📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ওরাইত ইবন ‘উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ (১০৪ হিজরী)

📄 ওরাইত ইবন ‘উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ (১০৪ হিজরী)


প্রখ্যাত তাবে'য়ী শুরাইহ ইবন 'উবাইদ আল-হাদ্বরামী, আল-হিমসী যখন দো'আ করতেন তখন বলতেন, ارتفع إِلَيْكَ ثُغَاء التَّسْبِيحِ وصعد إِلَيْك وقار التَّقْدِيس سُبْحَانَكَ ذِي الجبروت بيدك الملك والملكوت والمفاتيح والمقادير». “আপনার দিকে উত্থিত হচ্ছে তাসবীহের আওয়াজ, আপনার দিকেই আরোহন করে যাচ্ছে পবিত্রতা প্রদর্শনের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান, আপনার কতই না পবিত্রতা, অভাব পূরণকারী, আপনার হাতেই যাবতীয় রাজত্ব, মালিকানা, চাবিকাঠি ও নির্ধারণ.” (৩২৪)

টিকাঃ
৩২৪. আবুশ শাইখ, আল-'আযামah (১/১৯); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ১৭০; যাহাবী, আল-উলু ১২৯।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ ঈসা ইয়াহইয়া ইবন রাফে‘ আস সাকাফী (১১০ হিজরীর পূর্বে)

📄 আবূ ঈসা ইয়াহইয়া ইবন রাফে‘ আস সাকাফী (১১০ হিজরীর পূর্বে)


আবুশ শাইখ আল-'আযামাহ গ্রন্থে বলেন, আমাদের ওয়ালীদ ইবন আবান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নু'আইম ইবন হাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি ইসমা'ঈল ইবন খালিদ থেকে, তিনি আবু 'ঈসা রাহিমahullah থেকে, তিনি বলেন, إن ملكاً لما استوى الرب على كرسيه سجد، فلم يرفع رأسه ولا يرفعه حتى تقوم الساعة، فيقول يوم القيامة: لم أعبدك حق عبادتك. “রব যখন তাঁর কুরসীর উপরে উঠেছিলেন, তখন এক ফিরিশতা তাঁকে সাজদাহ করেছিলেন। তিনি এখনো মাথা উঠাননি, কিয়ামত পর্যন্ত উঠাবেনও না। অতঃপর কিয়ামতের দিন বলবেন: আমি আপনার যথাযথভাবে ইবাদাত করতে পারিনি.” ইমাম যাহাবী বলেন, এই সনদের সকল বর্ণনাকারী ইমাম. (৩২৫)

টিকাঃ
৩২৫. আবুশ শাইখ, আল-'আযামah (২/৬৩৯), হা/২৫৪, ৫১৬; ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, পৃ. ৭৫, নং ২২৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ৯৫; আল-আরश ২/২১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুযুশ ২৬১; সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (৩/৯৬)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হাসান বসরী (১১০ হিজরী)

📄 হাসান বসরী (১১০ হিজরী)


প্রখ্যাত তাবে'য়ী হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সূরা আল-বাকারার ২৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ يقول: ارتفع. "তারপর তিনি আসমানের উপর ইস্তেওয়া করলে, তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, উপরে উঠলেন.”(৩২৬) অনুরূপভাবে তিনি ইসরাফীল 'আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি বলেছেন, যিনি 'আরশের নিচে মাথা রেখে আছেন। হাসান বসরী রাহিমahullah বলেন, ليس شيء عند ربك من الخلق أقرب إليه من إسرافيل، وبينه وبين ربه سبعة حُجب، كل حجاب مسيرة خمسمائة عام، وإسرافيل دون هؤلاء، ورأسه تحت العرش ورجلاه في تخوم السابعة». "তোমার রবের সবচেয়ে নিকটে আর কোনো সৃষ্টি নেই। তার ও তার রবের মাঝে সাতটি পর্দা। প্রত্যেক পর্দার দূরত্ব পাঁচশত বছরের, আর ইসরাফীল তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটে, তার মাথা 'আরশের নিচে, তার দু' পা সপ্তম যমীনের সীমানায়." (৩২৭)
তাছাড়া ইমাম ইবন কুদামাহ আল-মাকদেসীও হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণনা করেন, যাতে তিনি ইউনুস 'আলাইহিস সালামের দো'আ বর্ণনা করেছেন, যেখানে আল্লাহ তা'আলার উপরে অবস্থান করার কথাটি বর্ণিত হয়েছে। (৩২৮)

টিকাঃ
৩২৬. ইবন আবী হাতেম, আত-তাফসীর (১/৭৫), (৬/১৯২৫)।
৩২৭. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১৬১, ১৬২, নং ৭০।
৩২৮. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, ৫৯; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া আলাল 'আরشي, পৃ. ৪৫

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 কাতাদাহ ইবন দি‘আমাহ আস-সাদূসী (১১৭ হিজরী)

📄 কাতাদাহ ইবন দি‘আমাহ আস-সাদূসী (১১৭ হিজরী)


• ক্বাতাদাহ ইবনুন নু'মান আস-সাদৃসী রাহিমahullah নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ اليوم السابع. "আসমান ও যমীন তিনি ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন' আর তা হচ্ছে সপ্তম দিনে.”(৩২৯)
অপর বর্ণনায় সূরা আয-যুখরুফের ৮৪ নং আয়াত وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الْأَرْضِ إِلَنَّ এর তাফসীরে বলেন, يُعْبَدُ فِي السَّمَاءِ، وَيُعْبَدُ فِي الْأَرْضِ» "আসমানেও তাঁর ইবাদাত করা হয়, আর যমীনেও তাঁর ইবাদাত করা হয়.” (৩৩০) বস্তুত এর মাধ্যমে তিনি সেসব লোকদের ভুল বুঝার অবসান ঘটালেন যারা এ আয়াত দিয়ে আল্লাহ তা'আলার আসমানের উপর থাকাকে অস্বীকার করে।
• অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, قالت بنو إسرائيل: يا رب أنت في السماء ونحن في الأرض، فكيف لنا أن نعرف رضاك وغضبك؟ قال: إذا رضيت عنكم استعملت عليكم خياركم، وإذا غضبت عليكم استعملت عليكم شراركم. "বনী ইসরাঈل তথা ইয়াকূব 'আলাইহিস সালামের বংশধররা বলেছিল: হে রব, আপনি আসমানের উপর আর আমরা যমীনের উপর, কীভাবে আমরা জানতে পারব আপনার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি? আল্লাহ বলেন, আমি যখন তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবো তখন তোমাদের ওপর তোমাদের উত্তম ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল করি। আর যখন তোমাদের ওপর ক্রোধান্বিত হই, তখন তোমাদের ওপর তোমাদের নিকৃষ্টতম লোকদেরকে দায়িত্বশীল করি.”(৩৩১)

টিকাঃ
৩২৯. যাহাবী, আল-'আরশ (২/৪৫০)।
৩৩০. খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৪৩; ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৫/১০৪); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত: (২/৩৪৩)।
৩৩১. আহমাদ, আয-যুহদ পৃ ৩৩৭; দারেমী, আর-রাদ্দু আলা... পৃ. ১০৬; যাহাবী, আল-উলু পৃ. ৯৬; আল- আরবা'ঈন ফী সিফাতি... পৃ. ৫৮; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ... পৃ. ৪২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00