📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম ওকী‘ ইবনুল জাররাহ (১৯৬ হিজরী)

📄 ইমাম ওকী‘ ইবনুল জাররাহ (১৯৬ হিজরী)


প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ, যিনি ইমাম শাফেয়ীর ও ইমাম আহমাদের উস্তاد, তিনি বলেন, لَا تَسْتَخِفُوا بِقَوْلِهِمُ الْقُرْآنُ خَلُوقٌ، فَإِنَّهُ مِنْ شَرِّ قَوْلِهِمْ، وَإِنَّمَا يَذْهَبُونَ إِلَى التَّعْطِيلِ. "তোমরা জাহমিয়্যাদের কথা 'কুরআন সৃষ্ট বস্তু' এটাকে হাল্কাভাবে নিও না, কারণ এটি তাদের নিকৃষ্ট বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; তারা মৌলিকভাবে যে মতের দিকে আহ্বান করে, তা হচ্ছে আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা.”(৩৮৩) এর অর্থ, ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ রাহimahuallah বুঝাতে চাচ্ছেন, জাহমিয়্যাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা। আল্লাহ তা'আলার বাণীকে সৃষ্ট বলার উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর সত্তা ও কর্মগত যাবতীয় গুণাবলি থেকে বিমুক্ত করা। তারা শুধু কুরআন নয় বরং আল্লাহর সকল গুণ, বিশেষ করে কর্মগত গুণ যা ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ক্রোধান্বিত হওয়া ইত্যাদি অস্বীকার করা. (৩৮৪)
অপর বর্ণনায় ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ওকী' রাহimahuallah ইসরাঈল রাহimahuallah থেকে, সে হাদীসের ভাষ্য ছিল, أدركنا الأعمش وسفيان، يحدثوننا بهذه الأحاديث ولا ينكرونها "যখন রাব্বুল আলামীন তাঁর কুরসীতে বসবেন" তখন উপস্থিত এক লোক কেঁপে উঠল, এতে ওকী' রাহimahuallah রাগ করলেন, তিনি বললেন, আমরা আ'মাশ, সুফইয়ানকে পেয়েছি, তারা এসব হাদীস আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন, তারা এগুলোকে খারাপ মনে করতেন না.” (৩৮৫)

টিকাঃ
৩৮৩. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৪।
৩৮৪. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৪০; আল-খাল্লাল, আস-সুন্নah (৭/৩২-৩৩); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/৬০৯-৬১০)।
৩৮৫. যাহাবী, আল-আরش ২/২৫৩, অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবদুর রাহমান ইবন মাহদী (১৯৮ হিজরী)

📄 ইমাম আবদুর রাহমান ইবন মাহদী (১৯৮ হিজরী)


ইমাম আবদুর রহমান ইবন মাহদী এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার সম্পর্কে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হচ্ছেন বর্তমান সময়ের হাফেয, যদি কা'বার রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শপথ করতে চাই তবে সে শপথ করে বলতে পারব যে, আমি আবদুর রহমান ইবন মাহদীর চেয়ে বড় জ্ঞানী কাউকে দেখিনি. (৩৮৬) এ মহান ব্যক্তিত্ব বলেন, إن الجهمية أرادوا أن ينفوا أن يكون الله كلم موسى، وأن يكون على العرش، نرى أن يستتابوا، فإن تابوا وإلا ضربت أعناقهم. “জাহমিয়্যাহ ফেরকার লোকেরা অস্বীকার করছে যে, আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন। আমি মনে করি তাদেরকে তাওবাহ করাতে হবে, যদি তাওবা করে তো ভালো, নতুবা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতে হবে.”(৩৮৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, «لَيْسَ فِي أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ شَرٌّ مِنْ أَصْحَابِ جَهْمٍ يَدُورُونَ عَلَى أَنْ يَقُولُوا لَيْسَ فِي السَّمَاءِ شَيْءٌ، أَرَى وَاللَّهِ أَلَّا يُنَا كَحُوا وَلَا يُوَارَثُوا» "প্রবৃত্তিপূজারী গোষ্ঠীর মধ্যে জাহমের অনুসারীদের চেয়ে নিকৃষ্ট কেউ নেই, তারা এ কথা বলার দিকে ঘুরে যে, আসমানের উপরে কিছু নেই, আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি, তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না, তাদেরকে ওয়ারিস করা যাবে না.”(৩৮৮)

টিকাঃ
৩৮৬. বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ (১০/২৪৪-২৪৫)।
৩৮৭. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ১৭; আবদুল্লাহ ইবন আহমاد, আস-সুন্নah, ১৬, বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৩১৯; যাহাবী, আল-আরश ২/২৫৩-২৫৪। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৩৮৮. ইবন আবী হাতেম, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ; ইবন তাইম্যিাহ, আল-হামাওয়িয়্যাহ পৃ. ৩১; আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد, আস-সুন্নah নং ১৪৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৬৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩৪; অনুরূপ বর্ণনা তাঁর থেকে আরও এসেছে, বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ২৪৯; লালেকাঈ, শারহু ৫০৫।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ মু‘আয খালিদ ইবন সুলাইমান আল-বালখী আল-হানাফী (১৯৯ হিজরী)

📄 আবূ মু‘আয খালিদ ইবন সুলাইমান আল-বালখী আল-হানাফী (১৯৯ হিজরী)


খালিদ ইবন সুলাইমান ফারগানah নামক স্থানে বলেন, كان جهم على معبر ترمذ، وكان فصيح اللسان، و لم يكن له علم ولا مجالسة أهل العلم، فكلم السمنية، فقالوا له: صف لنا ربك الذي تعبده. فدخل البيت لا يخرج، ثم خرج إليهم بعد أيام فقال: هو هذا الهواء مع كل شيء، وفي كل شيء، ولا يخلو منه شيء. قال أبو معاذ: كذب عدو الله، إن الله في السماء على العرش كما وصف نفسه. "জাহম ইবন সাফওয়ান তিরমিয শহরের উপকূলীয় অঞ্চলের লোক ছিল। সে ছিল বাগ্মী, তবে তার জ্ঞান ছিল না এবং জ্ঞানীদের সাহচর্যও গ্রহণ করেনি। সে বৌদ্ধধর্মের লোকদের সাথে মুনাযারা বা ধর্মীয় বিতর্ক জুড়ে দিলে তারা তাকে বলে, তুমি যে রবের ইবাদাত করো তার বর্ণনা দাও। এ প্রশ্ন শুনে সে ঘরে প্রবেশ করলো, বের হলো না। কিছুদিন পর তাদের কাছে বের হয়ে বলল: তিনি হচ্ছেন এই বাতাস, যা প্রত্যেক বস্তুর সাথে রয়েছে, প্রত্যেক বস্তুর মাঝে রয়েছে। তার থেকে কোনো বস্তু মুক্ত নয়। তখন আবু মু'আয বলেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে, যেমনটি তিনি নিজের ব্যাপারে বর্ণনা দিয়েছেন.(৩৮৯)

টিকাঃ
৩৮৯. আহমাদ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যاه, ৬৫-৬৬-তে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন; বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৩৭), নং ৯০৪; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২৪; ইবন বাত্তاه, আল-ইবানah (২/৭৬- ৭৯), নং ৩১৭, তিনি ভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। যাহাবী, আল-আরश ২/৩১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মানসুর ইবন আম্মার ইবন কাসীর, আস সামী আস-সুলামী আল-খুরাসানী (২০০ হিজরী)

📄 মানসুর ইবন আম্মার ইবন কাসীর, আস সামী আস-সুলামী আল-খুরাসানী (২০০ হিজরী)


বিশর আল-মাররিসী ইমাম মানসূর ইবন আম্মারকে লিখে পাঠিয়ে তাঁর কাছে আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' এখানে আল্লাহ তা'আলা 'ইস্তেওয়া' কীভাবে করলেন, তা জানতে চান। তখন মানসূর ইবন 'আম্মার রাহimahuallah বলেন, اسْتِوَاؤُهُ غير محدود، والجواب فيه تَكَلُّف، مُسَاءَلَتُكَ عَنهُ بِدْعَةٌ، وَالإِيمَانُ بِجُمْلَةِ ذَلِكَ وَاجِبٌ». “আল্লাহর 'ইস্তেওয়া' তথা 'আরশের উপর উঠার বিষয়টির ধরন শরী'আতে আসেনি, এর উত্তর দেয়ার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিমতা অবলম্বন, এ ব্যাপারে তোমার প্রশ্ন করাটিই হচ্ছে বিদ'আত। আর এসব কিছুর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব.”(৩৯০)

টিকাঃ
৩৯০. খত্বীব, তারীখু বাগদাদ (১৩/৭৬); যাহাবী, সিয়ারু আ'لامিন নুবালা (৯/৯৮); তারীখুল ইসলাম, ঘটনাপঞ্জী ১৯১-২০০ হিজরী, পৃ. ৪১৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00