রাবী (২৩১ হিজরী)
• ইবনুল আ'রাবীকে 'ইস্তেওয়া' সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন, আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। তখন লোকটি বললো, হে আবু আবদুল্লাহ, তার অর্থ তো 'ইস্তাওলা' (করায়ত্ত্ব করা)। তখন ইবনুল আ'রাবী বললেন, তোমাকে কে বলল? আরবরা ততক্ষণ কোনো কিছুকে 'ইস্তাওলা' বলে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার না হবে। তাদের মধ্যে যে প্রাধান্য পাবে তাকে বলা হয় ‘ইস্তাওলা'. (৪২৮)
• আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুন নাম্বর বলেন, "আবু আবদুল্লাহ ইবনুল আ'রাবী আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন, তাঁর রাত ছিল অত্যন্ত সুন্দর (ইবাদাতে কাটাতেন তিনি)। আমাদের কাছে জানানো হলো যে, ইবন আবী দুয়াদ তাকে প্রশ্ন করে বলেছিলেন, "তুমি কি আরবী ভাষায় 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' বলে কিছু জান? জবাবে তিনি বললেন, "আমি জানি না.”(৪২৯)
ফিকহে যাহেরী মতবাদের ইমাম দাউদ ইবন আলী ইবন খালাফ আল-আসফাহানী (মৃত্যু: ২০১ হিজরী) বলেন, বিশর ইবন গিয়াস আল-মারিসী বলত, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আসফাল'। তিনি তখন তার উত্তরে বলেন, এটি মারিসীর মূর্খতা প্রমাণ করে, আরও প্রমাণ করে যে, এটা সম্পূর্ণরূপে কুরআনের ভাষ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, কারণ আল্লাহ তা'আলা তার বাণীতে বলেন, "তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ তার ব্যাপারে, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] (৪৩৩০)
টিকাঃ
৪২৮. আল-গারীবাইন (৩/৯৫৭-৯৫৮); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৩৯৯), নং ৪৬৫; খত্বীব আল-বাগদাদী, তারীখে মাদীনাতিস সালাম (৫/২৮৪); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৪১৫; ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭৪; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়್ಯাহ, ২৬৫; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪২৯. ইবন বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা (৩/১৬১-১৬৭); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৪৪৩), নং ৬৬৭; বাইহাকী, আল-আসما ওয়াস সিফাত পৃ. ৪১৫; ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ২৬৫; মুখতাসারুস সাওয়ায়িক (২/১২৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪৩0. ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুযূش ২৬৬।
📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা‘ঈন (২৩৩ হিজরী)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন বলেন, إذا قال لك الجهمي: كيف ينزل ؟ فقل: كيف صعد ؟ "যদি তোমাকে কোনো জাহমিয়্যাহ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কীভাবে অবতরণ করেন? জবাবে তাকে বলো, কীভাবে ঊর্ধ্বে ওঠেছেন? এহলো ইবন বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ'-তে নাজ্জাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জা'ফর ইবন আবু 'উসমান ত্বায়ালিসী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন থেকে. (৪৩১)
টিকাঃ
৪৩১. আল-ইবানاه (৩/২০৬), নং ১৬১; কাযী আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাت (১/৫১), নং ২৩; লালেকাঈ, আস-সুন্নাহ (৩/৪৫৩), নং ৭৭৬, ইবনু তাইমিয়्यাহ, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৩৭৮); যাহাবী, আল-আরبا'ঈن, ৭০১, নং ৫৮; আল-'উলু, পৃ. ১২৯; আল-ארش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়್ಯেম, ইজতিমা'উল জুয়ুش, পৃ. ২২৮-২২৯; আবদুল কাদীর জীলানী, গুনিয়াতুত তালেবীন, পৃ. ২৮, ফা. ৮৯।
📄 ইমাম আবূ মা‘মর ইসমা‘ঈল ইবন ইবরাহীম ইবন মা‘মার আল-কাতীঈ (২৩৬ হিজরী)
আবু মা'মার আল-কাতী'য়ী রাহimahuallah, যিনি ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউد, নাসায়ী প্রমুখগণের উস্তাদ, যার হাদীস তারা তাদের গ্রন্থে নিয়ে এসেছেন, তিনি বলেন, آخر كلام الجهمية أنه ليس في السَّماءِ إله». "জাহমিয়্যাদের শেষ কথা হচ্ছে, আসমানের উপর কোনো ইলাহ নেই.” (৪৩২)
এ উক্তিটি বর্ণনার পরে ইমাম যাহাবী বলেন, বরং তারা বলে, আল্লাহ আসমান ও যমীনে, আসমানের উপরে থাকার বিশেষত্বকে তারা অস্বীকার করে, অথচ উম্মতে মুহাম্মাদীর সকলের কথা হচ্ছে, আল্লাহ তিনি আসমানের উপরে, উম্মতে মুহাম্মাদী সেটার সাথে একাত্মতা পোষণ করে যা কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যে এসেছে। তারা কালামশাস্ত্রবিদদের অপব্যাখ্যায় প্রবেশ করে না। সকলেই দৃঢ়ভাবে বলে, "তাঁর মত কোনো কিছু নেই". [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] (৪৩৩)
টিকাঃ
৪৩২. যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ২০৭; আল-ארش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৪৩৩. যাহাবী, আস-সিয়ার (১১/৭০-৭১)।
📄 ইমাম ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ আল-মারওয়াযী (২৩৮ হিজরী)
• ইমাম হারব ইবন ইসমা'ঈل আল-কিরমানী বলেন, আমি ইসহাক্ব ইবন ইবরাহীম ইবন মাখলাد রাহওয়াইহ আল-মারওয়াযীকে জিজ্ঞেস করেছি, قول الله تبارك وتعالى: ﴿ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ) كيف تقول فيه؟ قال: حيث ما كنت هو أقرب إليك من حبل الوريد، وهو بائن من خلقه، قلت لإسحاق: على العرش بحد ؟ قال : نعم بحد. وذكر عن ابن المبارك، قال: هو على عرشه بائن من خلقه .... "মহান আল্লাহ তাবারক ওয়া তা'আলার বাণী, (যেকোনো তিনজনের শলা পরামর্শ হলেই তিনি চতুর্থজন, পাঁচজন হলেই তিনি ষষ্ঠজন), আপনি এ ব্যাপারে কী বলেন? তিনি বলেন, যেখানেই তুমি থাক তিনি সেখানেই তোমার ঘাড়ের ধমনী হতেও নিকটে, অথচ তিনি সকল সৃষ্টি থেকে আলাদা. আমি ইসহাক্ককে জিজ্ঞেস করলাম, 'আরশের উপর সুনির্দিষ্ট করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, 'আরশের উপর সুনির্দিষ্ট করে। তারপর তিনি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করলেন, ইবনুল মুবারক বলেছেন, তিনি তাঁর 'আরশের উপরে, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা...” (৪৩৪)
• অন্যত্র হারব ইবন ইসমা'ঈل বলেন, ইসহাক্ক ইবন রাহওয়াইহ আমাকে নিজে পড়ে উচ্চারণ করে বলেছেন, إن الله تبارك وتعالى وصف نفسه في كتابه بصفات استغنى الخلق أن يصفوه بغير ما وصف به نفسه؛ من ذلك ... قوله: ﴿وَتَرَى الْمَلَائِكَةَ حَافِينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ وآيات مثلها يصف العرش. وقد ثبتت الروايات في العرش، وأعلى شيء فيه وأثبته : قول الله : الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে তাঁর নিজেকে এতসব গুণে গুণান্বিত করেছেন, ফলে সৃষ্টিকুল তাঁর (আর নতুন কোনো) গুণ বর্ণনা করা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছেন। কেবল তাই বর্ণনা করবে যা তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তাঁর বাণী,... "আর আপনি দেখতে পাবেন ফিরিশতাদেরকে যে, তারা 'আরশের চারপাশে ঘিরে আছেন, অনুরূপ আরও অনেক আয়াত যেগুলোতে তিনি 'আরশের বর্ণনা দিয়েছেন। 'আরশ সম্পর্কে বহু হাদীসের বর্ণনাও সাব্যস্ত হয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে উপরে ও প্রামাণ্য হচ্ছে আল্লাহর বাণী, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন”. (৪৩৫)
• অনুরূপভাবে ইমাম খাল্লাল তার সুন্নাহ গ্রন্থে ইমাম ইসহাক্ক ইবন রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] إِجْمَاعُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ اسْتَوَى وَيَعْلَمُ كُلَّ شَيْءٍ أَسْفَلَ الْأَرْضِ السَّابِعَةِ وَفِي قُعُورِ الْبِحَارِ... وَرُءُوسِ الْجِبَالِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَفِي كُلِّ مَوْضِعِ كَمَا يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَمَا دُونُ الْعَرْشِ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا وَلَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ إِلَّا قَدْ عَرَفَ ذَلِكَ كُلَّهُ وَأَحْصَاهُ، لَا يُعْجِزُهُ مَعْرِفَةُ شَيْءٍ عَنْ مَعْرِفَةِ غَيْرِهِ. “মহান আল্লাহ বলেন, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন.' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫], এ ব্যাপারে আলেমগণের ইজমা' রয়েছে যে, 'তিনি (আল্লাহ) 'আরশের উপর উঠেছেন', তবে তিনি জানেন সবকিছু, সাত যমীনের নিচের, সমুদ্রের গভীরের, পাহাড়ের চূড়ার, উপত্যকার কোলের এবং এমন সব জায়গার খবর, যেমন তিনি জানেন, যা সাত আসমানে রয়েছে, 'আরশের নিচে রয়েছে, প্রত্যকটি বস্তুকে তিনি জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে আছেন। যমীনে এমন কোনো পাতা পড়ে না যা তিনি জানেন না, অনুরূপ ডাঙ্গা ও সমুদ্রের অন্ধকারে কোনো দানাই পতিত হোক না কেন তার সবই তিনি জানেন, যথাযথ হিসেব করে রেখেছেন, কোনো জিনিস জানা তাকে অপর জিনিস জানার ব্যাপারে অপারগ করে দেয় না.” (৪৩৬) ইমাম যাহাবী ইমাম ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াইহ এর এ ভাষ্যটির উপর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, “শোন, তোমার জন্য আফসোস, এ ইমামের কথা শোন, কীভাবে তিনি এ সম্মানিত মাসআলায় (আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার মাসআলায়) সকলের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন. (৪৩৭) অপর বর্ণনায় আহমদ ইবন সালামah বলেন, سَمِعت إِسْحَاق بْن رَاهَوَيْه يَقُول جمعني وَهَذَا المبتدع يَعْنِي إِبْرَاهِيم بن أبي صالح مجلس الأمير عبد الله بن طَاهِرِ فَسَأَلَنِي الْأَمِيرِ عَن أَخْبَارِ النُّزُول فسردتها فَقَالَ ابْن أبي صالح كفرت بِرَبِّ ينزل من سَمَاء إِلَى سَمَاء فقلت آمنت بِرَبِّ يفعل مَا يَشَاء. "ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি, আমাকে এবং ঐ বিদ'আতী অর্থাৎ ইবরাহীম ইবন আবী সালেহকে আমীর আবদুল্লাহ ইবন ত্বাহের এর বৈঠকখানা একত্রিত করে দিল, তখন আমাকে আমীর আল্লাহ তা'আলার নিকটতম আসমানে নাযিল হওয়া সংক্রান্ত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন আমি সেগুলো অনবরত বর্ণনা করলাম। এতে ইবন আবী সালেহ বলে বসল, আমি এমন রবের সাথে কুফুরী করলাম, যিনি এক আসমান থেকে অপর আসমানে নেমে আসেন, তখন আমি বললাম, আমি এমন রবের ওপর ঈমান আনলাম যিনি যা ইচ্ছা তা করেন.” (৪৩৮)
টিকাঃ
৪৩৪. হারب ইবন ইসমা'ঈل আল-কিরমানী, কিতাবুস সুন্নাহ ১৮৭-১৮৮; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৬৪।
৪৩৫. হারব ইবন ইসমা'ঈل আল-কিরমানী, কিতাবুস সুন্নাহ: ১৯৩।
৪৩৬. আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ; ইবনুল কাইয়्यিম, ইজতিমা'উল জুয়ুشিল ইসলামিয়্যাহ (২/২২৬)।
৪৩৭. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১২৮।
৪৩৮. বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭৫-৩৭৬), নং ৯৫১; লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিক্কাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (৩/৪৫২), নং ৭৭৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৩১; আল-ארش (২/৩২২), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আল-আরبا'ঈن পৃ. ৭১, নং ৫৯; তারীখুল ইসলাম, ঘটনাপঞ্জী ২৩১-২৪۰, পৃ. ৮৯; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরश, পৃ. ৬৫।