📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হাম্মাদ ইবন সালামাহ ইবন দীনার (১৬৭ হিজরী)

📄 হাম্মাদ ইবন সালামাহ ইবন দীনার (১৬৭ হিজরী)


ইমাম হাম্মাদ ইবন সালামাহ ইবন দীনার ও একাধিক ইমামের ব্যাপারে ইমাম আবু নাসর আস-সাজযী তার ইবানাতে বর্ণনা করেন, وأئمتنا كسفيان ومالك والحمادين حماد بن سلمة وحماد بن زيد وابن عيينة والفضيل وابن المبارك، وأحمد بن حنبل وإسحاق، متفقون على أن الله سبحانه فوق العرش بذاته، وعلمه بكل مكان، وأنه ينزل إلى السماء الدنيا، وأنه يغضب ويرضى، ويتكلم بما يشاء». "আর আমাদের ইমামগণ, যেমন, সুফইয়ান, মালিক, দুই হাম্মাদ, (হাম্মাদ ইবন সালামাহ ও হাম্মাদ ইবন যায়েদ) ইবন 'উয়াইনাহ, ফুযাইল, ইবনুল মুবারক, আহমاد ইবন হাম্বল, ইসহাক্ক, তারা সবাই একমত যে, আল্লাহ তা'আলা সত্তাগতভাবে তাঁর 'আরশের উপর, তাঁর জ্ঞান সকল জায়গায়। আর তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, তিনি ক্রোধান্বিত হন, খুশী হন, যা ইচ্ছা তা কথা বলেন.” (৩৫৮) তাছাড়া আবদুল আযীয ইবনুল মুগীরাহ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাম্মاد ইবন সালামah "আল্লাহ তা'আলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন" এ হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন, من رأيتموه ينكر هذا فاتهموه. 'যখন তোমরা দেখতে পাবে যে কেউ এটাকে অস্বীকার করছে তখনই তোমরা তার ব্যাপারে সন্দেহ করবে.' আবু মুহাম্মাদ আল-আসসাল তা বর্ণনা করেন. (৩৫৯)

টিকাঃ
৩৫৮. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/৬৫৬); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৫/১৯০)।
৩৫৯. ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তিওয়া 'আলাল 'আরশি পৃ. ৫৩; যাহাবী, আল-আরश, ২/২৪৬; অনুবাদ, আব্দুল্লাহ মাহমুদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী (১৭০ হিজরী)

📄 খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী (১৭০ হিজরী)


* খলীল ইবন আহমاد আল-ফারাহীদী বলেন, ﴿ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ﴾ এর ব্যাখ্যায় বলেন, ارتفع إلى السماء "আসমানের উপর উঠলেন.” আর এটি আবু 'উমার ইবন আবদুল বার শারহুল মুআত্তাতে বর্ণনা করেন. (৩৬০)
* নম্বর ইবন শুমাইল, যিনি নির্ভরযোগ্য, আরবী ভাষা ও দীনদারীতে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, তিনি বলেন, "আমাকে খলীল বর্ণনা করেছেন, আর খলীল সবার কাছেই প্রসিদ্ধ, তিনি বলেন, আমি আবু রাবী'আহ ইবনুল আ'রাবীর কাছে আসলাম, তাকে আমি যাদের দেখেছি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করি, আমি তার কাছে যখন পৌঁছলাম তখন তিনি ঘরের ছাদে ছিলেন। আমরা তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের জাওয়াব দিলেন এবং আমাদের বললেন, "استووا” এটা শুনে আমরা তো হতভম্ব হয়ে গেলাম, আমরা বুঝতে পারলাম না তিনি কী বললেন, তখন আমাদেরকে তার পার্শ্বে থাকা এক বেদুঈন বললেন, তিনি তোমাদেরকে উপরে উঠতে নির্দেশ দিচ্ছেন. (৩৬১) খলীল বলেন, সেটাই আল্লাহর বাণীর অর্থ যেখানে আল্লাহ বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ ) [فصلت: ١١] "তারপর তিনি আকাশের উপর উঠলেন তখন তা ছিল ধোঁয়া.” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ১১] তারপর আমরা তার কাছে উপরে উঠি.

টিকাঃ
৩৬০. আত-তামহীদ (৭/১৩২)।
৩৬১. আল-মারযেবানী, নূরুল ক্বاب س পৃ. ১০২-১০৩; ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩১-১৩২)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হফ্স ইবন গাইন ইবন সা‘দ আল-মিসরী (১৭৫ হিজরী)

📄 হফ্স ইবন গাইন ইবন সা‘দ আল-মিসরী (১৭৫ হিজরী)


ইমাম লাইস ইবন সা'দ আল-মিসরী তৎকালীন সময়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সম্পর্কে এটা প্রসিদ্ধ যে, তিনি ইমাম মালিক রাহিমahullah থেকেও বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু তার ছাত্ররা তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি ও তাঁর মতো ইমামগণ আল্লাহর এসব সিফাত সম্পর্কে যা বলেছেন তা থেকে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক 'আরশের উপর উঠা ও সেখানে অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, নাসায়ী এর হাদীসসমূহের বর্ণনাকারী ইমাম ওয়ালীদ ইবন মুসলিম ইবন শিহাব আল-আম্বরী বলেন, سَأَلَتِ الْأَوْزَاعِي وَمَالك بن أنس وسُفْيَانِ الثَّوْرِيِّ وَاللَّيْث بن سعد عَن الْأَحَادِيثِ الَّتِي فِيهَا الصِّفَات فكلهم قَالُوا لي أمروها كَمَا جَاءَتْ بِلَا تَفْسِير. "আমি আওযা'ঈ, মালিক ইবন আনাস, সুফইয়ান আস-সাওরী ও লাইস ইবন সা'দকে যেসব হাদীসে সিফাত বা আল্লাহর গুণ এসেছে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তারা সবাই আমাকে বলে, এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে যেতে দাও, কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়া.”(৩৬২) উল্লেখ্য এখানে ব্যাখ্যা ছাড়া অর্থই হচ্ছে ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা ছাড়া। যার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই পরবর্তী বর্ণনায়। কারণ অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন, وقال الوليد بن مسلم: سألت الأوزاعي، ومالك بن أنس، وسفيان الثوري، والليث بن سعد، عن هذه الأحاديث التي فيها الصفة؟ فقالوا: أمروها كما جاءت بلا كيف. "ওয়ালিদ ইবনুল মুসলিম বলেন, আমি আওযা'ঈ, মালিক ইবন আনাস, সুফইয়ান আস-সাওরী ও লাইস ইবন সা'দকে যেসব হাদীসে সিফাত বা আল্লাহর গুণ এসেছে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তারা সবাই আমাকে বলে, এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে যেতে দাও, কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ছাড়াই.” (৩৬৩) তাছাড়া অপর বর্ণনায় ইমাম দারাকুতনী বলেছেন, ইমাম ওয়ালীদ বলেছেন, আমাকে আওযা'ঈ, মালিক ইবন আনাস, সুফইয়ান ইবন সা'ঈদ আস-সাওরী, লাইس ইবন সা'দ বলেছেন, أَمْضِهَا بِلَا كَيْفَ». "এগুলোকে ধরন নির্ধারণ ছাড়া মেনে নাও বা যেতে দাও.” (৩৬৪) এ দু'টি বর্ণনা পূর্বের বর্ণনার ব্যাখ্যার বিষয়টি কী তা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এর অর্থ হচ্ছে 'ধরন' সম্পর্কে প্রশ্ন না করা। সুতরাং আর কোনো জাহমিয়‍্যাহ আকীদাহ পোষণকারীর জন্য 'তাফসীর' শব্দটিকে অর্থ করার উপর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং যেখানে যেখানে সালাফে সালেহীন 'তাফসীর করবো না' বলেছেন, সেটার অর্থই হবে, ধরন নির্ধারণ করবো না। অর্থ করবো না, এটা তারা বলেননি। কারণ অর্থ না করা আর জাহমিয়্যাদের কথা একই কথা.

টিকাঃ
৩৬২. যাহাবী, আল-'উলু, নং ৩৮০।
৩৬৩. যাহাবী, আল-'আরশ (২/২৫১); নং ১৭২, অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৩৬৪. দারাকুতনী, আস-সিফাত: নং ৬৭।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম মালিক ইবন আনাস (১৭৯ হিজরী)

📄 ইমাম মালিক ইবন আনাস (১৭৯ হিজরী)


জা'ফার ইবন আবদুল্লাহ বলেন, এক লোক ইমাম মালিক ইবন আনাস এর কাছে এসে বললেন, يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] كَيْفَ اسْتَوَى قَالَ : فَمَا رَأَيْتُ مَالِكًا وَجَدَ مِنْ شَيْءٍ كَمَوْجِدَتِهِ مِنْ مَقَالَتِهِ وَعَلَاهُ الرُّحَضَاءُ يَعْنِي الْعَرَقَ قَالَ: وَأَطْرَقَ الْقَوْمُ وَجَعَلُوا يَنتَظِرُونَ مَا يَأْتِي مِنْهُ فِيهِ قَالَ: فَسُرِّيَ عَنْ مَالِكٍ فَقَالَ: الْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُولٍ وَالاسْتِوَاءُ مِنْهُ غَيْرُ مَجْهُولٍ وَالْإِيمَانُ بِهِ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ ضَالًا وَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ 'হে আবু আব্দিল্লাহ, (সুম্মা ইস্তাওয়া 'আলাল 'আরশ) তিনি কীভাবে ইস্তাওয়া করলেন? জা'ফার ইবন আবদুল্লাহ বলেন, আমি ইমাম মালিককে কোনো কথায় এত কষ্ট পেতে দেখিনি যে কষ্ট তিনি এ কথার দ্বারা পেয়েছিলেন। এমনকি তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। উপস্থিত সবাই মাথা নিচু করে রাখলো। জা'ফর ইবন আবদুল্লাহ বলেন, এরপর ইমাম মালিক এর অবস্থা স্বাভাবিক হয়, তখন তিনি বলেন, “ধরন তো বিবেকের যুক্তি ধারণ করতে পারে না, তাঁর ইস্তেওয়া ('আরশের উপর উঠা)র বিষয়টি অজানা নয়। তার ওপর ঈমান আনা ফরয আর সেটা (ধরন) সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত.” আমার তো আশঙ্কা হচ্ছে তুমি পথভ্রষ্ট কেউ হবে। তারপর তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ হলো, ফলে তাকে বের করে দেয়া হলো.”(৩৬৫)
অপর বর্ণনায় এসেছে, আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন সুরাইজ ইবনুন নু'মান, তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন নাফে', তিনি বলেন, আমাদেরকে মালিক বলেছেন, اللهُ فِي السَّمَاءِ، وَعِلْمُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ لَا يَخْلُو مِنْهُ شَيْءٌ». "আল্লাহ তা'আলা সর্বোপরে, আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায়, কোনো স্থান তাঁর জ্ঞানের আওতার বাইরে নয়.”(৩৬৬)

টিকাঃ
৩৬৫. আল-আজুররী, আশ-শরী'আহ নং ৭২০; লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, নং ৬৬৪।
৩৬৬. হারব ইবন ইসমা'ঈل আল-কিরমানী, আস-সুন্নাহ, পৃ. ১৮৯, নং ৩৩৯; অনুরূপ বর্ণনা আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ নং ১১, ১৯৯; আজুররী, আশ-শরী'আহ: নং ৭২০; যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১০১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00