📄 শুজা‘ ইবন আবূ نসর আল-বালখী (১৯০ হিজরী)
আবু নু'আইম (শুজা' ইবন আবু নসর) বালখী বলেন- তিনি জাহম ইবন সফওয়ানের সমকালীন ছিলেন। জাহমের এক সাথী ছিল। জাহম তাকে সম্মান করতো ও অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতো। একদিন সে তাকে পাকড়াও করার জন্য চিৎকার করে উঠলো এবং তার দিকে দ্রুতগতিতে গেলো ও তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আবু নু'আইম বলেন, আমি তাকে বললাম, সে তো আপনার সম্মান করতো। সে বলল, তার কাছ থেকে এমন কিছু কথা বের হয়েছে, যা সহ্য করার নয়। সে সূরা ত্বা-হা পড়ছিলো, সে সময় মুসহাফ তার কোলে ছিলো। সে এই আয়াতে "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" এসে পৌঁছালে বললো: আমি কোনো উপায় পেলে এই আয়াতকে মুসহাফ থেকে মিটিয়ে দিতাম। আমি অনেক কষ্টে সেটা সহ্য করলাম। তারপর সে আবার আয়াত পড়তে লাগলো, ইতোমধ্যে এক আয়াত পড়ে বলতে লাগলো, "মুহাম্মاد কতই না চালাক লোক যখন সে এটা বলেছে” (না'উযুবিল্লাহ)। তারপর আবার সে পড়া চালিয়ে গেল, "যখন সে পড়ছিল 'ত্বা-সীন-মীম' সূরা ক্বাসাস, আর মুসহাফ তার কোলেই ছিল, ইতোমধ্যে যখন মূসা 'আলাইহিস সালামের কাহিনী এসে পড়লো, তখন সে মুসহাফকে হাত ও পা দিয়ে ঠেলে দিলো এবং বললো এটা কী? তার আলোচনা করা হয়েছে অথচ আলোচনা পূর্ণ করা হয়নি. (৩৮০)
ইমাম যাহাবী বলেন, এ ঘটনা এভাবে ইবন আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে সাগানী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব থেকে। আবু নু'আইমের নাম শুজা' ইবন আবু নসর. (৩৮১)
টিকাঃ
৩৮০. অর্থাৎ তার অভিযোগ হচ্ছে আল্লাহ কেন মূসা 'আলাইহিস সালামের বর্ণনা এক জায়গায় পরিপূর্ণ করে দেয়নি। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসা হলো কেন? নাউযুবিল্লাহ, সে বুঝতে পারেনি যে, কুরআন ইতিহাস বা গল্প গ্রন্থ নয়। প্রয়োজন অনুসারে আল্লাহ তার বাণীকে সাজিয়েছেন, তার মতো ব্যক্তির সেটার ব্যাপারে কথা বলার কিছু নেই। দেখুন, তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী, ২৭۰২। দেখুন, যাহাবী, আল-আরش এর টীকা, পৃ. ১৪৪। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৩৮১. সহীহ বুখারী, খলকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ২০, নং ৫৫; 'আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নah (১/১৬৮), নং ১৯۰; ইবন বাত্তাহ, আল ইبانah (২/৯২-৯৩), নং ৩২২-৩২৩; যাহাবী, আল-'উলু, ১১৪; আলবানী এর সনদ সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৬৩; যাহাবী আল-আরش ২/২৫৬ অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 আবূ বকর ইবন ‘আইয়াশ (১৯৩ হিজরী)
প্রখ্যাত তাবে তাবে'ঈ, হাদীস বিশারদ, ক্বারী আবু বকর ইবন 'আইয়াশ রাহimahuallah জাহমিয়্যাহ ফের্কার লোকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, إِنَّمَا يُحَاوِلُونَ الْجُهْمِيَّةُ أَنْ لَيْسَ فِي السَّمَاءِ شَيْءٌ "জাহমিয়্যারা তো কেবল চায় এটা সাব্যস্ত করতে যে, উপরে কিছু নেই”. (৩৮২) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলাকে উপরে নয় বলা এটা জাহমিয়্যাদের কাজ। আজও যারা আল্লাহ তা'আলাকে 'আরশের উপর মানবে না তারা জাহমিয়্যাদের আকীদাহ পোষণকারী, যার বিরুদ্ধে আমাদের সালাফে সালেহীন সোচ্ছার ছিলেন।
ইমামদের মধ্যে অনেককেই একই বক্তব্য দিতে আমরা দেখেছি, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন,
১- আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী।
২- হাম্মাদ ইবন যায়েদ।
৩- ওয়াহাব ইবন জারীর।
৪- 'আব্বاد ইবনুল 'আওয়াম।
৫- আব্দুর রহমান ইবন মাহদী।
৬- ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আল-কাত্তান।
অনুরূপ শব্দে বলেছেন,
৭- জরীর ইবন আব্দুল হামীদ আদ-দ্বাব্বী।
৮- আবু মা'মার ইসমা'ঈل ইবন ইবরাহীম আল-ক্বাত্বী'য়ী আল-হুযালী.
টিকাঃ
৩৮২. আল-খাল্লাল, আস-সুন্নah, ৫/১২৩, নং ১৭৭৬।
📄 ইমাম ওকী‘ ইবনুল জাররাহ (১৯৬ হিজরী)
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ, যিনি ইমাম শাফেয়ীর ও ইমাম আহমাদের উস্তاد, তিনি বলেন, لَا تَسْتَخِفُوا بِقَوْلِهِمُ الْقُرْآنُ خَلُوقٌ، فَإِنَّهُ مِنْ شَرِّ قَوْلِهِمْ، وَإِنَّمَا يَذْهَبُونَ إِلَى التَّعْطِيلِ. "তোমরা জাহমিয়্যাদের কথা 'কুরআন সৃষ্ট বস্তু' এটাকে হাল্কাভাবে নিও না, কারণ এটি তাদের নিকৃষ্ট বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; তারা মৌলিকভাবে যে মতের দিকে আহ্বান করে, তা হচ্ছে আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা.”(৩৮৩) এর অর্থ, ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ রাহimahuallah বুঝাতে চাচ্ছেন, জাহমিয়্যাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা। আল্লাহ তা'আলার বাণীকে সৃষ্ট বলার উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর সত্তা ও কর্মগত যাবতীয় গুণাবলি থেকে বিমুক্ত করা। তারা শুধু কুরআন নয় বরং আল্লাহর সকল গুণ, বিশেষ করে কর্মগত গুণ যা ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ক্রোধান্বিত হওয়া ইত্যাদি অস্বীকার করা. (৩৮৪)
অপর বর্ণনায় ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ওকী' রাহimahuallah ইসরাঈল রাহimahuallah থেকে, সে হাদীসের ভাষ্য ছিল, أدركنا الأعمش وسفيان، يحدثوننا بهذه الأحاديث ولا ينكرونها "যখন রাব্বুল আলামীন তাঁর কুরসীতে বসবেন" তখন উপস্থিত এক লোক কেঁপে উঠল, এতে ওকী' রাহimahuallah রাগ করলেন, তিনি বললেন, আমরা আ'মাশ, সুফইয়ানকে পেয়েছি, তারা এসব হাদীস আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন, তারা এগুলোকে খারাপ মনে করতেন না.” (৩৮৫)
টিকাঃ
৩৮৩. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৪।
৩৮৪. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৪০; আল-খাল্লাল, আস-সুন্নah (৭/৩২-৩৩); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/৬০৯-৬১০)।
৩৮৫. যাহাবী, আল-আরش ২/২৫৩, অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 ইমাম আবদুর রাহমান ইবন মাহদী (১৯৮ হিজরী)
ইমাম আবদুর রহমান ইবন মাহদী এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার সম্পর্কে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হচ্ছেন বর্তমান সময়ের হাফেয, যদি কা'বার রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শপথ করতে চাই তবে সে শপথ করে বলতে পারব যে, আমি আবদুর রহমান ইবন মাহদীর চেয়ে বড় জ্ঞানী কাউকে দেখিনি. (৩৮৬) এ মহান ব্যক্তিত্ব বলেন, إن الجهمية أرادوا أن ينفوا أن يكون الله كلم موسى، وأن يكون على العرش، نرى أن يستتابوا، فإن تابوا وإلا ضربت أعناقهم. “জাহমিয়্যাহ ফেরকার লোকেরা অস্বীকার করছে যে, আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন। আমি মনে করি তাদেরকে তাওবাহ করাতে হবে, যদি তাওবা করে তো ভালো, নতুবা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতে হবে.”(৩৮৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, «لَيْسَ فِي أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ شَرٌّ مِنْ أَصْحَابِ جَهْمٍ يَدُورُونَ عَلَى أَنْ يَقُولُوا لَيْسَ فِي السَّمَاءِ شَيْءٌ، أَرَى وَاللَّهِ أَلَّا يُنَا كَحُوا وَلَا يُوَارَثُوا» "প্রবৃত্তিপূজারী গোষ্ঠীর মধ্যে জাহমের অনুসারীদের চেয়ে নিকৃষ্ট কেউ নেই, তারা এ কথা বলার দিকে ঘুরে যে, আসমানের উপরে কিছু নেই, আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি, তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না, তাদেরকে ওয়ারিস করা যাবে না.”(৩৮৮)
টিকাঃ
৩৮৬. বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ (১০/২৪৪-২৪৫)।
৩৮৭. বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ১৭; আবদুল্লাহ ইবন আহমاد, আস-সুন্নah, ১৬, বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ৩১৯; যাহাবী, আল-আরश ২/২৫৩-২৫৪। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৩৮৮. ইবন আবী হাতেম, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ; ইবন তাইম্যিাহ, আল-হামাওয়িয়্যাহ পৃ. ৩১; আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد, আস-সুন্নah নং ১৪৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৬৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩৪; অনুরূপ বর্ণনা তাঁর থেকে আরও এসেছে, বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ২৪৯; লালেকাঈ, শারহু ৫০৫।