📄 মাইন্ড কন্ট্রোলের নামে বিভ্রান্তিকর কথকতা
বলা বাহুল্য, গত কয়েক দশক ধ'রে positive thinking, mind control, mesmerism, hypnotism, self-hypnosis-ইত্যাদি মনস্তাত্ত্বিক কলাকৌশল প্রয়োগ ক'রে বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বে যে মানসিক ব্যায়ামের চর্চার হিড়িক চলছে, তা সামান্য কিছু ব্যায়াম এবং ছেলে-ভুলানো তত্ত্বকথা মাত্র। উদভ্রান্ত 'আধুনিক' দুপেয়ে জীবগুলো তাদের মানসিক স্বাধীনতার সীমারেখা চরমভাবে অতিক্রম করেছে ব'লে জীবনের দান তাদের কাছে আধিক্যের অভিশাপের কারণে অধিকাংশ সময়ে জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়। এই অভিশাপের জ্বালা থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পাবার জন্য তারা সাপ্তাহিক ছুটি-কাটানোর মতো মাঝে মধ্যে জীবনকেই ভুলে থাকতে চায়। আর এরই উপায় হিসেবে তারা ড্রাগ থেকে শুরু ক'রে বিভিন্ন কথা-সর্বস্ব চটকদার মাইন্ড কন্ট্রোলিং একসারসাইজের আশ্রয় নেয়। এতে তারা কখনো-কখনো আত্মচেতনার অপব্যবহার থেকে উদ্ভূত দোজখের আগুন থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকার তৃপ্তিটুকু পেয়ে থাকে বটে, কিন্তু তারা জানে না যে এ হলো কেবল ক্লান্তির পরে বিশ্রামের তৃপ্তিমাত্র। ক্লান্তিকে ভুলে থাকা আর ক্লান্তিকে অতিক্রম করা এক কথা নয়। একথা অনুধাবন করার সময়ও তাদের নেই। সময়ের সাথে তারা দুর্ব্যবহার করেছে ব'লে সময় এবং জীবন তাদেরকে অহরাত্র ফাঁকি দিয়ে চলেছে। তথাকথিত মাইন্ড কন্ট্রোলের নামে তারা এই ফাঁকির মৃত্যু থেকে সাময়িকভাবে বাঁচার আশায় relaxation এর নামে আত্মবিস্মৃতির কবরে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে থেকে চেতনার বোঝা কমাতে চায়। আত্মচেতনার অপব্যবহার বিশুদ্ধ চেতনার ওপর যে জঞ্জাল এবং যাতনা চাপিয়ে দেয়, তা থেকে বাঁচতে গিয়ে তারা সাময়িক চেতনালোপ বা মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে, আর এ কারণে বর্তমানে সর্বত্র চলছে মাইন্ড কন্ট্রোলের নামে মাইন্ডকে ভুলে-থাকার দাওয়াই সেবনের হিড়িক।
কিন্তু কেউ নিজেকে ভুলতে পারে না।
আত্ম-চেতনা যখন চেতনার অপব্যবহার করে তখন চেতনাও তার পাল্টা আগুন দিয়ে তার প্রতিশোধ নেয়। ঘুম দিয়ে তা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকা গেলেও নেভানো যায় না।
বলা বাহুল্য, গত কয়েক দশক ধ'রে positive thinking, mind control, mesmerism, hypnotism, self-hypnosis-ইত্যাদি মনস্তাত্ত্বিক কলাকৌশল প্রয়োগ ক'রে বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বে যে মানসিক ব্যায়ামের চর্চার হিড়িক চলছে, তা সামান্য কিছু ব্যায়াম এবং ছেলে-ভুলানো তত্ত্বকথা মাত্র। উদভ্রান্ত 'আধুনিক' দুপেয়ে জীবগুলো তাদের মানসিক স্বাধীনতার সীমারেখা চরমভাবে অতিক্রম করেছে ব'লে জীবনের দান তাদের কাছে আধিক্যের অভিশাপের কারণে অধিকাংশ সময়ে জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়। এই অভিশাপের জ্বালা থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পাবার জন্য তারা সাপ্তাহিক ছুটি-কাটানোর মতো মাঝে মধ্যে জীবনকেই ভুলে থাকতে চায়। আর এরই উপায় হিসেবে তারা ড্রাগ থেকে শুরু ক'রে বিভিন্ন কথা-সর্বস্ব চটকদার মাইন্ড কন্ট্রোলিং একসারসাইজের আশ্রয় নেয়। এতে তারা কখনো-কখনো আত্মচেতনার অপব্যবহার থেকে উদ্ভূত দোজখের আগুন থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকার তৃপ্তিটুকু পেয়ে থাকে বটে, কিন্তু তারা জানে না যে এ হলো কেবল ক্লান্তির পরে বিশ্রামের তৃপ্তিমাত্র। ক্লান্তিকে ভুলে থাকা আর ক্লান্তিকে অতিক্রম করা এক কথা নয়। একথা অনুধাবন করার সময়ও তাদের নেই। সময়ের সাথে তারা দুর্ব্যবহার করেছে ব'লে সময় এবং জীবন তাদেরকে অহরাত্র ফাঁকি দিয়ে চলেছে। তথাকথিত মাইন্ড কন্ট্রোলের নামে তারা এই ফাঁকির মৃত্যু থেকে সাময়িকভাবে বাঁচার আশায় relaxation এর নামে আত্মবিস্মৃতির কবরে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে থেকে চেতনার বোঝা কমাতে চায়। আত্মচেতনার অপব্যবহার বিশুদ্ধ চেতনার ওপর যে জঞ্জাল এবং যাতনা চাপিয়ে দেয়, তা থেকে বাঁচতে গিয়ে তারা সাময়িক চেতনালোপ বা মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে, আর এ কারণে বর্তমানে সর্বত্র চলছে মাইন্ড কন্ট্রোলের নামে মাইন্ডকে ভুলে-থাকার দাওয়াই সেবনের হিড়িক।
কিন্তু কেউ নিজেকে ভুলতে পারে না।
আত্ম-চেতনা যখন চেতনার অপব্যবহার করে তখন চেতনাও তার পাল্টা আগুন দিয়ে তার প্রতিশোধ নেয়। ঘুম দিয়ে তা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকা গেলেও নেভানো যায় না।
📄 কোরানিক সেল্ফ কন্ট্রোল এবং এর বিশেষত্ব
মাইন্ড কন্ট্রোলের সর্বোচ্চ স্তর হলো সেল্ফ কন্ট্রোল, যার প্রকৃত সুফল এবং শক্তি নিহিত রয়েছে পবিত্র কোরআন এবং নবী (সঃ)-এর সুন্নাহতে, যাদেরকে মেলাতে হয় বিশেষ উপায়ে সাধনার মাধ্যমে। আমরা ইতোমধ্যে কিছুটা বুঝেও নিয়েছি কী এর ফলশ্রুতি। এর রূপরেখা এবং পদ্ধতিগুলো কী তা আমরা স্পষ্টভাবে জানব। আমরা প্রমাণ সহকারে জানব যে ইসলামিক মাইন্ড কন্ট্রোল মানে কোনো সাময়িক ব্যায়াম নয়, তা হলো পুরোপুরি লাইফ কন্ট্রোল।
মনোনিয়ন্ত্রণ মানেই জীবন-নিয়ন্ত্রণ।
অর্থাৎ জীবনকে পাওয়া।
অর্থাৎ আলোকপ্রাপ্তি।
সকল দুঃখ-কষ্টকে অতিক্রম করা।
এমনকি শারিরীক যন্ত্রণাকেও অতিক্রম করা।
জীবনের স্বরূপ দর্শন।
নিজেকে ফিরে পাওয়া।
মানব-মনের স্বাভাবজাত স্বর্গসুখে পুনস্থিত হওয়া, যা আমরা আত্ম-চেতনা প্রাপ্তির সাথে সাথেই ভ্রান্তিবশত হারিয়ে ফেলেছি।
ইসলামিক আত্মনিয়ন্ত্রণ মানে মনের যাবতীয় ময়লা থেকে মনকে পরিষ্কার করা।
অন্ধকারের অতল থেকে আলোর জগতে উঠে আসা।
সকল সীমাকে অতিক্রম ক'রে অসীমে উত্তরণ।
অন্তরের দারিদ্র্যমোচন।
ন্যূজ দুর্বলতাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে অনাড়ষ্ট সবলতা অর্জন।
চিরকালীন মুক্তি।
দুশ্চিন্তা, হতাশা, যুগের ক্লান্তি থেকে চিরমুক্তি।
মোহমুক্তি।
তীলে তীলে মৃত্যুকেও অতিক্রম ক'রে যাওয়া।
এর মাধ্যমে জীবনের অভিশাপ থেকে জীবন চিরমুক্তি লাভ করে। ভোগ পরিণত হয় যথার্থ সম্ভোগে। সংযম পরিণত হয় পরম প্রশান্তিতে। দানের মধ্যে আত্মপ্রাপ্তি ঘটে। প্রাপ্তির মধ্যে প্রকৃত সার্থকতা লাভ হয়। ভালোবাসা হয়ে ওঠে আনন্দঘন। বিরহ হয়ে ওঠে প্রেমময়।
এর দ্বারা লাভ হয় পরম স্বাধীনতা।
উচ্ছ্বসিত আনন্দ।
অদম্য আত্মবিশ্বাস।
অনড় আস্থা।
সীমাকে অতিক্রম ক'রে শ্বাশ্বত, অবিনশ্বর অসীমের সাক্ষাৎ।
সকল শৃঙ্খল থেকে চিরমুক্তি।
ইহকাল-পরকালকে একত্রে বেঁধে ফেলে মৃত্যুহীন অসীম চেতনাতে একাকার হয়ে যাওয়া।
না, এ কোনো কবিসুলভ কথার ফুলঝুরি নয়। এটাই হলো পরম বাস্তবতা। যাবতীয় অবাস্তবকে অতিক্রম ক'রে যুগ-যুগের কারাভোগের পর স্মৃতিবিজড়িত আনন্দে নিরুদ্বেগ ঘরে ফেরা। পবিত্র কোরআনো যেমন বলা হয়েছে:
তাদের পূর্ববর্তীগণও কৌশল করেছিল; কিন্তু সব বিষয়ের মূল পরিকল্পনা আল্লাহরই। তিনি প্রত্যেকটা আত্মার কাজের খবর রাখেন; এবং শীঘ্রই অবিশ্বাসীরা জানবে কারা অবশেষে (সূরা রা'দ, আয়াত: ৪২) ঘরে ফেরে।
মাইন্ড কন্ট্রোলের সর্বোচ্চ স্তর হলো সেল্ফ কন্ট্রোল, যার প্রকৃত সুফল এবং শক্তি নিহিত রয়েছে পবিত্র কোরআন এবং নবী (সঃ)-এর সুন্নাহতে, যাদেরকে মেলাতে হয় বিশেষ উপায়ে সাধনার মাধ্যমে। আমরা ইতোমধ্যে কিছুটা বুঝেও নিয়েছি কী এর ফলশ্রুতি। এর রূপরেখা এবং পদ্ধতিগুলো কী তা আমরা স্পষ্টভাবে জানব। আমরা প্রমাণ সহকারে জানব যে ইসলামিক মাইন্ড কন্ট্রোল মানে কোনো সাময়িক ব্যায়াম নয়, তা হলো পুরোপুরি লাইফ কন্ট্রোল।
মনোনিয়ন্ত্রণ মানেই জীবন-নিয়ন্ত্রণ।
অর্থাৎ জীবনকে পাওয়া।
অর্থাৎ আলোকপ্রাপ্তি।
সকল দুঃখ-কষ্টকে অতিক্রম করা।
এমনকি শারিরীক যন্ত্রণাকেও অতিক্রম করা।
জীবনের স্বরূপ দর্শন।
নিজেকে ফিরে পাওয়া।
মানব-মনের স্বাভাবজাত স্বর্গসুখে পুনস্থিত হওয়া, যা আমরা আত্ম-চেতনা প্রাপ্তির সাথে সাথেই ভ্রান্তিবশত হারিয়ে ফেলেছি।
ইসলামিক আত্মনিয়ন্ত্রণ মানে মনের যাবতীয় ময়লা থেকে মনকে পরিষ্কার করা।
অন্ধকারের অতল থেকে আলোর জগতে উঠে আসা।
সকল সীমাকে অতিক্রম ক'রে অসীমে উত্তরণ।
অন্তরের দারিদ্র্যমোচন।
ন্যূজ দুর্বলতাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে অনাড়ষ্ট সবলতা অর্জন।
চিরকালীন মুক্তি।
দুশ্চিন্তা, হতাশা, যুগের ক্লান্তি থেকে চিরমুক্তি।
মোহমুক্তি।
তীলে তীলে মৃত্যুকেও অতিক্রম ক'রে যাওয়া।
এর মাধ্যমে জীবনের অভিশাপ থেকে জীবন চিরমুক্তি লাভ করে। ভোগ পরিণত হয় যথার্থ সম্ভোগে। সংযম পরিণত হয় পরম প্রশান্তিতে। দানের মধ্যে আত্মপ্রাপ্তি ঘটে। প্রাপ্তির মধ্যে প্রকৃত সার্থকতা লাভ হয়। ভালোবাসা হয়ে ওঠে আনন্দঘন। বিরহ হয়ে ওঠে প্রেমময়।
এর দ্বারা লাভ হয় পরম স্বাধীনতা।
উচ্ছ্বসিত আনন্দ।
অদম্য আত্মবিশ্বাস।
অনড় আস্থা।
সীমাকে অতিক্রম ক'রে শ্বাশ্বত, অবিনশ্বর অসীমের সাক্ষাৎ।
সকল শৃঙ্খল থেকে চিরমুক্তি।
ইহকাল-পরকালকে একত্রে বেঁধে ফেলে মৃত্যুহীন অসীম চেতনাতে একাকার হয়ে যাওয়া।
না, এ কোনো কবিসুলভ কথার ফুলঝুরি নয়। এটাই হলো পরম বাস্তবতা। যাবতীয় অবাস্তবকে অতিক্রম ক'রে যুগ-যুগের কারাভোগের পর স্মৃতিবিজড়িত আনন্দে নিরুদ্বেগ ঘরে ফেরা। পবিত্র কোরআনো যেমন বলা হয়েছে:
তাদের পূর্ববর্তীগণও কৌশল করেছিল; কিন্তু সব বিষয়ের মূল পরিকল্পনা আল্লাহরই। তিনি প্রত্যেকটা আত্মার কাজের খবর রাখেন; এবং শীঘ্রই অবিশ্বাসীরা জানবে কারা অবশেষে (সূরা রা'দ, আয়াত: ৪২) ঘরে ফেরে।