📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 ওহী-লেখক সাহাবীদের নামের তালিকা

📄 ওহী-লেখক সাহাবীদের নামের তালিকা


১. হযরত উসমান গণী রাযি.
২. হযরত আলী মুরতাযা রাযি.
৩. হযরত আব্দুল্লাহ বিন সা'দ বিন আবূ সারহ রাযি.⁶¹
৪. হযরত উবাই বিন কা'ব রাযি.
৫. হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি.
৬. হযরত মুআবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান রাযি.
৭. হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.
৮. হযরত ওমর ফারুক রাযি.
৯. হযরত খালেদ বিন সাঈদ বিন আস রাযি.
১০. হযরত হানজালা বিন রবী' আসাদী রাযি.
১১. হযরত মুআইকীব বিন আবূ ফাতেমা রাযি.
১২. হযরত যুবাইর বিন আওয়াম রাযি.
১৩. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আরকাম রাযি.
১৪. হযরত শুরাহবীল বিন হাসনাহ রাযি.
১৫. হযরত আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা রাযি.
১৬. হযরত আবান বিন সাঈদ রাযি.
১৭. হযরত মুগীরা বিন শো'বা রাযি.
১৮. হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ রাযি.
১৯. হযরত সাবেত বিন কায়েস রাযি.
২০. হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাযি.
২১. হযরত আমের বিন ফুহায়রা রাযি.
২২. হযরত ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান রাযি.
২৩. হযরত আলা বিন হাজরামী রাযি.
২৪. হযরত আমর বিন আস রাযি.
২৫. হযরত মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাযি.
২৬. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালূল রাযি.⁵²

(সূত্র: আসসীরাতুল হালাবিয়্যা ৭/৩৭)

টিকাঃ
৬০. অনেকের মতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখকের সংখ্যা ২৬ জন; তবে তাঁদের সবাই ওহী লেখতেন কিনা- তা নিশ্চিত নয়। তবে যেহেতু তাঁরা লিখতে জানতেন তাই প্রবলতম সম্ভাবনা হলো, কোনো না কোনো সময় নিশ্চয়ই তাঁরা ওহী লিখেছেন। এখানে উল্লেখিতদের মধ্যে প্রথমজন ওহী লেখায় বিশেষ প্রসিদ্ধি পেয়েছেন।
৬১. ইনি প্রাথমিক যুগে কিছুদিন ওহী লিখে একসময় মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন বলে বেড়াতেন, 'মুহাম্মদের ওহী লেখায় আমি উল্ট-পাল্ট করতাম; আর তিনি বলতেন, 'তোমার যেভাবে ইচ্ছে লিখ।' পরে ফতহে মক্কার পর আবার তিনি মুসলমান হন। -আসসীরারুল হালাবিয়া ১/৩৬১।
৫২. প্রসিদ্ধ মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের পুত্র।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 ক্বারী সাহাবীদের নাম

📄 ক্বারী সাহাবীদের নাম


১. হযরত উসমান বিন আফফান রাযি.
২. হযরত আলী বিন আবু তালেব রাযি.
৩. হযরত উবাই বিন কা'ব রাযি.⁵⁴
৪. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি.
৫. হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি.
৬. হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি.
৭. হযরত আবুদ দারদা রাযি.⁵³

টিকাঃ
৫৩. দেখুন: তাবাকাতুল ক্বুরা, আল্লামা যাহাবী, পৃ: ৫-১১।
৫৪. হযরত উবাই বিন কা’ব থেকে বহুসংখ্যক সাহাবি কুরআন শিখেছেন; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, হযরত আবু হুরায়রা, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, হযরত সাবেত বিন ইয়াজিদ প্রমুখ।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 সাহাবীদের মধ্যে যারা হাফেজ ছিলেন

📄 সাহাবীদের মধ্যে যারা হাফেজ ছিলেন


ক. মুহাজিরদের থেকে:
১. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.
২. হযরত ওমর ফারূক রাযি.
৩. হযরত উসমান গণী রাযি.
৪. হযরত আলী রাযি.
৫. হযরত তালহা রাযি.
৬. হযরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাযি.
৭. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি.
৮. হযরত হুযাইফা রাযি.
৯. হযরত সালেম রাযি. (মাওলা আবি হুযাইফা)
১০. হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
১১. হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি.
১২. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি.
১৩. হযরত আমর বিন আস রাযি.
১৪. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাযি.
১৫. হযরত মুআবিয়া রাযি.
১৬. হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাযি.
১৭. হযরত আব্দুল্লাহ বিন সাবেত রাযি.
১৮. হযরত আয়শা রাযি.
১৯. হযরত হাফসা রাযি.
২০. হযরত উম্মে সালামা রাযি।

খ. আনসারদের থেকে:
১. হযরত উবাই বিন কাব রাযি.
২. হযরত মুআজ বিন জাবাল রাযি.
৩. হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি.
৪. হযরত আবূদারদা রাযি.
৫. হযরত মুজামা’ বিন জারিয়া রাযি.
৬. হযরত আনাস বিন মালেক রাযি.
৭. হযরত আবূ যায়েদ রাযি. (হযরত আনাস রাযি. এর আত্মীয়)⁶⁶

টিকাঃ
৫৫. অর্থাৎ সম্পূর্ণ কুরআন যাদের মুখস্থ ছিলো।
৬৬. দেখুন: মানাহিলুল ইরফান ১/১৮১।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআন সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

📄 কুরআন সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


* ১২ হিজরী সনে ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক হাফেজ সাহাবী শহীদ হওয়ার পর হযরত ওমর রাযি. এর পরামর্শে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. বিভিন্নজনের কাছে সংরক্ষিত বিক্ষিপ্ত পান্ডুলিপিগুলো থেকে কুরআন শরিফ এক জায়গায় সংকলিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

* এই সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি. কে। তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে কারও কাছে বিভিন্ন ধাতুতে লিখিত, কারও মুখস্থ- সব সূত্র থেকে সংগ্রহ করে কুরআনে কারীমের একটি সংকলন প্রস্তুত করেন। এক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সাক্ষী-সবুদেরও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়।

* হযরত আবূ বকর রাযি. এর আমলে সংকলিত কুরআনের কপিতে আয়াত ও সুরাগুলোকে ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছিলো। তবে তাতে أَحْرُفٌ سَبْعَةٌ বা আরবের যে কয়টি গোত্রের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিলো, তার সবগুলোই বহাল রাখা হয়েছিলো। এই সংকলিত কপিটির বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার উপর সাহাবায়ে কেরাম একমত হয়েছিলেন।

* হযরত আবূ বকর রাযি. এর সংকলিত কপি ছাড়াও অনেক সাহাবীর কাছে নিজস্ব কিছু কপি ছিলো। সেগুলোর বিন্যাসেও কিছু পার্থক্য ছিলো।

* হযরত আবূ বকর রাযি. এর সংকলিত কপিটি ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছেই ছিলো। তাঁর ওফাতের পর এটি হযরত ওমর রাযি. এর কাছে যায়। তাঁর ইন্তেক্বাল হলে এটি যায় তাঁরই কন্যা হযরত হাফসা রাযি. এর কাছে। পরবর্তীতে হযরত উসমান রাযি. কুরআন সংকলনের ইচ্ছা করলে হযরত হাফসা রাযি. থেকে এই কপিটি চেয়ে নেন এবং প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর আবার ফেরত দেন। মৃত্যু পর্যন্ত এটি তাঁর কাছেই ছিলো। মারওয়ান বিন হাকাম একবার চেয়ে পাঠালেও তিনি দেননি। তাঁর ইন্তেক্বালের পরপরই মারওয়ান হযরত হাফসা রাযি. এর ভাই হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি. এর কাছে আবার সেটা চেয়ে পাঠান। এবার কপিটি তাঁর হস্তগত হলো। কিন্তু কপিটি পাওয়ার পর মারওয়ান সেটি টুকরা টুকরা করে ফেলেন। কারণ হিসেবে বলেন, ‘এই কপি মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।’ বিভ্রান্তির আশঙ্কার কারণ হলো, সেটিতে একাধিক রীতি (سبعة أحرف) উল্লেখ ছিলো, যা হযরত উসমান রাযি. এর কপিতে বাদ দেয়া হয়েছিলো।

* দ্বিতীয় দফায় কুরআন সংকলনের কাজ শুরু করেন হযরত উসমান রাযি.। তখন ইসলাম দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলো; আর কোনো কোনো সাহাবীর ভিন্ন ভিন্ন মুসহাফ⁶⁷ থাকায় একেক অঞ্চলে একেক রীতির তেলাওয়াত চলতে লাগলো। তাই অভিন্ন একটি মুসহাফ প্রবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছিলো। এই প্রয়োজনে থেকেই ২৪ হিজরী সনে হযরত উসমান রাযি. অভিন্ন মুসহাফ প্রচলনের উদ্যোগ নেন।

* হযরত উসমান রাযি. এই কাজের দায়িত্ব দেন চারজন সাহাবীকে। ১. হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি. ২. হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাযি. ৩. হযরত সাঈদ বিন আস রাযি. ৪. হযরত আব্দুর রহমান বিন হারেস রাযি.। তাঁদের কাজ ছিলো, হযরত আবু বকর রাযি. এর যুগে প্রস্তুতকৃত মুসহাফ থেকে অনুলিপি করে নতুন মুসহাফ তৈরি করা এবং সেখানে যে একাধিক রীতি (سبعة أحرف) উল্লেখ ছিলো সেগুলো পরিহার করে শুধু কুরায়েশের (হেজাযের) রীতিতে উল্লেখ করা। সবগুলো রীতি উল্লেখ করলে সাধারণ মুসলমানদের জন্য জটিলতা তৈরি হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়।

* এভাবে চূড়ান্ত মুসহাফ তৈরি হওয়ার পর তাকে আরও চার কপি করে মোট পাঁচ কপি করা হয়। এক কপি হযরত উসমান রাযি. নিজের কাছে রাখেন। আরেকটি সাধারণ মদিনাবাসীর জন্য দিয়ে দেন। আর বাকি তিনটি কুফা, বসরা ও শা'বে পাঠিয়ে সবাইকে এই মুসহাফ অনুসরণের নির্দেশ দেন। এবং এই মুসহাফ ছাড়া যার কাছে যত মুসহাফ ছিলো সব পুড়িয়ে দেয়ার আদেশ দেন। ফলে পুরো মুসলিম জাহানে অভিন্ন মুসহাফ প্রবর্তিত হয়।⁶⁸

টিকাঃ
৬৭. কুরআনের কপিকে মুসহাফ বলা হয়।
৬৮. কেউ কেউ বলেন, মোট আট কপি ছিলো। মক্কা, ইয়ামান ও বাহরাইনেও একটি করে কপি পাঠানো হয়েছিলো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px