📄 মুহাম্মাদ ইবন সা‘ঈদ ইবন হাসান আল-বূশানজী (২৩০ হিজরী)
ইমাম হাফেয মুহাম্মাদ ইবন সা'ঈদ ইবন হান্নাদ আল-বৃশাঞ্জী বলেন, هَذَا مَا رَأَيْنَا عَلَيْهِ أَهْلَ الْأَمْصَارِ وَمَا دَلَّتْ عَلَيْهِ مَذَاهِبُهُمْ فِيهِ، وَإِيضَاحُ مِنْهَاجِ الْعُلَمَاءِ وَطُرُقِ الْفُقَهَاءِ، وَصِفَةِ السُّنَّةِ وَأَهْلِهَا أَنَّ اللَّهَ فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ، وَعلَمُهُ وَقُدْرَتُهُ وَسُلْطَانُهُ بِكُلِّ مَكَانٍ. "এ হচ্ছে তা, যার উপর আমি প্রখ্যাতদেরকে দেখেছি, আর যার উপর তাদের মতামত প্রমাণ করছে, যার দ্বারা আলেমগণের পদ্ধতি প্রকাশিত হয়েছে, ফকীহগণের নীতি বর্ণিত হয়েছে, সুন্নাহ ও তার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, তা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে, তার সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা। তার জ্ঞান, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি সকল জায়গায়.” (৪২৭)
টিকাঃ
৪২৭. ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২৪২; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ২০৭।
📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ ইবনুল আ‘রাবী (২৩১ হিজরী)
• ইবনুল আ'রাবীকে 'ইস্তেওয়া' সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন, আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। তখন লোকটি বললো, হে আবু আবদুল্লাহ, তার অর্থ তো 'ইস্তাওলা' (করায়ত্ত্ব করা)। তখন ইবনুল আ'রাবী বললেন, তোমাকে কে বলল? আরবরা ততক্ষণ কোনো কিছুকে 'ইস্তাওলা' বলে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার না হবে। তাদের মধ্যে যে প্রাধান্য পাবে তাকে বলা হয় ‘ইস্তাওলা'. (৪২৮)
• আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুন নাম্বর বলেন, "আবু আবদুল্লাহ ইবনুল আ'রাবী আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন, তাঁর রাত ছিল অত্যন্ত সুন্দর (ইবাদাতে কাটাতেন তিনি)। আমাদের কাছে জানানো হলো যে, ইবন আবী দুয়াদ তাকে প্রশ্ন করে বলেছিলেন, "তুমি কি আরবী ভাষায় 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' বলে কিছু জান? জবাবে তিনি বললেন, "আমি জানি না.”(৪২৯)
ফিকহে যাহেরী মতবাদের ইমাম দাউদ ইবন আলী ইবন খালাফ আল-আসফাহানী (মৃত্যু: ২০১ হিজরী) বলেন, বিশর ইবন গিয়াস আল-মারিসী বলত, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আসফাল'। তিনি তখন তার উত্তরে বলেন, এটি মারিসীর মূর্খতা প্রমাণ করে, আরও প্রমাণ করে যে, এটা সম্পূর্ণরূপে কুরআনের ভাষ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, কারণ আল্লাহ তা'আলা তার বাণীতে বলেন, "তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ তার ব্যাপারে, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] (৪৩৩০)
টিকাঃ
৪২৮. আল-গারীবাইন (৩/৯৫৭-৯৫৮); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৩৯৯), নং ৪৬৫; খত্বীব আল-বাগদাদী, তারীখে মাদীনাতিস সালাম (৫/২৮৪); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৪১৫; ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭৪; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়್ಯাহ, ২৬৫; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪২৯. ইবন বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা (৩/১৬১-১৬৭); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৪৪৩), নং ৬৬৭; বাইহাকী, আল-আসما ওয়াস সিফাত পৃ. ৪১৫; ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ২৬৫; মুখতাসারুস সাওয়ায়িক (২/১২৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪৩0. ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুযূش ২৬৬।
📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা‘ঈন (২৩৩ হিজরী)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন বলেন, إذا قال لك الجهمي: كيف ينزل ؟ فقل: كيف صعد ؟ "যদি তোমাকে কোনো জাহমিয়্যাহ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কীভাবে অবতরণ করেন? জবাবে তাকে বলো, কীভাবে ঊর্ধ্বে ওঠেছেন? এহলো ইবন বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ'-তে নাজ্জাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জা'ফর ইবন আবু 'উসমান ত্বায়ালিসী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন থেকে. (৪৩১)
টিকাঃ
৪৩১. আল-ইবানاه (৩/২০৬), নং ১৬১; কাযী আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাت (১/৫১), নং ২৩; লালেকাঈ, আস-সুন্নাহ (৩/৪৫৩), নং ৭৭৬, ইবনু তাইমিয়्यাহ, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৩৭৮); যাহাবী, আল-আরبا'ঈن, ৭০১, নং ৫৮; আল-'উলু, পৃ. ১২৯; আল-ארش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়್ಯেম, ইজতিমা'উল জুয়ুش, পৃ. ২২৮-২২৯; আবদুল কাদীর জীলানী, গুনিয়াতুত তালেবীন, পৃ. ২৮, ফা. ৮৯।
📄 ইমাম আবূ মা‘মর ইসমা‘ঈল ইবন ইবরাহীম ইবন মা‘মার আল-কাতীঈ (২৩৬ হিজরী)
আবু মা'মার আল-কাতী'য়ী রাহimahuallah, যিনি ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউد, নাসায়ী প্রমুখগণের উস্তাদ, যার হাদীস তারা তাদের গ্রন্থে নিয়ে এসেছেন, তিনি বলেন, آخر كلام الجهمية أنه ليس في السَّماءِ إله». "জাহমিয়্যাদের শেষ কথা হচ্ছে, আসমানের উপর কোনো ইলাহ নেই.” (৪৩২)
এ উক্তিটি বর্ণনার পরে ইমাম যাহাবী বলেন, বরং তারা বলে, আল্লাহ আসমান ও যমীনে, আসমানের উপরে থাকার বিশেষত্বকে তারা অস্বীকার করে, অথচ উম্মতে মুহাম্মাদীর সকলের কথা হচ্ছে, আল্লাহ তিনি আসমানের উপরে, উম্মতে মুহাম্মাদী সেটার সাথে একাত্মতা পোষণ করে যা কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যে এসেছে। তারা কালামশাস্ত্রবিদদের অপব্যাখ্যায় প্রবেশ করে না। সকলেই দৃঢ়ভাবে বলে, "তাঁর মত কোনো কিছু নেই". [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] (৪৩৩)
টিকাঃ
৪৩২. যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ২০৭; আল-ארش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৪৩৩. যাহাবী, আস-সিয়ার (১১/৭০-৭১)।