📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ফেরকাসমূহের নীতি

📄 আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ফেরকাসমূহের নীতি


আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে যেসব ফেরকাসমূহ সঠিকপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদেরকে আমরা মৌলিকভাবে দু'ভাগ করতে পারি:

প্রথম দল: মু'আত্তিলা বা নাম ও গুণকে অর্থশূন্যকারী সম্প্রদায়। মু'আত্তিলা সম্প্রদায় দু'টি শ্রেণিতে বিভক্ত:
এক. ঘোর মু'আত্তিলা। আর তারা হচ্ছে তথাকথিত দার্শনিক সম্প্রদায়: এরা কয়েক ভাগে বিভক্ত:
১- নাম ও গুণ অস্বীকারকারী দার্শনিক সম্প্রদায়: এদের মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছেন ইবন সীনা ও তার মতো লোকেরা। তারা মনে করেন যে, আল্লাহর অস্তিত্ব শুধু নাম মাত্র। যার কোনো নাম ও গুণ থাকতে পারে না। তারা যাবতীয় নেতিবাচক নাম ও গুণ তাঁর জন্য ব্যবহার করে থাকে। বস্তুত এরা যে আল্লাহর চিন্তা করে সেটা শুধু চিন্তাজগতেই সীমাবদ্ধ। বাইরে তার অস্তিত্বকে সাব্যস্ত তারা করতে পারে না।
২. নাম ও গুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা অবলম্বন ও হ্যাঁ বাচক কিংবা না বাচক উভয়টি বলতে অস্বীকার করার নীতিতে বিশ্বাসী দার্শনিক সম্প্রদায়: এরা হচ্ছে কারামিত্বা ও বাতেনী ফেরকার দার্শনিক লোকেরা। তারা বলে, আল্লাহর নাম ও গুণ সম্পর্কে আমরা জানবোও না, আবার জানাবোও না। হ্যাঁও বলবো না, নাও বলবো না। তারা বলে, তিনি জীবিত কিংবা মৃত, সক্ষম কিংবা অক্ষম কোনোটিই তাকে বলা যাবে না। কারণ, তা সাব্যস্ত করলে যাদের গুণ রয়েছে তাদের মতো হয়ে যায়, আর যদি সাব্যস্ত না করি তবে যাদের গুণ নেই বলা হয় তাদের সাথে মিশে যায়। সুতরাং কোনোটিই বলবো না, যাতে করে কারো সাথে সাদৃশ্য বিধান না হয়।
৩. আজ্ঞেয়বাদী দার্শনিক সম্প্রদায়: যারা বলে, আমরা তার ব্যাপারে কিছুই জানি না আর জানার প্রয়োজনও মনে করি না। তিনি জীবিত কিংবা মৃত এ জাতীয় কিছুই আমরা জানি না। এরা মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতেই নারাজ। তারা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার, তাঁর পরিচয় জানা, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর ইবাদাত করা ও তাঁকে আহ্বান করা থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ। কোনো কোনো আলেম তা হাল্লাজের মতো বলে বর্ণনা করে থাকেন।
৪. ওয়াহদাতুল ওজুদ বা সর্বেশ্বরবাদী দার্শনিক সম্প্রদায়: যারা বলে সৃষ্টির অস্তিত্বই স্রষ্টার অস্তিত্ব। সুতরাং উভয় অস্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না। তাই স্রষ্টার আলাদা গুণ থাকে কী করে? তাদের মতবাদে বিশ্বাসী বলে বর্ণনা করা হয় প্রখ্যাত সূফী ইবন আরাবী আল-হাতেমীকে। তাই সে বলতো, জগতে যত কথা আছে সবই তো তারই কথা, সেটা গদ্য হোক কিংবা পদ্য। এ মতের সমর্থকদের অন্যতম হচ্ছে ইবন সাব'ঈন, ইবন হৃদ, তিলমিসানী, আবদুল কারীম আল-জীলী, সোহরাওয়ার্দী। পরবর্তীদের মধ্যে রূমী, আত্তার প্রমুখ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00