📄 আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বাইরে অবস্থানকারীদের ‘আরশের ব্যাপারে অভিমত
১১- আল্লাহ তা'আলা 'আরশকে তাঁর নাম রহমানের সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ বলেন, ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥] "দয়াময় (আল্লাহ) 'আরশের উপর উঠেছেন." [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেন, ﴿الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ﴾ [الفرقان: ٥٩] "তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু'য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনিই 'রহমান', সুতরাং তাঁর সম্বন্ধে যে অবহিত তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।” [সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ৫৯]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, রহমান নামটিকে 'আরশের সাথে সম্পৃক্ত করার হিকমত হচ্ছে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানাচ্ছেন যে, তিনি সবচেয়ে প্রশস্ত সৃষ্টির উপর উঠেছেন, সবচেয়ে বড় গুণ নিয়ে। কারণ, 'আরশ সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে, সবকিছুর জন্য তা প্রশস্ত। আর সৃষ্টির জন্য রহমতও তাদের সবার জন্য প্রশস্ত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, ﴿ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ ﴾ [الأعراف: ١٥٦] "আর আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে." [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৫৬] (৫০)
১২- মহান আল্লাহ 'আরশের উপর লিখেছেন, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَمَّا قَضَى الخَلْقَ ، كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ : إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي "যখন আল্লাহ সৃষ্টিকর্ম সম্পন্ন করলেন, তখন তাঁর কাছে তাঁর 'আরশের উপর লিখে নিয়েছেন, 'আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে।”(৫১)
১৩- 'রেহেম' 'আরশের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নিয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَقُولُ مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللَّهُ، وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللَّهُ "রেহেম 'আরশের সাথে লটকে আছে, সে বলে, যে আমার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন, আর যে আমার সাথে সম্পর্কচ্যুতি ঘটাবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্কচ্যুতি ঘটাবেন।” (৫২)
১৪- 'আরশ সবচেয়ে ভারী জিনিস (৫৩): হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী জুওয়াইরিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহার কাছ থেকে ফজরের সালাতের পর বের হলেন, তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে বসা ছিলেন, তারপর চাশতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখেন এখনও জুয়াইরিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা সে বসায় আছেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি এখনো সে বসায় রয়েছ, যাতে আমি তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتُهُنَّ : سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ» "আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পরে তিনটি বাক্য বলেছি, যা ওজন করলে তুমি দিনের এতক্ষণ সময় ধরে যা বলেছ তা থেকে বেশি ভারী হবে, সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী আদাদা খালকিহী, ওয়া রিদা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা আরশিহী ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী।”(৫৪)
১৫- 'আরশ লাল রূবী পাথর (ইয়াকৃত): ইমাম যাহাবী বলেন, ما الظَّن بالعرش الْعَظِيمِ الَّذِي اتَّخَذَهُ العلي العظيم لنفسه في ارتفاعه وسعته وقوائمه وماهيته وحملته والكروبيين الحافين من حوله وحسنه ورونقه وقيمته فقد ورد أنه من ياقوته حمراء "তোমার কী ধারণা সে 'আরশের ব্যাপারে, যা সর্বোচ্চ মহান সত্তা নিজের জন্য গ্রহণ করেছেন, তার উচ্চতা, প্রশস্ততা, পায়া, গঠনশৈলী, বহনকারী, কুরূবীগণ, যারা সেটাকে চারপাশে ঘিরে আছে, তার সৌন্দর্য ও তার মূল্য সম্পর্কে? যেখানে বলা হচ্ছে যে, লাল রুবী পাথরের তৈরি।”(৫৫)
ইমাম ইবন কাসীর বলেন, وَجَاءَ عَنْ بَعْضِ السَّلَفِ أَنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَ الْعَرْشِ إِلَى الْأَرْضِ مَسِيرَةَ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، وَبُعْدَ مَا بَيْنَ قُطْرَيْهِ مَسِيرَةً خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، وَهُوَ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ. "কোনো কোনো সালাফ বলেন, 'আরশের দু'দিকের দূরত্ব পঞ্চাশ হাজার বছরের দূরত্বের মতো, আর সেটা লাল রূবী পাথরের তৈরি।”(৫৬)
১৬- 'আরশ সকল সৃষ্টির উপর গম্বুজের মতো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ عَرْشَهُ عَلَى سَمَاوَاتِهِ هَكَذَا» وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ مِثْلَ الْقُبَّةِ عَلَيْهِ "নিশ্চয় তাঁর 'আরশ তাঁর আসমানসমূহের উপর এরকম, তারপর তা তিনি তার আঙ্গুলগুলো দিয়ে দেখালেন যে, তা এগুলোর উপর গম্বুজের মতো।” (৫৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, إِنَّ عَرْشَهُ عَلَى سَمَاوَاتِهِ وَأَرَضِيهِ فَكَذَا مِثْلُ الْقُبَّةِ» "নিশ্চয় আল্লাহর 'আরশ তাঁর আসমান ও যমীনের উপর এরকম, গম্বুজের মতো।”(৫৮)
ইমাম ইবন কাসীর রাহিমাহুল্লাহ 'আরশের বর্ণনায় বলেন, 'তা এমন এক খাট, যাতে পায়া রয়েছে, যা ফিরিশতারা বহন করে, আর তা জগতের উপর গম্বুজের মতো, যা সকল সৃষ্টির উপর ছাদ। (৫৯)
১৭- 'আরশের রয়েছে ছায়া: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ فِي ظِلَّ الْعَرْشِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ». "যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসবে, তারা নূরের মিম্বরের উপর আল্লাহর 'আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে, যে দিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।”(৬০)
অপর বর্ণনায় এসেছে, أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي» "আমার সম্মান ও আনুগত্যের কারণে যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছে, (দুনিয়ার কারণে নয়) তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার 'আরশের ছায়ায় ছায়া দান করব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।” (৬১)
অপর হাদীসে এসেছে, سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ، يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ "সাত শ্রেণির লোককে আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের ছায়ায় রাখবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।” (৬২)
অপর হাদীসে এসেছে, مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ لَهُ ، أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ تَحْتَ ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ "যে কেউ কোনো অভাবীকে ঋণ আদায়ে সময় দিবে অথবা তার থেকে তা বাদ দিয়ে দিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তাঁর 'আরশের নিচে ছায়ায় রাখবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।” (৬৩)
১৮-'আরশ কারও কারও সাক্ষাতের জন্য খুশী হয়ে কেঁপে উঠেছিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "সা'দ ইবন মু'আযের মৃত্যুতে রহমানের 'আরশ কেঁপে উঠেছিল।”(৬৪) অপর বর্ণনায়, اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ لَقَدِ اهْتَزَّ الْعَرْشُ حُبِّ لِقَاءِ اللَّهِ سَعْدًا. "আরশ কেঁপে উঠেছিল আল্লাহ কর্তৃক সা'দের ভালোবাসার কারণে।”(৬৫) অপর বর্ণনায়, لَمَّا تُوُفِّيَ سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ صَاحَتْ أُمُّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلَا يَرْقَأُ دَمْعُكِ، وَيَذْهَبُ حُزْنُكِ، فَإِنَّ ابْنَكِ أَوَّلُ مَنْ ضَحِكَ اللَّهُ لَهُ، وَاهْتَزَّ لَهُ الْعَرْشُ» "যখন সা'দ ইবন মু'আয রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর মৃত্যু হলো, তখন তার মা চিৎকার করে কাঁদতে লাগলে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, "তোমার অশ্রু কি সম্বরণ করবে না, তোমার পেরেশানী কি চলে যাবে না, তোমার সন্তান হচ্ছে প্রথম ব্যক্তি যার জন্য আল্লাহ হাঁসলেন, আর তার 'আরশ খুশিতে কেঁপে উঠেছে।”(৬৬)
১৯- 'আরশের রয়েছে ভারজনিত শব্দ: কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন, تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَن فِي الْأَرْضِ) [الشورى: ٥] "আসমানসমূহ উপর থেকে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়, আর ফিরিশতাগণ তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং যমীনে যারা আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে.” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ০৫]
ইমাম ত্বাবারী, ইবন কাসীর ও কুরতুবী ইবন 'আব্বাস, দাহহাক, ক্বাতাদাহ, সুদ্দী ও কা'ব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেন, এ চূর্ণ হওয়ার উপক্রম ও ফেটে যেতে চাওয়া কেবল আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার কারণেই। ক্বাতাদাহ বলেন, এ ফেটে যাওয়ার উপক্রম হওয়া আল্লাহ তা'আলার মাহাত্ম্য ও দাপটের কারণেই।(৬৭)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, سَلُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ الْفِرْدَوْسَ؛ فَإِنَّهَا سُرَّةُ الْجُنَّةِ، وَإِنَّ أَهْلَ الْفِرْدَوْسِ يَسْمَعُونَ أَطِيطَ الْعَرْشِ» "তোমরা আল্লাহর কাছে ফিরদাউস চাও; কেননা তা জান্নাতের সর্বোত্তম স্থান, আর ফিরদাউসের অধিবাসীরা 'আরশের 'আত্মীত্ব' বা ভারের শব্দ শুনতে পাবে।”(৬৮)
অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَطَّتِ السَّمَاءُ، وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَشِطَّ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلَّا وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا اللَّهِ "আসমান ভারজনিত শব্দ করছে, আর এ ভারজনিত শব্দ করা তার জন্য যথার্থ; কারণ এর এমন চার আঙ্গুল স্থান নেই যাতে একজন ফিরিশতা তার কপাল রাখা অবস্থায় নেই; আল্লাহর জন্য সাজদায় রত রয়েছে।”(৬৯)
২০-ফিরিশতাগণ 'আরশের চারপাশে তাওয়াফ করেন: ইমাম বাইহাক্বী বলেন, তাফসীরবিদগণের মত হচ্ছে, 'আরশ হচ্ছে খাট, আর তা একটি বস্তু যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ফিরিশতাদেরকে বহন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেটাকে সম্মান করা ও তার চার পাশে তাওয়াফের মাধ্যমে ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি যমীনে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন, বনী আদমকে সেটার তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেটার দিকে ফিরে সালাত আদায় করার আদেশ করেছেন। তাদের মতের পক্ষে কুরআনের বহু আয়াত, হাদীসের বহু ভাষ্য ও বহু আসার সেটার প্রতি প্রকাশ্য প্রমাণ দিচ্ছে।(৭০)
২১- যিকিরকারীদের যিকির 'আরশের চারপাশে গুঞ্জন তৈরি করে: হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ مِمَّا تَذْكُرُونَ مِنْ جَلَالِ اللَّهِ التَّسْبِيحَ، وَالتَّهْلِيلَ، وَالتَّحْمِيدَ يَنْعَطِفْنَ حَوْلَ الْعَرْشِ، هُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيُّ النَّحْلِ، تُذَكِّرُ بِصَاحِبِهَا، أَمَا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَوْ لَا يَزَالَ لَهُ مَنْ يُذَكِّرُ بِهِ؟» "তোমরা আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা বর্ণনা করে যেসব তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ করো সেগুলো 'আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে, মৌমাছির গুঞ্জনের মতো তাদের গুঞ্জন শোনা যায়; এগুলোর যিকিরকারীর কথা স্মরণ করতে থাকে, তোমাদের কেউ কি চায় না তার জন্য হবে অথবা সর্বদা তার জন্য থাকবে এমন কেউ যে তার কথা (সেখানে) স্মরণ করবে?”(৭১)
কা'ব আল-আহবার বলেন, উত্তম কালেমা 'আরশের চারপাশে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো গুঞ্জরিত হতে থাকে, যা তার যিকিরকারীর কথা স্মরণ করতে থাকে। (৭২)
অপর বর্ণনায় কা'ব বলেন, "সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এগুলোর রয়েছে গুঞ্জন 'আরশের চারপাশে, যা মৌমাছির গুঞ্জনের ন্যায়, যারা এগুলোর আমল করেছে তাদের কথা স্মরণ করে।” (৭৩)
২২-'আরশ হচ্ছে আসমান ও যমীনের উপরে: 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, مَا بَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَالَّتِي تَلِيهَا مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ كُلِّ سَمَاءَ بْنِ مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَبَيْنَ الْكُرْسِيِّ خَمْسُمِائَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ الْكُرْسِيُّ إِلَى الْمَاءِ خَمْسُمِائَةِ عَامٍ، وَالْعَرْشُ عَلَى الْمَاءِ، وَاللَّهُ تَعَالَى فَوْقَ الْعَرْشِ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ» "নিকটতম আসমান ও যা তার কাছে তার মধ্যকার দূরত্ব পাঁচশত বছর, প্রতি আসমানের দূরত্ব পাঁচশত বছর, সপ্তম আসমান ও কুরসীর দূরত্ব পাঁচশত বছর, কুরসী থেকে পানির দূরত্ব পাঁচশত বছর, আর 'আরশ পানির উপর, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, তবে তিনি জানেন তোমাদের অবস্থা, যার উপর তোমরা আছ।” (৭৪)
২৩-আরশ জান্নাতের উপর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ، كُلُّ دَرَجَتَيْنِ مَا بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الجَنَّةِ، وَأَعْلَى الْجَنَّةِ، وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ "জান্নাতে রয়েছে একশটি স্তর, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর পথের মুজাহিদদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। প্রতি দু'টি দরজার মধ্যে দূরত্ব, আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের মত, সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে তখন তাঁর কাছে ফিরদাউস চাইবে, কারণ তা মধ্যম বা সর্বোত্তম জান্নাত, সর্বোচ্চ জান্নাত, আর তার উপরে রয়েছে রহমানের 'আরশ, তা থেকেই জান্নাতের নালাসমূহ প্রবাহিত।”(৭৫)
ক্বাতাদাহ বলেন, ফিরদাউস হচ্ছে, জান্নাতের উঁচু ভূমি (মালভূমি), মধ্যম ভূমি, সর্বোচ্চ, সর্বोत्কৃষ্ট ও সবচেয়ে উপরের স্থান। সুতরাং জান্নাত, সে তো গম্বুজের মতো; কারণ তার মধ্যমনি হচ্ছে উঁচু অংশ। (৭৬)
২৪- 'আরশকে আল্লাহ তা'আলা পানির উপর সৃষ্টি করেছেন: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ﴾ [هود: ٧] "আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, আর তাঁর 'আরশ ছিল পানির উপর।” [সূরা হূদ, আয়াত: ০৭]
মুজাহিদ বলেন, "আর তার 'আরশ পানির উপর ছিল" অর্থাৎ আসমান ও যমীন সৃষ্টির আগে তাঁর 'আরশ পানির উপরে ছিল। (৭৭)
অনুরূপ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, يَدُ اللَّهِ مَلْأَى لَا تَغِيضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ، وَقَالَ : أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضُ مَا فِي يَدِهِ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، وَبِيَدِهِ المِيزَانُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ» "আল্লাহ তা'আলার হাত পরিপূর্ণ, রাত-দিন যতই খরচ করুক তাতে কম পড়ে না অথবা খরচ তাতে ঘাটতি ঘটায় না। দিন-রাত তিনি বদান্যতার সাথে প্রদান করেন। আরও বলেন, তোমরা আমাকে জানাও, তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পর থেকে যা খরচ করেছেন তা তার হাতে যা আছে তাতে সামান্যতমও ঘাটতি ঘটায়নি। আর তার 'আরশ ছিল পানির উপর, অপর হাতে মীযান, সেটাকে (বান্দার আমল নেক ও বদ অনুযায়ী) তিনি নীচু করেন ও উপরে করেন।” (৭৮)
হাফেয ইবন হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'এখানে পানি দ্বারা সমুদ্রের পানি বুঝানো হয়নি। কারণ সমুদ্রের পানি তো আসমান ও যমীন সৃষ্টির পরে অস্তিত্বে আসলো। বরং এটা ভিন্ন প্রকার পানি যা 'আরশের নিচে যেভাবে আল্লাহ চেয়েছেন।' (৭১)
ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে ﴾وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ﴿ এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, এ পানি কিসের উপর ছিল? তিনি বলেন, তা ছিল বাতাসের পিঠের উপর। (৮০)
সুলাইমান আত-তাইমী বলেন, "যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ কোথায়? তবে জবাবে বলবো, উপরে। আর যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, আসমান সৃষ্টির আগে আল্লাহর 'আরশ কোথায় ছিল? তাহলে অবশ্যই বলবো, পানির উপর। আর যদি বলে, পানি সৃষ্টির আগে তাঁর 'আরশ কোথায় ছিল? তবে অবশ্যই বলবো, আমি জানি না।”(৮১)
যদি প্রশ্ন করা হয়, وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ كَ الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْش এর মাঝে সামঞ্জস্য কীভাবে হবে? তখন উত্তর হবে, আসমান ও যমীন সৃষ্টির আগে 'আরশ পানির উপরে থাকা অবস্থায় বহন করা হয়েছিল। আর আসমান ও যমীন সৃষ্টির পরে আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদেরকে পানির উপরে থেকে 'আরশ বহন করার নির্দেশ দিলেন।
২৫-আল্লাহ তা'আলা তিনি আসমান ও যমীনসমূহের উপর, জান্নাতের উপর এবং 'আরশের উপর: হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, هَلْ تَدْرُونَ كَمْ بُعْدُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ؟» قَالُوا: لَا ، وَالله مَا نَدْرِي، قَالَ: «فَإِنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَهُمَا إِمَّا وَاحِدَةٌ وَإِمَّا اثْنَتَانِ، أَوْ ثَلَاثُ وَسَبْعُونَ سَنَةٌ، وَالسَّمَاءُ الَّتِي فَوْقَهَا كَذَلِكَ، حَتَّى عَدَّدَهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ كَذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ: فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ بَيْنَ أَعْلَاهُ وَأَسْفَلِهِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى السَّمَاءِ، وَفَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ بَيْنَ أَظْلَافِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، ثُمَّ فَوْقَ ظُهُورِهِنَّ العَرْشُ، بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلَاهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، وَاللَّهُ فَوْقَ ذَلِكَ» "তোমরা কি জান, আসমান ও যমীনের দূরত্ব কত? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না। আল্লাহর শপথ আমরা জানি না। রাসূল বললেন, এ দুয়ের মধ্যে দূরত্ব হয় এক, না হয় দুই অথবা তিন ও সত্তর বছর, আর তার উপরে থাকা আসমানও অনুরূপ দূরত্বে, এভাবে রাসূল সাত আসমান গুনে বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, সাত আসমানের পরে একটি সমুদ্র রয়েছে যার উপর ও নিচের দূরত্ব এক আসমান থেকে আরেক আসমানের দূরত্ব। তার উপর রয়েছে আটটি বন্য ছাগল, যাদের খুর ও হাঁটুর মাঝখানের দূরত্ব এক আসমান ও অপর আসমানের মাঝখানের দূরত্বের মতো। তারপর এদের পিঠে রয়েছে 'আরশ; যার উপর ও নিচের মধ্যকার দূরত্ব এক আসমান ও আরেক আসমানের মাঝখানের দূরত্বের মতো। আর আল্লাহ এর উপর.” (৮২)
আসমান থেকে আসমানের দূরত্ব এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ৭১ বছর অথচ অপর হাদীসে পাঁচশত বছর, এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান হচ্ছে, এটি সফর কীভাবে করা হচ্ছে সেটার উপর নির্ধারিত হবে। যদি উটে সফর করে তবে ৫০০ বছর আর যদি দ্রুতগামী ঘোড়ায় সফর হয় তবে তা হয় যাবে ৭১ বছর। (৮৩)
২৬-'আরশ আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَلَكِنْ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى اسْمُهُ، إِذَا قَضَى أَمْرًا سَبَّحَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ ، ثُمَّ سَبَّحَ أَهْلُ السَّمَاءِ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، حَتَّى يَبْلُغَ التَّسْبِيحُ أَهْلَ هَذِهِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ قَالَ الَّذِينَ يَلُونَ حَمَلَةَ الْعَرْشِ لِحَمَلَةِ الْعَرْشِ : مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ فَيُخْبِرُونَهُمْ مَاذَا قَالَ : قَالَ فَيَسْتَخْبِرُ بَعْضُ أَهْلِ السَّمَاوَاتِ بَعْضًا، حَتَّى يَبْلُغَ الْخُبَرُ هَذِهِ السَّمَاءَ الدُّنْيَا، فَتَخْطَفُ الْجِنُّ السَّمْعَ فَيَقْذِفُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ، وَيُرْمَوْنَ بِهِ ، فَمَا جَاءُوا بِهِ عَلَى وَجْهِهِ فَهُوَ حَقٌّ، وَلَكِنَّهُمْ يَقْرِفُونَ فِيهِ وَيَزِيدُونَ» "কিন্তু আমাদের রব তাঁর সত্তা বরকতময়, তাঁর নাম অনেক সুউচ্চ, তিনি যখন কোনো নির্দেশ জারী করেন, তখন 'আরশ বহনকারীগণ তাসবীহ পাঠ করেন, তারপর যে আসমান তাদের কাছে আছে সেখানকার অধিবাসীরা তাসবীহ পাঠ করেন, এভাবে তাসবীহের ধারা পৌঁছতে পৌঁছতে তা যমীনের নিকটতম আসমানে পৌঁছে যায়। তারপর যারা 'আরশ বহনকারীদের নিকটতম আসমানে আছে তারা 'আরশ বহনকারীদেরকে বলেন, তোমাদের রব কী বলেছেন? তখন তিনি তাদেরকে সে ব্যাপারে সংবাদ দেন। তখন আসমানবাসীরা একে অপরের নিকট সে সংবাদ আদান-প্রদান করেন, অবশেষে সে সংবাদ যমীনের নিকটতম আসমানে পৌঁছে যায়, অতঃপর জিন্নেরা সেটার শোনা অংশকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের বন্ধুদের কানে ঢেলে দেয়, আর তাদের উপর আগুন নিক্ষেপ করা হয়, অতঃপর তারা যা সঠিকভাবে চুরি করে নিয়ে আসতে পেরেছে তা সত্য হয়, কিন্তু তারা সেটাতে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটায় ও বৃদ্ধি ঘটায়।”(৮৪)
হাদীস থেকে বুঝা গেল যে, 'আরশ বহনকারীরা প্রথম আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ লাভ করেন। তারপর তারা তাদের নিকটস্থ আসমানবাসীদের কাছে তা পৌঁছে দেন। এভাবে তারা আল্লাহ তা'আলার নিকটতম সৃষ্টি হওয়ার অর্থ হচ্ছে 'আরশও তাদের নিকটে, কারণ তারাই তো তা বহন করে থাকে।
এর দ্বারা আরও বুঝা গেল যে, 'আরশ আসমান ও যমীনের উপরে, জান্নাতের উপরে, আর তা সকল সৃষ্টির সর্বোচ্চে। সকল সৃষ্টি যতই উঁচু ও উপরে হোক না কেন তা 'আরশের নিচে।
২৭-কিয়ামতের দিন আসমান ও যমীন ভাঁজ করে আল্লাহ তা'আলা তাঁর হাতের উপর রাখবেন, কিন্তু 'আরশ ও কুরসী ভাঁজ করা হবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَابِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ ) [الحاقة: ١٤, ١٧] "আর পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় ওরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন সংঘটিত হবে মহাঘটনা, আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে ফলে সেদিন তা দুর্বল-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। আর ফিরিশতাগণ আসমানের প্রান্তদেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশতা আপনার রবের 'আরশকে ধারণ করবে তাদের উপরে।” [সূরা আল- হাক্কাহ, আয়াত: ১৪-১৭]
সুতরাং পাহাড় চুর্ণ হয়ে যাবে, যমীন ফেটে চৌচীর হয়ে যাবে, কিন্তু নিঃসন্দেহে 'আরশকে তার বহনকারীরা বহন করবে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ، وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّتُ بِيَمِينِهِ، سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴾ [الزمر : ٦٧] "আর তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করেনি অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে." [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৭]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, ﴿يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ ﴾ [ابراهيم: ٤٨] "যেদিন এ যমীন পরিবর্তিত হয়ে অন্য যমীন হবে এবং আসমানসমূহও; আর মানুষ উন্মুক্তভাবে উপস্থিত হবে এক, একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহর সামনে.” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৪৮]
অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَقْبِضُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى الْأَرْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيَطْوِي السَّمَاءَ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمُلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ؟ "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাবারক ওয়া তা'আলা যমীনকে মুষ্ঠিবদ্ধ করবেন, আর আসমানকে ডান হাতে ভাঁজ করে রাখবেন, তারপর বলবেন, "আমি রাজাধিরাজ, যমীনের বাদশারা কোথায়?” (৮৫)
সুতরাং আসমান ও যমীন কিয়ামতের দিন মুষ্টিবদ্ধ করা হবে, ভাঁজ করা হবে, পরিবর্তন করা হবে, তবে 'আরশ এর ব্যতিক্রম; কারণ সেটার সাথে 'আরশের উল্লেখ আসেনি। আল্লাহ তা'আলা কেবল সেগুলোকে ভাঁজ করবেন যা তিনি ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, তিনি এ ছয়দিন ও আসমান-যমীন সৃষ্টির আগেই তো 'আরশকে সৃষ্টি করেছিলেন।
শাইخুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আর 'আরশ, সেটা তো ছয়দিনে আল্লাহ তা'আলা যা সৃষ্টি করেছেন তার বাইরের জিনিস, সুতরাং তা ধ্বংস কিংবা চূর্ণ হবে না। বরং বিখ্যাত হাদীস সেটাই প্রমাণ করে যা কুরআন প্রমাণ করছে, তা হচ্ছে আল্লাহর 'আরশ অবশিষ্ট থাকবে। (৮৬)
২৮-'আরশ ধ্বংস হবে না, যেমনিভাবে জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হবে না: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ) وَتَرَى الْمَلَائِكَةَ حَافِينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ [الزمر: ٧٤، ٧٥] "আর তারা (প্রবেশ করে) বলবে, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করেছেন এ যমীনের; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছে বসবাসের জায়গা করে নেব।' অতএব নেক আমলকারীদের পুরস্কার কত উত্তম! আর আপনি ফিরিশতাদেরকে দেখতে পাবেন যে, তারা 'আরশের চারপাশে ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। আর তাদের মধ্যে বিচার করা হবে ন্যায়ের সাথে এবং বলা হবে, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর প্রাপ্য।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৭৪-৭৫]
এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, কিয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়া পর্যন্ত 'আরশ অবশিষ্ট থাকবে, এমনকি জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পরও।
অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ - أَرَاهُ - فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الجَنَّةِ "যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে তখন তার কাছে ফিরদাউস চাইবে; কেননা তা মধ্যম বা সর্বোত্তম জান্নাত, সর্বোচ্চ জান্নাত, মনে হচ্ছে, (রাসূল বলেছেন) তার উপর রহমানের 'আরশ, আর তার থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত।”(৮৭)
সালাফে সালেহীন আল্লাহর 'আরশের ব্যাপারে যা যা বলেছেন তা কুরআন ও সহীহ হাদীসের ওপর নির্ভর করেই বলেছেন, সালাফে সালেহীন তাদের কিতাবে এসব তথ্য সবসময় উল্লেখ করতেন।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের বাইরে অবস্থানকারীদের 'আরশের ব্যাপারে অভিমত:
ক. ফালাসিফা বা দর্শনতত্ত্ববিদ ও কালামশাস্ত্রবিদদের একটি অংশের নিকট 'আরশ: তাদের কেউ কেউ 'আরশ বলতে বুঝেছেন জগত সৃষ্টির চারপাশ ঘিরে থাকা এক গোলককে। তাদের নিকট নবম গোলক বা সর্বশেষ গোলক, যাতে কোনো ফাঁক নেই বা ছিদ্র নেই। বস্তুত তাদের এ বক্তব্য কয়েকটি কারণে সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত:
১- ভাষাগতভাবে কখনও 'আরশ বলে গোলক বুঝায় না। এটা কোনো দিন কোনো অভিধানবিদ বলেননি।
২- এটি তখনকার সময় তথাকথিত গ্রীকদর্শন দ্বারা প্রভাবিত ধারণাপ্রবণ ও অনুমাননির্ভর দার্শনিকরা বলেছিল। তারা মনে করেছিল সবকিছু পৃথিবী কেন্দ্রিক। সেজন্য তারা পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রথমে সাতটি গোলক আঁকে। প্রতি গোলকে যথাক্রমে, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, শনি ইত্যাদির বলয় নির্ধারণ করে। তখন তারা মনে করতো সূর্য বোধহয় পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। তারপরে একজন এসে বলল যে, অষ্টম একটা গোলক আছে যাতে তারকারাজি গ্রথিত। তারপর আরেকটি গোলক আছে যা সবকিছুকে ঘিরে আছে, এটাকেই তারা তখন 'আরশ না কুরসী নামে অভিহিত করতো। এভাবে তখনকার দিনে তারা মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেরা পণ্ডিত সাজলেও বর্তমানে এসব জিনিস একেবারেই যে ফালতু তথ্য তা সাধারণ স্কুল পড়ুয়াও ভালো করে জানে। সুতরাং তাদের সেসব বক্তব্য একেবারেই ভুল। তাই কোনোভাবেই 'আরশকে নবম গোলক বলার কোনো সুযোগ নেই। যত গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথ সবই 'আরশের নিচে অতি ক্ষুদ্র জিনিস। এরকম লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র 'আরশের তুলনায় কণা বিশেষ।
৩- তাদের এসব বক্তব্য সরাসরি কুরআন ও হাদীস বিরোধী। হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, 'আরশের পায়া আছে, তা বহন করা হয়। আর এসব গোলকের আবার পায়া আছে নাকি? তাছাড়া যেখানে কুরসীতে সকল ইউনিভার্সের জায়গা হয়, সেখানে 'আরশ কত বড় তা কি কেউ চিন্তা করে বের করতে পারবে। এসব বিষয়ে কুরআন, হাদীস ও সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীগণের ভাষ্য এতো বেশি যে, এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। অচিরেই তার কিছু বর্ণনা আমাদের কাছে আসবে -ইনশাআল্লাহ।
খ. কালামশাস্ত্রবিদদের আরেকটি অংশের নিকট 'আরশ: কালামশাস্ত্রবিদদের আরেকটি অংশ বলে থাকে, 'আরশ বলতে আল্লাহর মুলক বা রাজত্বকে বুঝানো হয়েছে। রাজত্বকে 'আরশ দ্বারা বুঝানো হয়েছে, একটি অপরটিকে আবশ্যক করার কারণে। তাই 'আরশ বলে রাজত্ব বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই। বস্তুত এটি মারাত্মক ভুল; তার কারণ হচ্ছে,
১- কুরআন ও হাদীসে 'আরশের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতে সেটা দ্বারা রাজত্ব বুঝার কোনো সুযোগ নেই; কারণ রাজত্ব বহন করার বিষয় নয়। অথচ 'আরশ বহনকারীরা রয়েছে।
২- রাজত্ব ফিরিশতাগণ দ্বারা তাওয়াফ কীভাবে হবে?
৩- কিয়ামতের দিন রাজত্ব বহন করবে কী করে?
৪- রাজত্ব অশারীরিক বিষয়, আর 'আরশ একটি জিসম শারীরিক জিনিস, যার পা আছে, যেটা তুলে ধরে আছে ফিরিশতাগণ।
গ. কারো কারো মতে, 'আরশ আর কুরসী একই: বস্তুত এ মতটিও শুদ্ধ নয়। এটি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করা হয়। তবে তা শুদ্ধ নয়। এর বর্ণনা আমরা অচিরেই করছি।
ঘ. আশায়েরা ও মাতুরিদিয়াদের নিকট 'আরশ কী? আশায়েরা ও মাতুরিদিয়া সম্প্রদায় এ ব্যাপারে একমত হতে পারেননি।
• আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মতোই তাদের অধিকাংশ মতপোষণ করে থাকে।
• তাদের কারও কারও মত হচ্ছে, 'আরশ নবম গোলকের নাম, যা ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি তা হচ্ছে সেসব লোকদের মত যারা গ্রীক দার্শনিক ও তাদের অন্ধ অনুসরণকারী হয়েছে।
• তাদের কেউ কেউ বলেন, 'আরশ আল্লাহর এমন এক সৃষ্টি, যার প্রকৃত ঘটন আমরা কিছু জানি না, আর সেটার উপর 'ইস্তেওয়া' কী সেটাও আমরা জানি না।
• তাদের কেউ কেউ 'আরশ বলে রাজত্ব বুঝেছেন।
• তাদের কারও কারও মতে, 'আরশ বলে আসলে একটি উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। তাদের নিকট বাস্তবে 'আরশ বলতে কোনো কিছু নেই, আর সেটার উপর আল্লাহও নেই, 'আরশের কথাটি বলা হয়েছে মানুষদেরকে বুঝানোর জন্য।
টিকাঃ
৫০. মাদারিজুস সালেকীন (১/৩৩)।
৫১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৭২।
৫২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৫৫।
৫৩. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, আর-রিসালাতুল 'আরশিয়্যাহ, পৃ. ০৮।
৫৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭২৬।
৫৫. আল-'উলু, ৫৭।
৫৬. ইবন আবী শাইবাহ, আল-আরশ; ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১/১৯); আত-তাফসীর (৪/৪২৯)।
৫৭. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭২৬।
৫৮. ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৫২) নং ৫৭৫।
৫৯. ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ (১/১৯)।
৬০. আহমাদ (৩৬/৩৮৪); ইবন হিব্বান ২৫১০; হাকিম, আল-মুস্তadরাক (৪/১৬৯); ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ ৭১৫; আর তিনি সেটাকে সহীহ বলেছেন।
৬১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬৬।
৬২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৩১।
৬৩. তিরমিযী, হাদীস নং ১৩০৬।
৬৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৮০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৬৬; হাদীসের শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।
৬৫. ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ ১২৩৬৬; আল-আরশ ৪১৭; ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাত (৩/৪৩৩); হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩/২০৬); যাহাবী, আল-উলু: ৭১ আর তিনি এর সনদকে উত্তম বলেছেন।
৬৬. ইবন খুযাইমা, আত-তাওহীদ, হাদীস নং ২৩৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ ২৭৫৮১; ফাদ্বায়িলুস সাহাবাহ ১৫০০; ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাত (৩/৪৩৪); ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ ১২৩৬৮; আল-আরশ ৪১৭; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (২/২৪৬); হাইসামী, আয-যাওয়ায়িদ (৯/৩০৯); হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩/৩০৬); আর যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
৬৭. সহীহ, আব্দুর রাযযাক, আত-তাফসীর (১/১৫৯); ইবন জারীর আত-তাফসীর (৭/২৫); আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ ৩২।
৬৮. সহীহ, ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ, ১৯৫; আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর, ৭৯৬৬; ইবন আবী শাইবাহ, আল-আরশ ৩৩৩; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (২/৩৭১) আর তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৬৯. হাসান, তিরমিযী, ২৩১২; ইবন মাজাহ ৪১৯০; আহমাদ (৫/১৭৩); সহীহুত তারগীব ৩৩৮০।
৭০. বাইহাক্বী, আল-আসma ওয়াস সিফাত: ৪৯৭।
৭১. সহীহ, আহমাদ, আল-মুসনাদ (৪/২৭১); ইবন মাজাহ (২/১২৫৩); হাকিম, আল-মুস্তাদরাক; ইবন কাসীর।
৭২. সহীহ, ইবন আবী শাইবাহ, আল-আরশ, ৪০৭; যাহাবী, আল-উলু ৯৩।
৭৩. ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (২২/১২০); যাহাবী, আল-উলু, ৯৩; ইবন আবী শাইবাহ, আল-আরশ, ৪০৫; ইবন কাসীর (৩/৫৪৯); তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ।
৭৪. সহীহ, ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ ১০৫; দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, ৬২; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ; আল-লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (৩/৩৯৬); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ ১০০।
৭৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪২৩।
৭৬. ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (৬/১৩); ইবনুল কাইয়্যেম, হাদীউল আরওয়াহ, পৃ. ৭৫, ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব (২/১০৬৯); আন-নিহায়াহ লি ইবন কাসীর (২/২৩৩)।
৭৭. তাফসীর ত্বাবারী।
৭৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪১১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৯৩।
৭৯. ইবন হাজার ফাতহুল বারী (১৩/৪১১)।
৮০. তাবারী, তাফসীর (১৫/২৪৯); ইবন আবী শাইবাহ, আল-আরশ ৩০১; দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল- মারীসী ৪৪৫; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৫৮); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ৪৮০; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (২/৩৪১) এবং বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ওপর সহীহ, যাহাবী তাতে একমত হয়েছেন।
৮১. বুখারী, খালকু 'আফ'আলিল ইবাদ ১২৭।
৮২. সহীহ। তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩২০; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৯৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ (১/২০৭); সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭২৩; দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মারীসী, ৪৮৮; আজুররী, আশ-শরী'আহ ২৯৩; লালেকাঈ, আস-সুন্নাহ (৩/৩৯০); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৫৩); ইবন খুযাইমাহ, আত- তাওহীদ ১০১; ইবন মানদাহ, আত-তাওহীদ (১/১১৭)। জাওযাকানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (১/৭৯); অনুরূপ ইবন তাইমিয়্যাহ তার ফাতাওয়ায় এটিকে সহীহ বলেছেন (৩/১৯২); ইবনুল কাইয়্যেম, তাহযীবুস সুনানে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (৭/৯২); যদিও কোনো কোনো আলেম দুর্বল বলেছেন।
৮৩. ইবনুল কাইয়্যেম, তাহযীবুস সুনান (৭/৯৪)।
৮৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২২৯।
৮৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৮৭; শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।
৮৬. নাকছু তা'সীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১৫৫)।
৮৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৯০।