📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হাসান বসরী (১১০ হিজরী)

📄 হাসান বসরী (১১০ হিজরী)


প্রখ্যাত তাবে'য়ী হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সূরা আল-বাকারার ২৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ يقول: ارتفع. "তারপর তিনি আসমানের উপর ইস্তেওয়া করলে, তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, উপরে উঠলেন.”(৩২৬) অনুরূপভাবে তিনি ইসরাফীল 'আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি বলেছেন, যিনি 'আরশের নিচে মাথা রেখে আছেন। হাসান বসরী রাহিমahullah বলেন, ليس شيء عند ربك من الخلق أقرب إليه من إسرافيل، وبينه وبين ربه سبعة حُجب، كل حجاب مسيرة خمسمائة عام، وإسرافيل دون هؤلاء، ورأسه تحت العرش ورجلاه في تخوم السابعة». "তোমার রবের সবচেয়ে নিকটে আর কোনো সৃষ্টি নেই। তার ও তার রবের মাঝে সাতটি পর্দা। প্রত্যেক পর্দার দূরত্ব পাঁচশত বছরের, আর ইসরাফীল তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটে, তার মাথা 'আরশের নিচে, তার দু' পা সপ্তম যমীনের সীমানায়." (৩২৭)
তাছাড়া ইমাম ইবন কুদামাহ আল-মাকদেসীও হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণনা করেন, যাতে তিনি ইউনুস 'আলাইহিস সালামের দো'আ বর্ণনা করেছেন, যেখানে আল্লাহ তা'আলার উপরে অবস্থান করার কথাটি বর্ণিত হয়েছে। (৩২৮)

টিকাঃ
৩২৬. ইবন আবী হাতেম, আত-তাফসীর (১/৭৫), (৬/১৯২৫)।
৩২৭. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১৬১, ১৬২, নং ৭০।
৩২৮. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, ৫৯; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া আলাল 'আরشي, পৃ. ৪৫

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 কাতাদাহ ইবন দি‘আমাহ আস-সাদূসী (১১৭ হিজরী)

📄 কাতাদাহ ইবন দি‘আমাহ আস-সাদূসী (১১৭ হিজরী)


• ক্বাতাদাহ ইবনুন নু'মান আস-সাদৃসী রাহিমahullah নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ اليوم السابع. "আসমান ও যমীন তিনি ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন' আর তা হচ্ছে সপ্তম দিনে.”(৩২৯)
অপর বর্ণনায় সূরা আয-যুখরুফের ৮৪ নং আয়াত وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الْأَرْضِ إِلَنَّ এর তাফসীরে বলেন, يُعْبَدُ فِي السَّمَاءِ، وَيُعْبَدُ فِي الْأَرْضِ» "আসমানেও তাঁর ইবাদাত করা হয়, আর যমীনেও তাঁর ইবাদাত করা হয়.” (৩৩০) বস্তুত এর মাধ্যমে তিনি সেসব লোকদের ভুল বুঝার অবসান ঘটালেন যারা এ আয়াত দিয়ে আল্লাহ তা'আলার আসমানের উপর থাকাকে অস্বীকার করে।
• অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, قالت بنو إسرائيل: يا رب أنت في السماء ونحن في الأرض، فكيف لنا أن نعرف رضاك وغضبك؟ قال: إذا رضيت عنكم استعملت عليكم خياركم، وإذا غضبت عليكم استعملت عليكم شراركم. "বনী ইসরাঈل তথা ইয়াকূব 'আলাইহিস সালামের বংশধররা বলেছিল: হে রব, আপনি আসমানের উপর আর আমরা যমীনের উপর, কীভাবে আমরা জানতে পারব আপনার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি? আল্লাহ বলেন, আমি যখন তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবো তখন তোমাদের ওপর তোমাদের উত্তম ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল করি। আর যখন তোমাদের ওপর ক্রোধান্বিত হই, তখন তোমাদের ওপর তোমাদের নিকৃষ্টতম লোকদেরকে দায়িত্বশীল করি.”(৩৩১)

টিকাঃ
৩২৯. যাহাবী, আল-'আরশ (২/৪৫০)।
৩৩০. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৪৩; ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৫/১০৪); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত: (২/৩৪৩)।
৩৩১. আহমাদ, আয-যুহদ পৃ ৩৩৭; দারেমী, আর-রাদ্দু আলা... পৃ. ১০৬; যাহাবী, আল-উলু পৃ. ৯৬; আল- আরবা'ঈন ফী সিফাতি... পৃ. ৫৮; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ... পৃ. ৪২।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 সায়েত আল-শুনানী (১১৭ হিজরী)

📄 সায়েত আল-শুনানী (১১৭ হিজরী)


প্রখ্যাত তাবে'য়ী সাবেত আল-বুনানী রাহিমahullah বলেন, كان داود عليه السلام يطيل الصلاة، ثم يركع، ثم يرفع رأسه إلى السماء ثم يقول: إليك رفعت رأسي، نظر العبيد إلى أربابها، يا ساكن السماء. "দাউদ 'আলাইহিস সালাম লম্বা সময় সালাত আদায় করতেন, তারপর রুকূ করতেন, তারপর আসমানের দিকে মাথা উঠিয়ে বলতেন, আপনার দিকেই মাথা উঠাচ্ছি, দাস কর্তৃক তাদের মনিবের দিকে তাকানোর মতো, হে আসমানের উপরে অবস্থানকারী.”(৩৩২)
তাছাড়া আমরা যদি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করি তো দেখতে পাব যে, এ মনীষী ছিলেন আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা ও 'আরশের উপর থাকা সংক্রান্ত বহু হাদীসের বর্ণনাকারী, যা তার আকীদাহ ও মানহাজকে আমাদের নিকট স্পষ্ট করে দেয়.

টিকাঃ
৩৩২. আহমاد, আয-যুহদ, পৃ. ১১১; আল-লালেকা'ঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি... ৩/৪০০; ইবন কুদামاه, ইসবাতু সিফাতিল উলু পৃ. ৫৫; আল-আরبا'ঈন ফী সিفاতি... পৃ. ৫৮।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মালেক ইবন দীনার রাহিমাহুল্লাহ (১২৭ হিজরী)

📄 মালেক ইবন দীনার রাহিমাহুল্লাহ (১২৭ হিজরী)


মালেক ইবন দীনার রাহimahuallah বলতেন, إِنَّ الصَّدِّيقِينَ إِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنُ طَرِبَتْ قُلُوبُهُمْ إِلَى الْآخِرَةِ» ... ثُمَّ قَالَ: «خُذُوا»، [وفي رواية: جُدُّوا] فَيَقْرَأُ وَيَقُولُ: «اسْمَعُوا إِلَى قَوْلِ الصَّادِقِ مِنْ فَوْقِ عَرْشِهِ» “যারা সিদ্দীক (সদা আল্লাহর বাণীতে সত্যায়নকারী) তাদের কাছে যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তাদের অন্তর আখেরাতের প্রতি খুশিতে অগ্রসরমান হয়... তারপর তিনি বলেন, 'গ্রহণ কর, অপর বর্ণনায়, দান গ্রহণ কর, তারপর তিনি কুরআন পড়তেন এবং বলতেন, 'সত্যবাদীর কথা শোন, যিনি তাঁর 'আরশের উপর থেকে (বলছেন)." (৩৩৩)

টিকাঃ
৩৩৩. আবু নু'আইম, আল-হিলইয়াহ (২/৩৫৮); যাহাবী, আল-'আরش (২/১৯৯); আল-উলু, ১৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00