📄 আবূ কিলাবাহ্ আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ আল-জারমী (১০৪ হিজরী)
আবু ক্বিলাবাহ আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ আল-জারমী আল-বসরী রাহিমahullah বলেন, لما لعن الله إبليس وأخرجه من سمواته وأخزاه قال: رب أخزيتني ولعنتني وطردتني من سماواتك وجوارك، وعزتك لأغوين خلقك ما دامت الأرواح في أجسادها، فأجابه الرب تبارك وتعالى فقال: «وعزتي وجلالي وارتفاعي على عرشي لو أن عبدي أذنب حتى ملأ السماء والأرض خطايا، ثم لم يبق من عمره إلا نفس واحد، فندم على ذنوبه لغفرتها، وبدلت سيئاته كلها حسنات». "যখন আল্লাহ তা'আলা ইবলিসকে লা'নত করলেন এবং তাকে তাঁর আসমান থেকে বহিষ্কার করলেন ও অপমানিত করলেন, তখন সে বলল, হে আমার রব, আমাকে অপমান করলেন, আমাকে রহমত থেকে দূর করে দিলেন, আমাকে আপনার আসমানসমূহ ও পড়শিত্ব থেকে তাড়িয়ে দিলেন, আমি আপনার ইয্যতের শপথ করে বলছি, আপনার সৃষ্টিকে আমি পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব, যতক্ষণ তাদের শরীরে রূহ থাকে। তখন রব তাবারকা ওয়া তা'আলা জবাব দিলেন, "আমার ইয্যতের শপথ, মর্যাদার শপথ, 'আরশের উপর উঠার শপথ, আমার বান্দা যদি গোনাহ করে, আর তা আসমান ও যমীন পূর্ণও করে ফেলে, তারপর তার জীবনের কেবল একটি নিঃশ্বাসও বাকী থাকে, তারপর সে তাওবাহ করে, গোনাহের কারণে লজ্জিত হয়, আমি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দিব, আর তার যাবতীয় খারাপ গোনাহ নেক দিয়ে পরিবর্তন করে দিব.” (৩২৩)
টিকাঃ
৩২৩. মা'মার ইবন রাশেد, আল-জামে' (১১/২৭৫), নং ২০৫৩৩; ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়্যাহ (১/৪৫৩)। অনুরূপ বর্ণনা, আহমاد (১৭/৩৩৭), নং ১১২৩৭, আব্দ ইবন হুমাইদ, আল-মুসনাদ, ৯৩০ (আল-মুন্তাখাব); আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, (২/৫৩০), নং ১৩৯৯; বাইহাক্বী আল-আসমা ওয়াস সিফাত, নং ২৬৫; বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ (২/৪১৮), নং ১২৯৩; তবে এটি হাদীস হিসেবেও কোনো কোনো বর্ণনা থাকলেও "আমার 'আরশের উপরে উঠার" এ অংশটুকু মারফু' হাদীস হিসেবে বিশুদ্ধ নয়। বস্তুত এটি আবু কিলাবাহ'র বক্তব্য।
📄 ওরাইত ইবন ‘উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ (১০৪ হিজরী)
প্রখ্যাত তাবে'য়ী শুরাইহ ইবন 'উবাইদ আল-হাদ্বরামী, আল-হিমসী যখন দো'আ করতেন তখন বলতেন, ارتفع إِلَيْكَ ثُغَاء التَّسْبِيحِ وصعد إِلَيْك وقار التَّقْدِيس سُبْحَانَكَ ذِي الجبروت بيدك الملك والملكوت والمفاتيح والمقادير». “আপনার দিকে উত্থিত হচ্ছে তাসবীহের আওয়াজ, আপনার দিকেই আরোহন করে যাচ্ছে পবিত্রতা প্রদর্শনের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান, আপনার কতই না পবিত্রতা, অভাব পূরণকারী, আপনার হাতেই যাবতীয় রাজত্ব, মালিকানা, চাবিকাঠি ও নির্ধারণ.” (৩২৪)
টিকাঃ
৩২৪. আবুশ শাইখ, আল-'আযামah (১/১৯); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ১৭০; যাহাবী, আল-উলু ১২৯।
📄 আবূ ঈসা ইয়াহইয়া ইবন রাফে‘ আস সাকাফী (১১০ হিজরীর পূর্বে)
আবুশ শাইখ আল-'আযামাহ গ্রন্থে বলেন, আমাদের ওয়ালীদ ইবন আবান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নু'আইম ইবন হাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি ইসমা'ঈল ইবন খালিদ থেকে, তিনি আবু 'ঈসা রাহিমahullah থেকে, তিনি বলেন, إن ملكاً لما استوى الرب على كرسيه سجد، فلم يرفع رأسه ولا يرفعه حتى تقوم الساعة، فيقول يوم القيامة: لم أعبدك حق عبادتك. “রব যখন তাঁর কুরসীর উপরে উঠেছিলেন, তখন এক ফিরিশতা তাঁকে সাজদাহ করেছিলেন। তিনি এখনো মাথা উঠাননি, কিয়ামত পর্যন্ত উঠাবেনও না। অতঃপর কিয়ামতের দিন বলবেন: আমি আপনার যথাযথভাবে ইবাদাত করতে পারিনি.” ইমাম যাহাবী বলেন, এই সনদের সকল বর্ণনাকারী ইমাম. (৩২৫)
টিকাঃ
৩২৫. আবুশ শাইখ, আল-'আযামah (২/৬৩৯), হা/২৫৪, ৫১৬; ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, পৃ. ৭৫, নং ২২৪; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ৯৫; আল-আরश ২/২১০, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুযুশ ২৬১; সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (৩/৯৬)।
📄 হাসান বসরী (১১০ হিজরী)
প্রখ্যাত তাবে'য়ী হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি সূরা আল-বাকারার ২৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ يقول: ارتفع. "তারপর তিনি আসমানের উপর ইস্তেওয়া করলে, তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, উপরে উঠলেন.”(৩২৬) অনুরূপভাবে তিনি ইসরাফীল 'আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি বলেছেন, যিনি 'আরশের নিচে মাথা রেখে আছেন। হাসান বসরী রাহিমahullah বলেন, ليس شيء عند ربك من الخلق أقرب إليه من إسرافيل، وبينه وبين ربه سبعة حُجب، كل حجاب مسيرة خمسمائة عام، وإسرافيل دون هؤلاء، ورأسه تحت العرش ورجلاه في تخوم السابعة». "তোমার রবের সবচেয়ে নিকটে আর কোনো সৃষ্টি নেই। তার ও তার রবের মাঝে সাতটি পর্দা। প্রত্যেক পর্দার দূরত্ব পাঁচশত বছরের, আর ইসরাফীল তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটে, তার মাথা 'আরশের নিচে, তার দু' পা সপ্তম যমীনের সীমানায়." (৩২৭)
তাছাড়া ইমাম ইবন কুদামাহ আল-মাকদেসীও হাসান বসরী রাহিমahullah থেকে বর্ণনা করেন, যাতে তিনি ইউনুস 'আলাইহিস সালামের দো'আ বর্ণনা করেছেন, যেখানে আল্লাহ তা'আলার উপরে অবস্থান করার কথাটি বর্ণিত হয়েছে। (৩২৮)
টিকাঃ
৩২৬. ইবন আবী হাতেম, আত-তাফসীর (১/৭৫), (৬/১৯২৫)।
৩২৭. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু, পৃ. ১৬১, ১৬২, নং ৭০।
৩২৮. ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, ৫৯; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া আলাল 'আরشي, পৃ. ৪৫