📄 ইয়াহইয়া ইবন মিয়াদ আল-ফাররা (২০৭ হিজরী)
ফাররা বলেন: ثم استوى أي صعد 'অতঃপর উপরে উঠলেন', অর্থাৎ ঊর্ধ্বারোহন করলেন। এ কথা সাহাবী ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেছেন। যেমন তুমি বল, الرجل كان قاعداً ثم استوى قائم অর্থাৎ লোকটি বসা ছিল অতঃপর উপরে উঠলো। এ কথা তাঁর থেকে বাইহাকী স্বীয় গ্রন্থ আস-সিফাতে বর্ণনা করেছেন. (৪০৬)
ইয়াহইয়া ইবন যিয়اد আল-ফাররা আরও বলেন- وقد قال عبد الله بن عباس : ثم استوى صعد، وهو كقولك للرجل كان قاعدا فاستوى قائماً، وكان قائما فاستوى قاعدًا، وكل في كلام العرب جائز আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস বলেছেন, )ثم استوى( )অতঃপর 'আরশের উপর উঠলেন) ঊর্ধ্বারোহন করলেন। তা সেরূপ যেমন তুমি কাউকে বলো- সে বসে ছিলো অতঃপর স্থিরভাবে বা সোজাভাবে দাঁড়ালো, সে দাঁড়িয়ে ছিল অতঃপর সোজা বা স্থিরভাবে বসলো। আরবী ভাষায় এই সবই বৈধ। এটি বাইহাকী আস-সিফাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন. (৪০৭)
টিকাঃ
৪০৬. বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩১০), নং ৮৭।
৪০৭. আস-সিফাত (২/৩১০), নং ৮৭; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৮-১১৯; আল-আরश, ২/২৭۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
📄 সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আয-যুবা‘ঈ (২০৮ হিজরী)
দুইশত শতাব্দীর শুরুতে বসরাবাসীর ইমাম সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ্ব-দুবা'ঈ থেকে বর্ণিত, তার নিকটে জাহমিয়্যাদের আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, الْجَهْمِيَّةُ أَشَرُّ قَوْلًا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، قَدِ اجْتَمَعَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، وَأَهْلُ الْأَدْيَانِ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى الْعَرْشِ، وَقَالُوا هُمْ: لَيْسَ عَلَى الْعَرْشِ شَيْءٌ . “তাদের মতবাদ ইয়াহূদী খ্রিষ্টানদের চেয়েও জঘন্য। সমস্ত ধর্মের অনুসারীরা মুসলিমদের সাথে একমত যে, আল্লাহ 'আরশের উপরে রয়েছেন। আর তারা বলে, 'আরশের উপর কিছুই নেই.” (৪০৮)
টিকাঃ
৪০৮. এটি ইবন আবী হাতেম স্বীয় কিতাবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩০; ইবন তাইমিয়्याह, ফাতাওয়া (৫/৫২); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৭; আল-আরश ২/২৬৪, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
📄 আবূ উবাইদা মা‘মার ইবনুল মুসান্না (২১০ হিজরী)
আরবী ভাষাবিদ আবু উবায়দা বলেন, কবি বলেন, و صبحتهم ماء بفيفاء قفرة وقد حلق النجم اليماني فاستوى "আমি তাদেরকে সকাল বেলা প্রশস্ত মরু প্রান্তরে পানির ব্যবস্থা করলাম, আর তখন ইয়ামানী তারকা আকাশে চক্কর দিতে দিতে উপরে উঠে গিয়েছে.” (৪০৯)
এখানে কোনোভাবেই استوی শব্দটিকে উপরে উঠা ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ করা যায় না। বিশেষ করে 'ইস্তাওলা' বা করায়ত্ব করার অর্থ করা যাবে না। কারণ, কেউ তারকা করায়ত্ব করতে পারে না। বরং তারকা উপরে উঠতে পারে.
তাছাড়া তিনি সূরা ইউনুস এর 'ইস্তাওয়া' এর তাফসীর করে বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مجازه: ظهر على العرش وعلا عليه، ويقال: استويت على ظهر الفرس، وعلى ظهر البيت. "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন' এর মর্মার্থ হচ্ছে, তিনি 'আরশের ঊর্ধ্বে হলেন, তার উপরে উঠলেন, আর বলা হয়ে থাকে, আমি ঘোড়ার পিঠের উপর উঠলাম, ঘরের ছাদের উপর উঠলাম (৪১০)
অনুরূপভাবে সূরা ত্বা-হায় 'ইস্তাওয়া' এর তাফসীরে বলেন, الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوى أي علا، يقال: استويت فوق الدابة وعلى البعير وعلى الجبل وفوق البيت، أي علوت عليه وفوقه. "রহমান 'আরশের উপর উঠলেন, অর্থাৎ উপরে উঠলে। বলা হয়ে থাকে, আমি বাহনের উপর উঠলাম, উটের উপর উঠলাম, পাহাড়ের উপর উঠলাম, ঘরের উপর উঠলাম, এগুলোর ঊর্ধ্বে উঠলাম.” (৪১১)
টিকাঃ
৪০৯. খলীল ইবন আহমاد আল-ফারাহীদী, আল-আইন, (৩/১২৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (৭/২৭৩+; যাবীদী, তাজুল 'আরূস (৪/১১৩)।
৪১০. মাজাযুল কুরআন (১/২৭৩)।
৪১১. মাজাযুল কুরআন (২/১৫)।
📄 আল-হাসান ইবন মূসা আল-আশইয়ায়াব (২১০ হিজরী)
ইমাম আহমاد ইবন হাম্বল, ইবন আবী শাইবাহ, হারেস ইবন আবী উসামah সহ বহু মুহাদ্দিসের উস্তাদ ইমাম আল-হাসান ইবন মূসা আল-আশইয়াব বলেন, যিন্দীক শিরোমনিদের মধ্য হতে একজন যাকে শাম'আলাহ বলা হতো, সে খলীফা মাহদীর দরবারে প্রবেশ করার পর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথীরা কোথায় আছে সেটা বলে দাও, তখন সে উত্তরে বলে, আমার সাথীরা অনেক বেশি। তখন খলীফা আবার বলেন, আমাকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দাও। তখন তিনি বললেন, صِنْفَانِ مِمَّنْ يَنْتَحِلُ الْقِبْلَةَ [الجمهية وَالْقَدَرِيَّةُ، الْجُهْمِيُّ إِذَا فَلَا، قَالَ لَيْسَ ثَمَّ شَيْءٌ وَأَشَارَ الْأَشْيَبُ إِلَى السَّمَاءِ وَالْقَدَرِيُّ إِذَا فَلَا قَالَ: هُمَا اثْنَانِ خَالِقُ خَيْرٍ، وَخَالِقُ شَرٌّ ، فَضَرَبَ عُنُقَهُ وَصَلَبَهُ. "দু' গোষ্ঠী, ক্বিবলার দিকে মিথ্যা সম্পর্ক করে, জাহমিয়্যাহ ও কাদরিয়্যাহ, জাহমী যখন অতিরঞ্জন করে তখন বলে, ওখানে কিছু নেই, একথা বলে আল-আশইয়াব আসমানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। আর ক্বাদারী যখন বাড়াবাড়ি করে তখন বলে, তারা (স্রষ্টা) দু'জন, কল্যাণের স্রষ্টা ও অকল্যাণের স্রষ্টা, তারপর খলীফা তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন ও তাকে শূলে চড়ালেন." (৪১২) অর্থাৎ খলীফা মাহদী বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, আর তিনি সেটা এ ইমামের সামনে প্রকাশ করলেন, জাহমিয়্যারা কিবলার দিকে নিজেদেরকে মিথ্যাভাবে সম্পর্কযুক্ত করে সেটাও তিনি জানালেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন.
টিকাঃ
৪১২. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৪; আহমاد ইবন 'ঈসা, তাওদ্বীহুল মাক্বাসিদ (১/৪৮)।