📄 মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন উসমান আদ-যিকবী (২১৩ হিজরী)
ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন ওয়াক্বেদ ইবন উসমান আদ-দ্বিব্বী, আল-ফিরইয়াবী, যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ, আর বুখারী তাঁর থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, مَنْ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيْسَ عَلَى عَرْشِهِ فَهُوَ كَافِرٌ، وَمَنْ زَعَمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يُكَلِّمَ مُوسَى فَهُوَ كَافِرٌ . "যে কেউ বলবে, আল্লাহ 'আরশের উপর নেই সে কাফির, যে কেউ মনে করবে আল্লাহ মূসা 'আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি, সে কাফির.” (৪১৩)
টিকাঃ
৪১৩. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৩।
📄 আবদুল মালিক ইবন আবদিল-আসমাঈ (২১৩ হিজরী)
আসমা'ঈ থেকে বর্ণিত আছে, قدمت امرأة جهم، وقال رجل عندها الله على عرشه، فقالت: محدود على محدود. قال الأصمعي: هي كافرة بهذه المقالة. "জাহমের স্ত্রী আগমন করে। তার কাছে এক লোক বলে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর। তখন সে বলে- সীমাবদ্ধ সীমাবদ্ধের উপরে। আসমা'ঈ বললেন, এই বাক্যের কারণে এই মহিলা কাফির. (৪১৪)
কারণ এটা বলার মাধ্যমে জাহমের স্ত্রীর উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করা এ যুক্তিতে যে, এটা বললে আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করা হয়। আর 'আরশ তো সীমাবদ্ধ। আর কালামশাস্ত্রবিদদের নিকট প্রাচীন সত্তা কোনো অপ্রাচীন সত্তার সংস্পর্শে থাকলে সেটাও অপ্রাচীন হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ। আর এজন্যই ইমাম আসমা'ঈ তাকে কাফির বলতে দ্বিধা করেননি। কারণ, সে বিদ'আতের দিকে আহ্বানকারিনী। এখানে সন্দেহ ও অজ্ঞতা দূর করার সুযোগ নেই।
বস্তুত এটি একটি ভুল নীতি, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর সিফাতগুলো অস্বীকার করে থাকে। আজও অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ, আশায়েরাহ ও মাতুরিদিয়াহ সম্প্রদায় এ একটি বড় ভুল নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলার কর্মগত সিফাতগুলো অস্বীকার করে থাকে.
টিকাঃ
৪১৪. ইবন তাইমিয়્યাহ, ফাতাওয়া (৫/৫৩); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৮; আরবাঈন, ৪১; আল-আরश ২/২৬৫; অনুবাদ, আব্দল্লাহ মাহমুদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২৫।
📄 আবদুল্লাহ ইবন আবী জা‘ফার ফুসা ইবন মায়ান আর-রাযী (২১৮ হিজরীর পূর্বে)
সালেহ ইবনুদ ছুরাইস বলেন, جعل عبد الله بن أبي جعفر الرازي يضرب رأس قرابة له يرى برأي جهم، فرأيته يضرب بالنَّعل على رأسه ويقول: لا ، حتى تقول: (الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] بَائِنُ مِنْ خَلْقِهِ». "আবদুল্লাহ ইবন আবী জা'ফার আর-রাযী তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের মাথায় আঘাত করছিলেন যে জাহাম ইবন সাফওয়ানের মত পোষণ করতো, আমি তাকে দেখেছি, তিনি ঐ লোককে জুতা দিয়ে মারছিলেন আর বলছিলেন, না তোমাকে ছাড়বো না, যতক্ষণ তুমি বলছ, 'রহমান তার 'আরশের উপর উঠেছেন' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫], তিনি তাঁর সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা.” (৪১৫)
টিকাঃ
৪১৫. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৪৮; আল-আরش, ২/৩০০; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
📄 আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর আল-হুমাইদী (২১৯ হিজরী)
আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর আল-হুমাইদী বলেন, أصول السنة - فذكر أشياء - ثم قال: «وما نطق به القرآن والحديث مثل وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ، ومثل السَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ، وما أشبه هذا من القرآن والحديث لا نزيد فيه، ولا نفسره، ونقف عند ما وقف عليه القرآن والسنة، ونقول: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ومن زعم غير هذا فهو معطل جهمي. "উসূলুস সুন্নাহ' বা সুন্নাহ'র মূলনীতি হচ্ছে,... -তারপর তিনি অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করার পর বলেন,- যেসব বিষয়ে কুরআন ও হাদীস স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; যেমন "আর ইয়াহূদীরা বলে, 'আল্লাহর হাত বাঁধা। তাদের হাতই বেঁধে দেয়া হয়েছে.” “আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে” বা এ জাতীয় বিষয়ে আমরা কিছুই বৃদ্ধি করবো না, ব্যাখ্যা করবো না, কুরআন ও সুন্নাহ যেখানে থেমে গেছে আমরাও সেখানে থেমে যাবো এবং বলবো "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন." "যে এছাড়া অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমী.” (৪১৬)
টিকাঃ
৪১৬. হুমাইদী আল-মুসনাد (২/৪৫৭); ইবনু তাইমিয়्याह, মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/৬); যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (২/৪১৪); যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ১২২-১২৩; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২০-২২১।