📄 ইমাম নযর ইবন শুমাইল (২০৩ হিজরী)
ইমাম আন-নাদ্বর ইবন শুমাইল ছিলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের একজন ভাষাবিদ, নাহুশাস্ত্রবিদ। মার্ভ ও খোরাসানে তিনি সহীহ সুন্নাহ'র প্রচার-প্রসারে যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। ইমাম লালেকাঈ রাহimahuallah তাদের আলোচনা করছিলেন যারা সহীহ আকীদাহ প্রসারে অবদান রেখেছেন, সেখানে তিনি আন-নাদ্বর ইবন শুমাইলকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, بَابُ سِيَاقِ ذِكْرِ مَنْ رُسِمَ بِالْإِمَامَةِ فِي السُّنَّةِ بَابُ سِيَاقِ ذِكْرِ مَنْ رُسِمَ بِالْإِمَامَةِ فِي السُّنَّةِ وَالدَّعْوَةِ وَالهِدَايَةِ إِلَى طَرِيقِ الاسْتِقَامَةِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - إِمَامِ الْأَئِمَّةِ، فَمِنَ الصَّحَابَةِ .... وَمِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ الْمَرْوَزِيُّ، وَالْفَضْلُ بْنُ مُوسَى السِّينَانِيُّ، وَالنَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُرْوَزِيُّ، وَالنَّضْرُ بْنُ شُمَيْلِ المَازِنِيُّ. [অধ্যায়, সুন্নাহ তথা আক্বীদায় যারা ইমাম হিসেবে চিহ্নিত তাদের বর্ণনায়] ইমামগণের ইমাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে যারা সঠিক পথে, হিদায়াত, দাওয়াত ও সুন্নাতের ইমাম হিসেবে কাজ করেছেন তাদের বর্ণনার অধ্যায়: তাদের মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম থেকে.... আর খুরাসান অধিবাসীদের মধ্য থেকে, আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী, আল-ফাদ্বল ইবন মূসা আস-সিনানী, আন-নাম্বর ইবন মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী, আন-নাদ্বর ইবন শুমাইল আল-মাযেনী... (৩৯৩)
তাছাড়া অনেক ইমাম সহীহ আকীদাহ'র একজন বড় আলেম হিসেবে তাঁকে উপস্থাপন করেছেন. (৩৯৪) আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার ব্যাপারে তাঁর মতামত পাই সেখান থেকে যে, তিনি এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ আকীদাহ বর্ণনা করতেন। যেমন ইতোপূর্বে এসেছে, নম্বর ইবন শুমাইল বলেন, "আমাকে খলীল বর্ণনা করছেন, আর খলীল সবার কাছেই প্রসিদ্ধ, তিনি বলেন, আমি আবু রাবী'আহ ইবনুল আ'রাবীর কাছে আসলাম, তাকে আমি যাদের দেখেছি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করি, আমি তার কাছে যখন পৌঁছলাম তখন তিনি ঘরের ছাদে ছিলেন। আমরা তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের জাওয়াব দিলেন এবং আমাদের বললেন, “استووا” এটা শুনে আমরা তো হতভম্ব হয়ে গেলাম, আমরা বুঝতে পারলাম না তিনি কী বললেন, তখন আমাদেরকে তার পার্শ্বে থাকা এক বেদুঈন বললেন, তিনি তোমাদেরকে উপরে উঠতে নির্দেশ দিচ্ছেন. (৩৯৫)
টিকাঃ
৩৯৩. শারহু উসুলি ই'তিক্কাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (১/৩১-৫৪)।
৩৯৪. দেখুন: আল-মারযেবানী, নূরুল ক্বاب س পৃ. ৯৯; ইবন খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান (২/২৩৮); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'لامিন নুবালা (১০/২৮২); আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জاه ফী বায়ানিল মাহাজ্জاه (২/৪৭৩-৪৭৭)।
৩৯৫. আল-মারযেবানী, নূরুল ক্বاب س পৃ. ১০২-১০৩; ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩১-১৩২)।
📄 ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস আশ শাফে‘য়ী (২০৪ হিজরী)
ইমাম শাফে'য়ী আল-মুত্তালেবী রাহimahuallah, বিখ্যাত চার ইমামের একজন। তিনি ইমাম মালিকের ছাত্র আর ইমাম আহমাদের উস্তাদ। এখানে এ জগদ্বিখ্যাত ব্যক্তির বিভিন্ন উক্তি দিয়ে আমরা জাহমিয়্যাহ ও তাদের মতো যারা মত পোষণ করে তাদের মতামত খণ্ডন করব.
ইমাম শাফেয়ী রাহimahuallah বলেন, خلافة أبي بكر الصديق حق قضاء الله في السماء، وجمع عليه قلوب عباده. "আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর খিলাফত হক্ক ও সত্য; যা আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর থেকে ফয়সালা করেছেন আর তিনিই তার বান্দাদেরকে এর ওপর ঐকমত্যে পৌঁছার তাওফীক দিয়েছেন.” (৩৯৬)
তিনি আরও বলেন, القول في السنة التي أنا عليها، رأيت أهل الحديث عليها، الذين رأيتهم، مثل سفيان، ومالك، وغيرهما: الإقرار بشهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله - وذكر أشياء - ثم قال: وأن الله على عرشه في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء، وينزل إلى سماء الدنيا كيف شاء "আমি যে নীতির ওপরে আছি এবং আমার দেখা সুফইয়ান, মালিক প্রমুখদের মতো আহলে হাদীসদের যে নীতির ওপর পেয়েছি, তা হলো "আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই আর নিশ্চয় মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল" -এ শাহাদাতের স্বীকারোক্তি দেয়া। এরপর তিনি আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর আসমানে তাঁর 'আরশের উপরে। তিনি সৃষ্টিকুলের নিকটবর্তী হন যেভাবে ইচ্ছা করেন এবং দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যেভাবে ইচ্ছা করেন। এভাবে তিনি সমস্ত আকীদাহ উল্লেখ করেন.” (৩৯৭)
হাসান ইবন হিশাম আল-বালাদী বলেন, নিম্নের অসিয়তটি মুহাম্মاد ইবন ইদরীس আশ-শাফে'য়ীর- أوصى أنه يشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له - وذكر الوصية - إلى أن قال فيها والقرآن كلام الله غير مخلوق، وأنَّ الله عزّ وجلَّ يُرى في الآخرةِ يَنْظُرُ إليه المؤمنون عيانًا جهارًا، ويسمعون كلامَهُ، وَأَنَّهُ فَوْقَ العَرْشِ». "ইমাম শাফে'য়ী অসিয়ত করেন, সাক্ষ্য দিবে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। সে অসিয়তে আরও রয়েছে, কুরআন আল্লাহর কালাম, মাখলুক নয়, আল্লাহকে কিয়ামতের দিন স্বচক্ষে দেখা যাবে, তাঁর দিকে মুমিনরা তাকাবেন, তাঁর কথা শুনবেন, আর আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর রয়েছেন। এরপর তিনি গোটা অসিয়ত উল্লেখ করেন, যা বর্ণনা করেছেন হাক্কারী ও হাফিয আবদুল গনী তার আকীদাহ গ্রন্থে. (৩৯৮)
ইবন আবী হাতিম বলেন, আমি ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফে'য়ীকে বলতে শুনেছি, الله أسماء وصفات لا يسع أحدا قامت عليه الحجة ردها، فإن خالف بعد ثبوت الحجة عليه فهو كافر، فأما قبل ثبوت الحجة عليه فمعذور بالجهل، لأن علم ذلك لا يدرك بالعقل، ولا بالروية والفكر، ونثبت هذه الصفات وننفي عنها التشبيه، كما نفى عن نفسه، قال لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ. আল্লাহর রয়েছে অনেক নাম ও গুণাবলি। দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ায় কারো সুযোগ নেই তা প্রত্যাখ্যান করা। দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরে কেউ তার বিরোধিতা করলে সে কাফির। আর দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে করলে অজ্ঞতার ওজর রয়েছে। কেননা নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বিবেক-বুদ্ধি, দর্শন ও চিন্তা-ভাবনা দ্বারা অর্জন হয় না। আমরা এসব গুণাবলি সাব্যস্ত করি এবং তাঁর থেকে সাদৃশ্যকে অস্বীকার করি, যেমনিভাবে আল্লাহ নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ "তার মতো কোনো কিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা.” (৩৯৯)
যাহাবী বলেন, এটি শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আল-হাক্কারী বর্ণনা করেছেন শাফেয়ীর আকীদায়, তাছাড়া অন্যরাও তা বর্ণনা করেছেন। সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া ইমাম শাফেয়ী রাহimahuallah সে বিখ্যাত হাদীসটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেন, যাতে জুমু'আর দিন সম্পর্কে এসেছে, وهو اليوم الذي استوى فيه ربكم على العرش. "এটি সেদিন, যেদিন তোমাদের রব 'আরশের উপর উঠেছেন.” (৪০০)
ইমাম শাফেয়ীর এ ধরনের অনেক বক্তব্য রয়েছে। শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আল-হাক্কারী, হাফিয আবু মুহাম্মাদ আবদুল গনী, আবুল হাসান ইবন শুকর ও অন্যান্যগণ উসূল ই'তিকাদ-এ ইমাম শাফে'য়ীর বক্তব্যগুলো জমা করেছেন, যা মানুষের নাগালে রয়েছে.
টিকাঃ
৩৯৬. ইবন কুদামاه, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১৮১; আল-আরश, ২/২৯۰ অনুবাদ, 'আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন তাইমিয়্যاه, হামাওয়িয়্যাহ ৩৪৬; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৬৫।
৩৯৭. ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, ১২৩-১২৪, নং ১০৮; ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/১৮২-১৮৩), যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১২۰; আল-আরش, ২/২৯۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরश, পৃ. ৫৯।
৩৯৮. ওসিয়্যাতুল ইমাম আশ-শাফে'য়ী, পৃ. ৩৮-৩৯; ইবন কুদামাহ, ইسبাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১২১-১২৩, নং ১০৭; যাহাবী আল-'উলু, পৃ. ১২۰; আল-আরش, ২/২৯۰; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসার সাওয়াইক (২/২১২-২১৩)।
৩৯৯. ইবন আবী ই'য়ালা, তবাকাতুল হানাবিলাহ (১/২৮৩-২৮৫); ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, ১২৩-১২৫, নং ১০৮-১০৯; যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ১২১; আল-আরش ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরש, পৃ. ৬০।
৪০০. আশ-শাফেয়ী, আল-মুসনাদ, পৃ. ০৭।
📄 ওয়াহাব ইবন জারীর (২০৬ হিজরী)
ওয়াহাব ইবন জারীর ইবন হাযেম আল-মুহাদ্দিস, আবুল 'আব্বাস আল-আযদী, তাদের মাওলা। বসরার অধিবাসী। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তিনি বলেন, إِيَّاكُمْ وَرَأْيَ جَهْرٍ فَإِنَّهُمْ يُحَاوِلُونَ أَنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ فِي السَّمَاءِ وَمَا هُوَ إِلَّا مِنْ وَحْيِ إِبْلِيسَ مَا هُوَ إِلَّا الْكُفْرُ. "সাবধান! তোমরা জাহমের মত থেকে বেঁচে থাকবে, তারা বলতে চায়, আসমানের উপর কিছু (আল্লাহ) নেই, এটা তো ইবলিসের শেখানো বুলি ছাড়া আর কিছু নয়, এটা কুফুরী ছাড়া আর কিছু নয়.” (৪০১)
অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, الْجُهْمِيَّةُ الزَّنَادِقَةُ إِنَّمَا يُرِيدُونَ أَنَّهُ لَيْسَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى». “জাহমী যিন্দীকরা এটাই বলতে চায় যে, তিনি 'আরশের উপর উঠেননি.” (৪০২)
টিকাঃ
৪০১. ইবন কুদামা আল-মাকদেসী, আল-'উলূ, পৃ. ১০১; যাহাবী আল-'উলু, পৃ. ১১৮; আল-আরش (২/২৬৮); অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ৭২; ইবন আব্দুল হাদী, আল-কালাম 'আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরش, পৃ. ৫৯।
৪০২. বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩০)।
📄 ইযিদিদ ইবন হারুন আল-ওয়াসিতী (২০৬ হিজরী)
ইয়াযিদ ইবন হারুন বলেন, من زعم أن الرحمن على العرش استوى على خلاف ما يقر في قلوب العامة فهو جهمي. “সর্বসাধারণের অন্তর যা নির্দ্বিধায় স্বীকৃতি দেয় যে, রহমান 'আরশের উপর রয়েছেন, যে কেউ তার বিপরীত বিশ্বাস করবে সে জাহমী."
এ বক্তব্য 'আবদুল্লাহ তার আস-সুন্নাহ গ্রন্থে 'আব্বাস আল-আনবারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি শায ইবন ইয়াহইয়া থেকে. (৪০৩)
এর অর্থ বর্ণনায় ইবন তাইমিয়্যাহ রাহimahuallah বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা জনসাধারণের অন্তরে প্রাকৃতিকভাবে গেঁথে দিয়েছেন যে, দুঃখ, কষ্ট, দো'আ, আকাঙ্ক্ষার সময় উপরের দিকে আল্লাহমুখী হয়। যেখানে অবস্থান করুক না কেন তারা ডান-বামে দৃষ্টি দেয় না। আল্লাহ এই প্রকৃতির ওপর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি নবজাতক এর ওপরই জন্মলাভ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে এসব তা'তীল বা অস্বীকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইমাম যাহাবী বলেন, ইয়াযিদ ইবন হারূন ওয়াসিতবাসীদের শাইখ। দুইশ' শতাব্দীর শুরুতে তিনি জ্ঞান ও তাক্বওয়ার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তার অনেক মর্যাদা রয়েছে। তিনি যা বলেছেন তা সত্য। কেননা যদি প্রবৃত্তিপূজা মুক্ত অন্তর ও ব্যাধি মুক্ত প্রকৃতি যা স্বীকৃতি দেয়- 'আরশের উপর উঠা'র বিষয়টি যদি তার বিপরীত বিষয় হতো, তাহলে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ অবশ্যই বর্ণনা করে দিতেন যে, "আল্লাহ 'আরশের উপর উঠা” এ বিষয়টি আল্লাহ সৃষ্টিজীবকে যে প্রকৃতি ও বিশ্বাসের ওপর সৃষ্টি করেছেন সেটার বিপরীত। হ্যাঁ, তবে কিছু নির্বোধ বুঝে থাকে যে, "আল্লাহ আসমানের উপর বা 'আরশের উপর” হওয়া মানে তিনি তার মধ্যে সীমাবদ্ধ বা উভয় বস্তু তাঁকে বেষ্টন করে ফেলেছে, 'আরশ তাঁকে ঘিরে রেখেছে। যেহেতু নির্বোধরা দেখতে পায় যে, কোনো বস্তু কোনো কিছুর উপর হলে এরূপ ঘিরে ফেলে, তাই তাদের দেখা জিনিসের উপর অনুমান করে আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মস্তিষ্কে এরূপ কল্পনা করে। এটা জাহিলদের ধারণা ও কল্পনা। আমার বিশ্বাস কোনো জনসাধারণ এমনটা মনে করে না ও বলে না। আর ইয়াযিদ ইবন হারূনের এমনটা উদ্দেশ্য হতেই পারে না। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাই যা প্রথমে বলা হলো। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্যদের শিক্ষক আবদুল্লাহ ইবন মাসলামah কা'নাবী একই কথা বলেছেন. (৪০৪)
টিকাঃ
৪০৩. সহীহ বুখারী, খলকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৩; আবু দাউد, আল-মাসাইল, ২৬৮; আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নah (১/১২৩), নং ৫৪, ২/৪৮২, ১১১০; ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/১৮৪); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৬-১১৭; আল-আরش, ২/২৬১; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৪। আলবানী এর সনদকে ভালো বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৬৮।
৪০৪. যাহাবী, আল-আরশ, ২/২৬১। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।