📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 উমর (রাঃ) এবং অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদীস

📄 উমর (রাঃ) এবং অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদীস


অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনিও কোনো ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে অনুমতি প্রার্থনার হাদীস সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত আবু মুসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে এ বিষয় অবহিত করলেন এবং আনসারদের দ্বারা নিজের বক্তব্যের সপক্ষ্যে প্রমাণ পেশ করলেন। অথচ যিনি (আবু মুসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু) উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ সুন্নাহ সম্পর্কে অবহিত করলেন, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার থেকে অনেক বেশি জানতেন।

টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫৩।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 স্বামীর দয়তে স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার

📄 স্বামীর দয়তে স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার


তদ্রূপ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু, স্বামীর দিয়তে (রক্ত বা যখম জনিত জরিমানাস্বরূপ প্রাপ্ত সম্পদে) স্ত্রী অংশীদারী হবে কিনা এ বিষয়ে জ্ঞাত ছিলেন না, বরং তার ধারণা ছিল, দিয়ত 'আকেলার (ফরায়েযে যারা 'আসাবা হয় তাদের) প্রাপ্য। অবশেষে দাহ্হাক ইবন সুফইয়ান আল- কিলাবী, যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় কোনো গ্রাম্য এলাকায় আমীর ছিলেন, তিনি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের বর্ণনা দিয়ে বললেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশইয়াম আদিবাবীর স্ত্রীকে স্বামীর দিয়তের ওয়ারিশ করেছেন।” ফলে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় মত পরিত্যাগ করলেন এবং বললেন, যদি আমরা এই হাদীস না শুনতাম তবে এর বিপরীত ফয়সালা দিতাম।

টিকাঃ
৪. মুসনাদে আহমাদ, ৩/৪৫২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯২৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১৪১৫; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৬৪২।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 অগ্নিপূজক ও জিজিয়া কর

📄 অগ্নিপূজক ও জিজিয়া কর


অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু অগ্নিপূজকদের নিকট থেকে জিজিয়া কর আদায় করা হবে কিনা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। অবশেষে আব্দুর রহমান ইবন 'আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে রাসূলের হাদীস শুনালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তাদের সাথে জিযিয়ার ব্যাপারে আহলে কিতাবদের ন্যায় আচরণ কর’।”

টিকাঃ
৫. মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস নং ৪২; মুসনাদে শাফে’ঈ, পৃ. ২০৯।

📘 রাফউল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব 📄 উমর ফারুকের (রাঃ) সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব

📄 উমর ফারুকের (রাঃ) সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব


তদ্রূপ যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সারগ’ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন খবর পেলেন যে, শাম দেশে (সিরিয়া ও তৎসংলগ্ন এলাকা) প্লেগের (Plague) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, তিনি তার কাছে অবস্থিত মুহাজিরীনে আউয়ালিনের (যারা ইসলামের প্রথম অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) নিকট পরামর্শ চাইলেন। তৎপর আনসারদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তৎপর মক্কা বিজয়ের পূর্ববর্তী সময়ের মুসলিমদের মতামত চাইলেন। তারা সকলেই নিজ নিজ অভিমত পেশ করলেন। কেউই এ সম্পর্কে হাদীস বলতে পারলেন না। এ সময় আব্দুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু আগমন করলেন এবং মহামারী সংক্রান্ত হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের অবস্থানকালীন কোনো স্থানে মহামারী দেখা দিলে তোমরা ঐ জায়গা হতে পালিয়ে যেও না এবং কোনো স্থানে মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কথা শুনলে সেখানে তোমরা প্রবেশ করো না।”

টিকাঃ
৬. সিরিয়ার হাজীরা যখন হজের জন্য আসে তখন সিরিয়ার শেষ প্রান্ত ও হিজাযের শুরু এলাকায় অবস্থিত একটি এলাকা, যা আল-মুগীসাহ ও তাবুকের মাঝখানে অবস্থিত একটি জনপদের নাম। কারও কারও মতে, সেটি মদিনা থেকে ১৩ ক্রোশ দূরে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।
৭. মুসনাদে আহমাদ ১/১৮২; অনুরূপ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২১৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px