📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 বিলাল (রাঃ) এবং আদী ইবন হাতিম তাঈ (রাঃ)-এর ঘটনা

📄 বিলাল (রাঃ) এবং আদী ইবন হাতিম তাঈ (রাঃ)-এর ঘটনা


৬- অনুরূপভাবে বেলাল রাদিয়াল্লাহু 'আনহু যখন দুই সা' খেজুর এক সা-এর পরিবর্তে বিক্রি করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা ফিরত দেওয়ার আদেশ দিলেন। কিন্তু এজন্য বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সুদ খাওয়ার হুকুম হিসেবে ফাসিক, লা'নত কিংবা কঠোরতার সম্মুখীন হন নি। কেননা এটা হারাম হওয়া সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

৭- তদ্রূপ আদি ইবন হাতেম রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং সাহাবীগণের এক দল কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো দাগ হতে সাদা দাগ পরিদৃষ্ট হয়।” এর অর্থ সাদা ও কালো রশি মনে করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বালিশের নিচে সাদা কালো দুইটি সুতা রাখতেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আদি ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: "যদি সাদা ও কালোর অর্থ সুতা হয়ে থাকে, তা হলে তোমার বালিশ বেশ প্রশস্ত! তার অর্থ এই নয়, বরং তার অর্থ রাতের অন্ধকার এবং দিনের আলো)"। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথার ইঙ্গিত দিলেন যে, তারা আয়াতের ভাবার্থ বুঝতে সক্ষম হয় নি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দ্বিতীয়বার সিয়াম পালন করার নির্দেশ দেন নি।

টিকাঃ
৬০. এক সা' এর পরিমাণ হচ্ছে, সাধারণত: পূর্ণ বয়স্ক লোকের দু' হাতের মধ্যস্থিত বস্তু চার বার নিলে যা হয়, তা।
৬১. আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, বিলাল রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বুরনী খেজুর নিয়ে আসলে... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "উওয়াহ, এটাই তো সুদ, এটা করবে না"।
৬২. এখানে একটি কথা জানা আবশ্যক যে, 'আদী ইবন হাতেম রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর এ ঘটনাটি আয়াতটি নাযিল হওয়ার অনেক পরের ঘটনা।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 উসামা (রাঃ) এবং আহত সাহাবীর (রাঃ) ঘটনা

📄 উসামা (রাঃ) এবং আহত সাহাবীর (রাঃ) ঘটনা


ইজতিহাদের কারণে তিরষ্কারের ব্যতিক্রম ঘটনা:
আহত ব্যক্তির শীতের মধ্যে গোসলের ফাতওয়া: প্রচণ্ড শীতের সফরে কোনো একজন সাহাবী মারাত্মক আহত হলেন, তারপর তার স্বপ্নদোষ হলে তিনি উপস্থিত সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমি কি গোসল করবো, না তায়াম্মুম করবো?' সাহাবীরা তাকে গোসলের ফাতওয়া দিলেন। গোসলের দরুন ঐ সাহাবীর মৃত্যু হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন, “তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদেরকে হত্যা করুন। যদি তারা না জানে তো জিজ্ঞেস করল না কেন? অজ্ঞতার ঔষধ তো কেবল জিজ্ঞেস করা”। এর কারণ হচ্ছে, ঐ সকল লোক ইজতিহাদ ব্যতিরেকেই ভুল করেছিলেন। কেননা তারা বিদ্বান ছিলেন না।

৮- অনুরূপভাবে উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হুরাকাত যুদ্ধে যখন কলেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠকারীকে হত্যা করেন, তখন তার ওপর দিয়াত বা কাফ্ফারা কিছুই ওয়াজিব করেন নি। কেননা উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ধারণা ছিল যে, এরূপ সংকটময় মুহুর্তের ইসলাম গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং তাকে হত্যা করা জায়েয, যদিও মুসলিমকে কতল করা হারাম কাজ। সালাফে সালেহীন ও অধিকাংশ ফকীহগণ এ মতটি গ্রহণ করে বলেছেন, গ্রহণযোগ্য তাবিল বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিদ্রোহীগণ ন্যায়পরায়নগণকে হত্যা করলে সেটার জন্য কিসাস, কাফ্ফারা বা দিয়াত দিতে হবে না।

টিকাঃ
৬৩. এটাই প্রমাণ করে যে, ইজতেহাদ করার জন্য আলেম হওয়া লাগবে। সাধারণ শিক্ষিত মানুষের কোনো ইজতিহাদ সওয়াবের জন্য গ্রহণযোগ্য ওযর নয়।
৬৪. ইমাম বুখারী সাহাবী উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুহাইনা গোত্রের হুরাকাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠালেন... উসামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হত্যা করেছিলেন তার নাম ছিল, মিরদাস ইবন নাহীক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px