📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআন বোঝায় সহায়ক আরও কিছু কিতাব

📄 কুরআন বোঝায় সহায়ক আরও কিছু কিতাব


১. আসবাবুন নুযুল, লেখক: আল্লামা আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ ওয়াহেদী, মৃত্যু: ৪৬৮ হি.।
২. লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুজুল, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.।
৩. আল-নাসিখ ওয়াল মানসূখ, লেখক: আল্লামা আবূ জাফর নাহ্হাস, মৃত্যু: ৩০৪ হি.। এ বিষয়ে আরও অনেকের কিতাব রয়েছে।
৪. আল-মুফরাদাত ফি গারীবিল কুরআন, লেখক: আল্লামা রাগেব আসফাহানী, মৃত্যু: ৫০২ হি.।
৫. ইরাবুল কুরআন ওয়া বায়ানূহু, লেখক: শাইখ মহিউদ্দীন দরবেশ। এটি এ বিষয়ে আধুনিককালে লেখা কিতাব এবং সবচেয়ে সুবিখ্যাত। ইরাবুল কুরআন বিষয়ে পূর্ববর্তী অনেক আলেমেরও কিতাব রয়েছে।
৬. আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.। উসুলুল কুরআন বিষয়ক আরও অনেকের কিতাবের মধ্যে সাম্প্রতিককালে লেখা মা’আ আল ক্বাতানের ‘মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন’ও রয়েছে, যা সহজবোধ্য ও সুবিখ্যাত।
৭. কাসাসুল কুরআন, লেখক: মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবী, মৃত্যু: ১৩৯২ হি.। এ কিতাবে কুরআনে বর্ণিত ঘটনাবলীর বিশদ বিবরণ রয়েছে।
৮. আতলাসুল কুরআন, লেখক: ড. শাওকী আবূ খলীল। এ কিতাবে কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন স্থান ও ঘটনার মানচিত্র দেখানো হয়েছে।

টিকাঃ
” আত্তাক, পৃষ্ঠা ২১৫।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআন অনুবাদের কয়েকটি মূলনীতি

📄 কুরআন অনুবাদের কয়েকটি মূলনীতি


১. কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার নিজ কথা হিসেবে উদ্ধৃত ‘عسى’ ও ‘لعل’ শব্দদুটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে تَعْلِيلٌ বা কারণ-বর্ণনার অর্থ দেয়। তবে যেখানে মানুষের কথার বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো ভিন্ন।
২. কুরআনে ব্যবহৃত ‘كان’-এর ৫ ধরনের অর্থ হতে পারে:
(ক) চিরকাল আছে ও থাকবে- এমন অর্থ। যেমন, وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
(খ) পূর্বে ছিল, এখন নেই- এমন অর্থ। যেমন, وَكَানَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ
(গ) বর্তমানে আছে- এমন অর্থ। যেমন, كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ
(ঘ) ভবিষ্যতে হবে- এমন অর্থ। যেমন, يخافون يوما كان شره مستطيرا।
(ঙ) রূপান্তরিত হয়েছে (صار)- এমন অর্থ। যেমন, وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس أبى واستكبر وكان من الكافرين
৩. কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার জন্য ব্যবহৃত বহুবচনের যমীরগুলোর অনুবাদ একবচনে হওয়া চাই। কারণ, আরবীতে সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও বাংলায় তেমনটি নেই।⁷⁶
৪. কুরআনে কারীমের অনুবাদগ্রন্থের সাথে প্রয়োজনীয় টীকা সংযুক্ত থাকা কাম্য। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু অনুবাদ ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।

টিকাঃ
৭৬. মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারি ২০১৫।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের প্রথম অনুবাদক

📄 বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের প্রথম অনুবাদক


১. বাংলা — জনাব গোলাম আকবর — ১৮৬৬ খ্রি.
২. উর্দু — আব্দুস সালাম মুহাম্মদ — ১৮২৬ খ্রি.
৩. ফার্সি — কামালুদ্দীন হুসাইন — ১৬০৭ খ্রি.
৪. হিন্দি — আহমদ শাহ মাসিহী — ১৯১৬ খ্রি.
৫. কাশ্মীরী — মুহাম্মদ ইয়াহইয়া শাহ — ১৯৩৭ খ্রি.
৬. ইংরেজি — আলেকজান্ডার রোস — ১৬৪৮ খ্রি.
৭. জার্মান — সলোমান ক্লেইজার — ১৬৪৭ খ্রি.
৮. ফরাসি — আন্দ্রে ডুরৈয়ার — ১৬৪৭ খ্রি.
৯. ইতালিয়ান — আন্দ্রে জ্যারি ভারিনি — ১৬৪৭ খ্রি.
১০. রুশ — পিওটর ভি পোস্টনিকভ — ১৭১৬ খ্রি.
১১. চীনা — টিয়ের লি — ১৮২৯ খ্রি.
১২. কোরিয়ান — মং সান কিম — ১৯৭১ খ্রি.
১৩. আফ্রিকান — ইসমাইল আব্দুর রাজ্জাক — ১৯৮০ খ্রি.
১৪. সুদান — এইচ কামরুদ্দীন সালেহ — ১৯৮১ খ্রি.
১৫. রুমানিয়ান — ইউসুফ কুল — ১৯৮২ খ্রি.

টিকাঃ
৭৭. জনাব গোলাম আকবর শুধু আমপারার অনুবাদ করেছিলেন। এরপর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া ১৮৮৬ সালে শুধু আমপারার অনুবাদ করেন। মওলভী নাছীরুদ্দীন নামক একজন আলেম অনুবাদ শুরু করেছিলেন ১৮৮৭ সালে। কিন্তু অনুবাদ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রথম সম্পূর্ণ কুরআনের অনুবাদ করেন গিরিশ চন্দ্র সেন; ১৮৯১ সালে। তবে তাঁর অনুবাদে বেশকিছু সমস্যা ছিলো। যেমন, তিনি ‘আল্লাহ্’ শব্দের অর্থ লিখেছেন ‘ঈশ্বর’; ‘রাহীম’ অর্থ করেছেন ‘রাম’। এ ছাড়া তাঁর অনুবাদে অনেক আয়াতের অর্থও বিকৃত হয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে যিনি প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি হলেন মাওলানা আব্বাস আলী। তিনি অনুবাদ শুরু করেন ১৮৯৪ সালে। - তারীখু তারাজিমাতি মাফানিল কুরআনিল কারীম ইলা লুগাতিন উখরা।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআনের উল্লেখযোগ্য বঙ্গানুবাদ

📄 কুরআনের উল্লেখযোগ্য বঙ্গানুবাদ


১. আল কুরআনের বঙ্গানুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এটি দক্ষ ওলামায়ে কেরাম ও বাংলা ভাষায় পণ্ডিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড-কর্তৃক অনূদিত। সাম্প্রতিককালে এই অনুবাদ নির্ভরযোগ্য বলেই ওলামায়ে কেরাম মনে করেন।
২. আসান তরজমায়ে কুরআন। এটি মুফতি তাকি উসমানী দা. বা. এর উর্দু অনুবাদ থেকে বঙ্গানুবাদকৃত। বঙ্গানুবাদ করেছেন মাওলানা আব্দুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। এর সাথে ‘তাওযীহুল কুরআন’ নামে মুফতি তাকি উসমানী দা. বা. এর সংক্ষিপ্ত তাফসীরও সংযুক্ত রয়েছে।
৩. তাফসিরে বুরহানুল কুরআন। এটি হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান দা. বা. এর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন-কর্তৃক অনূদিত। সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় টীকা ও আয়াতের সাথে সম্পর্কিত আহকাম ও ফিকাহ। এই অনুবাদের বৈশিষ্ট্য হল, তা আয়াতের তারকিবের দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে, যাতে তরজমা বুঝতে ছাত্রদের সুবিধা হয়। তরজমায়ে কুরআনের ছাত্রদের জন্য এই অনুবাদ যথেষ্ট উপকারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px