📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মুজাহিদ ইবন জাবর রাহিমাহুল্লাহ (১০৪ হিজরী)

📄 মুজাহিদ ইবন জাবর রাহিমাহুল্লাহ (১০৪ হিজরী)


• প্রখ্যাত তাবে'য়ী মুজাহিদ বলেছেন, (ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ) এর অর্থ, 'আরশের উপর উঠা। (৩১৬)
• অপর বর্ণনায় তিনি কিয়ামতের আগে মানুষের অপরাধের বেপরোয়া ভাব সম্পর্কে বলেন, هم في هذه الأمة يتراكبون كما تراكب الحمر والأنعام في الطرق، ولا يستحيون الناس في الأرض، ولا يخافون الله في السماء». "তারা এ উম্মতের মধ্যে গাধা ও চতুষ্পদ জন্তুর মতো পরস্পরের উপর উপগত হতে থাকবে, যমীনের উপরস্থিত মানুষ থেকে লজ্জা করবে না, আর আসমানের উপরের আল্লাহর ভয়ও করবে না.” (৩১৭)
• অনুরূপ অপর বর্ণনায় এসেছে, عَن مُجَاهِد وَقَرَّبْنَاهُ نجيا قَالَ بَينَ السَّمَاءِ السَّابِعَة وَبَين الْعَرْشِ سَبْعُونَ ألف حجاب فَمَا زَالَ يقرب مُوسَى حَتَّى كَانَ بَينه وبينه حجاب فَلَما رأى مَكَانَهُ وَسمع صريف الْقَلَم قَالَ رب أَرِنِي أَنظر إِلَيْكَ. هَذَا ثَابِت عَن مُجَاهِد إِمَامٍ التَّفْسِيرِ أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ. "মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে সূরা মারইয়ামের আয়াত (وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا ) “আর আমরা তাকে অন্তরঙ্গ আলাপ করে নৈকট্য প্রদান করেছিলাম, এ আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে যে, সাত আসমান ও 'আরশের মাঝে সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে, মূসা 'আলাইহিস সালাম নৈকট্য অর্জন করছিলেন, এমনকি তাঁর মাঝে ও মূসার মাঝে একটি পর্দার অন্তরাল ছিল, যখন তিনি আল্লাহর অবস্থান দেখলেন, কলমের খসখস শব্দ শুনলেন, তখন বললেন, 'হে রব, আমাকে দেখা দিন'.” (৩১৮)
ইমাম যাহাবী বলেন, এ বর্ণনাটি তাফসীরের ইমাম মুজাহিদ রাহিমahullah থেকে সাব্যস্ত, এটি ইমাম বাইহাক্বী তাঁর আল-আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
* তাছাড়া মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনায় “অচিরেই আপনাকে আল্লাহ মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিবেন” (৩১৯) এর তাফসীরে এসেছে, يجلسه معه على العرش "আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাথে 'আরশে বসাবেন.” (৩২০)

টিকাঃ
৩১৬. বুখারী, আস-সহীহ, কিতাবুত তাওহীদ (৯/২২১); অনুরূপ ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৩)।
৩১৭. যাহাবী, আল-আরশ (২/১৯৬) তবে এটি তাফসীরে তাবারীতে আবু তামীম ইবন মুহাজির থেকে বর্ণিত হয়েছে। (১৫/৭৫)।
৩১৮. ত্বাবারী, জামে'উল বায়ান ১৬/৭১; আবুশ শাইখ, আল-'আযামah, ২/৬৯০, হাদীস নং ১৮০; যাহাবী আল-উলু, ৯৭-৯৮; আল-আরش ২/২১২। শাইখ আলবানী তাঁর মুখতাসারুল উলু গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
৩১৯. সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৭৯।
৩২০. ইবন আবি শাইbah, আল-মুসান্নাফ (১১/৪৩৬), নং ১১৬৯৮; ইবন জারীর আত-ত্বাবারী, আত-তাফসীর (১৫/১৪৫); আবু বকর আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ পৃ. ২৩১, নং ২৪১, ২৪২, ২৪৩, ২৪৪; আল-আজুররী, আশ-শরী'আহ (৪/১৬১৪-১৬১৫), নং ১১০১, ১১০২, ১১০৩, ১১০৪, ১১০৫; যাহাবী, আল-উলু পৃ. ৯৪, ১২৫; আল-'আরশ (২/১৯৪); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ১৯৪। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, এটি ইমাম মুজাহিদ রাহিমahullah থেকে তাফসীর হিসেবে বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত হয়েছে।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল ‘আলীয়া (৯০ বা ১০৬ হিজরী)

📄 আবুল ‘আলীয়া (৯০ বা ১০৬ হিজরী)


প্রখ্যাত তাবে'য়ী আবুল 'আলিয়া বলেছেন, (ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ) এর অর্থ, 'আরশের উপর উঠা। (৩২১)

টিকাঃ
৩২১. বুখারী, আস-সহীহ, কিতাবুত তাওহীদ (৯/২২১)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আদ-যাহহাক ইবন মুযাহিম (১০৫ মতান্তরে ১০৬ বা ১০৬ হিজরী)

📄 আদ-যাহহাক ইবন মুযাহিম (১০৫ মতান্তরে ১০৬ বা ১০৬ হিজরী)


হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানী রাহিমাহুল্লাহ প্রখ্যাত ইমাম মুক্কক্বাতিল ইবন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আদ-দ্বাহহাক ইবন মুযাহিমকে নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, (مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ) قال: هو تبارك وتعالى على العرش، وعلمه معهم». আল্লাহর বাণী, “যখনই তিন জনের গোপন পরামর্শ হবে সেখানে তিনি আল্লাহ চতুর্থ জন, আর যখনই পাঁচ জনের হবে তখন আল্লাহ হবে ষষ্ঠ জন.” আদ-দ্বাহহাক বলেন, "মহান ও বরকতময় আল্লাহ 'আরশের উপরে আর তাঁর ইলম বা জ্ঞান তাদের সাথে রয়েছে.” (৩২২)

টিকাঃ
৩২২. ইমাম হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানী, কিতাবুস সুন্নাহ ১৮৮, নং ৩৩৭; আবদুল্লাহ ইবন আহমاد, আস-সুন্নাহ নং ৫৭৭; ইবন বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ১০৯; বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস-সিফাত পৃ. ৫৪১; আল-আজুররী ফিশ শরী'আহ পৃ. ২৮৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ পৃ. ৪৩; সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (৬/১৮৩)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ কিলাবাহ্ আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ আল-জারমী (১০৪ হিজরী)

📄 আবূ কিলাবাহ্ আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ আল-জারমী (১০৪ হিজরী)


আবু ক্বিলাবাহ আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ আল-জারমী আল-বসরী রাহিমahullah বলেন, لما لعن الله إبليس وأخرجه من سمواته وأخزاه قال: رب أخزيتني ولعنتني وطردتني من سماواتك وجوارك، وعزتك لأغوين خلقك ما دامت الأرواح في أجسادها، فأجابه الرب تبارك وتعالى فقال: «وعزتي وجلالي وارتفاعي على عرشي لو أن عبدي أذنب حتى ملأ السماء والأرض خطايا، ثم لم يبق من عمره إلا نفس واحد، فندم على ذنوبه لغفرتها، وبدلت سيئاته كلها حسنات». "যখন আল্লাহ তা'আলা ইবলিসকে লা'নত করলেন এবং তাকে তাঁর আসমান থেকে বহিষ্কার করলেন ও অপমানিত করলেন, তখন সে বলল, হে আমার রব, আমাকে অপমান করলেন, আমাকে রহমত থেকে দূর করে দিলেন, আমাকে আপনার আসমানসমূহ ও পড়শিত্ব থেকে তাড়িয়ে দিলেন, আমি আপনার ইয্যতের শপথ করে বলছি, আপনার সৃষ্টিকে আমি পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব, যতক্ষণ তাদের শরীরে রূহ থাকে। তখন রব তাবারকা ওয়া তা'আলা জবাব দিলেন, "আমার ইয্যতের শপথ, মর্যাদার শপথ, 'আরশের উপর উঠার শপথ, আমার বান্দা যদি গোনাহ করে, আর তা আসমান ও যমীন পূর্ণও করে ফেলে, তারপর তার জীবনের কেবল একটি নিঃশ্বাসও বাকী থাকে, তারপর সে তাওবাহ করে, গোনাহের কারণে লজ্জিত হয়, আমি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দিব, আর তার যাবতীয় খারাপ গোনাহ নেক দিয়ে পরিবর্তন করে দিব.” (৩২৩)

টিকাঃ
৩২৩. মা'মার ইবন রাশেد, আল-জামে' (১১/২৭৫), নং ২০৫৩৩; ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়‍্যাহ (১/৪৫৩)। অনুরূপ বর্ণনা, আহমاد (১৭/৩৩৭), নং ১১২৩৭, আব্দ ইবন হুমাইদ, আল-মুসনাদ, ৯৩০ (আল-মুন্তাখাব); আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, (২/৫৩০), নং ১৩৯৯; বাইহাক্বী আল-আসমা ওয়াস সিফাত, নং ২৬৫; বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ (২/৪১৮), নং ১২৯৩; তবে এটি হাদীস হিসেবেও কোনো কোনো বর্ণনা থাকলেও "আমার 'আরশের উপরে উঠার" এ অংশটুকু মারফু' হাদীস হিসেবে বিশুদ্ধ নয়। বস্তুত এটি আবু কিলাবাহ'র বক্তব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00