📄 আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৮ হিজরী)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, يحشر الناس حفاة عراة مشاة، قياما، أربعين سنة، شاخصة أبصارهم إلى السماء ينظرون فصل القضاء، وقد الجمهم العرق من شدة الكرب، وينزل الله في ظلل من الغمام من العرش إلى الكرسي». "মানুষদের একত্রিত করা হবে নগ্ন পায়ে, নগ্ন গায়ে, হাটিয়ে, দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছর। তাদের চোখ আসমানের দিকে অপলকভাবে চেয়ে থাকবে। তারা বিচার ফায়সালার অপেক্ষা করবে। চরম বিপদের কারণে তাদের ঘাম ঝরতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা মেঘের ছায়ায় 'আরশ থেকে কুরসীতে অবতরণ করবেন."
এই হাদীস আবু আহমাদ আল-'আসসাল রাহিমাহুল্লাহ মিনহাল ইবন 'আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবন হারিস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে. (২৯১)
টিকাঃ
২৯১. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ৬৫; আল-আরশ ২/১৭০; (অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ) ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২০/১৯০); মুহাম্মাদ আত-তুরকী। সুয়ূত্বী, আল-বদুরুস সাফিরাহ ফী উমূরিল আখিরাহ, পৃ. ৯০, অধ্যায় ২৯, হা/৬। এ হাদীসটি মাজমা'উয যাওয়ায়েদে ইবন মাস'উদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এসেছে, হাদীস নং ১৮২৯৩; ২২/৪৯; বস্তুত তা ত্বাবারানী আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৯/৪২১; হাদীস নং ৯৭৬৪, ইবন মানদাহ ৮৪৪; শাশী, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ৪১০ যা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে আমরা দেখেছি এর একটি সনদ সহীহ, আরেকটি সনদ হাসান। যা ইমাম দারাকুতনী তার 'ইলালে ব্যক্ত করেছেন। (ইলাল নং ৮৫৪)। বর্তমানে আমরা দেখছি যে, হাদীসটি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। যার সনদ হচ্ছে, [ইবন কাসীর বলেন,] ইসমা'ইল ইবন আবী কারীমাহ, মুহাম্মাদ ইবন সালামah, আবু আব্দুর রহীম, [তাঁর নাম খালেদ ইবন ইয়াযীদ] যায়েদ ইবন আবী উনাইsah, মিনহাল ইবন 'আমর, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। এ সনদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কারণ যত বর্ণনা এসেছে, সবখানেই তা মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ থেকে। তন্মধ্যে যারা তা আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের মুসনাদে নিয়ে গেছেন তাদেরও ওয়াহম হয়েছে। (যেমনটি মাজমা'উয যাওয়ায়েদ এর মুহাক্কিক বলেছেন)। কিন্তু এ বর্ণনাটি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর মুসনাদ আকারে আমরা দেখি ইমাম যাহাবীর ('উলু, আরশ ও আরবা'ঈন) তিনটি গ্রন্থে, ইমাম ইবন কাসীর এর আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে। মিনহাল ইবন 'আমর হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস থেকেও শুনেছেন, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছেন। যদি শুনে থাকেন, তবে আসারটি হাসান পর্যায়ের। অবশ্য শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল-ওয়াদে'ঈ এটিকে তাঁর আস-সহীহুল মুসনাদ ফিস শাফা'আহ গ্রন্থে এনেছেন।
📄 হুযাইফা ইবন সাওরি রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (মৃত ৬১ হিজরীর পরে)
তিনি হচ্ছেন, হুমাইদ ইবন সাওর আবুল মুসান্না আল-হিলালী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু। তিনি ছিলেন ইসলামী কবি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়েছিলেন। যুবাইর ইবন বাক্কার তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, হুমাইদ ইবন সাওর একবার বনী উমাইয়া খলীফাদের কারও কাছে আসার পরে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কীসে এখানে নিয়ে আসল?! তখন তিনি উত্তর দিলেন, أتاك بي الله الذي فوق عرشه ...... وخير ومعروف عليك دليل "আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছেন আল্লাহ, যিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। আর কল্যাণ ও অনুগ্রহ আপনার উপর প্রমাণবহ.”(২৯২)
এ বর্ণনাটি ইমাম ইবন আবদুল হাদী প্রখ্যাত আরবী কবি জারীর ইবনুল খাত্বফী (মৃত্যু ১১০ হিজরী) থেকে বর্ণনা করেন যখন তিনি আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের কাছে গিয়েছিলেন তার প্রশংসা করার জন্য। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, জারীর! তোমাকে কিসে এখানে নিয়ে এসেছে? জবাবে জারীর বলেছিলেন, أتاك بي الله الذي فوق عرشه .... ونور وإسلام عليك دليل "আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছেন আল্লাহ, যিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। আর নূর ও ইসলাম আপনার ওপর প্রমাণবহ.” (২৯৩) হতে পরে দু'টি কিচ্ছা ভিন্ন ভিন্ন। আবার হতে পারে এটি একই ঘটনা, আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু এটা সুস্পষ্ট হলো যে, হুমাইদ ইবন সাওর এবং জারীর উভয়েই বিশ্বাস করতেন আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর.
টিকাঃ
২৯২. যাহাবী, তারিখুল ইসলাম, ৬১-৮০ হিজরীর মাঝখানের ঘটনা, পৃ. ১১১।
২৯৩. ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া আলাল 'আরশ পৃ. ৪৮।
📄 ইবন ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা (৬৮ হিজরী)
ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বিভিন্ন বর্ণনায় আমরা আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা ও 'আরশের উপরে অবস্থানের বিষয়টি দেখতে পাই। নিম্নে কয়েকটি বর্ণনা পেশ করা হলো:
• ফাররা বলেন, “সুম্মাসতাওয়া” এর অর্থ, তারপর উপরে উঠেন। এটি ইবন 'আব্বাস বলেছেন। আর তা তোমার কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা যে ব্যক্তি বসা ছিল, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ালো। (২৯৪)
• ইমাম বাগাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবন 'আব্বাস ও অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, "সুম্মাসতাওয়া ইলাস সামায়ি” এর অর্থ, "ইরতাফা'আ ইলাস সামায়ি” আকাশের উপরে উঠলেন। (২৯৫)
• তাছাড়া আল্লাহর বাণী, ﴾ ثُمَّ لَا تِيَنَّهُم مِّنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَابِلِهِمْ ﴿ [الأعراف: ১৭] "শয়তান বলেছিল, তারপর আমি তাদের সামনে থেকে, পিছনের দিক থেকে, ডান দিক থেকে, বাঁ দিক থেকে বনী আদমের কাছে আসব.” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৭] এ আয়াতের তাফসীরে ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, "সে বলেনি, আমি তাদের উপর থেকে আসবো; কারণ সে জানে যে, আল্লাহ তা'আলাই তাদের উপরে.” (২৯৬)
• অনুরূপভাবে 'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহার মৃত্যুর সময় ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা তাকে বলেছিলেন, «كنت أحب نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يكُن يُحِبُّ إِلَّا طيبا، وأنزلَ اللهُ بِراءَتَكِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سماوات». "আপনি তো ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে প্রেয়সী স্ত্রী আর তিনি পবিত্র ব্যতীত কোনো কিছুকে পছন্দ করতেন না আর আল্লাহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন সাত আসমানের উপর থেকে.” (২৯৭)
অপর বর্ণনায় ইবন 'আব্বাস থেকে এসেছে, তিনি 'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহার গুণ বর্ণনা করছিলেন, সেখানে তিনি বলেন, وَأَنزَلَ اللَّهُ بَرَاءَتَكِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ، جَاءَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، فَأَصْبَحَ لَيْسَ اللَّهِ مَسْجِدٌ مِنْ مَسَاجِدِ اللَّهِ يُذْكَرُ فِيهِ اللَّهُ، إِلَّا يُتْلَى فِيهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ ، فَقَالَتْ: دَعْنِي مِنْكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا • "আর আল্লাহ আপনার পবিত্রতা সাত আসমানের উপর থেকে নাযিল করেছেন, যা জিবরীল আমীন নিয়ে এসেছেন, ফলে এমন হয়েছে যে, আল্লাহর এমন কোনো মসজিদ নেই যেখানে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হয় সেখানেই দিনের প্রান্তে ও রাতের বিবিধ প্রহরে সেটা তিলাওয়াত করা হয়। তখন 'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা বললেন, হে ইবন 'আব্বাস, সেটা তুমি ছাড়, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, আমি আশা করতাম যদি আমি বিস্মৃত ভুলে যাওয়া জিনিস (তুচ্ছ বস্তু) হতে পারতাম.” (২৯৮)
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, فكروا في كل شيء ولا تفكروا في ذات الله، فإن بين السموات إلى كرسيه سبعة آلاف نور، وهو فوق ذلك سبحانه وتعالى. "আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস বলেন, তোমরা সবকিছু নিয়ে গবেষণা করো, আল্লাহর সত্তা নিয়ে গবেষণা করো না। কেননা আসমানসমূহ ও তাঁর কুরসীর মাঝে সাত হাজার নূর আছে। আর আল্লাহ তা'আলা এসবের উপরে.”
এই হাদীস ইবন 'আব্বাস থেকে হাসান সনদে বাইহাকী বর্ণনা করেছেন আল-আসমা ওয়াস-সিফাত গ্রন্থে, অনুরূপভাবে আবুশ শাইখ আসবাহানী, আল-'আযামাহ গ্রন্থে, এবং অন্যান্যগণও বর্ণনা করেছেন.(২৯৯)
অপর বর্ণনায় ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা 'আরশ ও কুরসীর পরিচয় দিয়ে বলেছেন, الْكُرْسِيُّ مَوْضِعُ الْقَدَمَيْنِ وَالْعَرْشُ لَا يُقَدِّرُهُ إِلَّا اللَّه». "কুরসী আল্লাহর দু' পা রাখার স্থান, আর 'আরশ, সেটার পরিমাণ তো কেবল আল্লাহই জানেন.” (৩০০)
অনুরূপভাবে ইবন 'আব্বাস থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, قيل له إن ناساً يقولون بالقدر فقال: «يكذبون بالكتاب، لئن أخذت شعر أحدهم لأنصُوَنَّه، إن الله كان على عرشه، وكتب ما هو كائن، وإنما يجري الناس على أمر قد قضي وفرغ منه». "ইবন 'আব্বাসকে বলা হলো, মানুষেরা তাকদীর নিয়ে কথাবার্তা বলছে। তিনি বললেন: তারা আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। আমি যদি কাউকে পাই, তবে তার মাথার অগ্রভাগ ধরে ফেলব। আল্লাহ 'আরশের উপর ছিলেন এবং যা কিছু ঘটার সব লিখে দিয়েছেন। মানুষেরে তাঁর ফায়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী চলে."
এই হাদীস সুফইয়ান সাওরী ও অন্যান্যগণ আবু হাশিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন 'আব্বাস থেকে। (৩০১)
• অপর বর্ণনায় আবু মালিক, আবু সালেহ বর্ণনা করেন ইবন 'আব্বাস থেকে এবং মুররা বর্ণনা করেন ইবন মাসঊদ এবং বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে, আল্লাহর বাণী ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء এর অর্থে এসেছে, «إن الله كان على عرشه على الماء، ولم يخلق شيئاً قبل الماء، فلما أراد أن يخلق الخلق، أخرج من الماء دخاناً فارتفع فوق الماء فسما عليه، فسماه سماء، ثم أيبس الماء فجعله أرضاً، ثم فتقها فجعلها سبع أراضين» إلى أن قال «فلما فرغ الله من خلق ما أحب استوى على العرش. "নিশ্চয় আল্লাহ ছিলেন পানির উপরে, তাঁর 'আরশের উপরে। পানির পূর্বে তিনি কিছুই সৃষ্টি করেননি। তিনি যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন পানি থেকে ধোয়া বের করলেন। ধোঁয়া পানির উপরে উঠলো এবং উপরে থেকে গেল, অতঃপর তিনি তার নাম রাখলেন সামা বা আসমান। এরপর পানি শুকালেন ও তাকে যমীন করে দিলেন। তারপর তা আলাদা করে সাত যমীন বানিয়ে দিলেন। আরও বলেছেন: তিনি যা সৃষ্টি করতে পছন্দ করেছিলেন তা থেকে ফারেগ হয়ে 'আরশের উপর উঠলেন."
ইমাম যাহাবী বলেন, এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-তাবারী তার তাফসীরে মূসা ইবন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন 'আমর ইবন হাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আসবাত্ব, সুদ্দী থেকে। (৩০২)
হাদীসে বলা হলো, সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে 'আরশ সৃষ্টি করা হয়। তারপর 'আরশ সৃষ্টির পর আল্লাহ তার উপর উঠেন। এর মতো আল্লাহর বাণী হচ্ছে: "আর তিনিই এমন সত্তা যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর 'আরশ ছিল পানির উপর.”
• অপর বর্ণনায় ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে এসেছে, ما كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى كَانَ النَّدَاءُ فِي السَّمَاءِ، وَكَانَ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ». "যখন মূসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেন তখন তাঁকে ডাকা হয়েছিল আকাশের উপর থেকে আর আল্লাহ ছিলেন আসমানের উপরে.” (৩০৩)
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, أَنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى عَرْشِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا مِنْ خَلْقِهِ مِنْ سَمَاءٍ وَأَرْضِ». "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীনসহ কোনো কিছুকে সৃষ্টি করার আগে তিনি তাঁর 'আরশের উপর ছিলেন.” (৩০৪)
অপর বর্ণনায় মুজাহিদ ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ : قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: إِنَّ هَاهُنَا قَوْمًا يَقُولُونَ فِي الْقَدَرِ، فَقَالَ : إِنَّهُمْ يُكَذِّبُونَ بِكِتَابِ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، لَا خُذَنَّ بِشَعْرِ أَحَدِهِمْ فَلَأَنْصُوَنَّهُ، إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ كَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا، ثُمَّ خَلَقَ، فَكَانَ أَوَّلَ مَا خَلَقَ الْقَلَمُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَقَالَ: اكْتُبْ، فَكَتَبَ مَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ، فَإِنَّمَا يَجْرِي النَّاسُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ. "সুফইয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হাশেম আল-ওয়াসেত্বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন, ইবন "আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে কিছু লোকের কথা বলা হলো, যারা তাকদীর নির্ধারণ নিয়ে বাজে কথাবার্তা বলে, তখন তিনি বললেন, তারা আল্লাহর কিতাবের ওপর মিথ্যারোপ করে, আমি তাদের কারও চুল ধরে তা ছিড়ে ফেলবো, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার 'আরশ ছিল পানির উপরে, কোনো কিছু সৃষ্টি করার পূর্বে। তারপর তিনি সৃষ্টি করেছেন, তখন সর্বপ্রথম তিনি কলম সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে লিখতে নির্দেশ দিলেন, তখন সে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে তা লিখে নিল। মানুষ তো এখন তার ওপরই চলছে যা লিখে সম্পন্ন হয়ে গেছে.” (৩০৫)
অপর বর্ণনায় এসেছে, عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: ذُكِرَ لَهُ قَوْمٌ يَتَكَلَّمُونَ فِي الْقَدَرِ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا، وَكَانَ أَوَّلُ مَا خَلَقَ الْقَلَمَ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَكْتُبَ مَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. "সুফইয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হাশেম আল-ওয়াসেত্বী থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে, মুজাহিদ বলেন, ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছে এমন কিছু লোকের ব্যাপারে বলা হলো, যারা তাকদীর নির্ধারণ নিয়ে কথা বলে, তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা কোনো কিছু সৃষ্টির আগে 'আরশের উপর উঠেছেন। আর প্রথম তিনি কলম সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে তা লিখার নির্দেশ প্রদান করেন.”(৩০৬) সম্ভবত কোনো কিছু সৃষ্টির আগে বলে যমীনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বুঝিয়েছেন.
• অপর বর্ণনায় এসেছে, জনৈক ব্যক্তি ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে প্রশ্ন করল, আমি কুরআনে এমন বিষয় পাচ্ছি, যা আমার কাছে পরস্পর বিরোধী মনে হচ্ছে। আল্লাহ বলেছেন, "নাকি যিনি নির্মাণ করেছেন আসমানকে,... এরপর পৃথিবীকে করেছেন সুবিস্তৃত" পর্যন্ত। এখানে আকাশকে যমীনের পূর্বে সৃষ্টি করার কথা বলেছেন; কিন্তু অন্য এক স্থানে বর্ণিত আছে যে, "তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে.” এখানে যমীনকে আকাশের পূর্বে সৃষ্টির কথা উল্লেখ রয়েছে। ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, সমাধান হচ্ছে এই যে, "নাকি যিনি নির্মাণ করেছেন আসমানকে". আল্লাহ আকাশের পূর্বে যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আকাশের উপর উঠলেন এবং তাকে বিন্যস্ত করেন সাত আকাশে। তারপর তিনি যমীনকে বিছিয়ে দেন। (৩০৭)
• অপর বর্ণনায়, আবু মালিক ও আবু সালিহ উভয়ে বর্ণনা করেন ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে আর মুররাহ বর্ণনা করেন ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু ও কিছু সংখ্যক সাহাবী থেকে আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন"-এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, নিশ্চয় আল্লাহ ছিলেন পানির উপরে, তার 'আরশের উপরে। পানির পূর্বে তিনি কিছুই সৃষ্টি করেননি। তিনি যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন পানি থেকে ধোঁয়া বের করলেন। ধোঁয়া পানির উপরে উঠলো এবং উপরে থেকে গেল, অতঃপর তিনি তার নাম রাখলেন সামা বা আসমান। এরপর পানি শুকালেন ও তাকে যমীন করে দিলেন। তারপর তা আলাদা করে সাত যমীন বানিয়ে দিলেন। আরও বলেছেন: তিনি যা সৃষ্টি করতে পছন্দ করেছিলেন তা থেকে ফারেগ হয়ে 'আরশের উপর উঠলেন। এটি মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-তাবারী তার তাফসীরে মূসা ইবন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন 'আমর ইবন হাম্মাদ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আসবাত্ব, সুদ্দী থেকে, তিনি ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে। (৩০৮)
টিকাঃ
২৯৪. বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩১০)।
২৯৫. তাফসীর বাগাওয়ী (১/৫৮)।
২৯৬. আল লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ পৃ. ৬৬১।
২৯৭. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, ৮৪, হাসান সনদে।
২৯৮. মুসনাদ আহমاد (৪/২৯৮), নং ২৪৯৬।
২৯৯. ইবন আবী শাইবাহ, কিতাবুল 'আরশ, নং ১৬; আসবাহানী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, (২/১৭৩); আবুশ শাইখ, আল-'আযামাহ, (১/২১২); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩২৩), নং ৮৮৭; যাহাবী, আল-আরশ ২/১৭১; (অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ) এবং হাসান বলেছেন; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৩৮৩)। তিনি বলেছেন, সনদ ভালো। সাখাওয়ী; মাকাসিদুল হাসানাহ, পৃ. ১৫৯, তিনি বলেন, এর সনদসমূহ দুর্বল। কিন্তু সবগুলো মিলে শক্তিশালী, তবে অর্থগতভাবে সঠিক। সুয়ূত্বী, আল-জামিউস সগীর (১/১৩২)। তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। অনুরূপ মুনাওয়ী 'ফাইযুল কাদীর' (৩/২৯২)-এ কোনো মন্তব্য করেননি।
৩০০. দারেমী, নাক্ব (১/৪০০, ৪১২); আল-'আরশ (১/৩৫২); ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৮); আবুশ শাইখ, আল-আযামah (২/৫৮২); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৯৬)।
৩০১. ইবন আবী শাইbah, কিতাবুল 'আরশ, হা/৫; দারেমী, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ২৬৬; ইবন জারীর, আত-তাফসীর (২৯/১৭); যাহাবী, আল-আরশ ২/১৭৫। অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৩০২. তাবারী, আত-তাফসীর (১/৪৩৫-৪৩৬)। আহমাদ শাকির এই সনদ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। দেখুন: (১/১৫৬-১৬০); ইবন খুযাইmah, আত-তাওহীদ (২/৮৮৬-৮৮৮); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/২৪৩-২৪৪), নং ৮০৭; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২৫২-২৫৩; ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (১/৬৭-৬৮); সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (১/৪২-৪৩)।
৩০৩. ইমাম বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ গ্রন্থে তা'লীক হিসেবে পৃ. ১৯; অনুরূপ ইবন আবী হাতেম, আত-তাফসীর (৯/২৯৭৪, ২৯৭২)।
৩০৪. দারেমী, আন-নাক্বদ্ব (১/৪৬৫); যাহাবী, আল-উলু ৯৪।
৩০৫. আল-ফিরইয়াবী, আল-ক্বাদর, হাদীس নং ৭৯। এর সনদ বিশুদ্ধ।
৩০৬. আল-ফিরইয়াবী, আল-ক্বাদর, হাদীস নং ৭৮। এর সনদ বিশুদ্ধ।
৩০৭. সহীহ বুখারী, তা'লীক হিসেবে ইবন 'আব্বাস থেকে। (অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমুদ)
৩০৮. তাবারী, আত-তাফসীর (১/৪৩৫-৪৩৬)। আহমاد শাকির এই সনদ নিয়ে লম্বা আলোচনা করেছেন। দেখুন: (১/১৫৬-১৬০); ইবন খুযাইmah, আত-তাওহীদ (২/৮৮৬-৮৮৮); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/২৪৩-২৪৪), নং ৮০৭; ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (১/৬৭-৬৮); সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসুর (১/৪২-৪৩)।
📄 জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৭৪ হিজরী)
জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু সা'দ ইবন মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর মৃত্যুর ঘটনার রাব্বুল আলামীনের 'আরশের কম্পনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাতে আল্লাহর 'আরশ ও তা সা'দ ইবন মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর প্রতি ভালোবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে।(৩০৯)
টিকাঃ
৩০৯. যাহাবী, আল-উলু, ৬৮।