📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হাসসান ইবন সাবেত রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৩৫-৪০ হিজরীর মাঝে)

📄 হাসসান ইবন সাবেত রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৩৫-৪০ হিজরীর মাঝে)


হাসসান ইবন সাবেত ইবনুল মুনযির আল-খাজরাযী আল-আনসারী, আবুল ওয়ালীদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সভাকবি। তিনি তাঁর কবিতায় বলছেন, شَهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا ... رَسُولُ الَّذِي فَوقَ السَّمَوَات من عل وَأَن أَبَا يَحْيَى وَيَحْتَى كِلَيْهِمَا ... لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّل وَأَنَّ الَّتِي بِالسُّدِّ مِنْ بَطْنِ نخلةٍ ... وَمَنْ دَانَهَا فِلْ مِنَ الْخَيْرِ مَعْزِلِ وَأَنَّ الَّذِي عادى الْيَهُودُ ابْن مَرْيَم .... رَسُول أَتَى مِن عِنْدِ ذِي الْعَرْشِ مُرْسل "আমি আল্লাহর হুকুমে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ তাঁর উপর থেকে নির্বাচিত রাসূল, যিনি আসমানসমূহের উপর থেকে তাকে নির্বাচন করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইয়াহইয়া ও আবু ইয়াহইয়া (যাকারিয়া) তারা উভয়েরই রয়েছে দীনের মধ্যে কবুলযোগ্য আমল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, বাতনে নাখলায় যে গাছটির পূজা করা হতো সেই উয্যা ও তার অনুসারীরা যাবতীয় কল্যাণ থেকে মুক্ত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইয়াহুদীরা যে ইবন মারইয়াম ('ঈসা) এর বিরোধিতা করেছে, তিনি 'আরশ ওয়ালার পক্ষ থেকে রাসূল হিসেবে প্রেরিত ছিলেন.” (২৮৬)
তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাসসান ইবন সাবেত রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু যে শোক-গাঁথা রচনা করেছেন তাতে এসেছে, مَا بَالُ عَيْنِكَ لَا تَنَامُ ! كَأَنَّهَا ... كُحِلَتْ مَآقِيهَا بِكُحْلِ الْأَرْمَدِ؟ جَزَعًا عَلَى الْمَهْدِي أَصْبَحَ ثَاوِيًا .... يَا خَيْرَ مَنْ وَطِيءَ الْحُصَى لَا تَبْعَدِ يَا رَبِّ ! فَاجْمَعْنَا مَعًا وَنَبِيَّنَا ... فِي جَنَّةٍ تُفْقِي عُيُونَ الْحُسَّدِ فِي جَنَّةِ الْفِرْدَوْسِ وَاكْتُبْهَا لَنَا ... يَا ذَا الْجَلالِ وَذَا الْعُلا والسودد! صَلَّى الإِلَهُ وَمَنْ يُحَبُّ بِعَرْشِهِ ... وَالطَّيِّبُونَ عَلَى الْمُبَارَكِ أَحْمَدِ! "তোমার দু'টি চোখের কী হলো? তুমি কেন ঘুমাতে পার না, মনে হয় যেন, তোমার চোখের অশ্রু বয়ে যাওয়ার স্থানে নির্ঘুমের সুরমা লাগিয়েছ। হিদায়াতকারীর শোকে? যিনি মাটির নিচের অধিবাসী হয়ে গেছেন, হে পাথরের উপর বিচরণকারী উত্তম ব্যক্তি, আপনি কখনও দূরে যাবেন না। হে রব, আমাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে রাখুন এমন জান্নাতে, হিংসুকদের হিংসা সেখানে কাজ করবে না। জান্নাতুল ফিরদাউসে, আর তা আমাদের জন্য লিখে দিন, হে মহান, হে সর্বোচ্চ সত্তা ও মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ সালাত পেশ করুন, আর তার 'আরশের চারপাশে যারা ঘিরে আছেন তারাও এবং উত্তম ব্যক্তিবর্গও বরকত প্রদানকৃত আহমাদের উপর.” (২৮৭)

টিকাঃ
২৮৬. দিওয়ানু হাসসান পৃ. ৩১৯; ইবনুল কালবী, আল-আসنام পৃ. ৪৪; ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্কাত; আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ, আল-আদাব পৃ. ৩৪৫; আযরাকী, আখবারু মাক্কাহ (১/১২৯); আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ (৫/৬১), নং ২৬৫৩; আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (১/১১৯); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ ৬০, ১৯৭; ইবন আবিল ইয্য, শারহুত-ত্বাহাওয়িয়‍্যাহ পৃ. ২৮২।
২৮৭. ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাত (২/২৪৬); দিওয়ানে হাসসান ৬৫, ৬৬।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৫ হিজরী)

📄 সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৫ হিজরী)


সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তিনি সা'দ ইবন মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু কর্তৃক বনু কুরায়যার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়ের হাদীসটি বর্ণনা করেন। যাতে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, "অবশ্যই তুমি এমন বিচার করেছ যা সাত আসমানের উপরে যিনি আছেন সেই আল্লাহর বিচার.” (২৮৯)

টিকাঃ
২৮৯. নাসায়ী, আল-কুবরা (৩/২৯৩); বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩২১), হাদীস ৮৮৫।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 উম্মুল মুমিনীন ‘আয়েশা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা (৫৮ হিজরী)

📄 উম্মুল মুমিনীন ‘আয়েশা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা (৫৮ হিজরী)


'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা সিদ্দীকা বিনতিস সিদ্দীক, ফকীহা বিনতিল ফকীহ, তাকে উসমান হত্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, وَأَيمُ اللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَى لو كُنْتُ أُحِبُّ قَتْلَهُ لَقَتَلْتُ - تعني عثمان ، وَلَكِنْ عَلِمَ اللَّهُ مِنْ فَوْقِ عَرْشِهِ أَنِّي لَمْ أُحِبَّ قَتْلَهُ . "আর আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি, যদি আমি তাকে হত্যা করতে চাইতাম তবে তাকে (উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে) হত্যা করতে পারতাম। তবে আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর থেকে জানেন, আমি তার হত্যা পছন্দ করিনি.” (২৯০)

টিকাঃ
২৯০. আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ৪৭, নং ৮৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৮ হিজরী)

📄 আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৮ হিজরী)


আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, يحشر الناس حفاة عراة مشاة، قياما، أربعين سنة، شاخصة أبصارهم إلى السماء ينظرون فصل القضاء، وقد الجمهم العرق من شدة الكرب، وينزل الله في ظلل من الغمام من العرش إلى الكرسي». "মানুষদের একত্রিত করা হবে নগ্ন পায়ে, নগ্ন গায়ে, হাটিয়ে, দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছর। তাদের চোখ আসমানের দিকে অপলকভাবে চেয়ে থাকবে। তারা বিচার ফায়সালার অপেক্ষা করবে। চরম বিপদের কারণে তাদের ঘাম ঝরতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা মেঘের ছায়ায় 'আরশ থেকে কুরসীতে অবতরণ করবেন."
এই হাদীস আবু আহমাদ আল-'আসসাল রাহিমাহুল্লাহ মিনহাল ইবন 'আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবন হারিস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে. (২৯১)

টিকাঃ
২৯১. যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ৬৫; আল-আরশ ২/১৭০; (অনুবাদ আব্দুল্লাহ মাহমূদ) ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২০/১৯০); মুহাম্মাদ আত-তুরকী। সুয়ূত্বী, আল-বদুরুস সাফিরাহ ফী উমূরিল আখিরাহ, পৃ. ৯০, অধ্যায় ২৯, হা/৬। এ হাদীসটি মাজমা'উয যাওয়ায়েদে ইবন মাস'উদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এসেছে, হাদীস নং ১৮২৯৩; ২২/৪৯; বস্তুত তা ত্বাবারানী আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৯/৪২১; হাদীস নং ৯৭৬৪, ইবন মানদাহ ৮৪৪; শাশী, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ৪১০ যা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে আমরা দেখেছি এর একটি সনদ সহীহ, আরেকটি সনদ হাসান। যা ইমাম দারাকুতনী তার 'ইলালে ব্যক্ত করেছেন। (ইলাল নং ৮৫৪)। বর্তমানে আমরা দেখছি যে, হাদীসটি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। যার সনদ হচ্ছে, [ইবন কাসীর বলেন,] ইসমা'ইল ইবন আবী কারীমাহ, মুহাম্মাদ ইবন সালামah, আবু আব্দুর রহীম, [তাঁর নাম খালেদ ইবন ইয়াযীদ] যায়েদ ইবন আবী উনাইsah, মিনহাল ইবন 'আমর, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। এ সনদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কারণ যত বর্ণনা এসেছে, সবখানেই তা মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ থেকে। তন্মধ্যে যারা তা আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের মুসনাদে নিয়ে গেছেন তাদেরও ওয়াহম হয়েছে। (যেমনটি মাজমা'উয যাওয়ায়েদ এর মুহাক্কিক বলেছেন)। কিন্তু এ বর্ণনাটি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর মুসনাদ আকারে আমরা দেখি ইমাম যাহাবীর ('উলু, আরশ ও আরবা'ঈন) তিনটি গ্রন্থে, ইমাম ইবন কাসীর এর আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে। মিনহাল ইবন 'আমর হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস থেকেও শুনেছেন, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছেন। যদি শুনে থাকেন, তবে আসারটি হাসান পর্যায়ের। অবশ্য শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল-ওয়াদে'ঈ এটিকে তাঁর আস-সহীহুল মুসনাদ ফিস শাফা'আহ গ্রন্থে এনেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00