📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 অগ্নিপূজক ও জিজিয়া কর

📄 অগ্নিপূজক ও জিজিয়া কর


অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু অগ্নিপূজকদের নিকট থেকে জিজিয়া কর আদায় করা হবে কিনা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। অবশেষে আব্দুর রহমান ইবন 'আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে রাসূলের হাদীস শুনালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তাদের সাথে জিযিয়ার ব্যাপারে আহলে কিতাবদের ন্যায় আচরণ কর’।”

টিকাঃ
৫. মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস নং ৪২; মুসনাদে শাফে’ঈ, পৃ. ২০৯।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 উমর ফারুকের (রাঃ) সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব

📄 উমর ফারুকের (রাঃ) সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব


তদ্রূপ যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সারগ’ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন খবর পেলেন যে, শাম দেশে (সিরিয়া ও তৎসংলগ্ন এলাকা) প্লেগের (Plague) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, তিনি তার কাছে অবস্থিত মুহাজিরীনে আউয়ালিনের (যারা ইসলামের প্রথম অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) নিকট পরামর্শ চাইলেন। তৎপর আনসারদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তৎপর মক্কা বিজয়ের পূর্ববর্তী সময়ের মুসলিমদের মতামত চাইলেন। তারা সকলেই নিজ নিজ অভিমত পেশ করলেন। কেউই এ সম্পর্কে হাদীস বলতে পারলেন না। এ সময় আব্দুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু আগমন করলেন এবং মহামারী সংক্রান্ত হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের অবস্থানকালীন কোনো স্থানে মহামারী দেখা দিলে তোমরা ঐ জায়গা হতে পালিয়ে যেও না এবং কোনো স্থানে মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কথা শুনলে সেখানে তোমরা প্রবেশ করো না।”

টিকাঃ
৬. সিরিয়ার হাজীরা যখন হজের জন্য আসে তখন সিরিয়ার শেষ প্রান্ত ও হিজাযের শুরু এলাকায় অবস্থিত একটি এলাকা, যা আল-মুগীসাহ ও তাবুকের মাঝখানে অবস্থিত একটি জনপদের নাম। কারও কারও মতে, সেটি মদিনা থেকে ১৩ ক্রোশ দূরে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।
৭. মুসনাদে আহমাদ ১/১৮২; অনুরূপ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২১৮।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 সালাতে সন্দেহ পোষণের মাসআলা

📄 সালাতে সন্দেহ পোষণের মাসআলা


উমার ও আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সালাতে সন্দেহ পোষণকারী ব্যক্তির হুকুম সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ সম্পর্কে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পূর্বে কোন সহীহ হাদীস পৌঁছে নি। তখন আব্দুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসটি শুনালেন, যাতে এসেছে যে, তোমাদের কেউ যখন সালাতে সন্দেহ করবে এবং বলতে পারবে না কয় রাকাত পড়েছে, তিন নাকি চার, তাহলে সে যেন সন্দেহযুক্ত অংশ দূরে নিক্ষেপ করে এবং দৃঢ় অংশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।

টিকাঃ
৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৭২; মুসনাদে আহমাদ, ৩/৮৩।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 উমর (রাঃ) এবং ঝড় তুফানের হাদীস

📄 উমর (রাঃ) এবং ঝড় তুফানের হাদীস


একদা সফরকালে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ভীষণ ঝড়ের সম্মুখীন হলেন এবং বলতে লাগলেন, "কে আমাদেরকে ঝড় সম্পর্কীয় হাদীস শুনাবে”? তখন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যখন আমার নিকট উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাটি পৌঁছলো তখন আমি দলের পশ্চাতে ছিলাম। অতঃপর আমি আমার বাহনকে তাড়াতাড়ি চালালাম এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলাম। অতঃপর ঝড় প্রবাহের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত হাদীস তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম।

“ঝড় আল্লাহর পক্ষ হতে প্রবাহিত হয়ে থাকে, তখন তা কখনও রহমত বহন করে আবার কখনও আজাব (শাস্তি) বহন করে। অতএব, যখন তোমরা ঝড় প্রবাহিত হতে দেখ, তখন তাকে গালি দিও না, বরং আল্লাহর নিকট মঙ্গল কামনা কর এবং অমঙ্গল হতে পরিত্রাণ লাভের প্রার্থনা কর”। (মুসনাদে আহমাদ, ২/২৬৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩২২৭)

অনুরূপ বর্ণনা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঝড় প্রবাহিত হতো, তখন বলতেন, “হে আল্লাহ আমি কল্যাণসূচক ঝড় কামনা করি এবং এর মধ্যে যা কিছু কল্যাণ তাও চাই, আর এ ঝড় যে কল্যাণসহ প্রেরিত হয়েছে সেটাও পেতে চাই। আর আমি অকল্যাণসূচক ঝড় থেকে আশ্রয় চাই এবং এর মধ্যে যা কিছু অকল্যাণ রয়েছে তা থেকে আশ্রয় চাই, আর এ ঝড় যে অকল্যাণসহ প্রেরিত হয়েছে তা থেকেও আশ্রয় চাই।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৯৯)

উল্লিখিত মাসআলাগুলো এমন মাসআলা যে বিষয়ের হাদীস উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছে নি, শেষ পর্যন্ত তাঁকে তারা হাদীস পৌঁছিয়েছেন যারা মান-মর্যাদা ও সম্মানে কেউই তার সমকক্ষ নন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px