📄 আবূ বকর আস-সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (১৩ হিজরী)
عن ابن عمر قال : لما قبض رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال أبو بكر رضي الله عنه : أيها الناس إن كان محمد إلهكم الذي تعبدون، فإن إلهكم قد مات، وإن كان إلهكم الله الذي في السماء، فإن إلهكم لم يمت، ثم تلا: وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ [آل عمران: ١٤٤ ] حتى ختم الآية . “ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হলো, তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, হে মানুষেরা, যদি মুহাম্মাদ তোমাদের ইলাহ বা মা'বুদ হয়ে থাকেন, যার তোমরা ইবাদাত করেছ, তবে তোমাদের সে ইলাহ মারা গেছেন। আর যদি তোমাদের ইলাহ হয়ে থাকেন আল্লাহ তা'আলা, যিনি আসমানের উপরে আছেন, তাহলে তোমাদের ইলাহ মারা যাননি। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, 'মুহাম্মাদ তো কেবল একজন রাসূল, তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছেন.' [সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১৪৪]...” (২৬৫)
টিকাঃ
২৬৫. ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (২০/৫৬০-৫৬২), নং ৩৮১৭৬; আদ-দারেমী, আন-নাক্কদ্ব আলাল মারীসী, পৃ. ৩০০-৩০১; নং ১৩৬; আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ নং ৭৮; আল-বাযযার, আল-বাহরুয যাখখার (১/১৮২-১৮৩), নং ১০৩; যাহাবী, আল-উলু। অনুরূপ বর্ণনা যাহাবী, আল-আরশ।
📄 ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (২৩ হিজরী)
لما قدم عمر رضي الله عنه الشام استقبله الناس وهو على بعيره فقالوا : يا أمير المؤمنين لو ركبت برذونا تلقاك عظماء الناس ووجوههم، فقال عمر رضي الله عنه : لا أراكم ههنا إنما الأمر من ههنا، وأشار بيده إلى السماء . "উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু যখন শাম দেশে আসলেন, তখন মানুষ তাকে স্বাদুর সম্ভাষণ জানাতে এসেছিল, তখন তিনি তাঁর উটের উপর ছিলেন। তারা বললো, হে আমিরুল মুমিনীন, যদি আপনি কোনো দামী অনারব ঘোড়া বা খচ্চরের উপর উঠতেন... কারণ আপনার সাথে গণ্যমান্য ও বড় বড় মানুষেরা সাক্ষাত করবে, তখন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি তোমাদের এখানে দেখতে চাই না। যা কিছু ঘটবে তা তো ওখান থেকেই হবে, আর তিনি আসমানের দিকে ইঙ্গিত করলেন.” (২৬৬)
অপর বর্ণনায় 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু খাওলা বিনতে সা'লাবাহ এর কথা শুনার জন্য দেরী করলে একজন কারণ জিজ্ঞাসা করলে 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, هَذِهِ امْرَأَةٌ سَمِعَ اللَّهُ شَكْوَاهَا مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ، هَذِهِ خَوْلَةُ بِنْتُ ثَعْلَبَةَ، وَاللَّهِ لَوْ لَمْ تَنْصَرِفْ عَنِّي إِلَى اللَّيْلِ مَا انْصَرَفْتُ عَنْهَا حَتَّى تَقْضِيَ حَاجَتَهَا، إِلَّا أَنْ تَحْضُرَ صَلَاةٌ فَأُصَلِّيَهَا ، ثُمَّ أَرْجِعَ إِلَيْهَا حَتَّى تَقْضِيَ حَاجَتَهَا». "এ এমন এক মহিলা, যার অভিযোগ আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে শুনেছেন, এ হচ্ছে খাওলা বিনতে সা'লাবাহ, আল্লাহর শপথ, যদি সে আমার সাথে কথা বলা ত্যাগ না করে রাত পর্যন্তও চালিয়ে যায় তবে আমিও তার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিব না, যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন শেষ করছে। তবে যদি সালাতের সময় হয় তবে আমি সেটা পড়বো, তারপর আবার তার কাছে ফিরে আসব, যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন পূরণ করছে.” (২৬৭)
অপর বর্ণনায় তিনি বলেছিলেন, وَيْلٌ لِدَيَّانِ الْأَرْضِ مِنْ دَيَّانِ السَّمَاءِ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ . "দুনিয়ার রাজা-বাদশাহ ও শাসকের জন্য ধ্বংস, আসমানের শাসকের সামনে, যেদিন তাঁর সাথে তার সাক্ষাত হবে.” (২৬৮)
ইমাম লালেকাঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, سِيَاقُ مَا رُوِيَ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥] وَأَنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ فِي السَّمَاءِ ... فَدَلَّتْ أَنَّهُ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ وَعِلْمُهُ بِكَلِّ مَكَانٍ مِنْ أَرْضِهِ وَسَمَائِهِ. وَرَوَى ذَلِكَ مِنَ الصَّحَابَةِ : عَنْ عُمَرَ، وَابْنِ مَسْعُودٍ.... "মহান আল্লাহর বাণী, 'আল্লাহ 'আরশের উপর উঠেছেন' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] এর ব্যাপারে যা এসেছে তার বর্ণনা, আর এটার বর্ণনায় যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে আসমানের উপরে.” এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তা'আলা উপরে, আর তাঁর ইলম তাঁর যমীন ও আসমানের সর্বত্র, আর এটি বর্ণিত হয়েছে, 'উমার ও ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে.... আর এটিই ইমাম আহমاد এর মত.” (২৬৯) তারপর তিনি বহু আলেমের নাম বর্ণনা করেছেন, যারা এ আকীদাহ-বিশ্বাসের কথা বলেছেন.
টিকাঃ
২৬৬. ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (১৮/৩১৯), নং ৩৪৫৩৬; (১৯/১৩৮), নং ৩৫৫৮৪; আবু নু'আইম ফিল হিলইয়াহ (১/৪৭); ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু পৃ. ১৪৯; নং ৫৬।
২৬৭. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, নং ৭৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ূশ পৃ. ১২০।
২৬৮. দারেমী, আন-নাকদ্ব (১/৫১৫); যাহাবী, আল-উলু নং ১৭১; আল-আরশ।
২৬৯. শারহু উসূলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৮৮)।
📄 ‘আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু (৮ম হিজরী)
ইবন আবদুল বার বলেন, আমাদের কাছে সহীহ সনদে এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু স্ত্রীর জেরা থেকে বাঁচার জন্য যে কবিতা আবৃতি করেছিলেন তা হচ্ছে, شهدت بأن وعد الله حق ... وأن النار مثوى الكافرينا وأن العرش فوق الماء طافٍ ... وفوق العرش رب العالمينا وتحمله ملائكة شداد ... ملائكة الإله مسومينا "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য- আর জাহান্নাম কাফিরদের শেষ ঠিকানা। আর 'আরশের উপর রয়েছেন রাব্বুল আলামীন। আর নিশ্চয় 'আরশ তা তো পানির উপর ভাসছে। আর সে 'আরশকে বহন করছে শক্ত-সামর্থ্য আল্লাহর নিশান লাগানো ফিরিশতাগণ.” তখন তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম আর আমার চক্ষুকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলাম.” (২৭০)
টিকাঃ
২৭০. ইবন আসাকির, তারিখ (২৮/১১২, ১১৪); যাহাবী, আস-সিয়ার (১/২৩৮)।
📄 উম্মুল মুমিনীন যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা (২১ হিজরী)
كانت زينب تفخر على أزواج النبي - صلى الله عليه وسلم - وتقول: زوجكن أهاليكن، وزوجني الله من فوق سبع سموات. "যায়নাব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ওপর গর্ব করতেন এবং বলতেন, তোমাদেরকে তোমাদের পরিবার বিয়ে দিয়েছে আর আমাকে আল্লাহ স্বয়ং বিয়ে দিয়েছেন সাত আসমানের উপর থেকে.” (২৭১)
অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলতেন, زوجنيك الرحمن من فوق عرشه كان جبريل السفير بذلك، وأنا ابنة عمتك. “হে নবী, রহমান তাঁর 'আরশের উপর থেকে আমাকে আপনার সাথে বিয়ে দিয়েছেন, জিবরীল ছিলেন এ বিয়ের দুতিয়াল, আর আমি আপনার ফুফাতো বোন.” (২৭২)
টিকাঃ
২৭১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৪।
২৭২. ইমাম 'আসসাল সহ আরও বর্ণনা করেছেন হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৪/২৭), নং ৬৭৭৭; ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল 'উলু পৃ. ৯৭, নং ১৭।