📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ উবাইদা মা‘মার ইবনুল মুসান্না (২১০ হিজরী)

📄 আবূ উবাইদা মা‘মার ইবনুল মুসান্না (২১০ হিজরী)


আরবী ভাষাবিদ আবু উবায়দা বলেন, কবি বলেন, و صبحتهم ماء بفيفاء قفرة وقد حلق النجم اليماني فاستوى "আমি তাদেরকে সকাল বেলা প্রশস্ত মরু প্রান্তরে পানির ব্যবস্থা করলাম, আর তখন ইয়ামানী তারকা আকাশে চক্কর দিতে দিতে উপরে উঠে গিয়েছে.” (৪০৯)
এখানে কোনোভাবেই استوی শব্দটিকে উপরে উঠা ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ করা যায় না। বিশেষ করে 'ইস্তাওলা' বা করায়ত্ব করার অর্থ করা যাবে না। কারণ, কেউ তারকা করায়ত্ব করতে পারে না। বরং তারকা উপরে উঠতে পারে.
তাছাড়া তিনি সূরা ইউনুস এর 'ইস্তাওয়া' এর তাফসীর করে বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مجازه: ظهر على العرش وعلا عليه، ويقال: استويت على ظهر الفرس، وعلى ظهر البيت. "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন' এর মর্মার্থ হচ্ছে, তিনি 'আরশের ঊর্ধ্বে হলেন, তার উপরে উঠলেন, আর বলা হয়ে থাকে, আমি ঘোড়ার পিঠের উপর উঠলাম, ঘরের ছাদের উপর উঠলাম (৪১০)
অনুরূপভাবে সূরা ত্বা-হায় 'ইস্তাওয়া' এর তাফসীরে বলেন, الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوى أي علا، يقال: استويت فوق الدابة وعلى البعير وعلى الجبل وفوق البيت، أي علوت عليه وفوقه. "রহমান 'আরশের উপর উঠলেন, অর্থাৎ উপরে উঠলে। বলা হয়ে থাকে, আমি বাহনের উপর উঠলাম, উটের উপর উঠলাম, পাহাড়ের উপর উঠলাম, ঘরের উপর উঠলাম, এগুলোর ঊর্ধ্বে উঠলাম.” (৪১১)

টিকাঃ
৪০৯. খলীল ইবন আহমاد আল-ফারাহীদী, আল-আইন, (৩/১২৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (৭/২৭৩+; যাবীদী, তাজুল 'আরূস (৪/১১৩)।
৪১০. মাজাযুল কুরআন (১/২৭৩)।
৪১১. মাজাযুল কুরআন (২/১৫)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল-হাসান ইবন মূসা আল-আশইয়ায়াব (২১০ হিজরী)

📄 আল-হাসান ইবন মূসা আল-আশইয়ায়াব (২১০ হিজরী)


ইমাম আহমاد ইবন হাম্বল, ইবন আবী শাইবাহ, হারেস ইবন আবী উসামah সহ বহু মুহাদ্দিসের উস্তাদ ইমাম আল-হাসান ইবন মূসা আল-আশইয়াব বলেন, যিন্দীক শিরোমনিদের মধ্য হতে একজন যাকে শাম'আলাহ বলা হতো, সে খলীফা মাহদীর দরবারে প্রবেশ করার পর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথীরা কোথায় আছে সেটা বলে দাও, তখন সে উত্তরে বলে, আমার সাথীরা অনেক বেশি। তখন খলীফা আবার বলেন, আমাকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দাও। তখন তিনি বললেন, صِنْفَانِ مِمَّنْ يَنْتَحِلُ الْقِبْلَةَ [الجمهية وَالْقَدَرِيَّةُ، الْجُهْمِيُّ إِذَا فَلَا، قَالَ لَيْسَ ثَمَّ شَيْءٌ وَأَشَارَ الْأَشْيَبُ إِلَى السَّمَاءِ وَالْقَدَرِيُّ إِذَا فَلَا قَالَ: هُمَا اثْنَانِ خَالِقُ خَيْرٍ، وَخَالِقُ شَرٌّ ، فَضَرَبَ عُنُقَهُ وَصَلَبَهُ. "দু' গোষ্ঠী, ক্বিবলার দিকে মিথ্যা সম্পর্ক করে, জাহমিয়্যাহ ও কাদরিয়‍্যাহ, জাহমী যখন অতিরঞ্জন করে তখন বলে, ওখানে কিছু নেই, একথা বলে আল-আশইয়াব আসমানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। আর ক্বাদারী যখন বাড়াবাড়ি করে তখন বলে, তারা (স্রষ্টা) দু'জন, কল্যাণের স্রষ্টা ও অকল্যাণের স্রষ্টা, তারপর খলীফা তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন ও তাকে শূলে চড়ালেন." (৪১২) অর্থাৎ খলীফা মাহদী বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, আর তিনি সেটা এ ইমামের সামনে প্রকাশ করলেন, জাহমিয়‍্যারা কিবলার দিকে নিজেদেরকে মিথ্যাভাবে সম্পর্কযুক্ত করে সেটাও তিনি জানালেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন.

টিকাঃ
৪১২. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৪; আহমاد ইবন 'ঈসা, তাওদ্বীহুল মাক্বাসিদ (১/৪৮)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন উসমান আদ-যিকবী (২১৩ হিজরী)

📄 মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন উসমান আদ-যিকবী (২১৩ হিজরী)


ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন ওয়াক্বেদ ইবন উসমান আদ-দ্বিব্বী, আল-ফিরইয়াবী, যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ, আর বুখারী তাঁর থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, مَنْ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيْسَ عَلَى عَرْشِهِ فَهُوَ كَافِرٌ، وَمَنْ زَعَمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يُكَلِّمَ مُوسَى فَهُوَ كَافِرٌ . "যে কেউ বলবে, আল্লাহ 'আরশের উপর নেই সে কাফির, যে কেউ মনে করবে আল্লাহ মূসা 'আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি, সে কাফির.” (৪১৩)

টিকাঃ
৪১৩. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবদুল মালিক ইবন আবদিল-আসমাঈ (২১৩ হিজরী)

📄 আবদুল মালিক ইবন আবদিল-আসমাঈ (২১৩ হিজরী)


আসমা'ঈ থেকে বর্ণিত আছে, قدمت امرأة جهم، وقال رجل عندها الله على عرشه، فقالت: محدود على محدود. قال الأصمعي: هي كافرة بهذه المقالة. "জাহমের স্ত্রী আগমন করে। তার কাছে এক লোক বলে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর। তখন সে বলে- সীমাবদ্ধ সীমাবদ্ধের উপরে। আসমা'ঈ বললেন, এই বাক্যের কারণে এই মহিলা কাফির. (৪১৪)
কারণ এটা বলার মাধ্যমে জাহমের স্ত্রীর উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করা এ যুক্তিতে যে, এটা বললে আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করা হয়। আর 'আরশ তো সীমাবদ্ধ। আর কালামশাস্ত্রবিদদের নিকট প্রাচীন সত্তা কোনো অপ্রাচীন সত্তার সংস্পর্শে থাকলে সেটাও অপ্রাচীন হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ। আর এজন্যই ইমাম আসমা'ঈ তাকে কাফির বলতে দ্বিধা করেননি। কারণ, সে বিদ'আতের দিকে আহ্বানকারিনী। এখানে সন্দেহ ও অজ্ঞতা দূর করার সুযোগ নেই।
বস্তুত এটি একটি ভুল নীতি, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর সিফাতগুলো অস্বীকার করে থাকে। আজও অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ, আশায়েরাহ ও মাতুরিদিয়াহ সম্প্রদায় এ একটি বড় ভুল নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলার কর্মগত সিফাতগুলো অস্বীকার করে থাকে.

টিকাঃ
৪১৪. ইবন তাইমিয়્યাহ, ফাতাওয়া (৫/৫৩); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৮; আরবাঈন, ৪১; আল-আরश ২/২৬৫; অনুবাদ, আব্দল্লাহ মাহমুদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00