📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 দ্বিতীয় কারণ থেকে ষষ্ঠ কারণ

📄 দ্বিতীয় কারণ থেকে ষষ্ঠ কারণ


দ্বিতীয় কারণ:
দ্বিতীয় কারণ এই যে, হাদীসটি ইমামের নিকট পৌঁছেছে, কিন্তু কতিপয় কারণে তা তার কাছে নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হয় নি। কারণগুলো হলো: তার কাছে যিনি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন সে মুহাদ্দিস কিংবা সে মুহাদ্দিস যে মুহাদ্দিসের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি ইমামের নিকট মাজহুল তথা অপরিচিত কিংবা মুত্তাহাম তথা মিথ্যা বর্ণনাকারীর অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা সাইয়্যেউল হিফয তথা (হাদীস শাস্ত্রের) স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল অথবা হাদীসটি তার নিকট মুসনাদ তথা সনদপরম্পরার ধারাবাহিকতা সম্পন্ন অবস্থায় পৌঁছে নি, বরং মুনকাতে' তথা সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে।

তৃতীয় কারণ:
ইমামের ইজতিহাদ মোতাবেক হাদীসকে দুর্বল মনে করা। যেখানে অন্য আলিমগণ সেটাকে দুর্বল আখ্যায়িত করেন না। এখানে অন্য কোনো পন্থায় সেটি এসেছে কি না সেদিকে দৃষ্টিপাত না দেওয়া সত্ত্বেও এবং এখানে সঠিক মতটি তার (দুর্বল ধারণাকারী মুজতাহিদের) হোক অথবা তার বিপক্ষীয় লোকের (যিনি দুর্বল বলেন নি তার) হোক অথবা উভয়ের কাছেই হোক; বিশেষ করে যারা মনে করে যে, সকল মুজতাহিদই সঠিক পথের উপর আছে; সর্বাবস্থায় একই বিধান। (অর্থাৎ হাদীসকে দুর্বল মনে করা হাদীসের ওপর আমল না করার একটি কারণ)।

চতুর্থ কারণ:
কোনো কোনো ইমাম কর্তৃক খবরে ওয়াহিদ (মুতাওয়াতির কিংবা মাশহুর নয় এমন হাদীস) এর বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ ও স্মরণশক্তির অধিকারী হওয়ার পরও তাতে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া, যাতে অন্যরা তার বিরোধিতা করে থাকে। যেমন, (ক) তাদের কেউ শর্ত করেছেন যে, সে খবরে ওয়াহেদকে কুরআন ও অন্যান্য হাদীসের সামনে পেশ করতে হবে। (খ) আবার কেউ শর্ত করে বলেন, খবরে ওয়াহেদের বর্ণনাকারী ফকীহ হতে হবে, যখন ঐ হাদীস মূলনীতিসমূহের কিয়াসের বিরোধী হবে। (গ) আবার কেউ কেউ শর্ত দিয়ে বলেন, খবরে ওয়াহেদ গ্রহণের জন্য শর্ত হচ্ছে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে হবে।

পঞ্চম কারণ:
হাদীসটি ইমামের নিকট পৌছেছে এবং তার নিকট তা রাসূলের হাদীস বলে প্রমাণিতও হয়েছে, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন। এটা কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টির ব্যাপারেই হতে পারে। যেমন, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদীস। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করা হলো, সফরের সময় কোনো ব্যক্তি নাপাক হলে এবং তখন পানি না পাওয়া গেলে সালাত আদায় করতে হবে কী না? তিনি বললেন, সফরের সময় কোনো ব্যক্তি নাপাক হলে, পানি না পাওয়া পর্যন্ত তাকে সালাত আদায় করতে হবে না। তখন আম্মার ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে রাসূলের নির্দেশিত তায়াম্মুমের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিলেন। এ সুন্নাতটি সংঘটিত হওয়ার সময় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি হাদীসটি এমনভাবে ভুলে যান যে, তার বিপরীত রায় প্রকাশ করেন।

ষষ্ঠ কারণ:
হাদীসে আমল না করার কারণ এও হয়ে থাকে যে, ইমাম বা আলিম ব্যক্তি হাদীসের চাহিদা বা ইপ্সিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকবেন বা জানবেন না। বেশ কয়েকটি কারণে হাদীসের উদ্দেশ্য একজন ইমাম বা আলিমের কাছে অজানা থাকতে পারে। যেমন: (ক) কখনও কখনও হাদীসে উল্লিখিত শব্দটি অপরিচিত কোনো শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: মুযাবানাহ, মুখাবারাহ, মুহাকালাহ, মুলামাসাহ, মুনাবাযাহ, গারার ইত্যাদি। (খ) আবার কখনও উক্ত ইমাম বা আলিমের জন্য সে হাদীসের অর্থ না জানার কারণ হচ্ছে, যে শব্দ হাদীসে এসেছে, তার বর্তমান আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনোনীত অর্থের বিপরীত হওয়া।

টিকাঃ
১৮. অর্থাৎ সে মতটি তার একান্ত নিজের ইজতেহাদপ্রসূত।
১৯. অর্থাৎ দুর্বল হাদীস।
২০. অর্থাৎ তখন আমার ইজতেহাদপ্রসূত কথার মূল্য থাকবে না, বরং হাদীসের কথাই আমার কথা।
২১. সহীহ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ।
২২. কারণ, আগত ঘটনাতে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু কুরআনের আয়াতও ভুলে গিয়েছিলেন। [সম্পাদক]
২৩. তবে বর্ণনাটির সনদ দুর্বল। [সম্পাদক]
২৪. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বায়হাকী, মুসান্নাফে আবদির রাযযাক।
২৫. গাছের ঝুলন্ত খেজুর অন্যত্র শুকনা খেজুরের পরিবর্তে বিক্রি করা।
২৬. ভূমিতে অর্জিত শস্যের বিশেষ অংশের তৃতীয় বা চতুর্থাংশের বিনিময়ে কাজ করা।
২৭. শীষের অভ্যন্তরস্থিত গমকে বাইরের পরিস্কার গমের বিনিময়ে বিক্রয় করা।
২৮. বিক্রেতা বলবে: আমার কাপড় স্পর্শ করলে বেচা-কেনা অবশ্যম্ভাবী অথবা ক্রেতা বলবে, আমি তোমার কাপড় স্পর্শ করলেই বেচা-কেনা সম্পূর্ণ হবে।
২৯. কোনো ব্যক্তি বিক্রেতাকে এই কথা বলা যে, আমি তোমার দিকে এই প্রস্তর টুকরা নিক্ষেপ করলেই বিক্রয়া সম্পূর্ণ হবে।
৩০. ধোকাপূর্বক ক্রয় বিক্রয় অর্থাৎ দ্রব্যের উপরের অংশ দেখে ক্রেতা মুগ্ধ হয় এবং ধোকা প্রাপ্ত হয় কিন্তু ভিতরগত বস্তু সম্পর্কে সে অনভিহিত।
৩১. তখন হাদীসের অর্থ দাঁড়ায়, (কারও নিকট হতে জোরপূর্বক তালাক নেওয়া হলে এবং জোরপূর্বক কারও গোলাম আযাদ করা হলে ঐ স্ত্রীর প্রতি তালাকও পতিত হবে না এবং ঐ গোলামও আযাদ হবে না।) [মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান]।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 নাবীয় হালাল বা হারাম হওয়া প্রসঙ্গ

📄 নাবীয় হালাল বা হারাম হওয়া প্রসঙ্গ


কেউ বিভিন্ন বর্ণনা থেকে শুনল যে, (মদ হারাম হলেও) 'নাবীয' এর ব্যাপারে 'রুখসত' বা ছাড় দেওয়া হয়েছে। তখন সে মনে করল যে, 'নাবীয' সম্ভবত কোনো এক প্রকার মাদক। কারণ সে তার ভাষাতেই এরূপই বুঝে থাকে। অথচ প্রকৃতপক্ষে, খেজুর মিশ্রিত মিষ্টি পানিকেই নাবীজ বলা হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত ওতে নেশা না আসে। অনেক সহীহ হাদীসেই নাবীযের এরূপ ব্যাখ্যা এসেছে। অনুরূপভাবে কেউ কেউ কুরআন ও সুন্নায় উদ্ধৃত 'খমর' শব্দটি শুনতে পেল। তখন তারা মনে করল যে, 'খমর' বলতে শুধুমাত্র আংগুরের রসকেই বুঝায়; যখন তা শক্ত ও নেশাযুক্ত হয়। কেননা এটাই 'খমর' বা মদের আভিধানিক অর্থ। যদিও অনেক সহীহ হাদীসে প্রত্যেক নেশাযুক্ত পানীয়কেই মদ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

টিকাঃ
৩২. সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এ সংক্রান্ত হাদীস রয়েছে।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 সপ্তম থেকে দশম কারণ

📄 সপ্তম থেকে দশম কারণ


সপ্তম কারণ:
হাদীসে আমল না করার কারণ কখনও কখনও এও হয়ে থাকে যে, ব্যক্তি বা ইমাম মনে করেন, উল্লিখিত হাদীসটির মধ্যে আলোচ্য বিষয়টি উদ্দিষ্ট নয়। এই কারণ ও পূর্ববর্ণিত কারণের মধ্যে পার্থক্য এই যে, প্রথমটির মধ্যে সেই ব্যক্তি বা ইমাম হাদীসের প্রকৃত চাহিদা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকবেন। কিন্তু দ্বিতীয়টিতে (অর্থাৎ সপ্তম এই কারণে) সেই ব্যক্তি বা ইমাম হাদীসের চাহিদা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানবেন বা জ্ঞাত থাকবেন। কিন্তু তার বদ্ধমূল ধারণা যে, (হাদীস থেকে) এই চাহিদা ও উদ্দেশ্য নেওয়া সঠিক নয়। কেননা সেই ব্যক্তি বা ইমামের যে সব সুনির্দিষ্ট উসূল বা মূলনীতি রয়েছে সেগুলোর বিপরীত হওয়ায় এই উদ্দেশ্য বা চাহিদা পরিত্যাজ্য।

অষ্টম কারণ:
হাদীসে আমল না করার একটি কারণ এও হয়ে থাকে যে, হাদীসটি যে মাসআলার জন্য দলীল হিসেবে পেশ করা হয়, সেটার বিপক্ষে এমন দলীলও রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, হাদীসটি উক্ত মাসআলার দলীল নয়। যেমন, (ক) অনির্দিষ্ট দলীলটি নির্দিষ্ট দলীলের বিরোধী হওয়া। (খ) অথবা শর্তমুক্ত দলীলটি শর্তযুক্ত দলীলের বিরোধী হওয়া। (গ) অথবা শর্ত-মুক্ত নির্দেশটি এমন কিছুর বিপরীত হওয়া, যা দ্বারা বোঝা যায় যে, নির্দেশটি ওয়াজিবের আওতাভুক্ত নয়।

নবম কারণ:
এ ধারণা করা যে, হাদীসটি এমন কিছুর সাথে দ্বন্দ্বযুক্ত, যা সবার নিকটই বিপরীতে দাঁড়ানোর ক্ষমতার রাখে। যেমন, অপর কোনো আয়াত অথবা অপর কোনো হাদীস অথবা ইজমা'-এর মতো শক্তিশালী প্রমাণ। (যদি এ ধরণের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন) তা প্রমাণ করে যে, (যে হাদীসটির ওপর মুজতাহিদ ব্যক্তি বা ইমাম আমল করেন নি সে) হাদীসটি হয় দুর্বল, নয়তো রহিত কিংবা তাতে তাবিল তথা ব্যাখ্যা রয়েছে; যদি তাতে তাবিল তথা ব্যখ্যা করে ভিন্ন অর্থ করার অবকাশ থাকে।

দশম কারণ:
হাদীসে আমল না করার দশম কারণ এই যে, উক্ত হাদীসটির বিপক্ষে এমন কিছু দলীল-প্রমাণ রয়েছে, যার ফলে মুজতাহিদ ব্যক্তি বা ইমাম মনে করেন যে, উক্ত হাদীস দুর্বল, মনসুখ (রহিত) অথবা তাতে তাবিল তথা ব্যাখ্যা করে ভিন্ন মত গ্রহণের অবকাশ রয়েছে। অথচ অন্যান্য ইমামগণ সেটাকে বা সেটার মত প্রমাণকে হাদীসের সাথে দ্বান্দ্বিক বলে মনে করেন না অথবা বাস্তবিকই সেই দলীল-প্রমাণকে ঐ হাদীসটির বিপরীতে গ্রহণযোগ্য দ্বান্দ্বিক মনে করার সুযোগ নেই।

টিকাঃ
৩৬. এসব মূলনীতি শুদ্ধও হতে পারে, আবার অশুদ্ধও হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ইমাম বা মুজতাহিদ ব্যক্তি মনে করছে যে, এগুলো অভ্রান্ত নীতি। সুতরাং এর বিপরীতে হাদীসের কোনো চাহিদা পাওয়া গেলে সেসব হাদীসের উপর আমল করতে হবে মূলনীতির আলোকে, বিপরীতে গিয়ে নয়।
৩৭. এটি একটি উসূলী পরিভাষা। যে ব্যপারে শরী'আত চুপ রয়েছে সেখানে কোনো বিধান দেওয়া যাবে না।
৩৮. অর্থাৎ এ সকল উসূল বা মূলনীতি হয়ত, সে মুজতাহিদ ব্যক্তি বা ইমামের কাছে অলঙ্ঘনীয় মূলনীতি। যা তিনি বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসের আলোকে নির্ধারণ করেছেন।
৩৯. যে হাদীসটির উপর মুজতাহিদ ব্যক্তি বা ইমাম আমল করেন নি এ কারণে যে এর বিপরীতে হাদীস রয়েছে, সে হাদীসটিই মূলতঃ শক্তিশালী, তার বিপরীতটি দুর্বল।
৪০. এ প্যারাটুকু আগের ও পরের কথা থেকে ভিন্ন করে বর্ণনা করা হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য, মানুষ যেন নিজে নতুন মত আবিস্কার করতে উদ্বুদ্ধ না হয়।
৪১. এ উদাহরণ পূর্বের প্যারার সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং পূর্বের প্যারার পূর্বের প্যারার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ বিপরীত মত না জানাকে কেউ কেউ কীভাবে ইজমা' বলে চালিয়ে দিয়েছে।
৪২. এ কথাকেই তিনি হয়ত ইজমা' ধরে নিয়েছেন। কারণ, তিনি এর এর বিপরীত মত জানেন না।
৪৩. অর্থাৎ তারা এটা জায়েয বলেছেন। সুতরাং তার না জানা ইজমা' হিসেবে ধর্তব্য হবে না।
৪৪. হাদীসটি একটি সহীহ হাদীস। যার ওপর ইমাম আবু হানিফাসহ কেউ কেউ আমল করেন নি। কারণ, তাদের মতে, এটি অন্য একটি হাদীসের বিপরীত।
৪৫. আর ইমাম শাফে'ঈ সহ একদল আলেম এ মতটি গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম রচিত জালাউল আফহাম ফিস সালাতি আলা খাইরিল আনাম।
৪৬. এভাবে তো আর ইজমা' হয় না। তাই যখন ইজমা' দাবী করা হয়, তখন যদি উদ্দেশ্য হয় যে, আমি এর বিপরীত মত সম্পর্কে জ্ঞাত নই, তখন সেটা ইজমা' বলে বিবেচিত হবে না।
৪৭. অর্থাৎ তারপরও তিনি সেটা না শুনে ইজমা' হওয়ার দাবীই করে যেতেন।
৪৮. উসূলীদের পরিভাষায় এটাকে বলা হয়, যাহের। এর সংজ্ঞা দিয়ে বলা যায়, যা সাধারণ বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, অথচ তাতে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে।
৪৯. উসূলীদের পরিভাষায় এটাকে বলা হয়, 'নস'। যার সংজ্ঞা দিয়ে বলা যায়, যে উদ্দেশ্যে বাক্যটি নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে অন্য ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।
৫০. সুতরাং হয়ত সে ইমাম বা মুজতাহিদ যেটাকে কুরআনের 'যাহের' অর্থ মনে করে হাদীসের 'নস' এর সাথে দ্বান্দ্বিক গণ্য করে হাদীসের উপর 'আমল ত্যাগ করেছে, আসলে কুরআনের সে অর্থটি যাহের নয়।
৫১. অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাদীর নিকট দুইজন সাক্ষী না থাকলে, সে একজন সাক্ষী পেশ করার পর দ্বিতীয় সাক্ষীর স্থানে শপথ করবে।
৫২. সুতরাং, হাদীসে কুরআনের যে তাফসীর বা ব্যাখ্যা রয়েছে তাও গ্রহণযোগ্য হবে এবং সেটাকে কুরআনের সাথে দ্বান্দ্বিক মনে করা যাবে না।
৫৩. ইমাম শাফে'ঈ রহ. বলেন, কখনও কোনো আয়াত কোনো সহীহ হাদীসের ভাষ্যের সাথে বিরোধপূর্ণ হয় না। যদি বাহ্যিকভাবে এরকম কিছু মনে হয়, তবে সেটাকে কুরআনের ব্যাখ্যা মনে করতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px