📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইযিদিদ ইবন হারুন আল-ওয়াসিতী (২০৬ হিজরী)

📄 ইযিদিদ ইবন হারুন আল-ওয়াসিতী (২০৬ হিজরী)


ইয়াযিদ ইবন হারুন বলেন, من زعم أن الرحمن على العرش استوى على خلاف ما يقر في قلوب العامة فهو جهمي. “সর্বসাধারণের অন্তর যা নির্দ্বিধায় স্বীকৃতি দেয় যে, রহমান 'আরশের উপর রয়েছেন, যে কেউ তার বিপরীত বিশ্বাস করবে সে জাহমী."
এ বক্তব্য 'আবদুল্লাহ তার আস-সুন্নাহ গ্রন্থে 'আব্বাস আল-আনবারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি শায ইবন ইয়াহইয়া থেকে. (৪০৩)
এর অর্থ বর্ণনায় ইবন তাইমিয়্যাহ রাহimahuallah বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা জনসাধারণের অন্তরে প্রাকৃতিকভাবে গেঁথে দিয়েছেন যে, দুঃখ, কষ্ট, দো'আ, আকাঙ্ক্ষার সময় উপরের দিকে আল্লাহমুখী হয়। যেখানে অবস্থান করুক না কেন তারা ডান-বামে দৃষ্টি দেয় না। আল্লাহ এই প্রকৃতির ওপর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি নবজাতক এর ওপরই জন্মলাভ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে এসব তা'তীল বা অস্বীকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইমাম যাহাবী বলেন, ইয়াযিদ ইবন হারূন ওয়াসিতবাসীদের শাইখ। দুইশ' শতাব্দীর শুরুতে তিনি জ্ঞান ও তাক্বওয়ার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তার অনেক মর্যাদা রয়েছে। তিনি যা বলেছেন তা সত্য। কেননা যদি প্রবৃত্তিপূজা মুক্ত অন্তর ও ব্যাধি মুক্ত প্রকৃতি যা স্বীকৃতি দেয়- 'আরশের উপর উঠা'র বিষয়টি যদি তার বিপরীত বিষয় হতো, তাহলে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ অবশ্যই বর্ণনা করে দিতেন যে, "আল্লাহ 'আরশের উপর উঠা” এ বিষয়টি আল্লাহ সৃষ্টিজীবকে যে প্রকৃতি ও বিশ্বাসের ওপর সৃষ্টি করেছেন সেটার বিপরীত। হ্যাঁ, তবে কিছু নির্বোধ বুঝে থাকে যে, "আল্লাহ আসমানের উপর বা 'আরশের উপর” হওয়া মানে তিনি তার মধ্যে সীমাবদ্ধ বা উভয় বস্তু তাঁকে বেষ্টন করে ফেলেছে, 'আরশ তাঁকে ঘিরে রেখেছে। যেহেতু নির্বোধরা দেখতে পায় যে, কোনো বস্তু কোনো কিছুর উপর হলে এরূপ ঘিরে ফেলে, তাই তাদের দেখা জিনিসের উপর অনুমান করে আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মস্তিষ্কে এরূপ কল্পনা করে। এটা জাহিলদের ধারণা ও কল্পনা। আমার বিশ্বাস কোনো জনসাধারণ এমনটা মনে করে না ও বলে না। আর ইয়াযিদ ইবন হারূনের এমনটা উদ্দেশ্য হতেই পারে না। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাই যা প্রথমে বলা হলো। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্যদের শিক্ষক আবদুল্লাহ ইবন মাসলামah কা'নাবী একই কথা বলেছেন. (৪০৪)

টিকাঃ
৪০৩. সহীহ বুখারী, খলকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৩; আবু দাউد, আল-মাসাইল, ২৬৮; আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নah (১/১২৩), নং ৫৪, ২/৪৮২, ১১১০; ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/১৮৪); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৬-১১৭; আল-আরش, ২/২৬১; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৪। আলবানী এর সনদকে ভালো বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৬৮।
৪০৪. যাহাবী, আল-আরশ, ২/২৬১। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 বিশ‘র ইবন ‘উমার (২০৭ হিজরী)

📄 বিশ‘র ইবন ‘উমার (২০৭ হিজরী)


ইমাম ইসহাক্ব ইবন রাহওয়িয়াহ বলেন, বিশর ইবন 'উমার বলেন, (ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ) এর অর্থ আমি অধিকাংশ তাফসীরকারদের থেকে শুনেছি, তারা বলেছেন, 'আরশের উপর উঠেছেন. (৪০৫)

টিকাঃ
৪০৫. লালেকাঈ, শারহু উসুলিল ই'তিক্কাদ (৩/৩৯৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইয়াহইয়া ইবন মিয়াদ আল-ফাররা (২০৭ হিজরী)

📄 ইয়াহইয়া ইবন মিয়াদ আল-ফাররা (২০৭ হিজরী)


ফাররা বলেন: ثم استوى أي صعد 'অতঃপর উপরে উঠলেন', অর্থাৎ ঊর্ধ্বারোহন করলেন। এ কথা সাহাবী ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেছেন। যেমন তুমি বল, الرجل كان قاعداً ثم استوى قائم অর্থাৎ লোকটি বসা ছিল অতঃপর উপরে উঠলো। এ কথা তাঁর থেকে বাইহাকী স্বীয় গ্রন্থ আস-সিফাতে বর্ণনা করেছেন. (৪০৬)
ইয়াহইয়া ইবন যিয়اد আল-ফাররা আরও বলেন- وقد قال عبد الله بن عباس : ثم استوى صعد، وهو كقولك للرجل كان قاعدا فاستوى قائماً، وكان قائما فاستوى قاعدًا، وكل في كلام العرب جائز আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস বলেছেন, )ثم استوى( )অতঃপর 'আরশের উপর উঠলেন) ঊর্ধ্বারোহন করলেন। তা সেরূপ যেমন তুমি কাউকে বলো- সে বসে ছিলো অতঃপর স্থিরভাবে বা সোজাভাবে দাঁড়ালো, সে দাঁড়িয়ে ছিল অতঃপর সোজা বা স্থিরভাবে বসলো। আরবী ভাষায় এই সবই বৈধ। এটি বাইহাকী আস-সিফাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন. (৪০৭)

টিকাঃ
৪০৬. বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩১০), নং ৮৭।
৪০৭. আস-সিফাত (২/৩১০), নং ৮৭; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৮-১১৯; আল-আরश, ২/২৭۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আয-যুবা‘ঈ (২০৮ হিজরী)

📄 সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আয-যুবা‘ঈ (২০৮ হিজরী)


দুইশত শতাব্দীর শুরুতে বসরাবাসীর ইমাম সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ্ব-দুবা'ঈ থেকে বর্ণিত, তার নিকটে জাহমিয়্যাদের আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, الْجَهْمِيَّةُ أَشَرُّ قَوْلًا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، قَدِ اجْتَمَعَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، وَأَهْلُ الْأَدْيَانِ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى الْعَرْشِ، وَقَالُوا هُمْ: لَيْسَ عَلَى الْعَرْشِ شَيْءٌ . “তাদের মতবাদ ইয়াহূদী খ্রিষ্টানদের চেয়েও জঘন্য। সমস্ত ধর্মের অনুসারীরা মুসলিমদের সাথে একমত যে, আল্লাহ 'আরশের উপরে রয়েছেন। আর তারা বলে, 'আরশের উপর কিছুই নেই.” (৪০৮)

টিকাঃ
৪০৮. এটি ইবন আবী হাতেম স্বীয় কিতাবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩০; ইবন তাইমিয়्याह, ফাতাওয়া (৫/৫২); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৭; আল-আরश ২/২৬৪, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00