📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 “ইস্তেওয়া আলাল ‘আরশ’” সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা

📄 “ইস্তেওয়া আলাল ‘আরশ’” সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা


আল্লাহ তা'আলার সত্তা, নাম, গুণ, কর্ম ও অধিকার সম্পর্কে জানা ও মানা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ইলম ও সর্বশ্রেষ্ট জ্ঞান। এর সাথে অন্য কিছুর তুলনা করার সুযোগ কোথায়। দুনিয়ায় যারা এসেছে তারা যদি এ জ্ঞান অর্জন না করে তাহলে সে জাহেল থেকেই যাবে। এ জ্ঞান অনুযায়ী অজ্ঞতা ও জ্ঞানের মাপকাঠি নির্ধারিত হবে। এ জ্ঞান যার কাছে যত বেশি, যার কাছে যত বিশুদ্ধ তিনি তত বড় আলেম হিসেবে বিবেচিত হবেন। কারণ, এ জ্ঞান অর্জন মানেই তাওহীদের জ্ঞান অর্জন। আল্লাহর সত্তা ও কর্ম সম্পর্কে জানার অপর নাম তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বে তাওহীদ। তাঁর নাম ও গুণ জানা, মানা ও সেগুলোর যথাযথ উপলব্ধি অন্তরে জাগরুক রাখা, সেগুলো দিয়ে তাকে ডাকাই হচ্ছে তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত বা নাম ও গুণে তাওহীদ। আর তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকে একমাত্র তাঁর জন্যই মানুষদের সবকিছু নিবেদিত হওয়ার নামই হচ্ছে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বা ইবাদাতে তাওহীদ। তন্মধ্যে সবচেয়ে শরীফ ও সম্মানিত অংশ হচ্ছে তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত। আল্লাহর নেককার বান্দাগণ তাঁর নাম ও গুণের মাধ্যমেই তাঁর ইবাদাত করে, আর এ নির্দেশই তাদেরকে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ﴿وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا﴾ [الأعراف: ١٨٠]
"আর আল্লাহর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ সেগুলো দিয়েই তোমরা তাকে ডাক।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৮০] তাঁর রয়েছে উত্তম সিফাত বা গুণাবলি, আল্লাহ বলেন, ﴿وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [الروم: ٢٧]
"আর আসমান ও যমীনে উত্তম গুণাবলি তো তাঁরই।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৭] সুতরাং যারা তাঁর নাম ও তাঁর গুণ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করেছে তারাই রাব্বুল আলামীনকে চিনতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, কোনো কিছুকে জানতে হলে হয় তাকে দেখতে হবে, যা আল্লাহর জন্য দুনিয়ার জীবনে অসম্ভব অথবা কাউকে জানতে হলে তার মতো কাউকে দেখতে হবে, কিন্তু তাঁর মতো তো কেউ নেই, ﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾ [الشورى: ١١]
"তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] বাকী থাকলো তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদ। আল্লাহকে জানতে হলে, তাঁর সঠিক পরিচিতি পেতে হলে তাঁর দেয়া গ্রন্থ এবং তাঁর সম্পর্কে যারা সত্য সংবাদ বাহক রয়েছেন তাদের দেয়া সংবাদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। তিনি তাঁর নিজের সম্পর্কে যা যা বলেছেন তা অবশ্যই সত্য, আর তাঁর সম্পর্কে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলো নবী-রাসূলগণ যা যা বলেছেন তাই সত্য। সেগুলো কখনো কখনো কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিবেকে ধরতেও পারে আবার নাও ধরতে পারে। কারও ব্যক্তি বিশেষের বিবেকের যুক্তি দিয়ে সেগুলোর সত্য-মিথ্যা হওয়া কখনও নির্ভর করবে না। সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে জানতে হলে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের বাণীর ওপরই নির্ভর করতে হবে। বিবেকের যুক্তিকে বলতে হবে, তার সীমাবদ্ধতা আছে, সে অনেক কিছু বুঝতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত সংবাদ সত্য, তাঁর নবী-রাসূলদের দেয়া সংবাদ সত্য।
আর এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখনকার দো'আয় বলতেন, "হে আল্লাহ.. আপনি হক্ক, .. আপনার কথা হক্ক, নবীগণ হক্ক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হক্ক”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২০, ৬৩১৭] বস্তুত আল্লাহ সম্পর্কে জানতে হলে কুরআন, হাদীস নির্ভর হওয়ার বিকল্প আগেও কোনো দিন ছিল না, আর না কোনো দিন পাওয়া যাবে।
সে কুরআন ও হাদীসকে জানতে হলে, কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা করতে হলে সর্বকালের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বসমূহ সাহাবায়ে কেরাম ও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের মত ও পথ ছাড়া আর কোনো পথ থাকতে পারে না। যারাই সাহাবায়ে কেরাম ও তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে'য়ী ও ইসলামের সম্মানিত ইমামগণের পথে চলবে তারাই সঠিক পথ প্রাপ্ত বলে গণ্য হবে। এ পথে চলার জন্য আমাদেরকে নবীর পক্ষ থেকে নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বললেন, আমার উম্মত বহু দলে বিভক্ত হবে, তখন সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, এর থেকে বাঁচার পথ কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছিলেন, "যার ওপর আমি আছি ও আমার সাহাবীগণ আছেন”। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৪১] তিনি তাদেরকেই 'আল-জামা'আহ' বলে ঘোষণা করেছিলেন [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৯৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৯৩], সাহাবায়ে কেরামের পথকে আঁকড়ে ধরতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর যদি তারা ঈমান আনে তোমরা যে রকম ঈমান এনেছ তবে তারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে”। [সূরা বাকারাহ: ১৩৭; অনুরূপ সূরা নিসা: ১১৫; তাওবাহ: ১০০; সূরা ইউসুফ: ১০৮; সূরা ফাতহ: ২৯] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য তাঁর সাহাবীগণের পদাঙ্ক অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, "সবচেয়ে উত্তম প্রজন্ম হচ্ছে আমার প্রজন্ম”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৩৩] তিনি আরও বলেছেন,
«النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةً لِأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةً لِأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ»
"তারকাসমূহ আকাশের জন্য নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করছে, যখন তারকাসমূহ খসে যাবে তখন আকাশের বিপদ আসন্ন। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তা হিসেবে রয়েছি, আমি যখন চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের বিপদ আসবে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তার কারণ; তারা যখন চলে যাবে তখন আমার উম্মতের জন্য বিপদ এসে যাবে।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৩১] সুতরাং যাবতীয় ফিতনা ও ভুল বুঝাবুঝি থেকে নিরাপত্তা পেতে হলে সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।
শুধু কুরআনুল কারীম মানলেই চলবে না; কারণ যুগ যুগ ধরে বাতিল ও বিদ'আতপন্থীরা কুরআনের আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তাদের মতের পক্ষে প্রমাণ পেশ করার অশুভ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আজও আমরা দেখতে পাই শিয়া, খারেজী, মুরজিয়া, সুন্নাহ অস্বীকারকারী এমনকি কাদিয়ানীরা পর্যন্ত কুরআন দিয়ে দলীল দেয়। যদিও তারা কুরআনের আয়াতসমূহের এমন সব ব্যাখ্যা দাঁড় করায় যা তাদের উৎপত্তির পূর্বে কেউ কোনো দিন শুনেনি। রাসূল বলেননি, সাহাবায়ে কেরাম এমন তাফসীর করেননি, উম্মতের গ্রহণযোগ্য মুফাসসিররাও কোনো দিন নিয়ে আসেনি।
কুরআনের সাথে সহীহ সুন্নাহকেও নিতে হবে। সহীহ সুন্নাহ একদিকে কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিধানের ব্যাখ্যা, অপরদিকে তা অনেক নতুন শর'য়ী বিধান প্রদান করেছে। ইসলামের বহু ফরয শুধু সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে ত্রিশোর্ধ্ব জায়গায় রাসূলের আনুগত্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলের আনুগত্য না করার শাস্তি কী হবে তা জানিয়ে সাবধান করেছেন। তাছাড়া রাসূল নিজেও বলেছেন,
«أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ، وَمِثْلَهُ مَعَهُ» "সাবধান, আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে আর কুরআনের সাথে তার অনুরূপ আরও কিছু দেয়া হয়েছে।” [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬০৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭১৭৪]
তবে কুরআন ও সুন্নাহকে বুঝতে হবে সাহাবায়ে কেরামের বুঝ অনুযায়ী; কারণ তারা এগুলোর আমল সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিয়েছেন। তারা হিদায়াতের ওপর ছিলেন, হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন। আকীদাহ ও আমলে তারা আমাদের আদর্শ। তাদেরকে যারা আদর্শ হিসেবে মানবে না তারা সঠিক পথ থেকে হবে বিচ্যুত। যুগে যুগে যখনই কোনো বিদ'আতের উৎপত্তি ঘটেছে তখনই সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ উম্মতকে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের দিকে ফিরে যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। সাহাবায়ে কিরামই হচ্ছেন আমাদের সালাফ বা পূর্বসূরী। আজও আমরা এ দাওয়াতই দিয়ে থাকি। এ দাওয়াতই হচ্ছে সালাফী দাওয়াত। সঠিক মত ও পথে থাকতে হলে আকীদাহ ও আমলে সাহাবায়ে কেরামের পথ ও মত অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। সাহাবায়ে কেরাম কোথাও একমত হলে তা হবে ইজমা' বা অকাট্য বিষয়, যার বিপরীত করা পথভ্রষ্টতা। আর সাহ Sabaয়ে কেরাম কোথাও মতভেদ করলে, সেখানে যদি মীমাংসাকারী হিসেবে কুরআন বা সহীহ হাদীসের বাণী না থাকে, তবে সেখানে সাহাবায়ে কেরামের মতপার্থক্য আমাদের জন্য প্রশস্ততা নিয়ে এসেছে। সেখানে যেকোনো একটিকে অনুসরণ করলেই উম্মতের হিদায়াত নিশ্চিত থাকবে। এজন্য ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ্ বলেছিলেন, 'যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছ থেকে আসবে, তা আমার মাথা ও চোখের উপর রাখব। আর যাতে সাহাবায়ে কেরাম ঐকমত্য করেছেন আমি তার বাইরে যাবো না। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম পরস্পর ভিন্নমত পোষণ করেছেন সেখানে আমি তাদের কথা থেকে যেটা ইচ্ছা গ্রহণ করে নিব।' [আল-মাদখাল ইলাস-সুনান আল-কুবরা লিল বাইহাক্বী]
আকীদাহ'র বিষয়ে কুরআন, সুন্নাহ, সাহ Sabaয়ে কেরাম ও তাদের সুন্দর অনুসারী তাবেয়ীন ও ঈমামগণের মতের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এগুলোতে কোনো ইজতিহাদ কাজ করবে না। কারণ, আকীদাহ'র বিষয়গুলো সকল নবীর সময়েই একই রকম ছিল। নতুন করে কোনো আকীদাহ যোগ হবে না। তবে আকীদাহ'র বিষয়ে কারও কারও কাছে নতুন করে সমস্যা আসলে সেটার সমাধান কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকে বুঝে নিতে হবে।
আকীদাহ'র যে বিষয়ে কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরাম, তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে'য়ীন ও ঈমামগণের কথার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই তন্মধ্যে সর্বশীর্ষে রয়েছে আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়টি। আল্লাহর জন্য কোন নামটি সাব্যস্ত হবে, কোনটি সাব্যস্ত করা যাবে না, কোন গুণটি সাব্যস্ত হবে আর কোন গুণটি সাব্যস্ত করা যাবে না তা এ নীতির আলোকেই নির্ধারিত হবে।
আজকে আমরা যে বিষয়টির আলোচনা করতে চাই তা হচ্ছে, আল্লাহর 'আরশের উপর 'ইস্তেওয়া' বা 'আরশের উপর উঠার গুণটি।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ফেরকাসমূহের নীতি

📄 আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ফেরকাসমূহের নীতি


আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে যেসব ফেরকাসমূহ সঠিকপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদেরকে আমরা মৌলিকভাবে দু'ভাগ করতে পারি:

প্রথম দল: মু'আত্তিলা বা নাম ও গুণকে অর্থশূন্যকারী সম্প্রদায়। মু'আত্তিলা সম্প্রদায় দু'টি শ্রেণিতে বিভক্ত:
এক. ঘোর মু'আত্তিলা। আর তারা হচ্ছে তথাকথিত দার্শনিক সম্প্রদায়: এরা কয়েক ভাগে বিভক্ত:
১- নাম ও গুণ অস্বীকারকারী দার্শনিক সম্প্রদায়: এদের মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছেন ইবন সীনা ও তার মতো লোকেরা। তারা মনে করেন যে, আল্লাহর অস্তিত্ব শুধু নাম মাত্র। যার কোনো নাম ও গুণ থাকতে পারে না। তারা যাবতীয় নেতিবাচক নাম ও গুণ তাঁর জন্য ব্যবহার করে থাকে। বস্তুত এরা যে আল্লাহর চিন্তা করে সেটা শুধু চিন্তাজগতেই সীমাবদ্ধ। বাইরে তার অস্তিত্বকে সাব্যস্ত তারা করতে পারে না।
২. নাম ও গুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা অবলম্বন ও হ্যাঁ বাচক কিংবা না বাচক উভয়টি বলতে অস্বীকার করার নীতিতে বিশ্বাসী দার্শনিক সম্প্রদায়: এরা হচ্ছে কারামিত্বা ও বাতেনী ফেরকার দার্শনিক লোকেরা। তারা বলে, আল্লাহর নাম ও গুণ সম্পর্কে আমরা জানবোও না, আবার জানাবোও না। হ্যাঁও বলবো না, নাও বলবো না। তারা বলে, তিনি জীবিত কিংবা মৃত, সক্ষম কিংবা অক্ষম কোনোটিই তাকে বলা যাবে না। কারণ, তা সাব্যস্ত করলে যাদের গুণ রয়েছে তাদের মতো হয়ে যায়, আর যদি সাব্যস্ত না করি তবে যাদের গুণ নেই বলা হয় তাদের সাথে মিশে যায়। সুতরাং কোনোটিই বলবো না, যাতে করে কারো সাথে সাদৃশ্য বিধান না হয়।
৩. আজ্ঞেয়বাদী দার্শনিক সম্প্রদায়: যারা বলে, আমরা তার ব্যাপারে কিছুই জানি না আর জানার প্রয়োজনও মনে করি না। তিনি জীবিত কিংবা মৃত এ জাতীয় কিছুই আমরা জানি না। এরা মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতেই নারাজ। তারা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার, তাঁর পরিচয় জানা, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর ইবাদাত করা ও তাঁকে আহ্বান করা থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ। কোনো কোনো আলেম তা হাল্লাজের মতো বলে বর্ণনা করে থাকেন।
৪. ওয়াহদাতুল ওজুদ বা সর্বেশ্বরবাদী দার্শনিক সম্প্রদায়: যারা বলে সৃষ্টির অস্তিত্বই স্রষ্টার অস্তিত্ব। সুতরাং উভয় অস্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না। তাই স্রষ্টার আলাদা গুণ থাকে কী করে? তাদের মতবাদে বিশ্বাসী বলে বর্ণনা করা হয় প্রখ্যাত সূফী ইবন আরাবী আল-হাতেমীকে। তাই সে বলতো, জগতে যত কথা আছে সবই তো তারই কথা, সেটা গদ্য হোক কিংবা পদ্য। এ মতের সমর্থকদের অন্যতম হচ্ছে ইবন সাব'ঈন, ইবন হৃদ, তিলমিসানী, আবদুল কারীম আল-জীলী, সোহরাওয়ার্দী। পরবর্তীদের মধ্যে রূমী, আত্তার প্রমুখ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00