📄 প্রথম কারণ
হয়ত হাদীসটি তাঁর নিকট পৌঁছে নি, আর যার কাছে হাদীস পৌঁছে নি তাকে হাদীস যা চায় সেটা জানতে বাধ্য করা যায় না। তাঁর নিকট ঐ হাদীস না পৌঁছার কারণে কোনো ব্যাপারে আয়াতের প্রকাশ্য বক্তব্য (যা উক্ত অর্থ প্রকাশের জন্য আনা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয় নি এবং যাতে অন্য অর্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বিদ্যমান) কিংবা অন্য হাদীস অথবা কিয়াসের চাহিদা অথবা ইসতেসহাবের (কোন বস্তুর মৌল গুণ) দ্বারা রায় প্রদান করতেই পারে, আর তখন সেটা ঐ হাদীসের অনুকুলেও হতে পারে, আবার কখনও তার প্রতিকূলেও যায়। সালাফে সালেহীনের কোনো কোনো হাদীস বিরোধী বক্তব্যের জন্য উপরোক্ত কারণটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত।
কেননা উম্মতের কোনো এক ব্যক্তির পক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত হাদীস পূর্ণরূপে আয়ত্ব করা সম্ভব নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন, বিচার করতেন, কোনো বিষয়ে ফাতওয়া দিতেন অথবা কোনো কাজ করতেন, তখন উপস্থিত লোকগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শ্রবণ করতেন কিংবা অবলোকন করতেন। অতঃপর উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকেই কিংবা কেউ কেউ শ্রুত বা পরিদৃষ্ট হাদীসটি অপরের নিকট পৌঁছাতেন। তারপর উক্ত হাদীসটি বিজ্ঞ সাহাবী, তাবেঈন ও তাদের পরবর্তীগণের মধ্যে যাদের কাছে আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাদের কাছে পৌঁছাতেন।
এরপর অন্য একটি মজলিসে হাদীস বর্ণিত হত, সিদ্ধান্ত হত, বিচার করা হত অথবা কোনো কাজ করা হত। যারা পূর্বের মজলিসে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের কেউ কেউ পরবর্তী মজলিসে উপস্থিত থাকতেন। যাঁদের পক্ষে সম্ভব হত তারা শ্রুত হাদীসটি প্রচার করতেন। অতএব, পূর্বের মজলিসে উপস্থিত লোকদের যে জ্ঞান লাভ হয়, তা পরবর্তী মজলিসে উপস্থিত লোকদের হয় নি, আবার পরবর্তী মজলিসের লোকদের যে জ্ঞান লাভ হয় তা পূর্ববর্তী লোকদের হয় নি।
📄 বিজ্ঞ সাহাবীগণের (রাঃ) মর্যাদার তারতম্য
সাহাবী ও তাদের পরবর্তীগণের (তাবেঈ ও তাবে' তাবে'ঈন) পরস্পরের প্রাধান্য নির্ভর করে তাদের জ্ঞানের গভীরতা, ব্যাপকতা ও উৎকর্ষের ওপর। একজনের পক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্পূর্ণ হাদীস আয়ত্ব করা সম্ভব, এরূপ দাবী করা ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীন থেকেই আমরা বিষয়টির প্রমাণ পাই। যাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাবার্তা, নিয়ম পদ্ধতি ও চলাফেরা ইত্যাদি অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত।
বিশেষতঃ আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু দেশে-বিদেশে কখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ ত্যাগ করেন নি, বরং অধিকাংশ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে থাকতেন। এমনকি মুসলিম জাতির প্রয়োজনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি বিনিদ্র রাত্রি যাপন করতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও ছিলেন অনুরূপ। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বলতেন: “আমি, আবু বকর ও উমার প্রবেশ করেছি এবং আমি, আবু বকর ও উমার বের হয়েছি”।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬৮৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৮৯।
📄 আবু বকর (রাঃ) এবং দাদীর মিরাস
এতদসত্ত্বেও যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দাদীর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি (মিরাস) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেন, “তোমার জন্য আল্লাহর কুরআনে অংশ নির্ধারিত নেই এবং হাদীসেও তদ্রূপ কোনো নির্দেশ আমার জানা নেই। তবে আমি লোকদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। লোকদিগকে জিজ্ঞেস করা হলে মুগীরা ইবন শো'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১/৬ (এক ষষ্ঠাংশ) দিয়েছেন।” অনুরূপভাবে ইমরান ইবন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুও এই হাদীসটি পৌঁছিয়েছেন।
উপরোক্ত তিনজন সাহাবী (যারা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন), আবু বকর কিংবা অন্যান্য খলীফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সমকক্ষ নন। তথাপি তারাই বিশেষ করে এ হাদীসটি সম্পর্কীয় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, আর এ হাদীসটির ওপর আমলের ব্যাপারে সমস্ত উম্মত একমত।
টিকাঃ
২. তিরমিযী, হাদীস নং ২১০০; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৯৪।
📄 মাসআলা যেগুলোতে উমর (রাঃ)-এর রায় প্রদানের পূর্বে হাদীস পৌঁছে নি
কতকগুলো মাসআলা যেগুলো সম্পর্কে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রায় প্রদানের পূর্বে তাঁর নিকট সংশ্লিষ্ট হাদীস পৌঁছে নি: