📄 কুরআন থেকে আল্লাহ তাআলার ‘আরশের উপর থাকার ব্যাপারে প্রমাণসমূহ
কুরআনুল কারীমের বহু আয়াতে আল্লাহ তা'আলাকে সবকিছুর উপরে অর্থাৎ যাতে পরোক্ষভাবে আল্লাহ তা'আলাকে তার 'আরশের উপর থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন,
১- তাঁর দিকে আমল উত্থিত হয়, আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ١٠] "তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ হয় উঠে যায় এবং সৎ কাজ, তিনি তা করেন উন্নীত.” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] ইমাম তাবারী বলেন, 'মহান আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর দিকেই উঠে যায় বান্দা কর্তৃক তাঁকে স্মরণ করা এবং বান্দা কর্তৃক তাঁর প্রশংসা করা। (১৩০) অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী, إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ في سَمَّ الْخِيَاطِ ﴾ [الأنعام: ٤٠] "নিশ্চয় যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং তা সম্বন্ধে অহংকার করে, তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না- যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে." [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৪০] ইমাম আবু সা'ঈদ উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী বলেন, এ আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সকল আসমানের উপরে; কারণ তিনি যদি আসমানের উপরে না হতেন তাহলে রূহ ও আমল উপরের আসমানের উপরের দিকে নিয়ে উঠানো হতো না, কোনো কাওমের জন্য আসমানের দরজা বন্ধ করা হতো না, অন্যদের জন্যও খোলা হতো না। (১৩১)
২- আল্লাহ তা'আলা তাঁর কোনো কোনো বান্দাকে তাঁর দিকে উপরে উঠিয়ে নিয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন, যা দ্বারা তাঁর উপরে থাকা প্রমাণিত হয়। যেমন,
• এক আয়াতে এসেছে, إِذْ قَالَ اللَّهُ يَعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ﴾ [آل عمران: ٥٥] "স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ বললেন, 'হে ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব.” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫]
• অপর আয়াতে এসেছে, بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴾ [النساء : ١٥٨] "বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়.” [সূরা আন-নিসা আয়াত: ১৫৮]
৩- তার দিকে ফিরিশতাগণ উঠে যান, সেদিকে আমল নামা উঠানো হয়। যেমন,
এক আয়াতে এসেছে, يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ ﴾ [السجدة : ٥] "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর.” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫]
• অনুরূপ অপর আয়াতে এসেছে, يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ ﴾ [سيا: ٢] "তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আসমান থেকে নাযিল হয় এবং যা কিছু তাতে উত্থিত হয়। আর তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় ক্ষমাশীল.” [সূরা সাবা, আয়াত: ০২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে এসেছে, مِّنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ﴾ [المعارج: ٣، ٤] “এটা আসবে আল্লাহর কাছ থেকে, যিনি ঊর্ধ্বারোহনের সোপানসমূহের অধিকারী। ফিরিশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর.” [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ৩-৪] ইমাম মুজাহিদ বলেন, 'যিল মা'আরিজ' এর অর্থ, ফিরিশতাগণ আল্লাহর দিকে উঠে যান। (১৩২) তাবারী বলেন, মহান আল্লাহ বলেন, 'ফিরিশতাগণ এবং রূহ' অর্থাৎ জিবরীল তাঁর দিকে অর্থাৎ মহান আল্লাহর দিকে উঠে যান, এখানে তাঁর বলে আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। (১৩৩)
৪. আল্লাহ তা'আলা মানুষের রব, তারা তাকে তাদের উপরে থেকে ভয় পায়, যেমন,
• অন্য আয়াতে এসেছে, يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ﴾ [النحل: ٥٠] "তারা ভয় করে তাদের উপরস্থ তাদের রবকে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয় তারা তা করে.” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৫০] ইমাম ইবন খুযাইমাহ বলেন, মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ আয়াতে জানালেন যে, আমাদের রব তার ফিরিশতাদের উপরে, আসমানসমূহের উপরে, যমীনে বিচরণকারী সবকিছুর উপরে। তিনি আরও জানিয়ে দিলেন যে, ফিরিশতাগণ তাদের উপরে থাকা তাদের রবকে ভয় করেন। (১৩৪)
৫. আল্লাহ তা'আলাকে আসমানের উপরে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, আল্লাহ বলেন, وَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾ [الملك: ١٦، ١٧] "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ যমীনকে ধ্বসিয়ে দেবেন, অতঃপর তা হঠাৎ করেই থর থর করে কাঁপতে থাকবে? অথবা তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, আসমানে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর কংকরবর্ষী ঝঞ্ঝা পাঠাবেন? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী!” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬-১৭]
উল্লেখ্য, কোথাও কোথাও কুরআনের আয়াত ও হাদীসে আল্লাহ তা'আলাকে আসমানে বলা হয়েছে, আর আমরা অপরাপর আয়াত ও হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে জেনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন এবং তিনি 'আরশের উপরই আছেন। এ দু'য়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কারণ,
এক. আসমান বলতে উপরিভাগ বুঝায়; সুতরাং যেখানে যেখানে আল্লাহ তা'আলাকে আসমানে বা 'সামা'তে বলা হয়েছে তার অর্থ সর্বোচ্চ স্থান 'আরশের উপর বুঝে নিতে হবে।
দুই. কোথাও কোথাও আরবী 'ফী' শব্দ এসেছে, যার অর্থ 'মধ্যে' হওয়া যেমন বুঝায় তেমনি তার অর্থ 'আলা' বা 'উপরে'ও হয়। যেমন আল্লাহর বাণী )فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرِ ]التوبة: ٢[ "সুতরাং তোমরা যমীনের উপর বিচরণ কর চারমাস.” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] অনুরূপ অন্য আয়াত ]۷۱ :وَلَأَصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ) [طه﴿ “সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডের উপর শূলিতে চড়াব.” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১] (১৩৫)
৬. আল্লাহ তা'আলা কিতাব, ওহী, ফিরিশতা ইত্যাদি নাযিল করেন বলে ঘোষণা করেছেন, যেমন,
• আল্লাহ বলেন, وَقُرْءَانَا فَرَقْنَهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنزِيلًا )) [الاسراء : ١٠٦] "আর আমরা কুরআন নাযিল করেছি খণ্ড খণ্ডভাবে; যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পারেন ক্রমে ক্রমে এবং আমরা তা পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি.” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১০৬]
• অনুরূপ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمٰوٰتِ الْعُلٰى﴾ [طه: ٤] "যিনি যমীন ও সমুচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর কাছ থেকে এটা নাযিলকৃত.” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৪]
• অনুরূপ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿وَإِنَّهُ لَتَنزِيْلُ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ﴾ [الشعراء : ١٩٢] "আর নিশ্চয় এটা (আল-কুরআন) সৃষ্টিকুলের রব হতে নাযিলকৃত.” [সূরা শু'আরা, আয়াত: ১৯২]
• অনুরূপ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلُ الْكِتٰبِ لَا رَيْبَ فِيْهِ مِنْ رَّبِّ الْعٰلَمِيْنَ﴾ [السجدة : ٢] “এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া, এতে কোনো সন্দেহ নেই.” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِيْزِ الْحَكِيْمِ﴾ [الزمر: ١]، [الجاثية: ٢] [الأحقاف: ٢] "এ কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে নাযিলকৃত.” [সূরা আহকাফ, আয়াত: ০২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ﴾ [غافر: ٢] "এ কিতাব নাযিল হয়েছে আল্লাহর কাছ থেকে যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ.” [সূরা গাফির, আয়াত: ০২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ﴾ [فصلت: ٢] “এটা রহমান, রহীমের কাছ থেকে নাযিলকৃত.” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ০২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿لَا يَأْتِيْهِ الْبٰطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيْلٌ مِّنْ حَكِيْمٍ حَمِيْدٍ﴾ [فصلت: ٤٢] "বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না -সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না। এটা প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিতের কাছ থেকে নাযিলকৃত.” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪২]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿تَنزِيْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِيْنَ﴾ [الواقعة: ٨٠] [الحاقة: ٤٣] “এটা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত.” [সূরা ওয়াকি'আহ, আয়াত: ৮০; হাক্কাহ, আয়াত: ৪৩]
• অনুরূপ অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ﴿إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْءَانَ تَنزِيلًا ﴾ [الانسان: ٢٣] "নিশ্চয় আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি ক্রমে ক্রমে." [সূরা আল-ইনসান/ আদ-দাহর, আয়াত: ২৩] রব্বুল আলামীনের কাছ থেকে নাযিল হওয়ার দ্বারা দু'টি বিশাল বিষয় সাব্যস্ত হচ্ছে, এক. তিনি আল্লাহ স্বয়ং কুরআন নিয়ে কথা বলেছেন, তাঁর কাছ থেকে তা নাযিল হয়েছে, তাঁর কাছ থেকেই তা শুরু হয়ে এসেছে। দুই. মহান আল্লাহ তাঁর সকল সৃষ্টির উপরে হওয়া। কারণ, নাযিল হওয়া যা স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি বুঝে তা উপর থেকে নিচের দিকে যাওয়াকে বুঝায়। (১৩৬)
৭. মূসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহকে আসমানের উপরে বলার কারণে ফির'আউন সেটা নিয়ে উপহাস করেছিল, যা আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করছেন, وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَتَهَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلَى أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَذِبًا [غافر: ٣٦، ٣٧] "ফির'আউন আরও বলল, 'হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি অবলম্বন পাই -আসমানে আরোহনের অবলম্বন, যেন দেখতে পাই মূসার ইলাহকে; আর নিশ্চয় আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি.” [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৭] আয়াত স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে, মূসা 'আলাইহিস সালাম তাঁর রবকে 'আরশের উপর বলার পরই ফির'আউন সেটা নিয়ে এক ধরনের উপহাসে নেমেছিল। সে বলেছিল হে হামান, আমার জন্য সিড়ি বানাও আমি তাকে দেখতে যাব। (১৩৭)
সুতরাং যারা আল্লাহকে 'আরশের উপরে বিশ্বাস করতে পারে না তারা মূসার বিশ্বাসের বিরোধিতা করেছে আর ফির'আউনের সাথে তাদের বিশ্বাসকে এক করে নিয়েছে। আর এজন্যই যারা আল্লাহকে 'আরশের উপরে উঠা ও সেখানে থাকাকে অস্বীকার করে এমন জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত সর্বদা ফির'আউনী গোষ্ঠী বলতেন। (১৩৮)
৮- তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যেমন, ﴿وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ﴾ [البقرة: ٢٥٥] তিনি আরও বলেন, ﴿وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ ﴾ [الحج : ٦٢] [لقمان: ٣٠] "আর তিনি সুউচ্চ সুমহান." [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৫] "আর নিশ্চয় আল্লাহ্, তিনিই সমুচ্চ, সুমহান.” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৬২; লুকমান, আয়াত: ৩০]
তিনি আরও বলেন, "আর তিনি সমুচ্চ, মহান." [সূরা সাবা, আয়াত: ২৩] আরও বলেন, "সুতরাং যাবতীয় কর্তৃত্ব সমুচ্চ, মহান আল্লাহরই.” [সূরা গাফির, আয়াত: ১২] আরও বলেন, "আসমানসমূহে যা আছে ও যমীনে যা আছে তা তাঁরই। তিনি সুউচ্চ, সুমহান." [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ০৪] উপরের আয়াতগুলোতে যে 'আল-'আলীয়্যি' নামটি এসেছে, ইমাম তাবারী তার অর্থ করেছেন, আল-'উলু ওয়াল ইরতিফা' অর্থাৎ সুউচ্চ ও উপর।(১৩৯) আরও বলেন, "আপনি আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন.” [সূরা আ'লা, আয়াত: ০১] আরও বলেন, “শুধু তার মহান রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়.” [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ২০] ইমাম ইবন খুযাইমাহ বলেন, 'আল-আ'লা' শব্দটির আভিধানিক অর্থই হচ্ছে, তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সবকিছুর উপরে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরআনে এটা দিয়ে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন, আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি সর্বোচ্চ পবিত্র মহান সত্তা। হে বিবেকবান, যিনি সর্বোচ্চ সত্তা তিনি কি সবকিছুর উপরে হবেন না?(১৪০)
এ আয়াতসমূহে মহান আল্লাহকে সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত আল্লাহ তা'আলার জন্য তিন প্রকার উচ্চতা সাব্যস্ত করেন:
এক. সত্তাগতভাবে অবস্থানের দিক থেকে তিনি সবকিছুর উপরে।
দুই. সম্মান ও মর্যাদাগতভাবে তিনি সবকিছুর উপরে।
তিন. ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির দিক থেকে তিনি সবকিছুর উপরে।(১৪১)
৯. তিনি সর্বোচ্চ সত্তা, তাঁর নিকটে তিনি তাঁর কোনো কোনো সৃষ্টিজীবকে রেখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। যদি তার জন্য স্থান নির্ধারণ না করা হয়, 'আরশের উপরে না বলা হয়, তাহলে সেটা সম্ভব হয় না। আল্লাহ তা'আলা বহু আয়াতে তাঁর কাছে যারা আছেন তাদের কথা ঘোষণা করেছেন। যেমন,
• ফিরিশতাগণ তাঁর নিকটে রয়েছে, তিনি বলেন, إِنَّ الَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ، وَلَهُ يَسْجُدُونَ ﴾ [الأعراف: ٢٠٦] "নিশ্চয় যারা আপনার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদাতের ব্যাপারে অহঙ্কার করে না। আর তারা তাঁরই তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁরই জন্য সাজদাহ করে.” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ২০৬]
فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْتَمُونَ ﴾ [فصلت: ۳۸] "অতঃপর যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার রবের নিকটে রয়েছে তারা তো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিবোধ করে না.” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৮]
وَلَهُ مَن فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ، وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ ﴾ [الانبياء: ١٩] "আর আসমানসমূহ ও যমীনে যারা আছে তারা তাঁরই; আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা আছে তারা অহংকার-বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং বিরক্তিবোধ করে না.” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৯]
• জান্নাত তাঁর নিকটে, তিনি বলেন, ফির'আউনের স্ত্রী দো'আ করে বলেছিলেন, رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ ﴾ [التحريم: ١١] “হে আমার রব! আপনার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন.” [সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ১১]
• জান্নাতে যারা যাবে তারা তাঁর পড়শিত্ব ও নিকটে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করবে। وَبَشِّرِ الَّذِينَ ءَامَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ ﴾ [يونس : ٢] "আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে আছে উচ্চ মর্যাদা!” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ০২]
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ ﴾ [القمر: ٥٤، ٥٥] "নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে, যথাযোগ্য আসনে, সর্বশক্তিমান মহা অধিপতি (আল্লাহ)র সান্নিধ্যে.” [সূরা আল-ক্বামার, আয়াত: ৫৪-৫৫] যদি নিকটে থাকা বলা দ্বারা সাধারণ কোনো অর্থ হয়, তাহলে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের বিশেষ নৈকট্যের কোনো মূল্য থাকে না। কারণ, সাধারণ অর্থে সকলেই তাঁর নিকটে। কিন্তু এ তো বিশেষ নৈকট্য, আর তা হচ্ছে 'আরশের কাছে অবস্থানকারী ফিরিশতা ও জান্নাতের অধিবাসী ঈমানদারগণের জন্য বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার স্থান। তারা সর্বোচ্চ পবিত্র মহান সত্তার নৈকট্য লাভে ধন্য হবে। এর বিপরীতে যারা কুফুরী করবে, অহংকার করবে তারা তার নৈকট্য লাভ থেকে বঞ্চিত হবে। (১৪২)
১০- বান্দা কর্তৃক আল্লাহর দিকে তাকানোর বিষয়টি দ্বারাও সাব্যস্ত হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা কোনো এক দিকে আছেন, আর সেদিকেই তারা তাকাবে, আর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তা হবে উপরে 'আরশের দিকে। তাই যেসব আয়াতে আল্লাহর দিকে তাকানোর কথা রয়েছে সেসব আয়াত প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর। আল্লাহ বলেন, ﴿ وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴾ [القيامة: ٢٢، ٢٣] "সেদিন কোনো কোনো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে.” [সূরা আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াত: ২৩]
১১- সেসব ভাষ্যে যাতে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে 'আরশের অধিপতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং অপর কোনো ইলাহ যদি থাকতো তবে সেও যে 'আরশের আধিপত্য লাভের চেষ্টা করতো এটা তুলে ধরেছেন; যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। যেমন, ﴿ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ﴾ [التوبة:١٢٩] "অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলুন, 'আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা 'আরশের রব'.” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৯]
﴿وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴾ [هود: ۷] "আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, আর তাঁর 'আরশ ছিল পানির উপর, তোমাদের মধ্যে কে আমলে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য." [সূরা হূদ, আয়াত: ০৭]
﴿قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴾ [الإسراء: ٤٢] "বলুন, 'যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ্ থাকত যেমন তারা বলে, তবে তারা 'আরশ-অধিপতির (নৈকট্য লাভের) উপায় খুঁজে বেড়াত'.” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৪৩]
﴿لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴾ [الأنبياء:٢٢] "যদি এতদুভয়ের (আসমান ও যমীনের) মধ্যে আল্লাহ্ ব্যতীত আরও অনেক ইলাহ্ থাকত, তাহলে উভয়ই বিশৃংখল হত। অতএব, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে 'আরশের অধিপতি আল্লাহ্ কতই না পবিত্র." [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২২]
﴿قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ﴾ [المؤمنون : ٨٦] "বলুন, সাত আসমান ও মহা-'আরশের রব কে?” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৮৬]
﴿فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ﴾ [المؤمنون : ١١٦] "সুতরাং আল্লাহ্ মহিমান্বিত, প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই; তিনি সম্মানিত 'আরশের রব." [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১১৬]
﴿اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ﴾ [النمل : ٢٦] "আল্লাহ্, তিনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহা 'আরশের রব." [সূরা আন-নামল, আয়াত: ২৬]
﴿وَتَرَى الْمَلَائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ [الزمر: ٧٥] "আর আপনি ফিরিশতাদেরকে দেখতে পাবেন যে, তারা 'আরশের চারপাশে ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। আর তাদের মধ্যে বিচার করা হবে ন্যায়ের সাথে এবং বলা হবে, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর প্রাপ্য.” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৭৫]
﴿الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ، وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا ﴾ [غافر: ٧] "যারা 'আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাঁর উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে.” [সূরা গাফির, আয়াত: ০৭]
﴿رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ ﴾ [غافر: ١٥] "তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, 'আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছে স্বীয় আদেশ হতে ওহী প্রেরণ করেন, যাতে তিনি সতর্ক করেন সম্মেলন দিবস সম্পর্কে.” [সূরা গাফির, আয়াত: ১৫]
﴿سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴾ [الزخرف: ٨٢] "তারা যা আরোপ করে তা থেকে আসমানসমূহ ও যমীনের রব এবং 'আরশের রব পবিত্র-মহান.” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮২]
﴿وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَابِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ ﴾ [الحاقة: ١٧] "আর ফিরিশতাগণ আসমানের প্রান্তদেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশতা আপনার রবের 'আরশকে ধারণ করবে তাদের উপরে.” [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ১৭]
﴿ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينِ ﴾ [التكوير: ٢٠] "যে সামর্থ্যশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদা সম্পন্ন.” [সূরা আত-তাকওয়ীর, আয়াত: ২০]
﴿ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ ﴾ [البروج: ١٥] ""আরশের অধিকারী ও সম্মানিত." [সূরা আল-বুরূজ, আয়াত: ১৫]
এগুলো দ্বারা রাব্বুল আলামীন নিজেকে সর্বোপরে থাকা সাব্যস্ত করছেন। আর সর্বোপরে কোথায় পূর্বে বর্ণিত আয়াতসমূহে ব্যক্ত করেছেন, তা হচ্ছে 'আরশের উপর।
এতসব দলীল সত্ত্বেও জাহমিয়্যাহ ও তাদের মতাবলম্বিরা আল্লাহ তা'আলাকে সত্তাগতভাবে অবস্থানের দিক থেকে তাকে সর্বোচ্চ সত্তা মানে না। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর আয়াতের অর্থকে অস্বীকার করে।
টিকাঃ
১৩০. তাফসীর তাবারী (১২/২২)।
১৩১. আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৩৫।
১৩২. বুখারী (১৩/৪২৬); তা'লীক।
১৩৩. জামে'উল বায়ান (১৪/২৯)।
১৩৪. ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ পৃ. ১১১।
১৩৫. দেখুন, বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত: ৫৩১; আত-তাইমী, মাজাযুল কুরআন (২/২৩); শাওকানী, ফাতহুল কাদীর (৩/৩৭৬)।
১৩৬. আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া, ১০৯-১১০।
১৩৭. দেখুন, তাফসীর তাবারী (১২/২৪); দারেমী, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ, ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৩); আশ'আরী, আল-ইবানাহ ১০৬; আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (২/১১৫); ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ পৃ. ১১৪-১১৫; সা'দী, তাওদ্বীহুল কাফিয়া আশ-শাফিয়া পৃ. ১০৭।
১৩৮. ইবনুল কাইয়্যেম, ই'লামুল মুওয়াক্কে'ঈন (২/৩১৭)।
১৩৯. তাফসীর আত-তাবারী, (৩/২/১৯), (১৩/২৫, ৫৯)।
১৪০. ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ পৃ. ১১২।
১৪১. আহমাদ ইবন 'ঈসা, তাওদ্বীহুল মাকাসিদ শারহুল কাফিয়াতুশ শাফিয়া, ১৮০-১৮১।
১৪২. ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৬৫-১৬৬)।
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁর ‘আরশের উপরে থাকার প্রমাণসমূহ
ইতোপূর্বে 'আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন' এ বিষয়ে আমরা যেসব হাদীস বর্ণনা করেছি, সেগুলোতে সুস্পষ্টভাবে তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাছাড়াও এমন বহু হাদীস এ ব্যাপারে প্রমাণবহ যে, আল্লাহ তা'আলা সত্তাগতভাবে সর্বোপরে, আর সে সর্বোচ্চ স্থানটি 'আরশ ব্যতীত কিছুই নয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা কিছু হাদীস উল্লেখ করতে পারি, যেমন,
১- জুবাইর ইবন মুত'ইম রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনকে ইস্তেস্কা বা বৃষ্টি প্রার্থনার হাদীসে বলেছিলেন, وَيْحَكَ أَتَدْرِي مَا اللَّهُ ۚ إِنَّ شَأْنَهُ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُسْتَشْفَعَ بِهِ عَلَى أَحَدٍ، إِنَّهُ لَفَوْقَ عَرْشِهِ عَلَى سَمَاوَاتِهِ». "তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি জান আল্লাহ কে? তাঁর মাধ্যমে কারো সুপারিশ চাওয়া থেকে তাঁর মর্যাদা অনেক মহান। তিনি তাঁর 'আরশের ঊর্ধ্বে তাঁর আসমানসমূহের উপর." হাসান সনদে এই হাদীস আবু দাউদ 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার-এর সূত্রে তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া অন্যান্যগণ বর্ণনা করেছেন। (১৪৩)
অপর বর্ণনায় জুবাইর ইবন মুত'ইম রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ فَوْقَ سَمَاوَاتِهِ، وَسَمَاوَاتُهُ فَوْقَ أَرَاضِيهِ مِثْلُ الْقُبَّةِ "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, তাঁর আসমানসমূহের উপর, আর তাঁর আসমানসমূহ যমীনের উপর গম্বুজের মতো।”(১88)
২. যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতেন, زوجنيك الرحمن من فوق عرشه». وفي لفظ للبخاري كانت تقول: «إن الله أنكحني من فوق سبع سموات "আপনার সাথে আমার বিবাহ দিয়েছেন রহমান, তাঁর 'আরশের উপর থেকে.” (১৪৫) তবে এর সমর্থনে সহীহ বুখারীতে বর্ণনা এসেছে, সেখানে এসেছে, যায়নাব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা বলতেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আমার বিবাহ দিয়েছেন সাত আসমানের উপর থেকে।” (১৪৬)
৩. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الخَلْقَ : إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي، فَهُوَ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ "নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টি সম্পন্ন করার আগে একটি গ্রন্থ লিখেছেন, "নিশ্চয় আমার দয়া আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য পাবে, আর তা তাঁর কাছে 'আরশের উপর লেখা রয়েছে.” (১৪৭)
৪. মি'রাজের হাদীস, এ অলৌকিক ঘটনাটিতে আল্লাহ তা'আলা সর্বোপরে থাকা সত্তা কতভাবে যে বুঝা যায় তা যেকোনো চিন্তাশীল মানুষ সহজেই বুঝতে পারে। যেমন,
• কোনো হাদীসে এসেছে, تجاوز النبي - صلى الله عليه وسلم - السموات سماء سماء، حتى انتهى إلى ربه تعالى فقربه وأدناه، وفرض عليه الصلوات خمسين صلاة، فلم يزل يتردد بين موسى عليه السلام وبين ربه تبارك وتعالى: ينزل من عند ربه تعالى إلى عند موسى فيسأله: كم فرض عليه فيخبره، فيقول : ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف، فيصعد إلى ربه فيسأله التخفيف». "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানসমূহ অতিক্রম করলেন, আসমানের পর আসমান, অবশেষে তিনি তাঁর রবের নিকট পৌঁছলেন, অতঃপর আল্লাহ তাকে নিকটে নিলেন এবং নৈকট্য প্রদান করলেন। তারপর তাঁর ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দিলেন, তখন তিনি মূসা 'আলাইহিস সালাম ও তাঁর মহান রবের মাঝে বারবার আসা- যাওয়া করতে থাকলেন, তিনি তাঁর রবের কাছ থেকে মূসা 'আলাইহিস সালামের কাছে অবতরণ করতেন, আর মূসা 'আলাইহিস সালাম তাকে জিজ্ঞেস করতেন, আপনার ওপর কত সালাত ফরয করা হয়েছে, রাসূল তাঁকে জানাতেন, মূসা বলতেন, ফেরত যান আপনার রবের কাছে, তাঁকে আরও কমাতে বলুন, এভাবে তিনি উপরে উঠতেন এবং লাঘব করতে বলতেন.” (১৪৮)
• অপর বর্ণনায় আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণনা করেন, ثم علا به يعني جبرائيل فوق ذلك بما لا يعلمه إلا الله حتى جاوز سدرة المنتهى، ودنا الجبار رب العزة فتدلى، حتى كان منه قاب قوسين أو أدنى، فأوحى إليه فيما أوحى إليه خمسين صلاة، ثم هبط حتى بلغ موسى فاحتبسه، فقال: يا محمد ماذا عهد إليك ربك ؟ قال : عهد إلي خمسين صلاة كل يوم وليلة. قال: إن أمتك لا تستطيع ذلك، فارجع فليخفف عنك ربك وعنهم، فالتفت النبي - صلى الله عليه وسلم - إلى جبرائيل كأنه يستشيره في ذلك، فأشار إليه جبريل: أن نعم إن شئت. فعلا به إلى الجبار تبارك وتعالى فقال وهو مكانه -: يا رب خفف عنا "তারপর তাকে উঠানো হলো, অর্থাৎ জিবরীল তাকে নিয়ে এর উপরে উঠলেন, এতদূর যে, তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না, অবশেষে তিনি 'সিদরাতুল মুনতাহা' (সীমানার বরই গাছ) অতিক্রম করলেন, আর মহান দাপুটে রব তাঁর নিকট হলেন, তারপর আরও নিকট হলেন, এমনকি তাঁর থেকে দু' ধনুক বা তার চেয়েও নিকটে হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন, যা ওহী করার, রাত-দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের। অতঃপর তিনি নামতে থাকলেন, অবশেষে যখন মূসার কাছে আসলেন, তিনি তাকে আটকালেন। তখন মূসা বললেন, হে মুহাম্মাদ, আপনার রব আপনার নিকট থেকে কী অঙ্গীকার নিয়েছেন? রাসূল বললেন, দিনে রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের অঙ্গীকার নিয়েছেন। মূসা বললেন, আপনার উম্মত তা করতে সক্ষম হবে না। সুতরাং ফেরত যান এবং আপনার ও তাদের জন্য লাঘব করতে বলুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলের দিকে তাকালেন, যেন তার কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাচ্ছেন। তখন জিবরীল তাঁর দিকে হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত করলেন যে, হ্যাঁ যদি আপনি চান। অতঃপর জিবরীল তাকে নিয়ে মহান দাপুটে রবের কাছে উপরে গেলেন। তখন রাসূল তাকে বললেন, রাসূল তখন তার সে স্থানে দাঁড়ালেন যেখানে পূর্বে ছিলেন এবং বললেন, হে রব, আমাদের থেকে লাঘব করুন.” (১৪৯) ইমাম ইবন খুযাইমাহ বলেন, 'মি'রাজের হাদীস স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে সপ্তম আসমানের উপর গমন করেন আর আল্লাহ তা'আলা তার ওপর সালাত ফরয করেছেন, যা বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। এসব হাদীসের সবগুলো এটাই প্রমাণ করছে যে, স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের উপর রয়েছেন। (১৫০)
৫- সা'দ ইবন মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু কর্তৃক বনু কুরাইযার বিচারের ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসেছে, তিনি বলেছেন, لقد حكمت فيهم بحكم الله من فوق سبعة أزقعة وفي لفظ: من فوق سبع سموات. "অবশ্য তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর বিধান অনুযায় বিচার করলে, যা আল্লাহ সাত স্তরের উপর থেকে মঞ্জুর করছেন।” অপর শব্দে, সাত আসমানের উপর থেকে। (১৫১)
৬- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিজেকে উপরে অবস্থানকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে 'আমীন' বা আমানতদার নিযুক্ত হওয়ার ঘোষণা, ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء، يأتيني خبر السماء مساء وصباحًا. "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মানবে না, অথচ আমি আসমানের উপর যিনি আছেন তাঁর কাছে আমানতদার, আমার কাছে বিকালে ও সকালে আসমানের খবর আসে.”(১৫২)
৭- মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের জন্য ঘৃণার বিষয়টি আসমানের উপর থেকে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদীস, إذَا أَحَبَّ اللهُ العَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ: إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلَاناً فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ القَبُولُ فِي الأَرْضِ. "যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন তাকে আসমানের অধিবাসীরা ভালোবাসে, তারপর তার জন্য যমীনের বুকে গ্রহণযোগ্যতা ঢেলে দেয়া হয়.” (১৫৩)
৮- দাসী কর্তৃক আল্লাহর ব্যাপারে উপরের দিকে ইঙ্গিত করা এবং আসমানের উপরে থাকার বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তার ঈমানের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা, মু'আওয়িয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, لطمت جارية لي فأخبرت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فعظم ذلك على قلت: يا رسول الله أفلا أعتقها؟ قال: بلى ائتني بها، قال: فجئت بها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال لها: «أين الله ؟ « قالت: في السماء. قال: «فمن أنا ؟ « قالت: أنت رسول الله، قال: «أعتقها ؛ فإنها مؤمنة». "আমি এক দাসীকে চড় মেরেছিলাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা জানালাম, অতঃপর এটা আমার কাছে বড় হয়ে দেখা দিল, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে স্বাধীন করে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই হ্যাঁ, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, তিনি বলেন, আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? দাসী বললো, আসমানের উপরে, রাসূল বললেন, আমি কে? দাসী বললো, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে স্বাধীন করে দাও, সে তো ঈমানদার।” (১৫৪)
উল্লেখ্য যে ইমাম যাহাবী একই অর্থে অন্য আরও হাদীস এনেছেন, যাতে বুঝা যায় এ ধরনের ঘটনা আরও কয়েকজনের সাথে ঘটেছিল। (১৫৫)
সুতরাং জাহমী ব্যতীত এ জাতীয় হাদীস কেউ অস্বীকার করে না। পূর্ববর্তী কালের জাহমীদের বর্তমানে কিছু ওয়ারিস রয়েছে তারা এ কাজটি নতুন করে তাদের বিভিন্ন গ্রন্থে ও বক্তব্যে তুলে ধরে থাকে।
৯- 'আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু কর্তৃক বর্ণিত আসমানের উপরিভাগের বর্ণনায় এসেছে, ثم على ظهورهم العرش، بين أسفله وأعلاه مثل ما بين سماء إلى سماء، ثم الله عز وجل فوق ذلك. "তারপর তাদের পিঠের উপর আল্লাহর 'আরশ। তার উপর ও নিচের মাঝখানের দূরত্ব এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দূরত্ব, তারপর আল্লাহ তা'আলা তার ('আরশের) উপর.” (১৫৬) উল্লেখ্য, এ হাদীসকে বলা হয়, হাদীসুল আও'আল। (১৫৭) যার সনদের শুদ্ধাশুদ্ধি সম্পর্কে আলেমগণের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। আমরা এখানে সেটাকে দলীল হিসেবে নিয়ে আসিনি, কেবল শাহেদ বা সম অর্থের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছি মাত্র। কারও যদি এ হাদীসের ব্যাপারে কথা থাকে তাহলে তিনি তা গ্রহণ না করলেও আমাদের সমস্যা নেই। বরং এ হাদীস ব্যতীত বহু হাদীস রয়েছে, যা আমাদের দলীলের জন্য যথেষ্ট।
১০- আসমানের উপরে আল্লাহকে বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে স্পষ্টভাবে বলেছেন, যেমন,
• দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়াবান হওয়ার কথা বলেছেন, যাতে এসেছে, الراحمون يرحمهم الرحمن ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء. "যারা দয়া করে, রহমান তাদেরকে দয়া করেন। তোমরা যমীনবাসীদেরকে দয়া করো, যিনি আসমানের উপর আছেন তিনিও তোমাদের দয়া করবেন.”(১৫৮) অপর বর্ণনায়, مَنْ لَمْ يَرْحَمْ مَنْ فِي الْأَرْضِ لَمْ يَرْحَمْهُ مَنْ فِي السَّمَاءِ. "যে কেউ যমীনবাসীর প্রতি দয়া করে না, তার প্রতি আসমানের উপর যিনি আছেন তিনিও দয়া করেন না.” (১৫৯) অপর বর্ণনায় এসেছে, ارْحَمْ مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ». "যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি তুমি দয়া করো তাহলে আসমানের উপরে যিনি আছেন তিনি তোমার প্রতি দয়া করবেন.” (১৬০)
• স্বামীর কথা না শুনলে স্ত্রীর কেমন পাপ হয় তা বর্ণনায় বলেছেন, والذي نفسي بيده ما من رجل يدعو امرأته إلى فراشه فتأبى عليه إلا كان الذي في السماء ساخطا عليها حتى يرضى عنها. "যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ করে বলছি, কোনো পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, আর তার স্ত্রী তা প্রতিপালন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন যিনি আসমানের উপরে আছেন তিনি সে নারীর উপর ক্রোধান্বিত হন যতক্ষণ না সে পুরুষটি নারীর উপর সন্তুষ্ট হচ্ছে.”(১৬১)
• অপর হাদীসে এসেছে, ইবরাহীম 'আলাইহিস সালামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয় তখন তিনি বলেছিলেন, اللهُمَّ إِنَّكَ وَاحِدٌ فِي السَّمَاءِ وَأَنَا وَاحِدٌ فِي الْأَرْضِ أَعْبُدُكَ “হে আল্লাহ, নিশ্চয় আপনি আসমানের উপর একজন, আর আমি যমীনে একজন যে আপনার ইবাদাত করি.” (১৬২)
• অপর হাদীসে এসেছে, إِذَا اشْتَكَى أَحَدُكُمْ شَيْئًا أَوِ اشْتَكَى أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ: رَبُّنَا اللهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ، تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ. فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ، وَاغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ، أَنْزِلْ شِفَاءٌ مِنْ شِفَائِكَ، وَرَحْمَةٌ مِنْ رَحْمَتِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ، فَيَبْرَأَ» "যখন তোমাদের কেউ কোনো অসুখ অনুভব করবে অথবা তার ভাই অসুখ অনুভব করবে, তখন সে যেন বলে, আমাদের রব যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন, আপনার নাম অতীব পবিত্র, আপনার নির্দেশ আসমান ও যমীনে কার্যকর, যেভাবে আপনার রহমত আসমানে রয়েছে সেভাবে যমীনেও আপনার রহমত প্রদান করুন, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের ত্রুটি মার্জনা করুন, আপনি উত্তমদের রব, আপনি নাযিল করুন আরোগ্যসমূহ থেকে আরোগ্য, রহমতসমূহ থেকে রহমত এ ব্যথার উপর' এটা বললে সে আরোগ্যপ্রাপ্ত হবে.”(১৬৩)
• অপর হাদীসে এসেছে, ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي : «يَا حُصَيْنُ كَمْ تَعْبُدُ اليَوْمَ إلهَا ؟ قَالَ أَبِي: سَبْعَةٌ سِتَّةٌ فِي الْأَرْضِ وَوَاحِدًا في السَّمَاءِ. قَالَ: «فَأَيُّهُمْ تَعُدُّ لِرَغْبَتِكَ وَرَهْبَتِكَ؟ قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ. قَالَ: «يَا حُصَيْنُ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَسْلَمْتَ عَلَّمْتُكَ كَلِمَتَيْنِ تَنْفَعَانِكَ ». قَالَ : فَلَمَّا أَسْلَمَ حُصَيْنٌ قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ عَلِّمْنِي الكَلِمَتَيْنِ اللَّتَيْنِ وَعَدْتَنِي، فَقَالَ: قُلْ : اللهُمَّ أَلِمْنِي رُشْدِي، وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي» "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে বলেছেন, হে হুসাইন, আজকে তুমি কয়জন মা'বুদের ইবাদাত কর? আমার পিতা বললেন, সাতজন: ছয়জন যমীনে আর একজন আসমানের উপরে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের মধ্যে কাকে তুমি তোমার আবেগ ও ভয়ের জন্য মনোনিত কর? হুসাইন বললেন, যিনি আসমানের উপরে আছেন। তখন নবী বললেন, হে হুসাইন, যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ কর তবে আমি তোমাকে দু'টি কালেমা শিক্ষা দিব যা দিয়ে তুমি উপকৃত হতে পারবে। ইমরান বলেন, অতঃপর যখন হুসাইন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে দু'টি বাক্য শিখিয়ে দিন, যার ওয়াদা আপনি আমাকে করেছেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল, হে আল্লাহ, আমাকে আমার সঠিক কাজটি অন্তরে জাগরুক করে দিন, আমাকে আমার অন্তরের ক্ষতি থেকে আশ্রয় দিন.”(১৬৪)
১১- আসমানের দিকে হাত তোলে দো'আ করার বিশেষ কারণ হচ্ছে, আল্লাহ আসমানের উপর রয়েছেন। যেমন,
• সহীহ ইবন হিব্বানে আবু উসমান আন-নাহদী থেকে এসেছে, তিনি সালমান আল-ফারেসী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, إن ربكم حبي كريم يستحيى من عبده إذا رفع إليه يديه أن يردهما صفرا». "নিশ্চয় তোমাদের রব, লজ্জাশীল, দানশীল। বান্দা যখন তার দিকে দু'হাত উপরে তুলে তখন তিনি সে দু'টিকে খালি ফেরত দিতে লজ্জা পান.”(১৬৫)
• রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এভাবে উপরের দিকে হাত তুলে দো'আ করতেন। হাদীসে এসেছে, 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বদরের যুদ্ধের ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, তিনি বলেন, اسْتَقْبَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقِبْلَةَ ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ: «اللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي ، اللهُمَّ آتِ مَا وَعَدْتَنِي ، اللهُمَّ إِنْ تُهْلِكُ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الإِسْلَامِ لَا تُعْبَدُ فِي الْأَرْضِ». "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, তারপর তার দু' হাত উপরের দিকে তুলে ধরে তার রবকে ডাকতে আরম্ভ করলেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে যে ওয়াদা করেছেন তা পূর্ণ করুন, হে আল্লাহ, আমাকে যে ওয়াদা করেছেন, তা প্রদান করুন, হে আল্লাহ, যদি আপনি ইসলামের অনুসারীদের এ গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেন তো যমীনের বুকে আপনার ইবাদাত করা হবে না.” (১৬৬)
• মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত লম্বা এক হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, فَرَفَعَ [النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم] رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ ... فَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِي وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي. "তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথা আসমানের দিকে উঠালেন, অতঃপর বললেন, হে আল্লাহ, যে আমাকে খাইয়েছে তাকে খাওয়ান, যে আমাকে পান করিয়েছে তাকে পান করান.” (১৬৭)
• তাছাড়া দীর্ঘ সফরে হাত তুলে দো'আ করার হাদীস, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: ﴿ يَتَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ ﴾ [المؤمنون: ٥١] وَقَالَ: ﴿ يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَكُمْ ﴾ [البقرة: ١٧٢ ] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟». "হে মানুষরা, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া আর কিছু কবুল করেন না, নিশ্চয় আল্লাহ সেটাই মুমিনদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর বলেন, “হে রাসূলগণ তোমরা পবিত্র জিনিস থেকে খাও আর সৎকাজ কর, নিশ্চয় তোমরা যা কর আমি সেটা সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত' [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৫১] তিনি আরও বলেন, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা সেসব পবিত্র জিনিস থেকে খাও যা আমরা তোমাদেরকে রিযিক হিসেবে দিয়েছি. [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৭২] তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকের কথা বর্ণনা করলেন, যে লম্বা সফর করে (যেমন হজের সফর), উষ্কখুষ্ক চুল, ধুলিমলিন শরীর, তার দু' হাতকে আকাশের দিকে তুলে ধরে বলে, হে রব, হে রব, অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় হারাম আর হারাম ভক্ষণ করেছে, তাহলে তার দো'আ কীভাবে কবুল হতে পারে?” (১৬৮)
• অনুরূপ জুমু'আর খুৎবায় হাত তুলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দো'আ করার হাদীস, আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ: أَصَابَتِ النَّاسَ سَنَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ قَامَ أَعْرَابِ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ : هَلَكَ المَالُ وَجَاعَ العِيَالُ ، فَادْعُ اللهَ لَنَا ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ فَزَعَةٌ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ السَّحَابُ أَمْثَالَ الجِبَالِ، ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْمَطَرَ يَتَحَادَرُ عَلَى لِحِيَتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمُطِرْنَا يَوْمَنَا ذَلِكَ، وَمِنَ الغَدِ وَبَعْدَ الغَدِ، وَالَّذِي يَلِيهِ، حَتَّى الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى، وَقَامَ ذَلِكَ الْأَعْرَابِيُّ - أَوْ قَالَ : غَيْرُهُ - فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، تَهَدَّمَ البِنَاءُ وَغَرِقَ الْمَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا، فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ: اللهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلَّا انْفَرَجَتْ، وَصَارَتِ الْمَدِينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ، وَسَالَ الوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا، وَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَّا حَدَّثَ بِالْجُوْدِ. "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছিল, ইতোমধ্যে রাসূল এক জুমু'আর দিন খুৎবা দিচ্ছিলেন, এক বেদুইন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, সম্পদ তো সব ধ্বংস হয়ে গেল, পরিবার ক্ষুধার্ত থেকে গেল, সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দো'আ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'হাত উঠালেন, আমরা তখন আকাশে এক টুকরো বৃষ্টিও দেখতে পাচ্ছিলাম না। তাঁর শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ, রাসূল তার দু'হাত রাখার পূর্বেই পাহাড়ের মতো মেঘ এসে জমায়েত হতে লাগলো, তারপর রাসূল তার মিম্বর থেকে নেমে যাওয়ার আগেই দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁড়ি বেয়ে বৃষ্টি গড়িয়ে পড়ছে, আমাদের উপর তখন বৃষ্টি হতে লাগলো সেদিন, তার পরের দিন, তার পরের দিন, এমনকি পরবর্তী জুমু'আর দিন পর্যন্ত। আর সে জুমু'আতে উক্ত বেদুইন অথবা অন্য একজন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, বাড়ি-ঘর নষ্ট হয়ে গেল, মালামাল ডুবে গেল, সুতরাং আপনি আমাদের জন্য দো'আ করুন, তখন রাসূল তার দু'হাত উঠালেন এবং দো'আ করলেন, হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে, আমাদের উপর নয়, যেদিকেই তিনি ইঙ্গিত করতেন সেদিকই মেঘমুক্ত হয়ে যেত, মদীনা যেন ঢালের মতো হয়ে গেল (মাঝখানে মেঘমুক্ত হয়ে খালি হয়ে গেল), কানাত উপত্যকা একমাস সয়লাব হয়ে থাকলো, যেদিক থেকে লোক আসতো সেদিক থেকেই দানের সুখবর আসত.”(১৬৯)
এছাড়া আরও বহু হাদীসে আমরা দেখতে পাই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরের দিকে আকাশের দিকে হাত তুলে দো'আ করতেন।
এ বিষয়টিকে হিদায়াতের ইমামগণ আল্লাহ তা'আলা যে তাঁর 'আরশের উপর সেটা সাব্যস্ত করেছেন এবং তা অস্বীকারকারীকে পথভ্রষ্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। (১৭০)
১২- বান্দার আমল আল্লাহ তা'আলার দিকে উত্থিত হয়, তার প্রমাণ,
• সদকা আল্লাহর দিকে উত্থিত হওয়া: সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ ثَمَرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلَا يَصْعَدُ إِلَى اللهِ إِلَّا الطَّيِّبُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فُلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجُبَلِ». "যে কেউ হালাল অর্জন থেকে একটি খেজুর মূল্য পরিমাণ সদকা করে, আর আল্লাহ তা'আলার দিকে হালাল ছাড়া কিছুই উত্থিত হয় না, আল্লাহ তা'আলা সেটাকে তাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন, তারপর সেটাকে তার দানকারীর জন্য লালন করে তুলেন, যেমন তোমাদের কেউ অশ্বশাবককে লালন করে, এমনকি সেটা পরিণত হয় পাহাড়ের মতো.” (১৭১)
• অপর হাদীসে এসেছে, উসামা ইবন যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ ، مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ؟ قَالَ: «ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ». "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে আমি শা'বান মাসে যত সাওম রাখতে দেখি অন্য কোনো মাসে সে রকম সাওম রাখতে দেখি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এটি এমন একটি মাস, যাতে মানুষ সাওম পালন থেকে উদাসীন হয়ে যায়, যা রজব ও রমাদানের মাঝে অবস্থিত। আর এটি এমন একটি মাস যাতে রাব্বুল আলামীনের দরবারে আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং আমি চাই আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি সাওমরত অবস্থায় আছি.”(১৭২)
অপর হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনুস সায়েব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ، فَقَالَ: «إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর চার রাকাত সালাত পড়তেন, তা ছিল যোহরের আগে, তারপর বলতেন, এ সময় আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয়, আর আমি পছন্দ করি যেন এতে সেগুলো দিয়ে আমার নেক আমল উত্থিত হয়.”(১৭৩)
অপর হাদীসে এসেছে, রিফা'আহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু সালাতের মধ্যে রুকু থেকে মাথা উঠানোর পরে দো'আ করে বলেছিলেন, (রব্বানা লাকাল হামদু হামdan কাসীরান ত্বাইয়্যেবান মুবারাকান ফীhi, মুবারাকান 'আলাইhi কামা ইউহিব্বু রাব্বুনা ওয়া ইয়ারদ্বা), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَد ابْتَدَرَهَا بِضْعَةٌ وَثَلَاثُونَ مَلَكًا أَيُّهُمْ يَصْعَدُ بِهَا» “যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, ত্রিশোর্ধ্ব ফিরিশতা তা নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করেছে, কে এটি নিয়ে উপরে উঠবে.” (১৭৪)
অপর হাদীসে এসেছে, সালাত ছাড়াও অন্য সময়ে বলার কারণে আমল উত্থিত হয়ে থাকে, عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخُلْقَةِ، إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى الْقَوْمِ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَلَمَّا جَلَسَ الرَّجُلُ قَالَ: الْحَمْدُ للهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ قُلْتَ؟» فَرَدَّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا قَالَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدِ ابْتَدَرَهَا عَشَرَةُ أَمْلَاكِ، كُلُّهُمْ حَرِيصٌ عَلَى أَنْ يَكْتُبُوهَا، فَبَادَرُوا كَيْفَ يَكْتُبُونَهَا حَتَّى رَفَعُوهُ إِلَى ذِي الْعِزَّةِ، فَقَالَ : اكْتُبُوهَا كَمَا قَالَ عَبْدِي». আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক হালকায় বসা ছিলাম। তখন এক লোক এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উপস্থিত সবাইকে সালাম দিয়ে বললেন, 'আসসালামু 'আলাইকুম'। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তরে বললেন, "ওয়া'আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু". লোকটি বসতে বসতে বলল: الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمَّدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى 'আল্লাহর জন্য অসংখ্য প্রশংসা, পবিত্রময় প্রশংসা, বরকতময় প্রশংসা, আমাদের রব যেভাবে ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন.' নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "কَيْفَ قُلْتَ؟" ফَرَدَّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا قَالَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدِ ابْتَدَرَهَا عَشَرَةُ أَمْلَاكِ، كُلُّهُمْ حَرِيصٌ عَلَى أَنْ يَكْتُبُوهَا، فَبَادَرُوا كَيْفَ يَكْتُبُونَهَا حَتَّى رَفَعُوهُ إِلَى ذِي الْعِزَّةِ، فَقَالَ : اكْتُبُوهَا كَمَا قَالَ عَبْدِي". আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক হালকায় বসা ছিলাম। তখন এক লোক এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উপস্থিত সবাইকে সালাম দিয়ে বললেন, 'আসসালামু 'আলাইকুম'। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তরে বললেন, "ওয়া'আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু". লোকটি বসতে বসতে বলল: الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمَّدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى 'আল্লাহর জন্য অসংখ্য প্রশংসা, পবিত্রময় প্রশংসা, বরকতময় প্রশংসা, আমাদের রব যেভাবে ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন.' নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি কীভাবে বলেছ?" লোকটি আগের বারের মতো পুনরায় তা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! দশজনের বেশি ফিরিশতা তা লিখতে তাড়াহুড়া করছে, কে তা আগে লিখতে পারে। অতঃপর তারা যেভাবে লিখেছেন তা নিয়ে তাড়াহুড়া করছে, কে তা নিয়ে মহামান্য আল্লাহর কাছে উপরে উঠবে। মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যেভাবে বলেছে, তোমরাও সেভাবেই লিখ.”(১৭৫)
প্রতি দিনের আমলনামা আল্লাহর কাছে উত্থিত হওয়ার হাদীস, আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَامَ فِينَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم بِخَمْسٍ كَلِمَاتٍ فَقَالَ: «إِنَّ اللهَ عَزَّ وجلَّ لَا يَنَامُ، وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ، يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ، يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ، وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ، حِجَابُهُ النُّورُ، لَوْ كَشَفَهُ لأَحْرَقَتْ سُبْحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ». “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে পাঁচটি বাক্য নিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি বললেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর ঘুমানো তার জন্য শোভনীয়ও নয়, আমলনামার ওজন নিচে নামান আর উপরে উঠান, তাঁর কাছে দিনের আমলের আগেই রাতের আমল উঠানো হয়, আর রাতের আমলের আগেই দিনের আমল উঠানো হয়, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। যদি তিনি সে নূর উন্মুক্ত করতেন, তবে তার চোখ যতটুকু যাবে ততটুকু তার চেহারার উজ্জ্বল আলোতে পুড়ে যেতো." (১৭৬)
১৩-মাযলুমের বদ-দো'আ আসমানের উপরে 'আরশের দিকে উঠে যাওয়ার হাদীস, اتَّقُوا دَعَوَاتِ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ كَأَنَّهَا شَرَارٌ» “তোমরা মাযলুমের বদ-দো'আ থেকে বেঁচে থাক; কারণ তা আসমানের দিকে এমনভাবে উঠতে থাকে যেন তা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ.”(১৭৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, اتَّقُوا دَعْوَةَ الْمُظْلُومِ فَإِنَّهَا تَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ كَأَنَّهَا شَرَارَةٌ "তোমরা মাযলুমের বদ-দো'আ থেকে বেঁচে থাক; কারণ তা আল্লাহর দিকে এমনভাবে উত্থিত হয় যেন তা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ.” (১৭৮)
১৪- ফিরিশতাগণ কর্তৃক আল্লাহর কাছে উপরে উঠে যাওয়ার হাদীসসমূহ: বিভিন্ন হাদীসে ফিরিশতাগণ আকাশের উপরে আল্লাহর দিকে উঠে যাওয়ার কথা এসেছে, যেমন,
হাদীসে এসেছে, মূসা 'আলাইহিস সালামের মৃত্যুর ঘটনায় মূসা 'আলাইহিস সালামের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মালাকুল মাউত আল্লাহ তা'আলার কাছে উপরে আরোহন করে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِنَّ مَلَكَ الْمُوْتِ كَانَ يَأْتِي النَّاسَ عِيَانًا ، فَأَتَى مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ فَsَلَطَمَهُ مُوسَى فَفَقَا عَيْنَهُ فَعَرَجَ مَلَكُ الْمُوْتِ فَقَالَ: يَا رَبِّ إِنَّ عَبْدَكَ مُوسَى فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا وَلَوْلَا كَرَامَتُهُ عَلَيْكَ لَشَقَقْتُ عَلَيْهِ. "নিশ্চয় মালাকুল মাওত মানুষের কাছে (জান কবজের জন্য) সরাসরি আসতো, সে হিসেবে তিনি মূসা ইবন 'ইমরান ('আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসলে তিনি তাকে চড় মারেন, এতে তার চোখ বিগড়ে যায়, তখন মালাকুল মাউত উপরে আরোহন করে বললেন, হে রব, আপনার দাস মূসা আমার সাথে এমন এমন ব্যবহার করেছে, যদি তিনি আপনার কাছে সম্মানিত না হতেন তবে আমি তার ওপর কঠোরতা আরোপ করতাম..।”(১৭৯)
হাদীসে আরও এসেছে, يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ - وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِم - فَيَقُولُ : كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي ؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ». "তোমাদের মধ্যে পালাক্রমে ফিরিশতাগণ আসতে থাকেন, কিছু ফিরিশতা রাতে, কিছু ফিরিশতা দিনে। আর তারা আসরের সালাতে এবং ফজরের সালাতে একত্রিত হন। তারপর যারা রাতে তোমাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন, তারা উপরে আরোহন করে যান, তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, যদিও তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে ভালোই জানেন, তারপরও তিনি ফিরিশতাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তখন তারা বলেন, আমরা তাদেরকে ছেড়ে এসেছি তখন তারা সালাত আদায় করছে, আর আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছেন.” (১৮০) ইবন খুযাইমাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এ হাদীস থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলা উপরে রয়েছেন আর ফিরিশতাগণ তার দিকে উপরে উঠে যান। তেমনটি নয় যা জাহমিয়্যাহ ও মু'আত্তিলারা মনে করে থাকে। (১৮১)
অপর হাদীসে এসেছে, إِنَّ الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى مَلَائِكَةٌ سَيَّارَةً، فُضُلًا يَتَتَبَّعُونَ مَجَالِسَ الذِّكْرِ ، فَإِذَا وَجَدُوا تَجْلِسًا فِيهِ ذِكْرٌ فَعَدُوا مَعَهُمْ، وَحَقَّ بَعْضُهُمْ بَعْضًا بِأَجْنِحَتِهِمْ، حَتَّى يَمْلَثُوا مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَإِذَا تَفَرَّقُوا عَرَجُوا وَصَعِدُوا إِلَى السَّمَاءِ، قَالَ: فَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ ؟ فَيَقُولُونَ: جِئْنَا مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ فِي الْأَرْضِ، يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيُهَلِّلُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ». "নিশ্চয় আল্লাহর কিছু পরিভ্রমণকারী ফিরিশতা রয়েছেন, যারা মানুষের আমলনামা লেখকগণের অতিরিক্ত, যারা যিকিরের মাজলিসগুলো খুঁজে বেড়ায়, অতঃপর যখন তারা কোনো যিকির এর মজলিস পেয়ে যায়, তারা তাদের সাথে বসে পড়েন, তারা একে অপরকে ডানা দিয়ে ঢেকে দেন। এমনকি তারা তাদের মাঝে ও নিকটতম আসমানের মাঝের অংশ পূর্ণ করে করে রাখেন। অতঃপর যখন তারা যিকিরের মজলিস ভঙ্গ করে আলাদা হয়ে যান, তখন ফিরিশতারা আরোহন করতে থাকেন এবং আসমানের উপরে উঠতে থাকেন। রাসূল বলেন, তখন তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা প্রশ্ন করেন, যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে ভালোই জানেন, (আল্লাহ বলেন) কোত্থেকে এসেছ? তখন তারা বলে, আমরা আপনার কাছে এসেছি যমীনে আপনার কিছু বান্দাদের কাছ থেকে, তারা আপনার তাসবীহ পাঠ করছে, তাকবির দিচ্ছে, তাহলীল পড়ছে, তাহমীদ এর ঘোষণা দিচ্ছে, আপনার কাছে চাচ্ছে.”(১৮২) শাইখ হামূদ আত-তুওয়াইজরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এর দ্বারা বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য উপরের দিক সাব্যস্ত হবে.”(১৮৩)
১৫-আল্লাহর নিকটে যাওয়া, তাঁর নিকট কিছু চাওয়া, তাঁর নিকট জবাবদিহী করা, তাঁর নিকট গচ্ছিত করে রাখার জন্য দো'আ করা। যেমন,
• কিয়ামতের দিন শাফা'আতের বড় হাদীসে এসেছে, আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فأدخل على ربي تبارك وتعالى وهو على عرشه وفي بعض ألفاظ البخاري في صحيحه: «فأستأذن على ربي في داره فيؤذن لي عليه» وفي رواية: «فَيَأْتُونِي فَأَسْجُدُ تَحْتَ العَرْشِ، فَيُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، وَسَلْ تُعْطَهُ». "অতঃপর আমি আমার রবের কাছে প্রবেশ করব, তখন তিনি তাঁর 'আরশের উপর থাকবেন.” সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায়, “অতঃপর আমি আমার রবের কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইব, তখন তিনি তাঁর বাড়িতে থাকবেন, অতঃপর আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে.” অপর বর্ণনায়, “অতঃপর লোকেরা আমার কাছে আসবে, আর আমি 'আরশের নিচে গিয়ে সাজদায় পড়ে যাব, তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ, আপনার মাথা উঠান, আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, আপনি চান আপনাকে প্রদান করা হবে.”(১৮৪) এ হাদীস দ্বারা কি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট স্থান সর্বোচ্চ 'আরশ সাব্যস্ত হচ্ছে না?
অপর বর্ণনায় এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ القِيَامَةِ ..... فَذَكَرَ حَدِيْثُ الشَّفَاعَةِ الطَّوِيْلِ، - وَفِيهِ: «فَأَنْطَلِقُ فَآتِي تَحْتَ العَرْشِ ، فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي ، ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيَّ وَيُلْهِمُنِي مِنْ تَحَامِدِهِ، وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ لِأَحَدٍ قَبْلِي ..... আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের নেতা....." অতঃপর তিনি শাফা'আতের দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করেন। সে হাদীসে রয়েছে: "তখন আমি 'আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সাজদাহ দিয়ে পড়ে থাকব। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণাগুণের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারো জন্য খোলেননি.” (১৮৫)
• অনুরূপ কিয়ামতের দিন প্রতিটি বনী আদমকে পাঁচটি জিনিস সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার নিকট জবাবদিহী করতে হবে, হাদীসে এসেছে, لا تزولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يومَ القيامةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسأَلَ عن خمس : عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفناه، وعن شبابهِ فِيمَ أَبلاه، وماله من أين اكتسبه وفِيمَ أَنْفَقَهُ، وماذا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ». "বনী আদমের পা কিয়ামতের দিন তার রবের নিকট স্থানচ্যুত হবে না, যতক্ষণ পাঁচটি জিনিস সম্পর্কে প্রশ্ন না করা হবে, তার জীবন কোথায় সে তা ব্যয় করেছে? তার যৌবন সে কিসে ক্ষয় করেছে, তার সম্পদ কোথেকে অর্জন করেছে আর কীসে খরচ করেছে, তার যে ইলম বা জ্ঞান সে অর্জন করেছে তাতে কী আমল করেছে?” (১৮৬) আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হলে, আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা লাগবেই।
• অপর হাদীসে সাজদাহ'র দো'আতে এসেছে, اللهم اكتب لي بها عندكَ أجْرًا، وضع عنِّي بها وِزْرًا، واجْعَلْها لي عندكَ ذُخْرًا، وتَقَبَّلْها مِنِّي كما تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عبدك داود. “হে আল্লাহ আমার জন্য এটার বিনিময়ে আপনার কাছে সাওয়াব লিখুন, আমার জন্য এটার বিনিময়ে গোনাহ ক্ষয়ের ব্যবস্থা করুন, আমার জন্য এটাকে আপনার কাছে গচ্ছিত সম্পদ হিসেবে লিখে রাখুন আর আমার থেকে তা কবুল করুন, যেমন আপনি কবুল করেছেন আপনার দাস দাউদের কাছ থেকে.” (১৮৭)
• আল্লাহ তা'আলা হাশরের দিন তাঁর কোনো কোনো বান্দাকে নিজের দিকে ডেকে নিয়ে তার উপর বিশেষ পর্দা ফেলে তাকে প্রশ্ন করবেন, আর এটা জানা কথা যে, এ জিজ্ঞাসার জন্য তাঁকে অবশ্যই 'আরশ থেকে হাশরের মাঠে আসতে হবে, সেটার পুরো ধরন আমাদের জানা নেই; কিন্তু 'কানাফ' বা নিজের দিকে ডেকে নিয়ে বিশেষভাবে জিজ্ঞেস করবেন এটা আমরা বিশ্বাস করি, হাদীসে এসেছে, إِنَّ اللهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ، فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ وَيَسْتُرُهُ، فَيَقُولُ : أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا، أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ أَيْ رَبِّ، حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ، وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ، قَالَ: سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا، وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ، فَيُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ، وَأَمَّا الكَافِرُ وَالْمُنَافِقُونَ، فَيَقُولُ الأَشْهَادُ: هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ ﴾ [هود: ١٨] » "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মুমিন বান্দাকে কাছে ডেকে আনবেন, তারপর তাকে তার দিকে এনে তাকে বিশেষভাবে ঢেকে নিবেন, তারপর বলবেন, 'তুমি কি এ গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছ? তুমি কি এ গুনাহের স্বীকৃতি দাও? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব, অতঃপর যখন তার কাছ থেকে তার গুনাহের স্বীকৃতি আদায় করে নিবেন, আর সে মনে করবে যে তার বুঝি ধ্বংস অনিবার্য, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি সেটা তোমার ওপর দুনিয়ার বুকে ঢেকে রেখেছিলাম, আর আজকে আমি সেটা তোমার জন্য ক্ষমা করে দিলাম, তারপর তার নেক আমলনামাটি তাকে দেয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিক, তাদের ব্যাপারে সাক্ষীগণ বলবেন, "এরাই তো সে সম্প্রদায়, যারা তাদের রবের ওপর মিথ্যারোপ করেছে, সাবধান, আল্লাহর লা'নত তো যালিমদের উপরই পড়বে." [সূরা হুদ, আয়াত: ১৮] (১৮৮)
• না জেনে আল্লাহর ওপর কথা বলার পরিণামে রব্বুল আলামীন তাঁর নিকট হাজির করে প্রশ্নোত্তর করার পর তাকে জাহান্নামে পাঠাবেন। হাদীসে এসেছে, كانَ رَجُلانِ في بني إسرائيل مُتَوَاخِيَيْنِ، فكان أحدهما يُذْنِبُ، والآخر مجتهد في العبادة، فكان لا يزال المجتهد يرى الآخَرَ على الذَّنْبِ فيقولُ: أَقْصِر . فوجَدَهُ يوما على ذنب فقالَ لَهُ: أَقْصِرُ. فَقَالَ خَلَّنِي وَرَبِّي أَبْعِثْتَ عَلَيَّ رقيبا ؟ فقال: والله لا يغفر الله لك - أو لا يُدْخِلُكَ اللهُ الجنَّةَ ! - فقبض أرواحهما، فاجْتَمَعا عندَ رَبِّ العالمين، فقال لهذا المجتهد : أكنت بي عالما، أو كنتَ عَلَى مَا فِي يَدَيَّ قادرًا؟ وقال للمذنب: اذْهَبْ فَادخُلِ الجنَّةَ بِرحمتي، وقال للآخَرِ: اذْهَبُوا بِهِ إلى النَّارِ». قال أبو هريرة والذي نفسي بيده، لتكلم بكلمة أَوْ بَقَتْ دنياه وآخرته. "বনী ইসরাঈলের মধ্যে দু' ব্যক্তি ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ ছিল, একজন গোনাহ করত, আরেকজন ইবাদতে পরিশ্রম করত। ইবাদাতে পরিশ্রমকারী সর্বদা অপরজনকে গুনাহের উপর দেখে বলত, ক্ষ্যান্ত হও। একদিন ইবাদতকারী ব্যক্তি অপরজনকে পেল গুনাহের উপর। তখন সে তাকে বলল, ক্ষ্যান্ত হও। তখন সে বলল, আমাকে ও আমার রবকে ছাড়, আল্লাহ কি তোমাকে আমার ওপর পর্যবেক্ষক নিয়োজিত করে পাঠিয়েছেন? তখন ইবাদাতকারী বলে ফেলল, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না! অথবা বলেছে, তোমাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না! তখন তাদের দু'জনের মৃত্যু হয়, উভয়ে রব্বুল আলামীনের দরবারে নীত হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা ইবাদাতে পরিশ্রমকারীকে বললেন, তুমি কি আমার ব্যাপারে জানতে? অথবা তুমি কি আমার দু' হাতে যা আছে তাতে সক্ষম ছিলে? তারপর গুনাহকারীকে বললেন, যাও, তুমি আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ কর, অপরজনকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যাও তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাও." আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, সে এমন একটি বাক্য বলেছে, যাতে সে তার দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টি বরবাদ করেছে. (১৮৯) তাহলে হাদীস থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার কাছে নীত হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রশ্ন করেছেন। এসবই কি প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ তা'আলার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে? আর তা তো 'আরশ ছাড়া আর কিছু নয়।
• আল্লাহ তাঁর নিকট যারা আছেন তাদের কাছে ভালো লোকদের কথা আলোচনা করেন, হাদীসে এসেছে, إِنَّ مِنْ جَلَالِ اللَّهِ مِمَّا تَذْكُرُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ وَالتَّهْلِيلَ لَيَنْعَطِفْنَ حَوْلَ الْعَرْشِ، هُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيُّ النَّحْلِ، يُذَكِّرنَّ بِصَاحِبِهَنَّ أَفَلَا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ لَهُ عِندَ اللَّهِ مَنْ يُذَكِّرُ بِهِ ؟!» "নিশ্চয় তোমরা যেসব তাসবীহ, তাহমীদ ও তাহলীল করো সেগুলোর দ্বারা আল্লাহর মাহাত্ম্য ও সম্মান প্রকাশ করা হয়। সেগুলো 'আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে, তাদের গুঞ্জন থাকে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো, যারা এগুলো বলেছে তাদের কথা সে স্মরণ করাতেই থাকে। তোমাদের কেউ কি পছন্দ কর না যে, তার জন্য আল্লাহর নিকট তা থাকবে যা তাকে তাঁর কাছে স্মরণ করাবে?!” (১৯০)
• আল্লাহর যিকির করলে আল্লাহ তা'আলাও তাঁর নিকট যারা আছেন তাদের কাছে যিকিরকারীর কথা স্মরণ করেন, হাদীসে এসেছে, وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ، وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمِ السَّكِينَةُ، وَغَشِيَتُهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَقَّتْهُمُ المَلائِكَةُ ، وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ، وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ، لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ "আর যখনই কোনো গোষ্ঠী আল্লাহর ঘরসমূহ থেকে কোনো ঘরে একত্রিত হয়, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, তা নিয়ে তাদের মাঝে পাঠাভ্যাস করে, তখনই তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদেরকে ঢেকে দেয়, ফিরিশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখেন আর আল্লাহ তাঁর কাছে যারা আছে তাদের কাছে এদের কথা আলোচনা করেন। আর যার আমল তাকে দেরী করাবে বংশ তাকে এগিয়ে দিবে না.” (১৯১)
ফিরিশতাগণ আল্লাহর নিকট কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। যদি আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর না থাকেন তাহলে ফিরিশতারা কোথায় কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়? হাদীসে এসেছে, أَلَا تَصُفُونَ كَمَا تَصُفُّ المَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا ؟ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ تَصُفُ المَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ قَالَ: «يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الْأَوَّلَ وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفُ». "তোমরা কি তেমন কাতার করবে না যেমন কাতার ফিরিশতাগণ তাদের রবের নিকট করে থাকে? তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, কীভাবে ফিরিশতাগণ তাদের রবের নিকট কাতার করে? রাসূল বললেন, তারা প্রথম কাতারগুলো আগে পূরণ করে এবং কাতারে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ফাঁক না রেখে দাঁড়ান.” (১৯২)
১৬- হাদীসে শহীদদের আত্মাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে সম্মানিত করার পাশাপাশি আল্লাহ তাদের প্রতি উপর থেকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করার বিষয়টি এসেছে, সেখানে 'ইত্তেলা' বলা হয়েছে, যা দ্বারা বুঝা যায় মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর থেকে তাদের দিকে তাকাবেন। যেমন,
এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَرْوَاحُهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، تَسْرَحُ مِنَ الْجُنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ، ثُمَّ تَأْوِي إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ فَاطَّلَعَ إِلَيْهِمْ رَبُّهُم اطلاعَةٌ فَقَالَ: هَلْ تَشْتَهُونَ شَيْئًا ؟». "তাদের রূহকে প্রদান করা হবে সবুজ পাখির পেটে, যেগুলোর জন্য রয়েছে এমন ঝাড়বাতিসমূহ, যা 'আরশের সাথে লটকে আছে, জান্নাতের সর্বত্র যেখানে ইচ্ছা সে ঘুরে বেড়ায়, তারপর সেসব ঝাড়বাতিসমূহে আশ্রয় নেয়, তাদের রব তাদের দিকে ('আরশের উপর থেকে) দৃষ্টি দিয়ে বলেন, তোমাদের কি কোনো কিছু চাওয়ার আছে.” (১৯৩) ইবন খুযাইমাহ বলেন, যারা আরবী ভাষা জানে তারাই বুঝে, আরবীতে 'ইত্তেলা' শব্দ দিয়ে উপর থেকে নিচের দিকে তাকানোকে বুঝানো হয়। (১৯৪)
অন্য হাদীসে এসেছে, عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: سَأَلْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ : ﴿ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاهُ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ ﴾ [سورة آل عمران: ١٦٩] ، فَقَالَ: أَمَا إِنَّا قَدْ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَرْوَاحُهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ، لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، تَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ، ثُمَّ تَأْوِي إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ». فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ. মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে এ আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যাতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "যাঁরা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না বরং তারা জীবিত; তারা তাদের রবের নিকট থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত.” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯] আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "তাদের রূহসমূহ সবুজ পাখীর উদরে রক্ষিত থাকে, যা 'আরশের সাথে ঝুলন্ত দীপাধারে বাস করে। জান্নাতের সর্বত্র তারা যেখানে চায় সেখানে বিচরণ করে। অবশেষে সে দীপাধারগুলোতে ফিরে আসে.....।"(১৯৫) অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
১৭-'আরশের ছায়ায় হাশরের দিন মানুষের অবস্থান, 'আরশকে ও 'আরশের ছায়াকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের দিকে সম্পৃক্ত করা প্রমাণ করে তিনি 'আরশের উপরে। এ ব্যাপারে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে, যেমন,
• আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلَّهِ ، يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ ..... وَسَاقَ الْحَدِيثُ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর নিজের ('আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন...." অতঃপর তিনি হাদীসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেন। (১৯৬)
• অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ؛ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ لَجَلَالِي ؟ الْيَوْمَ أَظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي». আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া প্রদান করব। আজ এমন দিন, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া নেই.”(১৯৭)
• অপর হাদীসে এসেছে, عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي فِي ظِلٍّ عَرْشِي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي ». ইরবাদ্ধ ইবন সারিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মহান আল্লাহ বলেছেন, আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনকারীদেরকে সেদিন আমি আমার 'আরশের ছায়ায় ছায়া প্রদান করব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না.” (১৯৮)
• অন্য হাদীসে এসেছে, عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ، وَالْمُتَجَالِسِينَ فِيَّ، وَالْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ، وَالْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ». মু'আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন, আমার ভালোবাসা সেই সমস্ত লোকের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে যারা আমার (সন্তুষ্টির) জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে, আমারই জন্য একত্রে বসে, আমারই জন্য একে অন্যের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমারই জন্য একে অন্যের জন্য ব্যয় করে.” (১৯৯)
• অন্য হাদীসে এসেছে, عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الشُّهَدَاءُ وَالنَّبِيُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِقُرْبِهِمْ مِنَ اللهِ تَعَالَى وَتَجْلِسِهِمْ مِنْهُ» فَجَنَا أَعْرَابِيٌّ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، صِفْهُمْ لَنَا. قَالَ: «قَوْمٌ مِنْ أَقْنَاءِ النَّاسِ مِنْ نِزَاعِ الْقَبَائِلِ تَصَادَقُوا فِي اللَّهِ وَتَحَابُّوا فِيهِ، يَضَعُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ يَخَافُ النَّاسُ وَلَا يَخَافُونَ، هُمْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الَّذِينَ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ». ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহর এমন কতিপয় বান্দা রয়েছেন যারা নবী-রাসূল নন, আবার শহীদও নন; কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ ও তাঁর কাছাকাছি বসা দেখে শহীদগণ ও নবী-রাসূলগণ ঈর্ষা করবেন.” তখন একজন বেদুঈন হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল আর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের গুণাবলি বর্ণনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তারা বিভিন্ন গোত্র থেকে উত্থিত অসহায় সাধারণ অপরিচিত মানুষ, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে, তাঁরই (সন্তুষ্টির) জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালোবেসেছে। মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিম্বার স্থাপন করবেন। সেদিন সমস্ত লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত ও পেরেশান থাকবে; কিন্তু তারা ভয় পাবে না। তারা হলো মহান আল্লাহর বন্ধু যাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা পেরেশানও হবে না.” (২০০)
• অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِيِّ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: ﴿ يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ ﴾ [سورة المائدة : ۱۰۱] . قَالُوا : فَنَحْنُ نَسْأَلُهُ إِذَا، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عِبَادًا لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ، وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ بِقُرْبِهِمْ وَمَقْعَدِهِمْ مِنَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، قَالَ: وَفِي نَاحِيَةِ الْقَوْمِ أَعْرَابِيُّ، فَقَامَ فَحَثَى عَلَى وَجْهِهِ وَرَمَى بِيَدَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: حَدِّثْنَا يَا رَسُولَ اللَّهُ عَنْهُمْ مَنْ هُمْ؟ قَالَ : فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبْشَرَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُمْ عِبَادٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ، مِنْ بُلْدَانٍ شَتَّى، وَقَبَائِلَ شَتَّى مِنْ شُعُوبِ الْقَبَائِلِ، لَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمْ أَرْحَامٌ يَتَوَاصَلُونَ بِهَا، وَلَا دُنْيَا يَتَبَاذَلُونَ بِهَا، يَتَحَابُّونَ بِرُوحِ اللَّهِ، يَجْعَلُ اللَّهُ وُجُوهَهُمْ نُورًا، وَيَجْعَلُ هُمْ مَنَابِرَ مِنْ لُؤْلُوْ قُدَّامَ الرَّحْمَنِ، يَفْزَعُ النَّاسُ وَلَا يَفْزَعُونَ، وَيَخَافُ النَّاسُ وَلَا يَخَافُونَ». আবু মালিক আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এ আয়াত নাযিল হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম, يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَسْتَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ ﴾ [سورة المائدة: ١٠١] "হে মুমিনগণ, তোমরা এমন বিষয়াবলি সম্পর্কে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তা তোমাদেরকে পীড়া দিবে।” [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০১] তারা বললেন, আমরা তখনও তাঁকে প্রশ্ন করে যাচ্ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহর এমন কতিপয় বান্দা রয়েছেন যারা নবী-রাসূল নন, আবার শহীদও নন; কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ ও তাঁর সন্নিকটে আসন দেখে নবী-রাসূলগণ ও শহীদগণ তাদেরকে ঈর্ষা করবেন.” বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের এক প্রান্তে একজন বেদুঈন লোক ছিল। সে উঠে দাঁড়াল, তার চেহারায় (মাটি) ছুঁড়ে মারল এবং দু' হাতে মাটি নিক্ষেপ করল। অতঃপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তাদের সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা হাস্যজ্জোল দেখতে পেলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তারা বিভিন্ন দেশ, গোত্র ও জাতির মধ্য থেকে আল্লাহর সেসব বান্দা, যাদের মধ্যে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা না থাকা সত্ত্বেও পরস্পর পরস্পরের সাথে সম্পর্ক রাখে, যাদের মধ্যে দূর সম্পর্কিত আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তারা পরস্পরের জন্য ব্যয় করে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে। আল্লাহ তাদের চেহারা আলোকিত করবেন এবং রহমানের ('আরশের) সামনে মনি-মুক্তার মিম্বার স্থাপন করবেন। সেদিন সমস্ত লোকজন আতঙ্কে থাকবে; কিন্তু তারা আতঙ্কিত হবে না। লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হবে; কিন্তু তারা ভয় পাবে না.” (২০১)
• অন্য হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَائِدِ اللهِ ، قَالَ : مَرَّ رَجُلٌ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ: إِنَّ هَذَا حَدَّثَنِي بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَلْ سَمِعْتَهُ؟ يَعْنِي مُعَاذَا، قَالَ: مَا كَانَ يُحَدِّثُكَ إِلَّا حَقًّا، فَأَخْبَرْتُهُ قَالَ: قَدْ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فِي المُتَحَابِّينَ فِي اللهِ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ، وَمَا هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ. قُلْتُ: إِي رَحِمَكَ اللَّهُ وَمَا هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ : قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْثُرُ عَنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: «حَقَّتْ مَحَبَّنِي لِلْمُتَحَايِّينَ فِيَّ، وَحَقَّتْ مَحَبَّنِي لِلْمُتَوَاصِلِينَ فِيَّ، وَحَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ، وَحَقَّتْ تَحَبَّتِي لِلْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ وَلَا أَدْرِي بِأَيْتِهِمَا بَدَأَ . قُلْتُ : مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللَّهُ؟ قَالَ : أَنَا عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ». আবু ইদরীস 'আয়িযুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, এ লোক অর্থাৎ মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস শুনিয়েছেন। আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি (অতিক্রমকারী) বলেন, তিনি আপনাকে সঠিক হাদীস ব্যতীত অন্য কিছু শুনাবেন না। অতঃপর আমি তা তাকে শুনালাম। তিনি (অতিক্রমকারী) বলেন, আমি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও উত্তমভাবে শুনেছি, অর্থাৎ "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরে ভালোবাসা স্থাপনকারীগণকে আল্লাহর 'আরশের নিচে ছায়া দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। আমি (মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) বললাম, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, এর চেয়ে উত্তম কী? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহান আল্লাহ থেকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "আমার ভালোবাসা সেই সকল লোকের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে যারা আমার (সন্তুষ্টির) জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে, আমারই জন্য একত্রে বসে, আমারই জন্য একে অন্যের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমারই জন্য একে অন্যের জন্য ব্যয় করে.” তিনি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন দু'টি আগে বলেছেন তা আমার জানা নেই। আমি বললাম, আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি উবাদাহ ইবন সামিত। (২০২)
১৮-মহান রাব্বুল আলামীন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন; যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে আছেন। সেখান থেকেই যেভাবে অবতরণ করা তাঁর জন্য উপযোগী সেভাবে তিনি অবতরণ করেন। যেমন,
• আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي، فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ». "আমাদের বরকতপূর্ণ ও মহান রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকী থাকে, বলতে থাকেন, এমন কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব? এমন কেউ কি আছে আমার কাছে চাইবে, আর আমি তাকে তা দিব? এমন কেউ কি আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব?” (২০৩)
• ইমাম ইবন খুযাইমাহ রাহিমাহুল্লাহ অপর একটি হাদীস ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْبَاقِي يَهْبِطُ اللَّهُ عَزَّ وجلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ تُفْتَحُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَهُ فَيَقُولُ : هَلْ مِنْ سَائِلٍ يُعْطَى سُؤْلَهُ؟ فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ». "যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকী থাকে, তখন মহান আল্লাহ নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, আর আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয়, তারপর মহান আল্লাহ তাঁর হাত প্রসারিত করে দেন এবং বলেন, এমন কোনো যাচঞাকারী কি আছে যাকে তার প্রার্থিত জিনিস দেয়া হবে? এ রকমই তিনি থাকেন যতক্ষণ না সুবহে সাদিক উদিত হচ্ছে.” (২০৪)
• অপর হাদীসে এসেছে, রিফা'আহ আল-জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «إِذَا مَضَى نِصْفُ اللَّيْلِ أَوْ قَالَ : ثُلُثُهُ يَنْزِلُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ: لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي غَيْرِي مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصُّبْحُ». "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অগ্রসর হলাম, তখন তিনি বললেন, যখন অর্ধ রাত্রি কিংবা বলেছেন, রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ গত হয়, তখন মহান আল্লাহ নিকটতম আসমানে নেমে আসে বলতে থাকেন, 'আমার বান্দাদের ব্যাপারে আমি নিজে ব্যতীত কেউ জিজ্ঞেস করবে না, এমন কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে ফলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব? এমন কে আছে যে, আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব? এমন কে আছে যে আমার কাছে চাইবে ফলে আমি তাকে দিব? যতক্ষণ না সকালের আলো বের হচ্ছে ততক্ষণ তিনি এটা বলতে থাকেন.” (২০৫)
• আর ইমাম মুসলিম আবু সা'ঈদ আল-খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার বর্ণনা নিয়ে এসেছেন, عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَا : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ، نَزَلَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرِ؟ هَلْ مِنْ تَائِبٍ؟ هَلْ مِنْ سَائِلٍ؟ هَلْ مِنْ دَاعٍ ؟ حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ». আবু সা'ঈদ আল-খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তা'আলা অবকাশ দেন বা দেরী করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে নেমে এসে বলতে থাকেন: কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি (যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব)? কোনো তাওবাকারী আছে কি (যে তাওবা করবে আর আমি তার তাওবা কবুল করব)? কোনো প্রার্থনাকারী আছে কি (যে প্রার্থনা করবে আর আমি তার প্রার্থনা কবুল করব)? কোনো আহ্বানকারী আছে কি (আমি যার আহ্বানে সাড়া দিব)? এভাবে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন.” (২০৬)
• ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَنْزِلُ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا لِشَطْرِ اللَّيْلِ، أَوْ لِثُلُثِ اللَّيْلِ الْآخِرِ، فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، أَوْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، ثُمَّ يَقُولُ: مَنْ يُقْرِضُ غَيْرَ عَدِيمٍ، وَلَا ظَلُومٍ». আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রাতের অর্ধেকের সময় অথবা শেষ-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন: কে আছে আহ্বানকারী? (আহ্বান কর) আমি তার আহ্বানে সাড়া দিব অথবা কে আছে প্রার্থনাকারী? (প্রার্থনা কর) আমি তাকে দান করব। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলতে থাকেন: এমন সত্তাকে কে কর্জ দিবে যিনি কখনো ফকির বা দরিদ্র হবেন না বা যুলুম করতে পারেন না?” (২০৭)
• অপর হাদীসে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এসেছে, عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ، وَلَأَخَّرْتُ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ، فَإِنَّهُ إِذَا مَضَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ هَبَطَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَلَمْ يَزَلْ هُنَالِكَ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ، يَقُولُ: أَلَا سَائِلٌ فَيُعْطَى، أَلَا دَاعٍ يُجَابُ، أَلَا مُسْتَشْفِعِ فَيُشَفَّعُ، أَلَا تَائِبُ مُسْتَغْفِرُ فَيُغْفَرَ لَهُ». আলী ইবন আবু তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো তবে আমি প্রত্যেক সালাতের পূর্বে মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম, আর ইশার সালাত রাতের এক- তৃতীয়াংশে বিলম্ব করে পড়তে নির্দেশ দিতাম। কেননা যখন রাতের প্রথম-তৃতীয়াংশ শেষ হয় তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। ফজর হওয়া পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন: হে, কে আছ প্রার্থনা করার, (আমার কাছে প্রার্থনা কর) আমি তাকে দান করব। কে আছ আহ্বান করার, (আমাকে ডাক) আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ শাফা'আত প্রার্থনাকারী? (শাফা'আত চাও) আমি শাফা'আত করব। হে, কে আছ গুনাহ থেকে তাওবাকারী? (গুনাহ থেকে তাওবা কর), আমি ক্ষমা করব.” (২০৮)
• অপর বর্ণনায় জুবাইর ইবন মুত'ইম রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এসেছে, عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَنْزِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ؟ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأُغْفِرَ لَهُ؟ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ». নাফি' ইবন জুবাইর রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "মহান আল্লাহ প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন: কেউ কি প্রার্থনাকারী আছ? তাকে আমি দান করব। কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ? আমি তাকে ক্ষমা করব। এভাবে তিনি ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত বলতে থাকেন.” (২০৯) এ অবতরণের হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় ইমামগণ আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা এবং সেখানে থাকা সাব্যস্ত করেছেন। যেমন,
ইমাম শাফেয়ী বলেন, القول في السنة التي أنا عليها ورأيتُ أصحابنا عليها، أهل الحديث الذين رأيتهم فأخذتُ عنهم، مثل سفيان بن عيينة ومالك وغيرهما: الإقرار بشهادة أن لا إلهَ إِلَّا الله وأن محمدًا رسول الله .. وأنَّ اللهَ على عرشه في سمائه يقرب من خلقه كيف شاء. وأنَّ الله تعالى ينزل إلى السماء الدنيا كيف شاء». "সে সুন্নাত তথা নীতির ওপর কথা বলছি, যার ওপর আমি রয়েছি এবং আমাদের সাথীদের পেয়েছি, হাদীসের অনুসারীগণকে, যাদেরকে আমি দেখেছি, যাদের থেকে হাদীস গ্রহণ করেছি, যেমন, সুফইয়ান, মালিক ও অন্যান্যরা ছিলেন, তা হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত হক্ক কোনো মা'বুদ নেই) এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) এ কথার সাক্ষ্য প্রদানের স্বীকৃতি দেয়া... আর নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর, তাঁর আসমানের উপর, যেভাবে ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টির নিকটে যান, আর আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে যেভাবে ইচ্ছা নামেন.” (২১০)
ইমাম 'উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী বলেন, والآثار التي جاءت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في نزولِ الرَّب تبارك وتعالى تدلُّ عَلَى أَنَّ اللهَ عَزَّ وجلَّ فوق السَّماواتِ عَلَى عرشه، بائن من خلقه». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রাব্বুল আলামীনের অবতরণ সংক্রান্ত যেসব 'আছার' এসেছে, তা প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা.”(২১১)
ইমাম তাবারী বলেন, وأنه سبحانه وتعالى يهبط كل ليلة وينزل إلى السَّماءِ الدُّنيا، لخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم» "আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা প্রতি রাতে নেমে আসেন এবং নিকটতম আসমানে নেমে আসেন; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা তা সাব্যস্ত হয়েছে.” (২১২)
ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরী বলেন, وَمِمَّا يُؤَكِّدُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ مُسْتَوٍ عَلَى عَرْشِهِ دُونَ الْأَشْيَاءِ كُلِّهَا مَا نَقَلَهُ أَهْلُ الرِّوَايَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَذَكَرَ حَدِيثَ النُّزُولِ بِالسَّنَدِ عَنْ ثَلَاثَةِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَهُمْ: جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ وَرِفَاعَةَ الْجُهَنِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ». "আর যে জিনিস তাকীদ দিচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর উপরে সমুন্নত, অন্য কিছুর উপর নয়, তার প্রমাণ যা হাদীস বর্ণনাকারীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আশ'আরী আল্লাহর অবতরণ করার হাদীস সনদ সহকারে তিনজন সাহাবী, জুবাইর ইবন মুত'ইম, আবু হুরায়রা ও রিফা'আহ আল-জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন.” (২১৩)
ইমাম ইবন আবী যামানীন আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রথম আসমানে অবতরণ করার হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, هَذَا الْحَدِيثُ بَيِّنُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى عَرْشِهِ فِي السَّمَاءِ دُونَ الْأَرْضِ، وَهُوَ أَيْضًا بَيِّنُ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَفِي غَيْرِ مَا حَدِيثٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . ثُمَّ ذَكَرَ آيَاتٍ دَالَّةً عَلَى عُلُوِّ اللَّهِ تَعَالَى». "এ হাদীস প্রকাশ করে দিচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে, আসমানের উপরে, যমীনে নয়। আর এটা আল্লাহর কিতাব থেকেও প্রকাশিত; তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক হাদীস থেকেও তা প্রমাণিত।” তারপর তিনি সেসব আয়াতসমূহ উল্লেখ করেন যা আল্লাহ তা'আলার সর্বোচ্চ সত্তা হওয়াকে প্রমাণ করছে.” (২১৪)
ইবন আবদুল বার রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক শেষ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসার হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, هَذَا حَدِيثٌ ثَابِتٌ مِنْ جِهَةِ النَّقْلِ، صَحِيحُ الْإِسْنَادِ، لَا يَخْتَلِفُ أَهْلُ الْحَدِيثِ فِي صِحَّتِهِ، وَفِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ، وَعِلْمُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ كَمَا قَالَتِ الْجَمَاعَةُ أَهْلُ السُّنَّةِ أَهْلُ الْفِقْهِ وَالْأَثَرِ. "এ হাদীস সনদের দিক থেকে প্রমাণিত, বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত, হাদীস বিশারদগণ এটি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত করেননি। এতে এটা প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ উপরে, 'আরশের উপরে, সাত আসমানের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায়, যেমনটি আল-জামা'আত বলেছে, আহলুস সুন্নাত ও আহলুল ফিকহ ওয়াল আছার.” (২১৫) শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, وقد تأوّل قوم من المنتسبين إلى السنة والحديث حديث النزول وما كان نحوه من النصوص التي فيها فعل الرب اللازم كالإتيان والمجيء والهبوط ونحو ذلك ورد على ذلك مثبتاً هذه الصفات "সুন্নাহ ও হাদীসের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন কেউ কেউ আল্লাহ তা'আলার অবতরণের হাদীস ও অনুরূপ হাদীসগুলোর ভাষ্যের অপব্যাখ্যা করেছে, যাতে রাব্বুল আলামীনের আবশ্যক কর্মের কথা এসেছে, যেমন আগমন করা, আসা, অবতরণ করা ইত্যাদি.” তারপর তিনি এসব অপব্যাখ্যার যথাযোগ্য উত্তর দিয়ে আল্লাহ তা'আলার জন্য এ গুনাবলি সাব্যস্ত করেছেন। (২১৬)
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহيمাহুল্লাহ ইবন মানদাহ রাহিমاهুল্লাহ কর্তৃক আল্লাহ তা'আলার অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলোর বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেন, فهذا تلخيص ما ذكره عبد الرحمن بن منده مع أنه استوعب طرق هذا الحديث وذكر ألفاظه مثل قوله: «ينزل ربنا كل ليلة إلى السماء الدنيا إذا مضى ثلث الليل الأول فيقول: أنا الملك من ذا الذي يسألني فأعطيه، من ذا الذي يدعوني فأستجيب له، من ذا الذي يستغفرني فأغفر له، فلا يزال كذلك إلى الفجر» وفي لفظ: «إذا بقي من الليل ثلثاه ينبط الرب إلى السماء الدنيا وفي لفظ: «حتى ينشق الفجر ثم يرتفع وفي رواية: «يقول لا أسأل عن عبادي غيري من ذا الذي يسألني فأعطيه وفي رواية عمرو بن عبسة : أنَّ الرب يتدلى في جوف الليل إلي السماء الدنيا . "এ হচ্ছে আবদুর রহমান ইবন মানদাহ যা বলেছেন তার সংক্ষিপ্ত রূপ। অবশ্য তিনি এ হাদীসের অপরাপর বর্ণনাগুলো একত্রিত করেছেন এবং তার শব্দগুলো বর্ণনা করেছেন। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, "আমাদের রব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন যখন রাতের প্রথম তিন ভাগের একভাগ গত হয়, অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাজাধিরাজ, এমন কে আছে যে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দিব। এমন কে আছে যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব, এমন কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব, এরকমই সুবহে সাদিক পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন". অপর শব্দে এসেছে, "যখন রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে রব নিকটতম আসমানে নাযিল হন." অপর শব্দে এসেছে, "অবশেষে যখন সুবহে সাদিকের আলো এসে পড়ে তখন তিনি উপরে উঠে যান.” অপর বর্ণনায় এসেছে, "আল্লাহ বলেন, আমার বান্দার ব্যাপারে আমি ব্যতীত আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না, কে এমন আছে যে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দিব." আমর ইবন আবাসার বর্ণনায় এসেছে, "নিশ্চয় রব রাতের মধ্যভাগে নেমে আসেন প্রথম আসমানে.” (২১৭)
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা অবতরণ করার হাদীসটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দে অর্থসহ সাব্যস্ত হলো। সেগুলো হচ্ছে, 'নুযূল, হুবুত্ব ও তাদাল্লী। তিনটি শব্দের অর্থই হচ্ছে অবতরণ করা, নাযিল হওয়া, নিচে নেমে আসা।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী বলেন, إن هذه الأحاديث قد روتها الثقات، فنحن نرويها ونؤمن بها ولا نفسرها. "এ হাদীসগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন, আমরা সেগুলোকে বর্ণনা করব, ঈমান আনব কিন্তু ব্যাখ্যা করবো না.” (২১৮) এখানে 'ব্যাখ্যা করবো না' দ্বারা ধরন বুঝানো হয়েছে, কারণ ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে অর্থের ওপর ঈমান আনা যা এ ইমামের অন্য সিফাতের ওপর করা বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
১৯-হাশরের দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশ থেকে নেমে আসার হাদীস, অনুরূপ হাশরের মাঠে আগমনের হাদীস দ্বারাও আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন এবং 'আরশের উপর রয়েছেন সেটা প্রমাণিত হয়। যেমন,
• ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, يَجْمَعُ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ أَرْبَعِينَ سَنَةٌ شَاخِصَةً أَبْصَارُهُمْ إِلَى السَّمَاءِ يَنْتَظِرُونَ فَصْلَ الْقَضَاءِ وَيَنْزِلُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ مِنَ الْعَرْشِ إِلَى الْكُرْسِيِّ الْحَدِيثُ بِطُوْلِهِ. "আল্লাহ তা'আলা আগের ও পরের সকলকে এক নির্দিষ্ট দিনে একত্রিভূত করবেন। সেটা চল্লিশ বছর। তাদের চক্ষুগুলো আসমানের দিকে স্থির হয়ে থাকবে, তারা অপেক্ষা করবে বিচার-ফয়সালার। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মেঘের ছায়ায় 'আরশ থেকে কুরসীতে অবতরণ করবেন.” (২১৯)
• অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : حَدَّثَنِي رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَزَلَ إِلَى الْعِبَادِ لِيَقْضِيَ بَيْنَهُمْ». আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, "মহান আল্লাহ বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করার জন্য কিয়ামত দিবসে তাদের সামনে হাযির হবেন.” (২২০)
• অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا رَجَعَتْ إِلَى رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُهَاجِرَةُ الْبَحْرِ، قَالَ: «أَلَا تُحَدِّثُونِي بِأَعَاجِيبِ مَا رَأَيْتُمْ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ؟ قَالَ فِتْيَةٌ مِنْهُمْ: بَلَى: يَا رَسُولَ اللهِ بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَرَّتْ بِنَا عَجُوزٌ مِنْ عَجَائِزِ رَهَا بَيْنِهِمْ، تَحْمِلُ عَلَى رَأْسِهَا قُلَةً مِنْ مَاءٍ، فَمَرَّتْ بِفَتى مِنْهُمْ، فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ بَيْنَ كَتِفَيْهَا، ثُمَّ دَفَعَهَا فَخَرَّتْ عَلَى رُكْبَتَيْهَا، فَانْكَسَرَتْ قُلَتُهَا، فَلَمَّا ارْتَفَعَتِ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: سَوْفَ تَعْلَمُ يَا غُدَرُ إِذَا وَضَعَ اللَّهُ الْكُرْسِيَّ، وَجَمَعَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، وَتَكَلَّمَتِ الْأَيْدِي وَالْأَرْجُلُ، بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ، فَسَوْفَ تَعْلَمُ كَيْفَ أَمْرِي وَأَمْرُكَ عِنْدَهُ غَدًا، قَالَ: يَقُولُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَدَقَتْ، صَدَقَتْ كَيْفَ يُقَدِّسُ اللَّهُ أُمَّةٌ لَا يُؤْخَذُ لِضَعِيفِهِمْ مِنْ شَدِيدِهِمْ؟». জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সমুদ্রের মুহাজিরগণ (হাবশায় হিজরতকারী প্রথম দল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রত্যাবর্তন করলে তিনি বললেন, "তোমরা হাবশায় যেসব অনিষ্টজনক বিষয় প্রত্যক্ষ করেছ তা কি আমার নিকট ব্যক্ত করবে না?” তাদের মধ্য থেকে এক যুবক বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! একবার আমরা বসা ছিলাম, আমাদের সম্মুখ দিয়ে সেখানকার এক বৃদ্ধা নারী মাথায় পানি ভর্তি কলসসহ যাচ্ছিল। সে তাদের এক যুবককে অতিক্রমকালে তার কাঁধে তার এক হাত রেখে তাকে ধাক্কা দিলে সে উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ফলে তার কলসটি ভেঙ্গে গেল। সে উঠে দাঁড়িয়ে যুবকের দিকে তাকিলে বলল, হে দাগাবাজ! তুমি অচিরেই জানতে পারবে যখন আল্লাহ তা'আলা কুরসী স্থাপন করবেন, পূর্বাপর সকল মানুষকে সমবেত করবেন এবং হাত-পাগুলো তাদের কৃতকর্মের বিবরণ দিবে-তখন তুমিও জানতে পারবে সেদিন তোমার ও আমার অবস্থা কী হবে। জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এই বৃদ্ধা সত্য কথাই বলেছে, সত্য কথাই বলেছে। আল্লাহ তা'আলা সেই উম্মতকে কীভাবে গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন, যাদের সবলদের থেকে দুর্বলদের প্রাপ্য আদায় করে দেয়া হয় না.” (২২১)
• অন্য বর্ণনায় এসেছে, عَن بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَأَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم جَعْفَرًا حِينَ قَدِمَ مِنَ الْحُبَشَةِ: «مَا أَعْجَبُ شَيْءٍ رَأَيْتَهُ؟ قَالَ: رَأَيْتُ امْرَأَةً تَحْمِلُ عَلَى رَأْسِهَا مِكْتَلٌ مِنْ طَعَامٍ، فَمَرَّ فَارِسٌ فَرَكَضَهُ فَأَبْذَرَهُ، فَجَلَسَتْ تَجْمَعُ طَعَامَهَا، ثُمَّ الْتَفَتَتْ فَقَالَتْ: وَيْلٌ لَكَ، إِذَا وَضَعَ الْمَلِكُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُرْسِيَّهُ فَأَخَذَ لِلْمَظْلُومِ مِنَ الظَّالِمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَصْدِيقًا لِقَوْلِهَا: «لَا قُدَّسَتْ أُمَّهُ - أَوْ كَيْفَ تُقَدَّسُ أُمَّةٌ - لَا يَأْخُذُ ضَعِيفُهَا حَقَّهُ مِنْ شَدِيدِهَا غَيْرَ مُتَعْتَعٍ . বুরাইদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জা'ফর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু হাবশা থেকে প্রত্যাবর্তন করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি সেখানে আশ্চর্যের কী বিষয় দেখলে?” তিনি বললেন, আমি দেখলাম একজন (বৃদ্ধা) মহিলা তার মাথায় খাদ্য ভর্তি পাত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক অশ্বরোহী সেখান দিয়ে যাচ্ছিল, ফলে ধাক্কা লেগে তার (মহিলার) খাদ্য মাথা থেকে পড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল। মহিলা বসে বসে তার খাদ্য কুড়াচ্ছিল, আর সে (অশ্বরোহীর দিকে) তাকিয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হোক! যেদিন মালিক (আল্লাহ) তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর কুরসী স্থাপন করবেন এবং যালিমের যুলুমের প্রতিশোধ নিবেন, সেদিন তোমার কী অবস্থা হবে? মহিলার কথা সত্যায়ন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না অথবা তিনি বলেছেন, কীভাবে সে জাতিকে গুনাহ থেকে পবিত্র করা হবে -যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া সবলদের থেকে তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না.” (২২২)
২০-উপর থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি হলে সেটা তার শরীরে লাগাতেন। সেখানে তিনি যে শব্দটি বলেছেন সেটা প্রণিধানযোগ্য, হাদীসটি হচ্ছে, عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ : قَالَ أَنَسٌ : أَصَابَنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَطَرٌ، قَالَ: فَحَسَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبَهُ ، حَتَّى أَصَابَهُ مِنَ الْمُطَرِ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ صَنَعْتَ هَذَا؟ قَالَ: «لِأَنَّهُ حَدِيثُ عَهْدٍ بِرَبِّهِ تَعَالَى "সাবেত আল-বুনানী আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আনাস বলেন, আমাদেরকে বৃষ্টি পেয়ে বসেছিল, আমরা ছিলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাপড় নিচে নামালেন, অবশেষে তাকে বৃষ্টির পানি পেল। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এটা কেন করলেন? রাসূল বললেন, "কারণ এটা তার মহান রবের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে." (২২৩) মহান আল্লাহর নির্দেশে তা এসেছে, তাঁরই নির্দেশে তা সৃষ্টি হয়েছে। উপরের দিকটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দিক হিসেবে উল্লেখ করে তা বলেছেন। (২২৪)
২১-ঈমানদারের রূহ বের হয়ে উপরের দিকে উত্থিত হওয়া এবং আল্লাহ কর্তৃক সেটাকে ইল্লিয়ীনে প্রেরণ করা। হাদীসে এসেছে, ঈমানদারের রূহ হরণের পর ফিরিশতাগণ.. فَيَصْعَدُونَ بِهَا، فَلَا يَمُرُّونَ، يَعْنِي بِهَا، عَلَى مَلَةٍ مِنَ المَلَائِكَةِ، إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الطَّيِّبُ ؟ فَيَقُولُونَ: فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ، بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانُوا يُسَمُّونَهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يَنْتَهُوا بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَسْتَفْتِحُونَ لَهُ، فَيُفْتَحُ هُمْ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ .. "অতঃপর তারা সে রূহ নিয়ে উপরের দিকে আরোহন করতে থাকে, যখন তারা কোনো ফিরিশতাদের নেতাদের অতিক্রম করে অর্থাৎ রূহসহ, তখনই বলে, এ পবিত্র রূহ কী? তখন তারা বলে অমুকের পুত্র অমুক, দুনিয়ার বুকে তার যে সুন্দর নাম দিয়ে তাকে ডাকা হতো সে নামটিই তারা বলে, তারপর তার জন্য দরজা খোলার অনুমতি চাওয়া হয়, তখন তাদের জন্য তা খোলা হয়। তখন প্রতি আসমানের নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতাগণ পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তাদের পিছু পিছু চলতে থাকে, অবশেষে তাকে নিয়ে সপ্তম আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দার কিতাব তোমরা ইল্লিয়্যিনে লিখে নাও.....।” (২২৫)
অপর হাদীসে এসেছে, فَلَا يَزَالُ يُقَالُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ، ثُمَّ يُعْرَجَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا ، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ، فَيَقُولُونَ: مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ، كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، ادْخُلِي حَمِيدَةً، وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ، وَرَيْحَانٍ، وَرَبُّ غَيْرِ غَضْبَانَ قَالَ: فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ. "অতঃপর এভাবে বলা হতেই থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার রূহ বের না হচ্ছে, তারপর তারা সে রূহ নিয়ে আসমানের দিকে উঠে যায়, অতঃপর তাদের জন্য দরজা খুলতে অনুমতি চাওয়া হয়, তখন বলা হয়, কে এটা? জবাবে বলা হয়, অমুক; তখন তারা বলে, উত্তম এ আত্মার জন্য স্বাগতম, যা উত্তম শরীরে ছিল, প্রশংসিত হয়ে তুমি প্রবেশ কর, আর তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো প্রশান্তির, সুগন্ধির, আর এমন রবের যিনি ক্রোধান্বিত নন। তিনি বলেন, এভাবে তাকে বলা হতেই থাকে, অবশেষে সেটা নিয়ে সে আসমানে গিয়ে শেষ হয় যার উপর মহান আল্লাহ রয়েছেন.” (২২৬)
২২-আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরের দিকে ইঙ্গিত করে সাহাবায়ে কেরামকে সাক্ষ্য বানিয়েছেন, হাদীসে এসেছে, وَأَنْتُمْ تُسْأَلُونَ عَنِّي، فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ؟ قَالُوا : نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ، فَقَالَ: بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ، يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ «اللهُمَّ، اشْهَدُ، اللهُمَّ، اشْهَدْ ثَلَاثَ مَرَّات. "আর তোমাদেরকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা তখন কী বলবে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি পৌঁছিয়েছেন, আদায় করেছেন, নসীহত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর তর্জনী আঙ্গুল আকাশের দিকে উঠালেন এবং মানুষের দিকে বাঁকা করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষ্য থাকুন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষ্য থাকুন". তিনবার তিনি তা বললেন। (২২৭)
২৩-আসমানের উপরে আল্লাহর অবস্থানের বিষয়টি ফির'আউনের কন্যার মাথার চিরুনী প্রদানকারিনী মহিলা ফির'আউন কন্যাকে বলার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, لَمَّا أُسْرِيَ بِهِ مَرَّتْ رَائِحَةٌ طَيِّبَةٌ، فَقَالَ: «يَا جِبْرِيلُ مَا هَذِهِ الرَّائِحَةُ؟» ، فَقَالَ: هَذِهِ رَائِحَةُ مَاشِطَةِ ابْنَةِ فِرْعَوْنَ وَأَوْلَادِهَا، كَانَتْ تُمَشِّطُهَا، فَوَقَعَ المُشْطُ مِنْ يَدِهَا، فَقَالَتْ: بِسْمِ اللهِ فَقَالَتِ ابْنَتُهُ: أَبِي؟ قَالَتْ: لَا ، وَلَكِنْ رَبِّي وَرَبُّ أَبِيكِ اللَّهُ، فَقَالَتْ أُخْبِرُ بِذَلِكَ أَي ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ، فَأَخْبَرَتُهُ، فَدَعَا بِهَا، فَقَالَ: مَنْ رَبُّكِ؟، هَلْ لَكِ رَبُّ غَيْرِي؟ قَالَتْ: رَبِّي وَرَبُّكَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ، فَأَمَرَ بِبَقَرَةٍ مِنْ نُحَاسٍ فَأُحْمِيَتْ، ثُمَّ دَعَا بِهَا وَبِوَلَدِهَا فَأَلْقَاهُمْ فِيهَا. "যখন আমাকে নিয়ে রাতের ভ্রমণ (ইসরা) করা হলো, খুবই সুগন্ধ বের হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে জিবরীল, এ কেমন সুগন্ধ? তখন জিবরীল বললেন, এ হচ্ছে ফির'আউন কন্যার মাথার চুল বিন্যস্তকারী মহিলা ও তার সন্তানদের সুগন্ধ। এ মহিলা ফির'আউনের কন্যার কেশ বিন্যস্ত করছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনী পড়ে যায়, তখন সে বলেছিল, বিসমিল্লাহ। তখন ফির'আউনের মেয়ে বলেছিল, আমার বাবার নামে বল, সে মহিলা বললো, না। বরং আমার ও তোমার বাবার রব হচ্ছেন আল্লাহ। সে কন্যা বলল, আমি কি তা আমার পিতাকে বলে দিব? মহিলা বলল, হ্যাঁ। ফলে সে কন্যা পিতাকে তা জানিয়ে দিলে ফির'আউন সে মহিলাকে ডেকে বলল, তোমার রব কে? তোমার কি আমি ছাড়া আরও রব আছে? তখন মহিলা বলেছিল, আমার রব ও তোমার রব তো তিনিই, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন। তখন পিতলের প্রশস্ত ডেকচি আনার নির্দেশ দেয়া হলো, তারপর তা গরম করা হলো, অত:পর তাকে ও তার সন্তানদের ডেকে আনা হলো এবং তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হলো.” (২২৮)
২৪- রাব্বুল আলামীন তার 'আরশের উপরেই আছেন। আর জান্নাতীরা আল্লাহকে উপরের দিকে দেখবেন। আল্লাহ তা'আলা উপর থেকেই তাদেরকে দেখা দিবেন। সে উপরের দিক হচ্ছে 'আরশের দিক। সুতরাং হাদীসে এসেছে, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ ، أَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ الله مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ - فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الجَنَّةِ». "জান্নাতে একশতটি দরজা বা স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন, দু'টি দরজা বা স্তরের মাঝখানের দূরত্ব আসমান ও যমীনের মাঝখানের দূরত্বের সমান। সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে তখন তার কাছে তোমরা ফিরদাউস চাও; কেননা তা মধ্যম জান্নাত, সর্বোচ্চ জান্নাত, আর তার উপরেই রহমানের 'আরশ, সেখান থেকেই জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত।” (২২৯)
আর দেখার বিষয়টি অপর বহু হাদীসে এসেছে, সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ ، يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى : تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا ؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ ؟ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وجلَّ» . ثُمَّ تلا هَذِهِ الآيَةَ: لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ ﴾ [يونس: ٢٦] "যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, মহান ও বরকতময় আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমরা কি এমন কিছু চাও যা তোমাদের বাড়িয়ে দিব? তখন তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা শুভ্র করে দেননি? আপনি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি? আপনি কি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর পর্দা উন্মোচন করবেন, ফলে তারা বুঝবে যে, তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে তাকানোর চেয়ে বড় কোনো নি'আমত দেয়া হয়নি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, 'যারা ভালো কাজ করেছে তাদের জন্য ভালো পরিণতি (জান্নাত) রয়েছে, আর তাদের জন্য বাড়তি পাওনাও রয়েছে'." [সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৬] (২৩০)
আরও এসেছে, جَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ، آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَجَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ، آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِياءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ». "দু'টি জান্নাত, যা রৌপ্যের, তার পেয়ালা ও তাতে যা আছে সবই রৌপ্যের। আর দু'টি জান্নাত, যা স্বর্ণের, তার পেয়ালা ও তাতে যা আছে সবই স্বর্ণের। জান্নাতী ও তাদের রবের দিকে তাকানোর মধ্যে একমাত্র অন্তরাল থাকবে মহান আল্লাহর চেহারার উপর অহংকারের চাদর, চিরস্থায়ী জান্নাতে.” (২৩১)
আরও এসেছে, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, أَنَّ النَّاسَ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ! هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تُضَارُّونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ؟ قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: «فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: «فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ». "মানুষেরা বলতো, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আমাদের রবকে কিয়ামতের দিন দেখব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কোনো অসুবিধা হয়? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কি মেঘবিহীন সূর্য দেখতে অসুবিধা হয়? তারা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল বললেন, তাহলে তোমরা তাকে সেরকম দেখতে পাবে.” (২৩২)
আরও এসেছে, إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» ثُمَّ قَرَأَ: ﴿ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ ) [ق: ٣٩]. "তোমরা তোমাদের রবকে অচিরেই দেখতে পাবে, যেমন তোমরা এ চাঁদ দেখতে পাও, যা দেখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। সুতরাং যদি সম্ভব হয় অপারগ না হতে উদিত হওয়ার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার আগের সালাত পড়তে, তাহলে তা-ই করো। তারপর তিনি পড়লেন, "আর আপনি আপনার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করুন, সূর্য উদিত হওয়ার আগে ও ডুবার আগে.” [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৩৯]” (২৩৩)
আরও এসেছে, আবু রাযীন রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَنَرَى اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ وَمَا آيَةُ ذَلِكَ فِي خَلْقِهِ؟ قَالَ: «يَا أَبَا رَزِينٍ أَلَيْسَ كُلُّكُمْ يَرَى الْقَمَرَ مُخْلِيا بِهِ؟» قَلْتُ : بَلَى قَالَ: «فَاللَّهُ أَعْظَمُ وَذَلِكَ آيَةٌ فِي خَلْقِهِ». "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আল্লাহকে কিয়ামতের দিন দেখব? আর সৃষ্টির মাঝে এর নিদর্শন কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু রাযীন, তোমাদের সবাই কি চাঁদকে একান্ত করে দেখতে পাও না? আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তো আরও বড়, আর এটা তো তাঁর সৃষ্টিতে একটি নিদর্শন মাত্র.” (২৩৪)
ইমাম ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী বলেন, وليس تشبيه رؤية الله تعالى برؤية الشمس والقمر تشبيها الله، بل هو تشبيه الرؤية بالرؤية، لا تشبيه المرئي وهو الله ] بالمرئي [وهو الشمس والقمر، ولكن فيه دليل على علو الله على خلقه، وإلا فهل تعقل رؤية بلا مقابلة! ومن قال : يُرى لا في جهة فليراجع عقله !! فإما أن يكون مكابرا العقله، أو في عقله شيءٌ، وإلا فإذا قال: يُرى لا أمام الرائي، ولا خلفه، ولا عن يمينه ولا عن يساره ولا فوقه ولا تحته ردَّ عليه كل من سمعه بفطرته السليمة. ولهذا ألزم المعتزلة من نفى العلو بالذات بنفي الرؤية، وقالوا: كيفَ تُعْقَلُ رؤية بغير جهة». "আল্লাহর দেখাকে সূর্য ও চাঁদের দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা আল্লাহর জন্য সাদৃশ্য স্থাপিত হলো না। বরং এটা দেখার সাথে দেখার তুলনা উদ্দেশ্য, দৃশ্য (আল্লাহ) কে অপর দৃশ্য (সূর্য কিংবা চাঁদ) এর সাথে তাশবীহ তথা সাদৃশ্য দেয়া হয়নি। তবে এর মাধ্যমে আল্লাহ তার সকল সৃষ্টির উপরে থাকা সাব্যস্ত হলো, নতুবা এমন কোনো দেখা কি আছে যা বিপরীতে নয়? আর যারা বলে, দেখা যাবে তবে কোনো দিকে নয়, তারা তাদের বিবেক-বুদ্ধিকে সঠিক কিনা আবার পরীক্ষা করে দেখুক!! হয় সে তার বিবেক-বুদ্ধির দাবির বিরুদ্ধে জোর করে দাঁড়িয়েছে, নতুবা তার বিবেকে কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুবা যখন সে বলে, দেখা যাবে তবে দ্রষ্টার সামনে থেকেও নয়, পিছন থেকেও নয়, ডান দিক থেকেও নয়, বাম দিক থেকেও নয়, উপর থেকেও নয়, নিচ থেকেও নয়, তখন যেকোনো সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি সেটার প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়। আর এজন্যই যারা সত্তাগতভাবে আল্লাহর উপরে থাকা অস্বীকার করে (আশায়েরা ও মাতুরিদী সম্প্রদায়) তাদেরকে একেবারেই না দেখার বিষয়টি মানতে মু'তাযিলা সম্প্রদায়ের লোকেরা বাধ্য করে.” (২৩৫)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, والذي تفهمه الأمم على اختلاف لغاتها وأوهامها من هذه الرؤية رؤية المقَابَلَةِ والمُوَاجَهَةِ التي تكون بين الرائي والمرئي فيها مسافة محدودة غير مُفرطة في البعد، فتمتنع الرؤية، ولا في القرب، فلا تمكن الرؤية، لا تعقل الأمم غير هذا ، فإمَّا أَنْ يَرَوْهُ سبحانه من تحتهم - تعالى الله - أو من خلفهم، أو من أمامهم، أو عن أيمانهم، أو عن شمائلهم، أو من فوقهم، ولا بد من قسم من هذه الأقسام إن كانت الرؤية حقا، وكلها باطل سوى رؤيتهم له من فوقهم. ولا يتم إنكار الفوقية إلا بإنكار الرؤية، ولهذا طَرَدَ الجهميَّةُ أَصْلَهُم، وصرحوا بذلك، وركبوا النفيين معا، وصدَّقَ أهل السنة بالأمرين معا، وأقروا بهما، وصارَ مَنْ أثبت الرؤية، ونفى علو الرَّبِّ على خلقه واستواءه على عرشهِ مُذَبْذَبًا بينَ ذلك لا إلى هؤلاء، ولا إلى هؤلاء». "যা সকল জাতি তাদের ভাষার ভিন্নতা ও ধ্যান-ধারনার পার্থক্য সহ এ দেখাকে বুঝে তা হলো, বিপরীতমুখী ও সম্মুখ অবস্থানে দেখা। যাতে দ্রষ্টা ও দৃশ্য বস্তুর মাঝে নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকে, দূর খুব বেশি হয় না; কারণ বেশি দূর হলে দেখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। কোনো জাতি এর ব্যতিক্রম কিছু বুঝে না। হয় তারা আল্লাহ তা'আলাকে তাদের নিচ থেকে দেখবে, যা হওয়া থেকে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র অথবা পিছন দিকে দেখবে অথবা সামনের দিকে দেখবে অথবা তাদের ডান দিকে দেখবে অথবা তাদের বাম দিকে দেখবে অথবা তাদের উপর দিকে দেখবে। যদি সত্যি সত্যিই সেখানে দেখার বিষয়টি সত্য হয় তবে এ ভাগসমূহের কোনো একটি ভাগ অবশ্যই হবে। তবে আল্লাহ তা'আলাকে তাদের উপর দিক থেকে দেখা ব্যতীত বাকী সবই বাতিল। আর উপরে থাকাকে অস্বীকার তখনই সম্ভব হবে যখন তারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করবে। আর এজন্যই জাহমিয়্যারা তাদের নীতিতে অটল থেকেছে, তারা সেটা স্পষ্ট করে বলেও দিয়েছে, ফলে তারা (উপরের দিক ও দেখা) দু'টোকেই অস্বীকার করেছে। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত (উপরের দিক ও দেখা) দু'টোকেই সত্য বলে বিশ্বাস করেছে; স্বীকার করে নিয়েছে। তার বিপরীতে যারা আল্লাহ তা'আলার দেখা সাব্যস্ত করার পর রাব্বুল আলামীনের জন্য তাঁর সৃষ্টির উপরের দিক ও তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি অস্বীকারকারীরা দোটানায় দোদুল্যমান থেকেছে, না এদের দিকে, না ওদের দিকে!” (২৩৬)
২৫-ইসরাফীল 'আলাইহিস সালাম কর্তৃক 'আরশের দিকে তাকিয়ে থাকা, সেখান থেকে কখন আল্লাহ তা'আলা তাকে শিঙ্গায় ফুৎকারের নির্দেশ দিবেন সেটা প্রতিপালনের জন্য, যেমন হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَا طَرَفَ صَاحِبُ الصُّورِ مُذْ وُكِّلَ بِهِ مُسْتَعِدًّا يَنْظُرُ نَحْوَ الْعَرْشِ مَخَافَةَ أَنْ يُؤْمَرَ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إِلَيْهِ طَرْفُهُ كَأَنَّ عَيْنَيْهِ كَوْكَبَانِ دُرِّيَّانِ "যখন থেকে শিঙ্গাওয়ালাকে ফুৎকার দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তখন থেকে তিনি সর্বদা প্রস্তুত অবস্থায় 'আরশের দিকে তাকিয়ে আছেন, চোখের পাতা বন্ধ করছেন না এ আশঙ্কায় যে, তার চোখের পাতা খোলার আগেই ফুৎকারের নির্দেশ দেয়া হয়ে যাবে, তাঁর দু চোখ যেন দু'টি প্রজ্জ্বলিত তারকা.” (২৩৭)
২৬-'আরশকে আল্লাহ তা'আলার দিকে সম্পৃক্ত করা, তাঁর জন্য বিশেষ মর্যাদার সাথে তা খাস করা আর 'আরশ সবচেয়ে ভারী বস্তু হওয়া এসবই প্রমাণ করে যে, 'আরশকে তিনি তাঁর নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন এবং 'আরশের উপরই আছেন। জুওয়াইরিয়্যা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা বর্ণিত হাদীসে এসেছে, أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم خرج من عندها بكرة حين صلى الصبح، وهي في مسجدها. ثم رجع بعد أن أضحى، وهي جالسة. فقال: «ما زِلْتِ على الحال التي فَارَقْتُكِ عليها ؟ قالت: نعم. قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتُ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ». "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর কাছ থেকে ফজরের সালাতের সময়ে সকাল সকাল বেরিয়ে গেলেন, তখন তিনি তার ঘরের সালাতের জায়গায় বসা ছিলেন। তারপর তিনি ফিরে আসলেন, তখনও তিনি বসা অবস্থায় ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি কি সে অবস্থাতেই আছ, যে অবস্থায় আমি তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'অবশ্যই আমি তোমার পরে চারটি বাক্য তিনবার বলেছি, যা ওজন করলে তুমি দিনের এতক্ষণ ধরে যা বলেছ তা ওযন করা হয় তবে সেগুলো ওযনে ভারী হবে: সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, আদাদা খালক্কিহী, ওয়া রিদ্বা নাফসিহী ওয়া যিনাতা আরশিহী ও মিদাদা কালিমাতিহী.” (২৩৮)
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমahullah বলেন, المقصود بالحديث نهاية ما يمكن من المعدود، وغاية ما يمكن من القول والمحبوب هو كلامُ الرَّبِّ وَرِضَاهُ، وذكر عدد خلقه، وزنة عرشه». "হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে গণনা করার মতো জিনিসের গণনা করার শীর্ষ স্থানে যাওয়া। এ ব্যাপারে সর্বশেষ যা বলা সম্ভব তা হচ্ছে, যা গণনা করা যায় তার সর্বশেষ অবস্থা, যা বলা যায় তার সর্বোচ্চ অবস্থা, আর যা সবচেয়ে প্রিয় বাক্য তা হচ্ছে আল্লাহর বাণী ও তার সন্তুষ্টি, আরও উদ্দেশ্য আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যা ও তাঁর 'আরশের ওযন বর্ণনা করা.” (২৩৯) তিনি আরও বলেন, فهذا يُبَيِّنُ أنَّ زنة العرش أثقل الأوزان». “যা দ্বারা এটা পরিষ্কার করে বুঝা যায় যে, 'আরশের ওযন হচ্ছ সবচেয়ে ভারী ওযন.” (২৪০) অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে বলেন, أَنفِقُ بِلَالُ، وَلَا تَخْشَ مِنْ ذِي الْعَرْشِ إِقْلَالًا. “হে বিলাল, খরচ কর, তুমি 'আরশ ওয়ালার থেকে কম পাওয়ার আশঙ্কা করবে না.” (২৪১)
২৭-রাহেম বা আত্মীয়তার সম্পর্ক 'আরশের সাথে আটকে থাকার কথা বলা, আল্লাহ তার ফরিয়াদের জবাব প্রদান, এসবই প্রমাণ করে যে, তিনি 'আরশের উপরে। হাদীসে এসেছে, عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَقُولُ مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللَّهُ، وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللَّهُ». 'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রাহেম (আত্মীয়তার সম্পর্ক) আল্লাহর 'আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবেন.” (২৪২)
অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، وَلَيْسَ الْمُوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا». আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রাহেম (আত্মীয়তার সম্পর্ক) 'আরশের সাথে ঝুলন্ত। প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়; বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও তা বজায় রাখে.” (২৪৩)
২৮-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা করার সময় তাঁর যেসব গুণ বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে অন্যতম গুণ বলেছেন যে, তিনি সবকিছুর উপরে, اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحُبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللهُمَّ أَنتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ». "হে আল্লাহ, আসমানসমূহের রব, যমীনসমূহের রব, মহা 'আরশের রব, আমাদের রব, সকল বস্তুনিচয়ের রব, দানা ও আঁটি থেকে চারা বেরকারী, তাওরাত, ইঞ্জীল ও ফুরক্বান নাযিলকারী, আমি আপনার কাছে এমন সকল কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যার কপাল আপনি পাকড়াওকারী। হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম, আপনার আগে কেউ নেই, আপনিই শেষ, আপনার পরে কেউ নেই, আপনিই সর্বোপরে, আপনার উপরে কিছু নেই, আপনিই সর্বনিকটে আপনার চেয়ে নিকটে কেউ নেই, আপনি আমার ঋণগুলো পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে দারিদ্রতা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন.” (২88) সুতরাং আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপরে, তার উপরে আর কিছু নেই। আর সে উপরে থাকার অর্থই হচ্ছে তিনি 'আরশের উপর যা অপরাপর কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
২৯-আসমানের উপর থেকে নির্দেশনা আসা, ওহী আসা, আসমানের সাথে অন্তরের সম্পর্ক থাকা, যা আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপরে থাকাকে সপ্রমাণ করে। হাদীসে এসেছে, إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ، ضَرَبَتِ المَلائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ، كَالسِّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ». "যখন আল্লাহ তা'আলা আসমানে কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন ফিরিশতাগণ তাদের ডানা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে থাকেন, আল্লাহর কথার প্রতি বিনয়ানুগত্যতা প্রকাশের জন্য, যেন তা পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দ.” (২৪৫)
অপর এক বর্ণনায় এসেছে, সাবেত আল-বুনানী আনاس ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, انْطَلِقُ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا، كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُورُهَا، فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَتْ، فَقَالَا لَهَا : مَا يُبْكِيكِ ؟ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ فَقَالَتْ : مَا أَبْكِي أَنْ لَا أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ، فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ. فَجَعَلَا يَبْكِيَانِ مَعَهَا ». "চল, আমরা উম্মে আইমানের কাছে যাই, তার সাথে সাক্ষাত করি, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সাক্ষাত করতেন। অতঃপর যখন তারা দু'জন উম্মে আইমানের কাছে গেলেন, তখন উম্মে আইমান কেঁদে দিলেন। আবু বকর ও 'উমার দু'জন বললেন, তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যা রয়েছে তা অনেক বেশি উত্তম। তখন উম্মে আইমান বললেন, এজন্য কাঁদছি না যে, আমি জানি না যা আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রয়েছে তা বেশি উত্তম, তবে আমি কাঁদছি এজন্য যে, আসমান থেকে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তখন তার একথায় আবু বকর ও 'উমারেরও কান্না এসে গেল, তখন তারা দু'জন উম্মে আইমানের সাথে কাঁদতে লাগলেন.”(২৪৬)
৩০-সূর্য 'আরশের নিচে চলা ও সাজদাহ করা প্রমাণ করে যে, আরশ সবকিছুর উপরে, আর রাব্বুল আলামীন তারও উপরে: عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِأَبِي ذَرُ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ: «أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ؟»، قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ العَرْشِ ..... আবু যর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যাস্তের সময় আবু যর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, "তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়?” আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: “তা যেতে যেতে 'আরশের নিচে গিয়ে সাজদায় পড়ে যায়......" অন্য বর্ণনায় এসেছে, قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ : سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى: ﴿ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍ لَهَا ) [سورة يس: ۳۸] قَالَ: مُسْتَقَرُّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ». আবু যর রাদ্বিয়াল্লাহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, "আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট অবস্থান পথে, এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)-র নির্ধারণ." [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩৮] তিনি বলেছেন, "তার নির্দিষ্ট অবস্থানপথ হলো 'আরশের নিচে.” (২৪৭)
অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ وَهْبِ بْنِ جَابِرِ الْحَيَوَانِي، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، فَقَدِمَ عَلَيْهِ قَهْرَمَانٌ مِنَ الشَّامِ، وَقَدْ بَقِيَتْ لَيْلَةٌ مِنْ رَمَضَانَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ : هَلْ تَرَكْتَ عِنْدَ أَهْلِي مَا يَكْفِيهِمْ؟ قَالَ: قَدْ تَرَكْتُ عِنْدَهُمْ نَفَقَةٌ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ عَزَمْتُ عَلَيْكَ لَمَا رَجَعْتَ وَتَرَكْتَ هُمْ مَا يَكْفِيهِمْ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كَفَى إِنَّمَا أَنْ يُضَيِّعَ الرَّجُلُ مَنْ يَقُوتُ ، قَالَ : ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُنَا، قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ إِذَا غَرَبَتْ سَلَّمَتْ وَسَجَدَتْ وَاسْتَأْذَنَتْ، قَالَ: فَيُؤْذَنُ لَهَا، حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمًا غَرَبَتْ، فَسَلَّمَتْ وَسَجَدَتْ وَاسْتَأْذَنَتْ، فَلَا يُؤْذَنُ لَهَا، فَتَقُولُ: أَيْ رَبِّ، إِنَّ الْمَسِيرَ بَعِيدٌ، وَإِنِّي لَا يُؤْذَنُ لِي ، لَا أَبْلُغُ، قَالَ: فَتُحْبَسُ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُقَالُ لَهَا: اطْلُعِي مِنْ حَيْثُ غَرَبْتِ، قَالَ: فَمِنْ يَوْمَئِذٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَتُهَا لَمْ تَكُنْ ءَامَنَتْ مِن قَبْلُ ) [ سورة الأنعام: ١٥٨]. ওয়াহহাব ইবন জাবির আল-খায়ওয়ানী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনুল 'আস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর কাছে ছিলাম। তার কাছে শাম থেকে তার কোষাধ্যক্ষ আসলেন। তখন রমযানের এক রাত বাকী ছিল। আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমার (২৪৮) পরিবার-পরিজনের কাছে যথেষ্ট ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে এসেছ? তিনি বললেন, তাদেরকে খরচপাতি দিয়ে এসেছি। তখন আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি, তুমি ফিরে গেলে তাদের ভরণ-পোষণের যথেষ্ট খরচাদি দিয়ে আসবে; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, "যাদের ভরণ-পোষণ করা, ব্যয়ভার বহন করা কর্তব্য তা না করে তাদের হক বিনষ্ট করাই কোনো ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট.” (২৪৯) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবন 'আমর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তিনি নতুন করে হাদীস বর্ণনা করতে লাগলেন, "সূর্য চলতে চলতে যখন অস্ত যায় তখন সে (আল্লাহ তা'আলার 'আরশের নিচে) অস্তমিত হয়, সে মহান আল্লাহকে সালাম করে, সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে এবং পরবর্তী দিন উদিত হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে। তিনি বলেন, তাকে উদিত হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এভাবে চলতে চলতে একদিন সে অস্তমিত হয়ে ('আরশের নিচে মহান আল্লাহকে) সালাম করে, সাজদাবনত থাকে এবং পরের দিন উদিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু এদিন তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তখন সে বলবে, হে আমার রব, আমার গন্তব্য অনেক দূরের, আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। আমি গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হব না। তিনি বলেন, অতঃপর আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা তাকে আটকে রাখবেন। অতঃপর সূর্যকে বলা হবে: ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেদিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত “কোনো ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি.” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৮]”(২৫০)
৩১-যমীনে যারা চলাফেরা করে, তারা রব হতে পারে না বলে হাদীসে ঘোষণা করা হয়েছে: عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: ذَكَرْتُ المُسِيحَ الدَّجَّالَ لَيْلَةٌ، فَلَمْ يَأْتِنِي النَّوْمُ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: «لَا تَفْعَلِي، فَإِنَّهُ إِنْ يَخْرُجْ - وَأَنَا حَيٌّ - يَكْفِيكُمُوهُ اللَّهُ بِي، وَإِنْ يَخْرُجَ بَعْدَ أَنْ أَمُوتَ يَكْفِيكُمُوهُ اللَّهُ بِالصَّالِحِينَ». ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ نَبِيٌّ إِلَّا وَقَدْ حَذَرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ، وَإِنِّي أُحَذِّرُكُمُوهُ، إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، إِنَّهُ يَمْشِي فِي الْأَرْضِ، وَإِنَّ الْأَرْضَ وَالسَّمَاءَ اللَّهِ، إِلَّا أَنَّ الْمُسِيحَ عَيْنَهُ الْيُمْنَى كَأَنَّهَا عِنبَةٌ طَافِيَةٌ». নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "এক রাতে আমি মাসীহ দাজ্জালের কথা স্মরণ করলাম। আমার আর ঘুম আসছিল না। সকাল হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে ঘটনা বললাম। তিনি বললেন, "তুমি এরূপ ভয় পেয়ো না; কেননা আমি জীবিত থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আবির্ভাব হলে দাজ্জালের মোকাবেলায় আল্লাহ আমার দ্বারাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট করাবেন। আর যদি সে আমার মৃত্যুর পরে আবির্ভাব হয় তবে আল্লাহ তার মোকাবেলায় সৎকর্মশীলদের দ্বারা তোমাদেরকে যথেষ্ট করাবেন."
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "এমন কোনো নবী নেই যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে যাচ্ছি। সে অবশ্যই কানা হবে। আর মহান আল্লাহ নিশ্চয় কানা নন। সে যমীনে ভ্রমন করবে। আর আসমান ও যমীন মহান আল্লাহর। সাবধান! মাসীহ দাজ্জালেন ডান চক্ষু যেন ফুলে যাওয়া আঙ্গুরের মতো হবে.” (২৫১)
৩২-যারা এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেন, তারপর তাদের নিয়ে তার ফিরিশতাদের সাথে অহংকার করে কথা বলে, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা উপরে রয়েছেন, - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُغْرِبَ، فَرَجَعَ مَنْ رَجَعَ، وَعَقَّبَ مَنْ عَقَّبَ، فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْرِعًا، قَدْ حَفَزَهُ النَّفْسُ، وَقَدْ حَسَرَ عَنْ رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: «أَبْشِرُوا، هَذَا رَبُّكُمْ قَدْ فَتَحَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ ، يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ، يَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي قَدْ قَضَوْا فَرِيضَةً، وَهُمْ يَنْتَظِرُونَ أُخْرَى». আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিবের সালাত পড়লাম। তারপর যার চলে যাওয়ার চলে গেলেন এবং যার থেকে যাওয়ার থেকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দ্রুতবেগে এলেন যে, তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগলো। তাঁর দু' হাঁটুর কাপড় উঠে গিয়েছিল (২৫২), তিনি বললেন, "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফিরিশতাদের নিকট তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলছেন, 'তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরয আদায়ের পর পরবর্তী ফরয আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে'.” (২৫৩)
৩৩-সালাতে উপরের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, উপরের দিকটি আল্লাহ তা'আলার, সেদিকে তাকিয়ে না থেকে মাথা অবনত করে বিনয় ও আকুতির মাধ্যমে তাঁর কাছে চাওয়া দরকার। হাদীসে এসেছে, জাবের ইবন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ، أَوْ لَا تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ . "কিছু মানুষকে অবশ্যই সালাতের মধ্যে তাদের চোখ আসমানের দিকে উঠানো বন্ধ করতে হবে, নতুবা সেগুলো আর তাদের দিকে ফিরে আসবে না.” (২৫৪)
ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমاهুল্লাহ বলেন, ইসলামী শরী'আত এসেছে ফিত্বরাত বা স্বাভাবিক প্রকৃতির দাবি পূর্ণতা দেয়ার জন্যই। যেহেতু দো'আকারী, যাজ্ঞাকারীকে দো'আ ও চাওয়ার সময় বিনয় ও প্রশান্তচিত্ততা অবলম্বন করতে আদেশ করা হয়েছে। সুতরাং তার অবস্থার জন্য উপযোগী নয় যে, সে যার কাছে চাচ্ছে বা আকুতি জানাচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে, বরং উপযোগী হবে যেন সে মাথা নিচু করে রাখে, তাঁর সামনে চোখ নামিয়ে রাখবে। সুতরাং তার উচিত হবে দো'আর সময় হাত উঠলেও সে যেন চোখ উপরের দিকে না উঠায়; কারণ উপরের দিকটি তো আল্লাহর দিক. (২৫৫)
তাছাড়া এ হাদীস থেকে তাদের কথারও উত্তর হয়ে যায়, যারা বলে, আসমানের দিকে হাত তোলা এজন্য নয় যে, আল্লাহ উপরে, বরং এজন্য যে, আসমান দো'আর জন্য কিবলাস্বরূপ। এ হাদীসে সেটার খণ্ডন রয়েছে, কারণ যদি দো'আর কিবলার কারণেই আকাশের দিকে হাত তোলার কথা হয়ে থাকে তবে সবচেয়ে বড় দো'আর মাধ্যম হচ্ছে সালাত, সেখানে উপরের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হতো না। কারণ কিবলার দিকে তাকানো যাবে না এমন কথা তো কেউ কোনো দিন বলেনি। তাহলে প্রমাণিত হলো যে, উপরের দিকটি আল্লাহর হওয়ার কারণেই মানুষ উপরের দিকে হাত তোলো, দো'আর কিবলা হিসেবে নয়। বরং সকল দিক ও সকল বস্তুনিচয়ের যিনি মালিক তিনি স্বয়ং উপরের দিকে আছেন বলেই সে দিকে সালাতের মধ্যে তাকিয়ে থেকে অভদ্রতা করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সবচেয়ে বড় বিনয়ের জায়গার দিকে মাথা নিচু করে দাঁড়াতে, তাকিয়ে থাকতে।
৩৪-আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসে আল্লাহর জন্য যা উপযোগী নয়, যা থেকে আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করতে হবে তা বর্ণনা করেছেন, যেমন তিনি নিজেকে স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। (২৫৬) নিজেকে ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন (২৫৭), নিজেকে খাবার-দাবারের প্রতি মুখাপেক্ষিতা থেকে বিমুক্ত ঘোষণা করেছেন (২৫৮), নিজেকে মৃত্যু থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন(২৫৯), নিজেকে তন্দ্রা ও ঘুম থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন, (২৬০) নিজেকে ভুলে যাওয়া থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন, (২৬১) নিজেকে যুলুম থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন (২৬২), নিজেকে বেহুদা কাজ করা থেকে বিমুক্ত ঘোষণা করেছেন (২৬৩), ইয়াহূদীদের দাবি উযাইর আল্লাহর পুত্র, নাসারাদের দাবি 'ঈসা আল্লাহর পুত্র সেটাকে তিনি অস্বীকার করেছেন (২৬৪), তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও আল্লাহর জন্য যা উপযোগী নয় তা বর্ণনা করতে সামান্যতম কসূর করেননি। এমতাবস্থায় যদি 'আরশের উপর উঠা আল্লাহর জন্য উপযোগী না হতো তবে তা অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করে দিতেন বা তাঁর রাসূল সেটা বলতেন। যদি স্থান নির্ধারণ করা আল্লাহর জন্য অগ্রহণযোগ্য বিষয় হতো, তবে অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা বলতেন, কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক কিছু বলেননি বরং ইতিবাচক করেই কুরআন ও সুন্নাহ'র যাবতীয় ভাষ্য এসেছে। তাহলে এটা কি প্রমাণ করছে না যে, 'আরশের উপর উঠা এবং তার উপর থাকা আল্লাহর তা'আলার জন্য দোষের কিছু নয়।
তদুপরি আমরা দেখতে পাই যে, কাফির, মুশরিক ও আহলে কিতাবরা আল্লাহর জন্য যেসব খারাপ গুণ সাব্যস্ত করেছে সেগুলো থেকে মুক্ত করার সময়েও আল্লাহ তা'আলা নিজেকে 'আরশের অধিপতি হিসেবেই পরিচয় দিয়ে বলেছেন, ﴿لَوْ كَانَ فِيهِمَا عَالِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴾ [الانبياء:٢٢] "যদি এতদুভয়ের (আসমান ও যমীনের) মধ্যে আল্লাহ ব্যতীত আরও অনেক ইলাহ থাকত, তাহলে উভয়ই বিশৃঙ্খল হতো। অতএব, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে 'আরশের অধিপতি আল্লাহ কতই না পবিত্র.” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২২]
﴿سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴾ [الزخرف: ٨٢] "তারা যা আরোপ করে তা থেকে আসমানসমূহ ও যমীনের রব এবং 'আরশের রব পবিত্র-মহান.” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮২]
৩৫-সকল দলীল-প্রমাণের সম্মিলিত দাবি হচ্ছে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। কারণ, বহুমাত্রিক দলীলের যদি কোনো কোনোটি কারও বোধগম্য নাও হয়, সকল দলীল তো আর না বুঝার ভান করা যাবে না। এসব দলীল সামষ্টিকভাবে প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন।
৩৬-আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর 'আরশের আরোহন, সেখানে অবস্থান এর বিপরীত মতের পক্ষে কোনো একটি আয়াত কিংবা একটি হাদীস কেউ দেখাতে পারবে না যা প্রমাণ করে যে, তাদের দাবি অসার ও মিথ্যা। সত্য কথা হচ্ছে, তিনি দয়াময় তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন এবং তিনি 'আরশের উপর আছেন।
এখন আমরা "ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ” বা আল্লাহ কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়ে সাহাবী, তাবে'য়ী, তাবে তাবে'য়ী, হিদায়াতের ইমামগণ ও তাদের সুন্দর অনুসারীদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।
টিকাঃ
১৪৩. তাবারানী, মু'জামুল কাবীর, নং ১৫৪৭; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৫২)।
১৪৪. বুখারী, খালকু আফ'আলিল 'ইবাদ, পৃ. ৪২; আত-তারীখুল কাবীর (২/২২৪); আবু দাউদ, আস-সুন্নাহ অধ্যায়, ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৩৯); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৫৩), নং ৫৭৫; আল- আজুররী, আশ-শরী'আহ (৩/১০৯০), নং ৬৬৭; লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ (৩/৩৯৪)।
১৪৫. হাকিম, মুস্তাদরাক: ৪/২৫; তবারী, কাছাকাছি শব্দে তাফসীর'-এ (২২/১৪); ইবন কুদামাহ-ইসবাতু সিফাতিল 'উল্- পৃ. ৪০ নং ৩১; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১২), যাহাবী বলেছেন-এই হাদীস মুরসাল। অর্থাৎ শা'বী ও যাইনাবের মাঝে বিচ্ছিন্নতা আছে।
১৪৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪২১।
১৪৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৫৪।
১৪৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৩৫, ৩৬৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৪।
১৪৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫১৭।
১৫০. আত-তাওহীদ পৃ. ১১৯; আরও দেখুন: আবদুল্লাহ গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ (২/২৪৬)।
১৫১. ইবন যানজিওয়াইহ, আল-আমওয়াল, ৪২১; হারবী, গারীবিল হাদীস ৩/১০৩০; তাবারী, আ-তারীখ (২/২৫০)। আর শেষোক্ত অংশ, ইবন সা'দ, আত-তাবাক্বাত (৩/৩৯৪); আব্দ ইবন হুমাইদ, আল-মুসনাদ নং ১৪৯; বাযযার, আল-বাহরুয যাখখার ১০৯১।
১৫২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৩৭।
১৫৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৩৭, ৭০৪৭।
১৫৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৭।
১৫৫. যাহাবী, আল-আরশ ২/২৭।
১৫৬. সুনানে আবু দাউদ, ৪৭২৩; মুসনাদ আহমাদ (৩/২৯৪), নং ১৭৭১; আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু 'আলাল মারীসী ১১৩; আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ৭২; লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ ৬৫১।
১৫৭. হাদীসটি যারা বর্ণনা করেছেন, তারা হচ্ছেন, ১- আবু দাউদ, আস-সুনান, ৪/২৩১, হাদীস নং ৪৭২৩; ৪৭২৪, ৪৭২৫। ২- তিরমিযী, হাদীস নং ৫/৩৯৫, হাদীস নং ৩৩২০। ৩- ইবন মাজাহ, ১/৬৯, হাদীস নং ১৯৩। ৪- আবু 'আসেম আস-সুন্নাহ ১/২৫৩, হাদীস নং ৫৭৭। ৫- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ ১/২৩৪, হাদীস নং ১৪৪। ৬- আবুশ শাইখ, আল-আযমাহ, হাদীস নং ২০৬। ৭- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মারীসী পৃ. ৯১। ৮- আজুররী, আশ-শরী'আহ ২/৭২, হাদীস নং ৭০৬, ৭০৭। ৯- লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিক্বাদি আলহিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ ৩/৩৩, হাদীস নং, ৬৫০, ৬৫১। ১০- হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (২/৫০১)। ১১- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত পৃ. (৫৭৬) ১২- আহমাদ ফিল মুসনাদ ১/২০৬, হাদীস নং ১৭৭০, ১৭৭১। ১৩- আল-উকাইলী, আদ্ব-দু'আফাউল কাবীর, ২/২৮৪, ৮৫২। ১৪- ইবন 'আদী, আল-কামেল, ৭/২০০। ১৫- ইবনুল জাওযী, আল-'ইলালুল মুতানahiyah ১/২৩, হাদীস নং ৫, ৬।
হাদীসটির সনদে তিনটি দোষ নির্ধারণ করা হয়: এক. 'সিমাক ইবন হারব' বর্ণনাকারী রয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন 'উমাইরাহ থেকে, তিনি আল-আহনাফ ইবন কায়েস থেকে, তিনি আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব থেকে। মুহাদ্দিসগণের সাধারণ নিয়ম হচ্ছে সিমাক ইবন হারب এর একক বর্ণনায় সমস্যা রয়েছে।
দুই. আব্দুল্লাহ ইবন উমাইরাহ মাজহুলুল হাল, বা তার সম্পর্কে ভালো বা মন্দ কিছুই জানা যায় না। তিন. আব্দুল্লাহ ইবন উমাইরাহ তিনি আল-আহনাফ ইবন কায়েস থেকে শুনতে পাননি। উপরোক্ত তিন দোষ দেখিয়ে যারা হাদীসটি গ্রহণ করেননি, তারা হচ্ছেন, ১- ইমাম ইবনুল জাওযী, (আল-ইলালুল মুতানahiyah ১/৯)। ২- শাইখ আলবানী, সিলসিলাতুদ্ধ দ্ব'য়ীফاه ৩/৩৯৮; আল-উলু পৃ. ৬০। অপর দিকে যারা হাদীসটি গ্রহণ করেছেন, তারা হচ্ছেন, ১- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ। ২- আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক। ৩- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, আল-ওয়াসেত্বিয়্যাহ। ৪- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ূশ, তাহযীবু সুনানি আবী দাউদ। ৫- ইমাম যাহাবী, তালখীসুল মুস্তাদরাক, আল-'উলু, আল-আরশ, আল-আরবা'ঈন।
তাদের বক্তব্য হচ্ছে, যারা নিজেরা সহীহ হাদীস আনার শর্তে গ্রন্থে রচনা করেছেন, তন্মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছেন, ইবন খুযাইমাহ আত-তাওহীদ গ্রন্থে। তিনি সে গ্রন্থের ভূমিকায় শর্ত করেছেন যে, তিনি সহীহ হাদীস ব্যতীত আনবেন না। তাই ইবন খুযাইমাহ হাদীসটি আনয়ন করার কারণে ইমাম হাকিম আন-নাইসাপুরী, ইবন তাইমিয়্যাহ, হাফ্যে যাহাবী, ইবনুল কাইয়্যেমসহ সহীহ আকীদাহ'র বিখ্যাত আলেমগণ এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেন, তারা সেটা সরাসরি দলীল হিসেবে না আনলেও অপরাপর হাদীসের শাহেদ বা সমার্থবোধক দলীল হিসেবে নিয়ে এসেছেন।
১৫৮. তিরমিযী, হাদীস নং ১৯২৪; সুনানে আবু দাউদ, ৪৯৪১; আহমاد (১১/৩৩), নং ৬৪৯৪।
১৫৯. আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ২৫; যাহাবী, আল-উলু পৃ. ৮৪।
১৬০. ত্বায়ালাসী, হাদীস নং ৩৩৩; ত্বাবারানী, আল-কাবীর, ২৫০২;ওয়াল আওসাত্ব, ১৩৮৪; ওয়াস সগীর, ২৮১।
১৬১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৬৫, ৪৮৯৭; সহীহ মুসলিম ১৪৩৬।
১৬২. দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল বিশর আল-মারীসী পৃ. ৭৫; আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (১/১৯); খাত্বীব, তারিখে বাগদাদ (১০/৩৪৬)। ইমাম যাহাবী বলেন, এর সনদ হাসান, আল-উলু, আল-আরশ, আল-আরাঈন; অনুরূপভাবে মানাওয়ী আত-তাইসীর গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (২/৩০২)।
১৬৩. আবু দাউদ, আস-সুনান ৩৮৯২; দুর্বল সনদে, তবে এর অনেক শাওয়াহিদ রয়েছে। আরও দেখুন: মুসনাদ আহমاد (৬/২১); আল-লালেকাঈ, শরহু উসূলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত (৩/৩৮৯); আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ১৮; আর-রাদ্দু আলাল মারীসী ৫১৪; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক ১/৩৪৩-৩৪৪; আল-বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত পৃ. ৫৩৩; ইবন কুদামা, ইসবাতি সিফাতিল উলু পৃ. ৭৪।
১৬৪. তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৮৩ দুর্বল সনদে; ত্বাবারানী, ফিল কাবীর ১৮/১৭৪; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ ১২০; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত পৃ. ৫৩৪; ইবন কুদামাহ ইসবাতু সিফাতিল উলু ৭৫-৭৭।
১৬৫. ইবন হিব্বান, ৮৭৬, ৮৮০; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫৬; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৮৮।
১৬৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৬৩।
১৬৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৫৫।
১৬৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৫।
১৬৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৩৩।
১৭০. দেখুন: ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, আবুল হাসান আল-আশ'আরী, আল-ইবানাহ ৯৭-৯৮; ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৪); ইবন কুদামাহ আল-মাক্বদেসী, ইসবাতি সিফতাতিল উলু ৬৩।
১৭১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৪।
১৭২. মুসনাদ আহমাদ (৩৬/৮৫-৮৬), নং ২১৭৫৩; নাসায়ী, হাদীস নং ২৩৫৭, ২৩৫৮; আবু নু'আইম ফিল হিলইয়া (৯/১৮); দ্বিয়া আল-মাক্বদেসী, আল-মুখতারاه ১৩৫৬; ইবন আবী শাইbah, আল-মুসান্নাফ, হাদীস নং ৯৮৫৮।
১৭৩. তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭৮।
১৭৪. আবু দাউদ, হাদীস নং ৭৭0।
১৭৫. হাসান: নাসায়ী ফী আমালিল ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ, হাদীস নং ৩৪১; আহমاد, হাদীস নং ১২৬১২; ইবন হিব্বান একে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৮৪৫।
১৭৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৯।
১৭৭. হাকিম, মুস্তাদরাক, হাদীস নং ৮১।
১৭৮. যাহাবী, আল-উলু, হাদীস নং ৫৩।
১৭৯. হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (২/৬৩২), নং ৪১০৭।
১৮০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৩০, ৬৯৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৩২।
১৮১. ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ, পৃ. ৩৮১।
১৮২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৮৯।
১৮৩. আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ: (১০/৫৬৭)।
১৮৪. প্রথম বর্ণনাটি ইবন কুদামা, ইসবাতি সিফাতুল উলু ৪১; যাহাবী, আল-উলু ৫৭; আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি বুখারীর, হাদীস নং ৭০০২ তা'লীকভাবে; আর তৃতীয় বর্ণনাটি, বুখারীর, হাদীস নং ৩৩৪০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৩।
১৮৫. মুত্তাফাকুন 'আলাইহি: বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং ৪৭১২; মুসলিম, হাদীস নং ১৯৪।
১৮৬. তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১৬।
১৮৭. তিরমিযী, হাদীস নং ৫৮৪।
১৮৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫১৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬৮।
১৮৯. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯০১।
১৯০. সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৮০৯।
১৯১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯৯।
১৯২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৬১; আহমاد, মুসনাদ (৫/১০১)।
১৯৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৭।
১৯৪. ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ পৃ. ৩৮১।
১৯৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৭। হাদীসের উক্তি : أَلْنَا عَنْ ذَلِكَ দ্বারা বাহ্যত যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আর তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর সম্পর্কে জ্ঞাত থাকার কারণে তাঁর নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমاهুল্লাহ তাহযীবুস সুন্নাহ (৩/৩৭৪)-তে বলেছেন।
১৯৬. মুত্তাফাকুন 'আলাইhi: বর্ণনায় মালিক, হাদীস নং ১৪; মুসলিম, হাদীস নং ১০৩১; বুখারী, হাদীস নং ৬৬০। হাদীসের উক্তি: في ظله অর্থাৎ 'আরশের ছায়াতলে।
১৯৭. সহীহ: বর্ণনায় মালিক, হাদীস নং ১৩; মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬৬।
১৯৮. হাসান: বর্ণনায় ইমাম আহমاد, হাদীস নং ১৭১৫৮; ত্ববরানী, আল-মু'জামুল কাবীর (৮/২৫৮)।
১৯৯. সহীহ: বর্ণনায় মালিক, হাদীস নং ১৬ (চুল বিষয়ক অধ্যায়)।
২০০. সহীহ: বর্ণনায় হাকিম (৪/১৭০-১৭১)।
২০১. হাসান: আবদুর রাযযাক, হাদীস নং ২০৩২৪; আবদুল্লাহ ইবন মুবারক, আয-যুহুদ, হাদীস নং ৭১৪; আহমاد, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ২২৯০৬।
২০২. সহীহ: বর্ণনায় হাকিম (৪/১৬৯); আহমاد, হাদীস নং ২২০০২।
২০৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ৭৫৮।
২০৪. ইবন খুযাইমাহ, ৮৯; মুসনাদ আহমاد (১/৩৮৮), ৪৪৬; আল-আজুররী, আশ-শরী'আহ, নং ৩১২।
২০৫. আল-আজুররী, আশ-শরী'আহ ৩/১১৩৮, নং ৭১১।
২০৬. সহীহ: বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং (৭৫৮ : ১৭২)।
২০৭. সহীহ: বর্ণনায় মুসলিম, হাদীس নং (৭৫৮ : ১৭১)
২০৮. হাসান: বর্ণনায় আল-বাযযার, হাদীس নং ৪৭৭, ৪৭৮; আহমাদ, হাদীস নং ৯৬৮; দারেমী, হাদীس নং ১৪৯২; দারাকুত্বনী, আন-নুযূল, হাদীস নং ০১।
২০৯. সহীহ: আহমাদ, হাদীس নং ১৬৭৪৫; আল-বাযযার, কাশফুল আসতার, হাদীস নং ৩১৫২; আবু ইয়া'লা, হাদীس নং ৭৪০।
২১০. আল-ওসিয়্যাত, ৫৪।
২১১. আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ, ৭৩।
২১২. আত-তাবসীর ফী মা'আলিমিদ দীন, ১৩৬।
২১৩. আল-ইবানাহ ১১০-১১২।
২১৪. উসূলুস সুন্নাহ ১১৩-১১৪।
২১৫. আল-ইস্তেযকার (৮/১৪৮)।
২১৬. মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৫/৩৯৭)।
২১৭. মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৫/৩৯৪)।
২১৮. স্বায়েদ আন-নাইসাপূরী আল-হানাফী, কিতাবুল ই'তিকাদ (আকীদাতুল ইমাম আবু হানীফা) পৃ. ১৭০; যাহাবী, আল-আরবা'ঈن ফী সিফাতি রাব্বিল আলামীন পৃ. ৭০।
২১৯. আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমاد, আস-সুন্নাহ পৃ. ২০৬; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২১৫-২১৭); আজুররী, আশ-শারী'আহ (২/১০১৯-১০২২); হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৪/৫৮৯-৫৯০); লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ (৩/৪৮৫); যাহাবী, আল-উলু পৃ. ৫৪; আল-'আরশ (২/১১৬-১১৭); আল-আরবা'ঈن ১৩৫-১৩৭, হাদীس নং ১৩১; ইবন মানদাহ, আত-তাওহীদ, হাদীس নং ৫৩১। আলেগমণ এর একটি সনদকে বিশুদ্ধ বলেছেন। এ সনদের লোকজন হচ্ছেন, ইসমাঈল ইবন 'উবাইদ ইবন আবী করীমاه আল-হাররানী, তিনি মুহাম্মاد ইবন সালামah আল-হাররানী থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান খালেদ ইবন আবী ইয়াযীদ থেকে, তিনি যায়েد ইবন আবী উনাইsah, থেকে তিনি মিনহাল ইবন 'উমার থেকে, তিনি আবু উবাইdah ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ থেকে, তিনি মাসরূক্ক ইবনুল আজদা' থেকে। এর সনদে হাদীসটি সহীহ।
এর বাইরে আরও যেসব সনদে তা এসেছে তা হচ্ছে, ত্বাবারানী ফিল কাবীর (৯৭৬৩), ইবন মানদাহ হাদীس নং ৮৪৪ এর পরে, আবু খালেদ আদ-দালানী, মিনহাল ইবন 'উমার, আবু উবাইdah, মাসরূক, ইবন মাসউদ। এ সনদে হাদীسটি হাসান।
এর বাইরে যত সনদে তা এসেছে তাতে কর্তিত সনদ রয়েছে। [বিস্তারিত দেখুন, মাজমা'উদ যাওয়ায়িদ ২২/৫৫]
২২০. সহীহ: তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮২; ইবন খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ২৪৮২; হাকিম (১/৪১৮-৪১৯)। এ হাদীসের মূল সহীহ মুসলিমে অন্য সূত্রে রয়েছে; তবে তাতে মহান আল্লাহর অবতরণের কথা উল্লেখ নেই। [মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৫]
২২১. হাসান: বর্ণনায় ইবন মাজাহ, হাদীس নং ৪০১০; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৫০৫৮; ইবন আবিদ দুনইয়া, আল-আহওয়াল, হাদীس নং ২৪২।
২২২. শাওয়াহিদসহ হাসান: বর্ণনায় আল-বাযযার, কাশফুল আসতার, হাদীس নং ১৫৯৬; বায়হাকী, আল-আসমা ওয়াস-সিফাত, হাদীس নং ৮৬০।
২২৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৯৮।
২২৪. দেখুন: ইমাম দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, ইবন আবদুল হাদী, আল-কালামু আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া আলাল 'আরশ; যাহাবী, আল-উলু, আল-আরশ; আলবানী। শাইখ ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হতে পারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা এজন্য বলেছেন যে, যা উপরে তা আল্লাহর নিকটে। আর বৃষ্টি উপর দিক থেকে আসে। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, http://altameme1.blogspot. com/2013/09/blog-post_44.html
২২৫. মুসনাদে আহমাদ, (৩০/৪৯৯), নং ১৮৫৩৪।
২২৬. আহমاد, আল-মুসনাদ (২/২৬৪), (৬/১৪০); ইবন মাজাহ, নং ২১; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ পৃ. ১২০।
২২৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮।
২২৮. মুসনাদে আহমাদ, হাদীس নং ২৮২৩; আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ নং ৭১; সহীহ ইবন হিব্বান (৭/১৬৪), নং ২৯০৪; আদ্ব-দ্বিয়া আল-মাক্বদেসী, আল-মুখতারাহ (১০/২৮৮)।
২২৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪২৩; আহমاد, মুসনাদ (৫/৩১৬-৩২১)।
২৩০. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১।
২৩১. সহীহ বুখারী, হাদীس নং ৪৮৭৮, ৪৮৮০, ৭৪৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮০।
২৩২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২।
২৩৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ১৮৩।
২৩৪. সুনান ইবন মাজাহ, হাদীس নং ১৮০।
২৩৫. ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী, শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ (১/২১৯-২২০)।
২৩৬. ই'লামুল মুওয়াক্কে'ঈন (২/৩১৭-৩১৮)।
২৩৭. হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৪/৬০৩), হাদীস নং ৮৬৭৬; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ, হাদীس নং ৩৯১।
২৩৮. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ২৭২৬।
২৩৯. বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৫৭৫)।
২৪০. মাজমূ ফাতাওয়া (৬/৫৫৩)।
২৪১. মুসানাদুল বাযযার (১/৩৯৬), (৪/২০৪), (৫/৩৪৮), (১৭/২৪৯); মুসনাদুল হারেস (২/৮৭৫), নং ৯৪১; সহীহ সনদে।
২৪২. মুত্তাফাকুন 'আলাইhi: বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং ২৫৫৫; বুখারী, হাদীস নং ৫৯৮৯।
২৪৩. সহীহ: বর্ণনায় ইমাম আহমاد, হাদীس নং ৬৫২৪, ৬৮১৭; ইবন হিব্বান একে সহীহ বলেছেন, হাদীس নং ৪৪৫।
২৪৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭১৩।
২৪৫. সহীহ বুখারী, হাদীس নং ৪৭০১।
২৪৬. সহীহ মুসলিম, হাদীس নং ২৪৫৪।
২৪৭. মুত্তাফাকুন 'আলাইhi: বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং ৩১৯৯; মুসলিম, হাদীس নং ১৫৯।
২৪৮. মুসনাদে আহমাদের অপর বর্ণনায় এসেছে 'তোমার'। (হাদীস নং ৬৮৪৩) এ বর্ণনাটি আমার কাছে বেশি উপযোগী মনে হয়; কারণ তা শু'ba ইবনুল হাজ্জাজের বর্ণনায় এসেছে। তবে দু'টোই হতে পারে। অর্থাৎ তোমার ও আমার। কারণ 'কাহরমান' বা নায়েব সাহেব এ বর্ণনায় এসেছে, তিনি দাস ছিলেন। একজন মনিব নিজের পরিবারের সাথে সাথে তার অধিনস্থ দাস-দাসীর পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়াও জরুরী।
২৪৯. মূলত মারফু হাদীস এ পর্যন্তই। তারপর বাকী অংশ মাওকুফ হাদীস। [বাশশার আওয়اد মা'রুফ, আল-মুসনাদ আল-মু'আল্লাল]
২৫০. হাসান: বর্ণনায় আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, হাদীس নং ২০৮১০; হাকিম, (৪/৫০০-৫০১)। এ হাদীسটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আব্দুল্লাহ ইবন 'আমর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণনা করেন, তাঁর থেকে ওয়াহাব ইবন জাবের আল-খাইওয়ানী বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে তা আবু ইসহাক্ক আস- সাবী'ঈ (আমর ইবন আব্দুল্লাহ আল-হামাদানী)। তাঁর থেকে মা'মার ইবন রাশেد, ইসরাঈল ইবন ইউনুস, সুফইয়ান আস-সাওরী, সুলাইমান আল-আ'মাশ, শু'bah ইবনুল হাজ্জাজ, আবু বকর ইবন 'আইয়্যাশ, আবু হারীয আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন, (এ সাতজন) বর্ণনা করেন। এ অংশ আরও যারা বর্ণনা করেন, তারা হচ্ছেন, আবু দাউد (১৬৯২), আবু দাউদ আত্ব-তায়ালাসী (২৩৯৫) বাযযার (২৪১৪, ২৪১৫), ত্বাবারানী (১৪৪৫৪-১৪৪৫৬), ইবন হিব্বান, (৪২৪۰), বাইহাকী আল-কুবরা ৯/২৫; ৭/৪৬৭; বাগাওয়ী ২৪۰৪; আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া ৪/১২২, ৫/২৩, ৮৭, ৭/৮, ১৩৫। তাছাড়া সহীহ মুসলিমে (২২৭৫) (৯৯৬) ও ইবন হিব্বান (৪২৪১) এ অংশের শাহেদ আছে।
হাদীসের সূর্য কতৃক আরশের নিচে সাজদা দেওয়ার অংশের জন্য মারফু' শাহেদ রয়েছে। যা বুখারী (৩১৯৯), (৪৮۰২), (৪৮۰৩) (৭৪৩৩); মুসলিম (১৫৯), মুসনাদ আহমاد (১১/৪৬৯)।
২৫১. হাসান: বর্ণনায় ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ, হাদীس নং ৫৬।
২৫২. কাপড় হাঁটুর উপর উঠে যাওয়া সম্ভবত দ্রুত আগমনের কারণে ঘটেছে, ইচ্ছাকৃত নয়। [সুয়ূত্বী, ইনজাহুল হাজاه পৃ. ৫৮]
২৫৩. সহীহ: বর্ণনায় ইবন মাজাহ, হাদীس নং ৮০১।
২৫৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৮।
২৫৫. মুখতাসারুস সাওয়ায়িক, পৃ. ৪৮৬।
২৫৬. সূরা ইখলাস, আয়াত: ৩-৪; সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ০৩
২৫৭. সূরা কাফ, আয়াত: ৩৮।
২৫৮. সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৪।
২৫৯. সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৮।
২৬০. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫।
২৬১. সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৬৪।
২৬২. সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৯।
২৬৩. সূরা আদ-দোখান, আয়াত: ৩৮-৩৯; আল-মুমিনুন, আয়াত: ১১৫।
২৬৪. সূরা আত-তাওbah, আয়াত: ৩০।