📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 নু‘আইম ইবন হাম্মাদ আল-খুযা‘ঈ (২২৯ হিজরী)

📄 নু‘আইম ইবন হাম্মাদ আল-খুযা‘ঈ (২২৯ হিজরী)


ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযে হাদীস ইমাম নু'আঈম ইবন হাম্মাদ আল্লাহর বাণী: ﴾وَهُوَ مَعَكُم "তিনি (আল্লাহ) তোমাদের সাথে”-এর ব্যাখ্যায় বলেন, أنه لا يخفى عليه خافية بعلمه، ألا ترى قوله مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلا هُوَ رَابِعُهُمُ الآية، أراد: أنه لا يخفى عليه خافية. "আল্লাহর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন নেই। তুমি কি আল্লাহর বাণী দেখো না- "তিন জনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না". এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর থেকে কিছুই গোপন নেই.” (৪২৪) নু'আঈম ইবন হাম্মاد অন্যত্র বলেন, مَنْ شَبَّهَ اللَّهَ بِشَيْءٍ مِنْ خَلْقِهِ فَقَدْ كَفَرَ، وَمَنْ أَنْكَرَ مَا وَصَفَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ فَقَدْ كَفَرَ ، وَلَيْسَ مَا وَصَفَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ وَلَا رسوله تشبيها. যে আল্লাহকে সৃষ্টির কোনোকিছুর সাথে সাদৃশ্য দিলো, সে কুফুরী করলো। যে ব্যক্তি এমন গুণকে অস্বীকার করলো যে গুণের বর্ণনা স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে দিয়েছেন, সে কুফুরী করলো। আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে যে গুণের বর্ণনা দিয়েছেন বা তাঁর রাসূল যে গুণের বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে কোনো সাদৃশ্য দেয়া হয়নি. (৪২৫)
ইমাম যাহাবী বলেন, উভয় বক্তব্য তাঁর থেকে সহীহ. (৪২৬)

টিকাঃ
৪২৪. ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানah (৩/১৪৬), নং ১০৬; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১২৩, সীয়ার (১০/৬১১); ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ ২২১; মুখতাসারুল 'উলু ১৮৪; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৬২।
৪২৫. ইবন তাইমিয়્યাহ, মাজমুউল ফাতাওয়া, (৫/১৯৬); যাহাবী, আল-'উলু, ১২৬; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২১; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৬২।
৪২৬. দু'টো বক্তব্যই ইমাম যাহাবী তাঁর আল-আরশ গ্রন্থে নিয়ে এসেছেন। ২/৩০৫; অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মুহাম্মাদ ইবন সা‘ঈদ ইবন হাসান আল-বূশানজী (২৩০ হিজরী)

📄 মুহাম্মাদ ইবন সা‘ঈদ ইবন হাসান আল-বূশানজী (২৩০ হিজরী)


ইমাম হাফেয মুহাম্মাদ ইবন সা'ঈদ ইবন হান্নাদ আল-বৃশাঞ্জী বলেন, هَذَا مَا رَأَيْنَا عَلَيْهِ أَهْلَ الْأَمْصَارِ وَمَا دَلَّتْ عَلَيْهِ مَذَاهِبُهُمْ فِيهِ، وَإِيضَاحُ مِنْهَاجِ الْعُلَمَاءِ وَطُرُقِ الْفُقَهَاءِ، وَصِفَةِ السُّنَّةِ وَأَهْلِهَا أَنَّ اللَّهَ فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ، وَعلَمُهُ وَقُدْرَتُهُ وَسُلْطَانُهُ بِكُلِّ مَكَانٍ. "এ হচ্ছে তা, যার উপর আমি প্রখ্যাতদেরকে দেখেছি, আর যার উপর তাদের মতামত প্রমাণ করছে, যার দ্বারা আলেমগণের পদ্ধতি প্রকাশিত হয়েছে, ফকীহগণের নীতি বর্ণিত হয়েছে, সুন্নাহ ও তার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, তা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে, তার সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা। তার জ্ঞান, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি সকল জায়গায়.” (৪২৭)

টিকাঃ
৪২৭. ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২৪২; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ২০৭।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ ইবনুল আ‘রাবী (২৩১ হিজরী)

📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ ইবনুল আ‘রাবী (২৩১ হিজরী)


• ইবনুল আ'রাবীকে 'ইস্তেওয়া' সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন, আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। তখন লোকটি বললো, হে আবু আবদুল্লাহ, তার অর্থ তো 'ইস্তাওলা' (করায়ত্ত্ব করা)। তখন ইবনুল আ'রাবী বললেন, তোমাকে কে বলল? আরবরা ততক্ষণ কোনো কিছুকে 'ইস্তাওলা' বলে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার না হবে। তাদের মধ্যে যে প্রাধান্য পাবে তাকে বলা হয় ‘ইস্তাওলা'. (৪২৮)
• আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুন নাম্বর বলেন, "আবু আবদুল্লাহ ইবনুল আ'রাবী আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন, তাঁর রাত ছিল অত্যন্ত সুন্দর (ইবাদাতে কাটাতেন তিনি)। আমাদের কাছে জানানো হলো যে, ইবন আবী দুয়াদ তাকে প্রশ্ন করে বলেছিলেন, "তুমি কি আরবী ভাষায় 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' বলে কিছু জান? জবাবে তিনি বললেন, "আমি জানি না.”(৪২৯)
ফিকহে যাহেরী মতবাদের ইমাম দাউদ ইবন আলী ইবন খালাফ আল-আসফাহানী (মৃত্যু: ২০১ হিজরী) বলেন, বিশর ইবন গিয়াস আল-মারিসী বলত, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আসফাল'। তিনি তখন তার উত্তরে বলেন, এটি মারিসীর মূর্খতা প্রমাণ করে, আরও প্রমাণ করে যে, এটা সম্পূর্ণরূপে কুরআনের ভাষ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, কারণ আল্লাহ তা'আলা তার বাণীতে বলেন, "তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ তার ব্যাপারে, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] (৪৩৩০)

টিকাঃ
৪২৮. আল-গারীবাইন (৩/৯৫৭-৯৫৮); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৩৯৯), নং ৪৬৫; খত্বীব আল-বাগদাদী, তারীখে মাদীনাতিস সালাম (৫/২৮৪); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৪১৫; ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭৪; ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়್ಯাহ, ২৬৫; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪২৯. ইবন বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা (৩/১৬১-১৬৭); শারহু উসূলে ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৪৪৩), নং ৬৬৭; বাইহাকী, আল-আসما ওয়াস সিফাত পৃ. ৪১৫; ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ২৬৫; মুখতাসারুস সাওয়ায়িক (২/১২৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৭)।
৪৩0. ইবনুল কাইয়्यেম, ইজতিমা'উল জুযূش ২৬৬।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা‘ঈন (২৩৩ হিজরী)

📄 ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা‘ঈন (২৩৩ হিজরী)


ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন বলেন, إذا قال لك الجهمي: كيف ينزل ؟ فقل: كيف صعد ؟ "যদি তোমাকে কোনো জাহমিয়্যাহ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কীভাবে অবতরণ করেন? জবাবে তাকে বলো, কীভাবে ঊর্ধ্বে ওঠেছেন? এহলো ইবন বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ'-তে নাজ্জাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জা'ফর ইবন আবু 'উসমান ত্বায়ালিসী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন থেকে. (৪৩১)

টিকাঃ
৪৩১. আল-ইবানاه (৩/২০৬), নং ১৬১; কাযী আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাت (১/৫১), নং ২৩; লালেকাঈ, আস-সুন্নাহ (৩/৪৫৩), নং ৭৭৬, ইবনু তাইমিয়्यাহ, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৩৭৮); যাহাবী, আল-আরبا'ঈن, ৭০১, নং ৫৮; আল-'উলু, পৃ. ১২৯; আল-ארش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়್ಯেম, ইজতিমা'উল জুয়ুش, পৃ. ২২৮-২২৯; আবদুল কাদীর জীলানী, গুনিয়াতুত তালেবীন, পৃ. ২৮, ফা. ৮৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00