📄 ইমাম আবদুর রাহমান ইবন মাহদী (১৯৮ হিজরী)
ইমাম আবদুর রহমান ইবন মাহদী এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার সম্পর্কে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হচ্ছেন বর্তমান সময়ের হাফেয, যদি কা'বার রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শপথ করতে চাই তবে সে শপথ করে বলতে পারব যে, আমি আবদুর রহমান ইবন মাহদীর চেয়ে বড় জ্ঞানী কাউকে দেখিনি. (৩৮৬) এ মহান ব্যক্তিত্ব বলেন, إن الجهمية أرادوا أن ينفوا أن يكون الله كلم موسى، وأن يكون على العرش، نرى أن يستتابوا، فإن تابوا وإلا ضربت أعناقهم. “জাহমিয়্যাহ ফেরকার লোকেরা অস্বীকার করছে যে, আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন। আমি মনে করি তাদেরকে তাওবাহ করাতে হবে, যদি তাওবা করে তো ভালো, নতুবা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতে হবে.”(৩৮৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, «لَيْسَ فِي أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ شَرٌّ مِنْ أَصْحَابِ جَهْمٍ يَدُورُونَ عَلَى أَنْ يَقُولُوا لَيْسَ فِي السَّمَاءِ شَيْءٌ، أَرَى وَاللَّهِ أَلَّا يُنَا كَحُوا وَلَا يُوَارَثُوا» "প্রবৃত্তিপূজারী গোষ্ঠীর মধ্যে জাহমের অনুসারীদের চেয়ে নিকৃষ্ট কেউ নেই, তারা এ কথা বলার দিকে ঘুরে যে, আসমানের উপরে কিছু নেই, আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি, তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না, তাদেরকে ওয়ারিস করা যাবে না.”(৩৮৮)
টিকাঃ
৩৮৬. বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ (১০/২৪৪-২৪৫)।
৩৮৭. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ১৭; আবদুল্লাহ ইবন আহমاد, আস-সুন্নah, ১৬, বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৩১৯; যাহাবী, আল-আরश ২/২৫৩-২৫৪। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৩৮৮. ইবন আবী হাতেম, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ; ইবন তাইম্যিাহ, আল-হামাওয়িয়্যাহ পৃ. ৩১; আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد, আস-সুন্নah নং ১৪৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৬৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩৪; অনুরূপ বর্ণনা তাঁর থেকে আরও এসেছে, বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ২৪৯; লালেকাঈ, শারহু ৫০৫।
📄 আবূ মু‘আয খালিদ ইবন সুলাইমান আল-বালখী আল-হানাফী (১৯৯ হিজরী)
খালিদ ইবন সুলাইমান ফারগানah নামক স্থানে বলেন, كان جهم على معبر ترمذ، وكان فصيح اللسان، و لم يكن له علم ولا مجالسة أهل العلم، فكلم السمنية، فقالوا له: صف لنا ربك الذي تعبده. فدخل البيت لا يخرج، ثم خرج إليهم بعد أيام فقال: هو هذا الهواء مع كل شيء، وفي كل شيء، ولا يخلو منه شيء. قال أبو معاذ: كذب عدو الله، إن الله في السماء على العرش كما وصف نفسه. "জাহম ইবন সাফওয়ান তিরমিয শহরের উপকূলীয় অঞ্চলের লোক ছিল। সে ছিল বাগ্মী, তবে তার জ্ঞান ছিল না এবং জ্ঞানীদের সাহচর্যও গ্রহণ করেনি। সে বৌদ্ধধর্মের লোকদের সাথে মুনাযারা বা ধর্মীয় বিতর্ক জুড়ে দিলে তারা তাকে বলে, তুমি যে রবের ইবাদাত করো তার বর্ণনা দাও। এ প্রশ্ন শুনে সে ঘরে প্রবেশ করলো, বের হলো না। কিছুদিন পর তাদের কাছে বের হয়ে বলল: তিনি হচ্ছেন এই বাতাস, যা প্রত্যেক বস্তুর সাথে রয়েছে, প্রত্যেক বস্তুর মাঝে রয়েছে। তার থেকে কোনো বস্তু মুক্ত নয়। তখন আবু মু'আয বলেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে, যেমনটি তিনি নিজের ব্যাপারে বর্ণনা দিয়েছেন.(৩৮৯)
টিকাঃ
৩৮৯. আহমাদ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যاه, ৬৫-৬৬-তে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন; বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৩৭), নং ৯০৪; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২৪; ইবন বাত্তاه, আল-ইবানah (২/৭৬- ৭৯), নং ৩১৭, তিনি ভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। যাহাবী, আল-আরश ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 মানসুর ইবন আম্মার ইবন কাসীর, আস সামী আস-সুলামী আল-খুরাসানী (২০০ হিজরী)
বিশর আল-মাররিসী ইমাম মানসূর ইবন আম্মারকে লিখে পাঠিয়ে তাঁর কাছে আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' এখানে আল্লাহ তা'আলা 'ইস্তেওয়া' কীভাবে করলেন, তা জানতে চান। তখন মানসূর ইবন 'আম্মার রাহimahuallah বলেন, اسْتِوَاؤُهُ غير محدود، والجواب فيه تَكَلُّف، مُسَاءَلَتُكَ عَنهُ بِدْعَةٌ، وَالإِيمَانُ بِجُمْلَةِ ذَلِكَ وَاجِبٌ». “আল্লাহর 'ইস্তেওয়া' তথা 'আরশের উপর উঠার বিষয়টির ধরন শরী'আতে আসেনি, এর উত্তর দেয়ার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিমতা অবলম্বন, এ ব্যাপারে তোমার প্রশ্ন করাটিই হচ্ছে বিদ'আত। আর এসব কিছুর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব.”(৩৯০)
টিকাঃ
৩৯০. খত্বীব, তারীখু বাগদাদ (১৩/৭৬); যাহাবী, সিয়ারু আ'لامিন নুবালা (৯/৯৮); তারীখুল ইসলাম, ঘটনাপঞ্জী ১৯১-২০০ হিজরী, পৃ. ৪১৩।
📄 আবদুল্লাহ ইবন আবী জা‘ফর আর-রাযী (২০০ হিজরীর পরে)
সালেহ ইবনুদ দুরাইস বলেন, جعل عبد الله بن أبي جعفر الرازي يضرب قرابة له بالنعل على رأسه يرمى برأي جهم ويقول: لا، حتى تقول الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى بائن من خلقه. "আবদুল্লাহ ইবন আবু জা'ফর আর-রাযী, জাহমিয়্যাহ হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত- তার এক আত্মীয়ের মাথায় জুতা দিয়ে মারছিলেন আর বলছিলেন, ততক্ষণ ছাড়ব না যতক্ষণ না বলো: রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা.”(৩৯১)
ইমাম যাহাবী বলেন, এ বক্তব্য ইবন আবী হাতিম আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণনা করেছেন সালেহ থেকে.
টিকাঃ
৩৯১. ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তাআরুযিল আকল ওয়ান নাকল, ৬/২৬৫; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১৯; আল-আরش, ২/৩০৬; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২১; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরش, পৃ. ৬২-৬৩।