📄 আবদুল্লাহ ইবন আবী জা‘ফার ফুসা ইবন মায়ান আর-রাযী (২১৮ হিজরীর পূর্বে)
সালেহ ইবনুদ ছুরাইস বলেন, جعل عبد الله بن أبي جعفر الرازي يضرب رأس قرابة له يرى برأي جهم، فرأيته يضرب بالنَّعل على رأسه ويقول: لا ، حتى تقول: (الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] بَائِنُ مِنْ خَلْقِهِ». "আবদুল্লাহ ইবন আবী জা'ফার আর-রাযী তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের মাথায় আঘাত করছিলেন যে জাহাম ইবন সাফওয়ানের মত পোষণ করতো, আমি তাকে দেখেছি, তিনি ঐ লোককে জুতা দিয়ে মারছিলেন আর বলছিলেন, না তোমাকে ছাড়বো না, যতক্ষণ তুমি বলছ, 'রহমান তার 'আরশের উপর উঠেছেন' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫], তিনি তাঁর সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা.” (৪১৫)
টিকাঃ
৪১৫. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৪৮; আল-আরش, ২/৩০০; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
📄 আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর আল-হুমাইদী (২১৯ হিজরী)
আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর আল-হুমাইদী বলেন, أصول السنة - فذكر أشياء - ثم قال: «وما نطق به القرآن والحديث مثل وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ، ومثل السَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ، وما أشبه هذا من القرآن والحديث لا نزيد فيه، ولا نفسره، ونقف عند ما وقف عليه القرآن والسنة، ونقول: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ومن زعم غير هذا فهو معطل جهمي. "উসূলুস সুন্নাহ' বা সুন্নাহ'র মূলনীতি হচ্ছে,... -তারপর তিনি অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করার পর বলেন,- যেসব বিষয়ে কুরআন ও হাদীস স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; যেমন "আর ইয়াহূদীরা বলে, 'আল্লাহর হাত বাঁধা। তাদের হাতই বেঁধে দেয়া হয়েছে.” “আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে” বা এ জাতীয় বিষয়ে আমরা কিছুই বৃদ্ধি করবো না, ব্যাখ্যা করবো না, কুরআন ও সুন্নাহ যেখানে থেমে গেছে আমরাও সেখানে থেমে যাবো এবং বলবো "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন." "যে এছাড়া অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমী.” (৪১৬)
টিকাঃ
৪১৬. হুমাইদী আল-মুসনাد (২/৪৫৭); ইবনু তাইমিয়्याह, মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/৬); যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (২/৪১৪); যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ১২২-১২৩; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২০-২২১।
📄 আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ আল-কানাবী (২২১ হিজরী)
وقال بيان بن أحمد، كنا عند القعنبي فسمع رجلاً من الجهمية يقول: الرحمن على العرش استولى، فقال القعنبي: من لا يؤمن أن الرحمن على العرش استوى، كما تقرر في قلوب العامة، فهو جهمي. "বায়ান ইবন আহমাদ বলেন, আমরা কা'নাবীর কাছে ছিলাম। তিনি জাহমিয়্যাদের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, রহমান 'আরশ দখল করেছেন। কা'নাবী বললেন, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, যা সকল মানুষের অন্তর বিশ্বাস করেছে, যে ব্যক্তি তাতে বিশ্বাসী নয়, সে জাহমিয়্যাদের অনুসারী.”(৪১৭)
টিকাঃ
৪১৭. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১২১; আল-আরश, ২/২৯۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ। উল্লেখ্য যে, ইমাম কা'নাবী আল-আম্মা এর অর্থ করেছেন 'আহলে ইলম' বা আহলুল ফিত্বরাত, যাদের আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত স্বাভাবিক প্রকৃতি কালাম শাস্ত্রের প্যাঁচে পড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়নি। দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৬; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরश, পৃ. ৫৭।
📄 ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলেমে ইবন আলী (২২১ হিজরী)
ইমাম বুখারীর উস্তাদ 'আসেম ইবন আলী ইবন আসেম ইবন সুহাইব আল-ওয়াসেত্বী, যার দারসে এক লক্ষ বিশ হাজার লোক একত্রিত হতো, ইয়াহইয়া ইবন মু'ঈন তার সম্পর্কে বলেন, 'তিনি মুসলিমদের নেতা', এ বিখ্যাত ইমাম আসেম ইবন 'আলী বলেন, ناظرتُ جهما فتبيَّنَ مِنْ كلامهِ أَنَّهُ لَا يُؤْمِنُ أَنَّ فِي السَّمَاءِ رَبَّا». "আমি জাহম ইবন সাফওয়ানের সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক করলাম, তাতে আমার কাছে স্পষ্ট হলো, আসমানের উপরে রব রয়েছেন এটার উপর সে ঈমান আনে না”. (৪১৮) আর এজন্য ইমাম বুখারী রাহimahuallahও তাঁর কিতাবে বিভিন্নভাবে কুরআন, সুন্নাহ, সালাফে সালেহীনের বাণী দিয়ে জাহমীদের রদ্দ করেছেন.
টিকাঃ
৪১৮. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৬; আল-আরש, ২/২৯৪; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; এ একই বর্ণনা আসেম এর পিতা আলী ইবন আসেম ইবন সুহাইব থেকে এসেছে, দেখুন: বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩০।