📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 অন্য কারীদের নাম

📄 অন্য কারীদের নাম


১. ইয়াকুব বিন ইসহাক হাজরামি (মৃত্যু: ২০৫ হি.) - বসরা।
২. খালাফ বিন হিশাম বাযযার⁹¹ (মৃত্যু: ২২৩ হি.) - কূফা।
৩. আবু জাফর ইয়াযীদ বিন কা‘কা‘ (মৃত্যু: ১২৭/১৩০ হি.) - মদিনা।
এই তিনজনের কেরাআতকেও মুতাওয়াতির কেরাআত হিসেবে গণ্য করা হয়।

৪. হাসান বসরী (মৃত্যু: ১১০ হি.) - বসরা।
৫. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাইসিন (মৃত্যু: ১২৩ হি.) - মক্কা।
৬. ইয়াহইয়া বিন মুবারক ইয়াযীদী (মৃত্যু: ২০২ হি.) - বসরা।
৭. আবুল ফারাজ শানাৰুযী (মৃত্যু: ৩৮৮ হি.) - বাগদাদ।
এই চারজনের কেরাআতকে শাজ কেরাআত বলা হয়। এভাবে মুতাওয়াতির ও শাজ মিলে মোট ১৪ কেরাআত হয়।

টিকাঃ
৯১. ইনি কারী হামযার রাবী।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কেরাত ও তাজবীদ বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থ

📄 কেরাত ও তাজবীদ বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থ


১. আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন আব্বাস-ইবনে মুজাহিদ তামীমী রহ. (ম: ৩২৪ হি.) এর সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাব। মূলত তার কিতাবে সাত কেরাত উল্লিখিত হওয়ার কারণেই সাধারণভাবে সাত কেরাত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
২. মুসা বিন উবাইদুল্লাহ খাকানী (ম: ৩২৫ হি.) রচিত গ্রন্থ। এটি তাজবীদ বিষয়ক সর্বপ্রথম কিতাব। কিতাবটি ‘আল-কাসীদাতুল খাকানিয়্যা’ নামে পরিচিত।
৩. আবু আলী হাসান বিন আহমাদ ফারিসী (ম: ৩৭৭ হি.) রচিত ‘আল-হুজ্জাহ’। এটি ইবনে মুজাহিদ তামীমী রচিত সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪. উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আসাদী (ম: ৩৮৭ হি.) রচিত ‘আল-মুফসসিহ ফিল কিরাআ-ত’ (المفصح في القراءات)।
৫. মক্কী বিন আবু তালিব (ম: ৪৩৭ হি.) রচিত الرعاية لتجويد القراءة وتحقيق اللفظ - নাম থেকেই কিতাবের ধরণ বোঝা যায়। উল্লেখ্য, মক্কী বিন আবু তালিবের সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাবও রয়েছে, তার নাম ‘আত-তাবসিরা’।
৬. উসমান বিন সাঈদ দানী (ম: ৪৪৪ হি.) রচিত "التيسير في القراءات السبع" - এটি সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাব।
৭. আবু তাহের ইসমাঈল বিন খালাফ আনসারী (ম: ৪৫৫ হি.) রচিত "العنوان في القراءة" - এটিও সাত কেরাত-বিষয়ক।
৮. আবু মুহাম্মাদ কাসেম বিন ফীররুহ শাত্বেবী (ম: ৫৯০ হি.) রচিত "حرز الأماني وجه التهاني" - এটি ‘আল-কাসীদাতুশ শাত্বিবিয়্যা’ নামে প্রসিদ্ধ। এই কিতাবকে সাত কেরাত বিষয়ে সর্বোৎকৃষ্ট কিতাব গণ্য করা হয়। কিতাবটির অনেক শারাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রয়েছে।
৯. ইবনুল জাযারী আদ-দিমাশকী (মৃ: ৮৩৩ হি.) রচিত النشر في القراءات العشر 'আল-আশার'। এটি দশ ক্বিরাত-সংবলিত ফতোয়া।
১০. শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বান্না (মৃ: ১১১৭ হি.) রচিত 'إتحاف فضلاء البشر بالقراءات الأربعة عشر'। এটিতে চৌদ্দ ক্বিরাতের সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিকাঃ
¹১. উসুলুল কুরআন, মুফতি তাকি উসমানী, পৃ: ২৩১।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআনের খেদমত বিষয়ক টুকরো তথ্য

📄 কুরআনের খেদমত বিষয়ক টুকরো তথ্য


* হিজরী ১৪ সনে হযরত ওমর রাযি. জামাতের মাধ্যমে তারাবীতে কুরআন খতম করার প্রচলন করেন।³⁰
* হযরত ওসমান রাযি. এর আমলে মুসহাফে নুকতা বা হরকত দেয়া হয়নি। তখন এগুলোর প্রচলনও ছিলো না। আরবীভাষী হওয়ার কারণে সাহাবীদের এগুলো প্রয়োজনও হয়নি।
* সর্বপ্রথম মুসহাফে নুকতা সংযোজন করেন, এক মতে বিশিষ্ট তাবেয়ী আবুল আসওয়াদ দুআলী রহ. ও আরেক মতে কুফার গভর্নর যিয়াদ বিন আবু সুফিয়ান।³¹
* সর্বপ্রথম মুসহাফে হরকত সংযোজন করেন, এক মতে আবুল আসওয়াদ দুআলী ও আরেক মতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।³²
* হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যুগে সম্পূর্ণ কুরআন শরিফকে ত্রিশ পারায় ভাগ করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক পারাকে রুব্' (এক চতুর্থ্যাংশ), নিসফু (অর্ধেক) ও সালাসাাতু আরবা' (তিন চতুর্থ্যাংশ) তে ভাগ করা হয়।³³

টিকাঃ
³⁰. আল-আওয়াইল, আসকারি, পৃ: ৪১।
³¹. কুরআনুল মালুমাৎ: মুহাম্মাদ তাহিরিব প: ১১৪।
³². প্রাগুক্ত।
³³. মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া, ১৩/৪০৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px