📄 আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল-কানাবী (২২১ হিজরী)
وقال بيان بن أحمد، كنا عند القعنبي فسمع رجلاً من الجهمية يقول: الرحمن على العرش استولى، فقال القعنبي: من لا يؤمن أن الرحمن على العرش استوى، كما تقرر في قلوب العامة، فهو جهمي. "বায়ান ইবন আহমাদ বলেন, আমরা কা'নাবীর কাছে ছিলাম। তিনি জাহমিয়্যাদের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, রহমান 'আরশ দখল করেছেন। কা'নাবী বললেন, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, যা সকল মানুষের অন্তর বিশ্বাস করেছে, যে ব্যক্তি তাতে বিশ্বাসী নয়, সে জাহমিয়্যাদের অনুসারী.”(৪১৭)
টিকাঃ
৪১৭. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১২১; আল-আরश, ২/২৯۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ। উল্লেখ্য যে, ইমাম কা'নাবী আল-আম্মা এর অর্থ করেছেন 'আহলে ইলম' বা আহলুল ফিত্বরাত, যাদের আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত স্বাভাবিক প্রকৃতি কালাম শাস্ত্রের প্যাঁচে পড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়নি। দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৬; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরश, পৃ. ৫৭।
📄 ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলেমে ইবন আলী (২২১ হিজরী)
ইমাম বুখারীর উস্তাদ 'আসেম ইবন আলী ইবন আসেম ইবন সুহাইব আল-ওয়াসেত্বী, যার দারসে এক লক্ষ বিশ হাজার লোক একত্রিত হতো, ইয়াহইয়া ইবন মু'ঈন তার সম্পর্কে বলেন, 'তিনি মুসলিমদের নেতা', এ বিখ্যাত ইমাম আসেম ইবন 'আলী বলেন, ناظرتُ جهما فتبيَّنَ مِنْ كلامهِ أَنَّهُ لَا يُؤْمِنُ أَنَّ فِي السَّمَاءِ رَبَّا». "আমি জাহম ইবন সাফওয়ানের সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক করলাম, তাতে আমার কাছে স্পষ্ট হলো, আসমানের উপরে রব রয়েছেন এটার উপর সে ঈমান আনে না”. (৪১৮) আর এজন্য ইমাম বুখারী রাহimahuallahও তাঁর কিতাবে বিভিন্নভাবে কুরআন, সুন্নাহ, সালাফে সালেহীনের বাণী দিয়ে জাহমীদের রদ্দ করেছেন.
টিকাঃ
৪১৮. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৬; আল-আরש, ২/২৯৪; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; এ একই বর্ণনা আসেম এর পিতা আলী ইবন আসেম ইবন সুহাইব থেকে এসেছে, দেখুন: বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩০।
📄 হিশাম ইবন উবাইদুল্লাহ আর-রাযী (২২১ হিজরী)
ইবন আবী হাতেম বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবন হাসান ইবন ইয়াযীদ আস-সুলামী, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে বলেছেন, سمعت هشام بن عبيد الله الرازي - وحبس رجلًا فِي التَّجَهُم فتاب فجيء به إليه ليمتحنه - فقالَ لَهُ: أَتَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ بِائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ؟ فقال: لا أدري ما بائنٌ مِنْ خَلْقِهِ. فَقَالَ: رُدُّوهُ فَإِنَّهُ لَمْ يَتُبْ بَعْدُ». “আমি হিশাম ইবন উবাইদুল্লাহ আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি এক লোককে জাহমিয়্যাদের আক্বীদাহ-বিশ্বাসের কারণে বন্দি করেছিলেন, তখন সে তাওবা করার কথা বলে, ফলে তিনি তাকে পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসতে বললেন, আসার পর তাকে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, তাঁর সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা? তখন সে বলে, আমি জানি না 'তার সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা' এটা কী জিনিস? তখন তিনি বললেন, তাকে আবার জেলে পুরাও, কারণ এখনো সে তাওবাহ করেনি.” (৪১৯)
টিকাঃ
৪১৯. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৭৬; আল-ארש ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 আবূ ‘উবাইদ কাসিম ইবন সাল্লাম আল-হারাওয়ী (২২৪ হিজরী)
'আব্বাস আদ-দূরী বলেন, আমি আবু 'উবাইদ কাসিম ইবন সাল্লামকে আল্লাহর দর্শন, দুই পা রাখার স্থান কুরসী, আমাদের রবের হাসা, আমাদের রব কোথায় থাকেন- বিষয়াদি সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করার সময় বলতে শুনেছি, هذه أحاديث صحاح، حملها أهل الحديث والفقهاء، بعضهم عن بعض، وهي عندنا حق، لا شك فيها؛ ولكن إذا قيل كيف وضع قدمه؟ وكيف يضحك ؟ قلنا لا نفسر هذا ولا سمعنا أحداً يفسره. "এসব হাদীস সহীহ। মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ তা পরস্পর থেকে গ্রহণ করেছেন। আমাদের কাছে এসব হক। এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। কিন্তু যদি বলা হয়, কীভাবে তিনি তাঁর পা রেখেছেন ও কীভাবে হাসেন? আমরা বলব, আমরা এর ব্যাখ্যা করি না। আর কাউকে ব্যাখ্যা করতেও শুনিনি। এভাবে দারাকুতনী তার আস-সিফাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন.” (৪২০)
টিকাঃ
৪২০. দারাকুতনী, আস-সিফাত, পৃ. ৬৮-৬৯, নং ৫৭; কাযী আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাত (১/৪৮), নং ১৭; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৯৮), নং ৭৬০; ইবন তাইমিয়्यাহ, আল-হামাওয়িয়্যাহ, পৃ. ৮৯। তিনি বলেছেন, এর সনদ সহীহ; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১২৭; আল-ארש, ২/৩০৩; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; সিয়ারু আ'لامین নুবালা (১০/৫০৫-৫০৬); ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরש, পৃ. ৬১।