📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 প্রসিদ্ধ সাত কারীর নাম

📄 প্রসিদ্ধ সাত কারীর নাম


১. নাম: আব্দুল্লাহ বিন কাসীর দারী মক্কী; মৃত্যুসন: ১২০ হি.; রাবীদের নাম: আবুল হাসান বাযযী ও আবু উমর কুনবুল; অঞ্চল: মক্কা।
২. নাম: নাফে বিন আব্দুর রহমান মাদানী; মৃত্যুসন: ১৬৯ হি.; রাবীদের নাম: আবু মূসা ক্বালূন ও আবু সাঈদ ওয়ার্শ; অঞ্চল: মদিনা।
৩. নাম: আব্দুল্লাহ বিন আমের ইয়াহসিবী; মৃত্যুসন: ১১৮ হি.; রাবীদের নাম: আবুল ওয়ালীদ হিশাম ও আবু আমর ইবনে যাকওয়ান; অঞ্চল: শাম।
৪. নাম: আবু আমর ইয়াব্বান বিন 'আলা বসরী; মৃত্যুসন: ১৫৪ হি.; রাবীদের নাম: আবু আমর দূরী ও আবু ওয়াইবা সূসী; অঞ্চল: বসরা।
৫. নাম: হামযা বিন হাবীব যাইয়াত কূফী; মৃত্যুসন: ১৫৬ হি.; রাবীদের নাম: আবু মুহাম্মাদ খাল্লাফ বাযযার ও আবু ঈসা খাল্লাদ; অঞ্চল: কূফা।
৬. নাম: আসিম বিন আবুন নাজুদ্‌ কূফী; মৃত্যুসন: ১২৭/১২৮ হি.; রাবীদের নাম: আবু বকর শুবাহ বিন আইয়াশ কূফী ও হাফস বিন সুলাইমান কূফী; অঞ্চল: কূফা।
৭. নাম: আবুল হাসান আলী বিন হামযা কিসায়ী; মৃত্যুসন: ১৮৯ হি.; রাবীদের নাম: আবুল হারেস লাইস ও আবু আমর দূরী; অঞ্চল: কূফা।

টিকাঃ
⁸⁰. এই রাবীদের থেকেই তাঁদের কেরাত বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা রেওয়াত না করলে পরবর্তীেরা সেগুলো শিখতে পারতো না।
৮৯. ইনি কারী আবু আমর বসরীর রাবী।
৯০. উলূমুল কুরআনে কিছু কিছু মুদ্রণাগত মুপ্রমাদ রয়েছে, সেগুলোর জন্য আল-আ‘লাম ও সিয়ারু আ‘লামিন নুবালার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 অন্য কারীদের নাম

📄 অন্য কারীদের নাম


১. ইয়াকুব বিন ইসহাক হাজরামি (মৃত্যু: ২০৫ হি.) - বসরা।
২. খালাফ বিন হিশাম বাযযার⁹¹ (মৃত্যু: ২২৩ হি.) - কূফা।
৩. আবু জাফর ইয়াযীদ বিন কা‘কা‘ (মৃত্যু: ১২৭/১৩০ হি.) - মদিনা।
এই তিনজনের কেরাআতকেও মুতাওয়াতির কেরাআত হিসেবে গণ্য করা হয়।

৪. হাসান বসরী (মৃত্যু: ১১০ হি.) - বসরা।
৫. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাইসিন (মৃত্যু: ১২৩ হি.) - মক্কা।
৬. ইয়াহইয়া বিন মুবারক ইয়াযীদী (মৃত্যু: ২০২ হি.) - বসরা।
৭. আবুল ফারাজ শানাৰুযী (মৃত্যু: ৩৮৮ হি.) - বাগদাদ।
এই চারজনের কেরাআতকে শাজ কেরাআত বলা হয়। এভাবে মুতাওয়াতির ও শাজ মিলে মোট ১৪ কেরাআত হয়।

টিকাঃ
৯১. ইনি কারী হামযার রাবী।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কেরাত ও তাজবীদ বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থ

📄 কেরাত ও তাজবীদ বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থ


১. আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন আব্বাস-ইবনে মুজাহিদ তামীমী রহ. (ম: ৩২৪ হি.) এর সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাব। মূলত তার কিতাবে সাত কেরাত উল্লিখিত হওয়ার কারণেই সাধারণভাবে সাত কেরাত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
২. মুসা বিন উবাইদুল্লাহ খাকানী (ম: ৩২৫ হি.) রচিত গ্রন্থ। এটি তাজবীদ বিষয়ক সর্বপ্রথম কিতাব। কিতাবটি ‘আল-কাসীদাতুল খাকানিয়্যা’ নামে পরিচিত।
৩. আবু আলী হাসান বিন আহমাদ ফারিসী (ম: ৩৭৭ হি.) রচিত ‘আল-হুজ্জাহ’। এটি ইবনে মুজাহিদ তামীমী রচিত সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪. উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আসাদী (ম: ৩৮৭ হি.) রচিত ‘আল-মুফসসিহ ফিল কিরাআ-ত’ (المفصح في القراءات)।
৫. মক্কী বিন আবু তালিব (ম: ৪৩৭ হি.) রচিত الرعاية لتجويد القراءة وتحقيق اللفظ - নাম থেকেই কিতাবের ধরণ বোঝা যায়। উল্লেখ্য, মক্কী বিন আবু তালিবের সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাবও রয়েছে, তার নাম ‘আত-তাবসিরা’।
৬. উসমান বিন সাঈদ দানী (ম: ৪৪৪ হি.) রচিত "التيسير في القراءات السبع" - এটি সাত কেরাত-বিষয়ক কিতাব।
৭. আবু তাহের ইসমাঈল বিন খালাফ আনসারী (ম: ৪৫৫ হি.) রচিত "العنوان في القراءة" - এটিও সাত কেরাত-বিষয়ক।
৮. আবু মুহাম্মাদ কাসেম বিন ফীররুহ শাত্বেবী (ম: ৫৯০ হি.) রচিত "حرز الأماني وجه التهاني" - এটি ‘আল-কাসীদাতুশ শাত্বিবিয়্যা’ নামে প্রসিদ্ধ। এই কিতাবকে সাত কেরাত বিষয়ে সর্বোৎকৃষ্ট কিতাব গণ্য করা হয়। কিতাবটির অনেক শারাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রয়েছে।
৯. ইবনুল জাযারী আদ-দিমাশকী (মৃ: ৮৩৩ হি.) রচিত النشر في القراءات العشر 'আল-আশার'। এটি দশ ক্বিরাত-সংবলিত ফতোয়া।
১০. শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বান্না (মৃ: ১১১৭ হি.) রচিত 'إتحاف فضلاء البشر بالقراءات الأربعة عشر'। এটিতে চৌদ্দ ক্বিরাতের সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিকাঃ
¹১. উসুলুল কুরআন, মুফতি তাকি উসমানী, পৃ: ২৩১।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআনের খেদমত বিষয়ক টুকরো তথ্য

📄 কুরআনের খেদমত বিষয়ক টুকরো তথ্য


* হিজরী ১৪ সনে হযরত ওমর রাযি. জামাতের মাধ্যমে তারাবীতে কুরআন খতম করার প্রচলন করেন।³⁰
* হযরত ওসমান রাযি. এর আমলে মুসহাফে নুকতা বা হরকত দেয়া হয়নি। তখন এগুলোর প্রচলনও ছিলো না। আরবীভাষী হওয়ার কারণে সাহাবীদের এগুলো প্রয়োজনও হয়নি।
* সর্বপ্রথম মুসহাফে নুকতা সংযোজন করেন, এক মতে বিশিষ্ট তাবেয়ী আবুল আসওয়াদ দুআলী রহ. ও আরেক মতে কুফার গভর্নর যিয়াদ বিন আবু সুফিয়ান।³¹
* সর্বপ্রথম মুসহাফে হরকত সংযোজন করেন, এক মতে আবুল আসওয়াদ দুআলী ও আরেক মতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।³²
* হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যুগে সম্পূর্ণ কুরআন শরিফকে ত্রিশ পারায় ভাগ করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক পারাকে রুব্' (এক চতুর্থ্যাংশ), নিসফু (অর্ধেক) ও সালাসাাতু আরবা' (তিন চতুর্থ্যাংশ) তে ভাগ করা হয়।³³

টিকাঃ
³⁰. আল-আওয়াইল, আসকারি, পৃ: ৪১।
³¹. কুরআনুল মালুমাৎ: মুহাম্মাদ তাহিরিব প: ১১৪।
³². প্রাগুক্ত।
³³. মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া, ১৩/৪০৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px