📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম ফুযাইল ইবন ইয়ায (১৮৭ হিজরী)

📄 ইমাম ফুযাইল ইবন ইয়ায (১৮৭ হিজরী)


ইমাম ফুযাইল ইবন ইয়াদ্ব ইবন মাসঊদ ইবন বিশর, যাকে ('আবেদুল হারামাইন) বলা হতো, তিনি জাহমিয়্যাদের আকীদাহ'র বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তিনি বলেন, إِذَا قَالَ لَكَ جَهْمِيٌّ : أَنَا أَكْفُرُ بِرَبِّ يَزُولُ عَنْ مَكَانِهِ، فَقُلْ : «أَنَا أُؤْمِنُ بِرَبِّ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ». "যদি তোমাকে জাহমী বলে, আমি এমন রবের সাথে কুফুরী করছি যিনি তার স্থান পরিবর্তন করেন, ('আরশের উপর উঠেন বা প্রথম আসমানে নেমে আসেন) তাহলে বল, আমি এমন রবের ওপর ঈমান আনলাম, যিনি যা ইচ্ছা তা করেন.”(৩৭৭) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের কথাকে বাতিল করা যারা আল্লাহর ইচ্ছাকৃত গুণগুলো অস্বীকার করে থাকে। যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, হাঁসা, আশ্চর্য হওয়া, সন্তুষ্ট হওয়া ইত্যাদি। কারণ, যারা এ গুণাবলি অস্বীকার করে তাদের সন্দেহ হচ্ছে, আল্লাহর জন্য স্থান ও স্থান পরিবর্তন বুঝায় এমন কিছু সাব্যস্ত করা যাবে না। ইমাম ফুদ্বাইল ইবন 'ঈয়াদ্ব রাহimahuallah তাদের সুন্দর উত্তর দিয়েছেন.

টিকাঃ
৩৭৭. খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 জরীর ইবন আবদুল হামীদ আদ-যিববী (১৮৮ হিজরী)

📄 জরীর ইবন আবদুল হামীদ আদ-যিববী (১৮৮ হিজরী)


প্রখ্যাত মুহাদ্দিস জরীর ইবন আবদুল হামীদ আদ-দ্বিব্বী রাহimahuallah বলেন, كلام الجهميَّةِ أَوَّلَهُ عَسَلٌ وَآخِرُهُ سُمٌ، وإِنَّما يحاولون أن يقولوا: ليس في السَّمَاءِ إله». “জাহমিয়্যাদের কথার প্রথম অংশে মধু, আর শেষাংশে বিষ; তারা এটা বলার চেষ্টায় থাকে যে, ইলাহ উপরে নয়.”(৩৭৮)

টিকাঃ
৩৭৮. যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ৯৮৫; উত্তম সনদে; আল-আরश, ২/২৪৩, অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী (১৮৯ হিজরী)

📄 ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী (১৮৯ হিজরী)


ইমাম আবুল হাসান হিবাতুল্লাহ আল-লালেকাঈ বর্ণনা করেন, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী রাহimahuallah যে হাদীসে আল্লাহ কর্তৃক প্রথম আসমানে নেমে আসা সংক্রান্ত হাদীসগুলো ও এ জাতীয় সিফাতের হাদীস সম্পর্কে বলেন, هَذِهِ الْأَحَادِيثُ قَدْ رَوَتْهَا الثَّقَاتُ، فَنَحْنُ نَرْوِيهَا وَنُؤْمِنُ بِهَا وَلَا نُفَسِّرُهَا . “এ হাদীসগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন, সুতরাং আমরা এগুলো বর্ণনা করব, সেগুলোর অর্থের ওপর ঈমান আনব, কিন্তু সেগুলোর ব্যাখ্যা দাঁড় করাবো না.” (৩৭৯)

টিকাঃ
৩৭৯. ইমাম লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ (৩/৪৮০); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/১৮৬); যাহাবী, আল-আরবাঈن নং ৫৬; আল-'উলু, ১৫৯; আল-আরश (২/২৫۰) অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শুজা‘ ইবন আবূ نসর আল-বালখী (১৯০ হিজরী)

📄 শুজা‘ ইবন আবূ نসর আল-বালখী (১৯০ হিজরী)


আবু নু'আইম (শুজা' ইবন আবু নসর) বালখী বলেন- তিনি জাহম ইবন সফওয়ানের সমকালীন ছিলেন। জাহমের এক সাথী ছিল। জাহম তাকে সম্মান করতো ও অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতো। একদিন সে তাকে পাকড়াও করার জন্য চিৎকার করে উঠলো এবং তার দিকে দ্রুতগতিতে গেলো ও তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আবু নু'আইম বলেন, আমি তাকে বললাম, সে তো আপনার সম্মান করতো। সে বলল, তার কাছ থেকে এমন কিছু কথা বের হয়েছে, যা সহ্য করার নয়। সে সূরা ত্বা-হা পড়ছিলো, সে সময় মুসহাফ তার কোলে ছিলো। সে এই আয়াতে "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" এসে পৌঁছালে বললো: আমি কোনো উপায় পেলে এই আয়াতকে মুসহাফ থেকে মিটিয়ে দিতাম। আমি অনেক কষ্টে সেটা সহ্য করলাম। তারপর সে আবার আয়াত পড়তে লাগলো, ইতোমধ্যে এক আয়াত পড়ে বলতে লাগলো, "মুহাম্মاد কতই না চালাক লোক যখন সে এটা বলেছে” (না'উযুবিল্লাহ)। তারপর আবার সে পড়া চালিয়ে গেল, "যখন সে পড়ছিল 'ত্বা-সীন-মীম' সূরা ক্বাসাস, আর মুসহাফ তার কোলেই ছিল, ইতোমধ্যে যখন মূসা 'আলাইহিস সালামের কাহিনী এসে পড়লো, তখন সে মুসহাফকে হাত ও পা দিয়ে ঠেলে দিলো এবং বললো এটা কী? তার আলোচনা করা হয়েছে অথচ আলোচনা পূর্ণ করা হয়নি. (৩৮০)
ইমাম যাহাবী বলেন, এ ঘটনা এভাবে ইবন আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে সাগানী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আইয়্যুব থেকে। আবু নু'আইমের নাম শুজা' ইবন আবু নসর. (৩৮১)

টিকাঃ
৩৮০. অর্থাৎ তার অভিযোগ হচ্ছে আল্লাহ কেন মূসা 'আলাইহিস সালামের বর্ণনা এক জায়গায় পরিপূর্ণ করে দেয়নি। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসা হলো কেন? নাউযুবিল্লাহ, সে বুঝতে পারেনি যে, কুরআন ইতিহাস বা গল্প গ্রন্থ নয়। প্রয়োজন অনুসারে আল্লাহ তার বাণীকে সাজিয়েছেন, তার মতো ব্যক্তির সেটার ব্যাপারে কথা বলার কিছু নেই। দেখুন, তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী, ২৭۰২। দেখুন, যাহাবী, আল-আরش এর টীকা, পৃ. ১৪৪। অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৩৮১. সহীহ বুখারী, খলকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ২০, নং ৫৫; 'আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নah (১/১৬৮), নং ১৯۰; ইবন বাত্তাহ, আল ইبانah (২/৯২-৯৩), নং ৩২২-৩২৩; যাহাবী, আল-'উলু, ১১৪; আলবানী এর সনদ সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৬৩; যাহাবী আল-আরش ২/২৫৬ অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00