📄 ইমাম আবূ ইউসুফ ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম, আবূ হানীফার ছাত্র (১৮২ হিজরী)
আবু হানীফা'র ছাত্র আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশর আল-মারীসীকে তাওবা করানোর ঘটনা প্রসিদ্ধ, যখন সে আল্লাহর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করে। ঘটনাটি হচ্ছে, বিশর ইবন ওয়ালীদ ইমাম আবু ইউসুফের কাছে এসে বলেন, تنهاني عن الكلام وبشر المريسي، وعلي الأحول، وفلان يتكلمون، فقال: وما يقولون؟ قال: يقولون إن الله في كل مكان. فبعث أبو يوسف فقال: علي بهم، فانتهوا إليهم، وقد قام بشر ، فجيء بعلي الأحول والشيخ - يعني الآخر ، فنظر أبو يوسف إلى الشيخ وقال: لو أن فيك موضع أدب لأوجعتك، فأمر به إلى الحبس، وضرب عليا الأحول وطوف به. "আপনি আমাকে কালামশাস্ত্র থেকে নিষেধ করেছেন, অথচ বিশর আল-মারীসী, আলী আল-আহওয়াল ও অমুক কালামশাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বললেন: তারা কী বলে? তিনি বললেন, তারা বলে, আল্লাহ সর্বত্র। আবু ইউসুফ লোক পাঠিয়ে বললেন: তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারা তাদের কাছে পৌঁছলো; কিন্তু বিশর আগেই সেখান থেকে চলে যায়। ফলে আলী আল-আহওয়াল ও অন্য এক বৃদ্ধকে ধরে আনা হয়। আবু ইউসুফ বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমার মাঝে আদব দেয়ার জায়গা থাকলে মারতাম। ফলে তাকে বন্দি করার আদেশ দেন। আর আলী আল-আহওয়ালকে প্রহার ও প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনা আবদুর রহমান ইবন আবী হাতিম ও অন্যান্যরা তাদের গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন. (৩৭৫)
টিকাঃ
৩৭৫. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১১২; আল-আরश, ২/২৬৪, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২২২।
📄 ‘আবাদা ইবনুল ‘আওয়ায ইবন ‘উমার আল-কিন্দাবী (১৮৫ হিজরী)
'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়ام ইবন 'উমার আল-কিলাবী রাহিমahullah, যার থেকে বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ সহ প্রায় সকল মুহাদ্দিস হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, كَلَّمْتُ بِشْرَ الْمُرِيسِيَّ وَأَصْحَابَ بِشْرٍ فَرَأَيْتُ آخِرَ كَلَامِهِمْ يَنْتَهِي أَنْ يَقُولُوا لَيْسَ فِي السَّمَاءِ شَيْءٌ، أرى والله أن لا يناكحوا ولا يوارثوا». "আমি বিশর আল-মারিসী ও বিশরের সাথীদের সাথে কথা বলে দেখেছি, তাতে আমি দেখেছি, তাদের সর্বশেষ কথা এটায় গিয়ে শেষ হয় যে, আসমানের উপর কিছু নেই, আমার মত হচ্ছে, আল্লাহর শপথ, তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন করা যাবে না, তাদেরকে ওয়ারিস বানানো যাবে না.”(৩৭৬)
টিকাঃ
৩৭৬. আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নah পৃ. ৩২; খত্বীব, তারীখে বাগদাদ (৭/৫৮); খাল্লাল, আস-সুন্নah, নং ১৭৫৩।
📄 ইমাম ফুযাইল ইবন ইয়ায (১৮৭ হিজরী)
ইমাম ফুযাইল ইবন ইয়াদ্ব ইবন মাসঊদ ইবন বিশর, যাকে ('আবেদুল হারামাইন) বলা হতো, তিনি জাহমিয়্যাদের আকীদাহ'র বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তিনি বলেন, إِذَا قَالَ لَكَ جَهْمِيٌّ : أَنَا أَكْفُرُ بِرَبِّ يَزُولُ عَنْ مَكَانِهِ، فَقُلْ : «أَنَا أُؤْمِنُ بِرَبِّ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ». "যদি তোমাকে জাহমী বলে, আমি এমন রবের সাথে কুফুরী করছি যিনি তার স্থান পরিবর্তন করেন, ('আরশের উপর উঠেন বা প্রথম আসমানে নেমে আসেন) তাহলে বল, আমি এমন রবের ওপর ঈমান আনলাম, যিনি যা ইচ্ছা তা করেন.”(৩৭৭) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের কথাকে বাতিল করা যারা আল্লাহর ইচ্ছাকৃত গুণগুলো অস্বীকার করে থাকে। যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, হাঁসা, আশ্চর্য হওয়া, সন্তুষ্ট হওয়া ইত্যাদি। কারণ, যারা এ গুণাবলি অস্বীকার করে তাদের সন্দেহ হচ্ছে, আল্লাহর জন্য স্থান ও স্থান পরিবর্তন বুঝায় এমন কিছু সাব্যস্ত করা যাবে না। ইমাম ফুদ্বাইল ইবন 'ঈয়াদ্ব রাহimahuallah তাদের সুন্দর উত্তর দিয়েছেন.
টিকাঃ
৩৭৭. খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৩৩।
📄 জরীর ইবন আবদুল হামীদ আদ-যিববী (১৮৮ হিজরী)
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস জরীর ইবন আবদুল হামীদ আদ-দ্বিব্বী রাহimahuallah বলেন, كلام الجهميَّةِ أَوَّلَهُ عَسَلٌ وَآخِرُهُ سُمٌ، وإِنَّما يحاولون أن يقولوا: ليس في السَّمَاءِ إله». “জাহমিয়্যাদের কথার প্রথম অংশে মধু, আর শেষাংশে বিষ; তারা এটা বলার চেষ্টায় থাকে যে, ইলাহ উপরে নয়.”(৩৭৮)
টিকাঃ
৩৭৮. যাহাবী, আল-'উলূ, পৃ. ৯৮৫; উত্তম সনদে; আল-আরश, ২/২৪৩, অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ।