📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআন ও বিজ্ঞান

📄 কুরআন ও বিজ্ঞান


পবিত্র কুরআনের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের সম্পর্ক কেমন, সামঞ্জস্যের না বিরোধের, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনেকেই এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ির শিকার হয়ে থাকেন। কোনো কোনো গবেষক বিজ্ঞানের প্রতিটি কথা কুরআন শরীফে প্রয়োগ করতে চান। তারা কুরআন কারীমের কোনো বক্তব্যকে বাহ্যত প্রচলিত বিজ্ঞানের যে-কোনো বক্তব্যের বিপরীত পেলে আয়াতের নতুন ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকেন। যে-কোনোভাবে আয়াতকে বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাই তাদের লক্ষ্য। অপরদিকে কেউ কেউ বিজ্ঞানের প্রতি সামান্যতম মনোযোগ দিতেও আগ্রহী নন। তারা আধুনিক বিজ্ঞানকে সমূলে অস্বীকার করতে চান।

এই দুটি অবস্থানই ত্রুটিপূর্ণ। প্রকৃত কথা হল, বিজ্ঞানের বক্তব্যগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:
১. অকাট্য বিষয়াবলী, যেগুলো পঞ্চ-ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে চাক্ষুষভাবে প্রমাণিত। যেমন, পৃথিবী গোলাকার হওয়া, পৃথিবীর সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা ইত্যাদি। এ বিষয়গুলোতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকে না। বিজ্ঞানের এমন বিষয়গুলোকে তত্ত্ব (law) বলে।
২. ধারণাপ্রসূত বিষয়াবলী, যেগুলো কোনো বিজ্ঞানীর চিন্তা-ভাবনার ফল। এগুলোকে নিশ্চিতরূপে প্রমাণ করা যায় না। ফলে এসব বিষয়ে বিজ্ঞানীরাও কখনও একমত হন, কখনও হন না। যেমন, ডারউইনের বিবর্তনবাদ, বিগব্যাং থিওরি ইত্যাদি। এগুলোকে বলা হয় মতবাদ (theory)।

বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো কখনও কুরআনের বিপরীত হওয়া সম্ভব নয়, আজ পর্যন্ত এমন পাওয়া যায়ও নি। তাই এগুলোকে কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখাতে কোনো সমস্যা নেই, বরং সেটাই কাম্য। এগুলো কুরআনের কুরআনের সত্যতার অন্যতম প্রমাণ। এসব তত্ত্বকে অস্বীকার করা সঠিক নয়। প্রত্যক্ষ বিষয়কে অস্বীকার করা বিবেকের দাবির পরিপন্থী। কিন্তু বিজ্ঞানের মতবাদ বা থিওরি নিজেই নিশ্চিত নয়। সময়ের সাথে সাথে সেগুলো বদলে যায়। এগুলোর কোনোটি কুরআনের বক্তব্যের বিপরীত হলে কিছুই যায়-আসে না। এসব মতবাদকে কুরআনের সাথে মেলাতে যাওয়া এবং সে লক্ষ্যে আয়াতের ব্যাখ্যা হেরফের করা খুবই বিপজ্জনক কাজ। একসময় যখন থিওরি নিজেই বদলে যাবে, তখন ওই ব্যাখ্যাদাতা কী করবেন? আবার আয়াতের নতুন ব্যাখ্যা করবেন? তাই এ বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, কুরআন কোনো বিজ্ঞানগ্রন্থ নয়। বিজ্ঞানের বিষয় বর্ণনা করা তার উদ্দেশ্যও নয়। কুরআন তার নিজ লক্ষ্যে নিজস্ব ধারায় কথা বলেছে। হ্যাঁ, আসমান-জমিন সৃষ্টি, বিভিন্ন নেয়ামতের বিবরণ ও অন্যান্য আলোচনায় বিজ্ঞান- সম্পর্কিত কোনো কোনো বিষয় হয়তো চলে এসেছে, কিন্তু তা এসেছে পার্শ্ব- বিষয় হিসেবে, কুরআনে কারীমের মূল আলোচ্য হিসেবে নয়।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআনের অলৌকিকতা বিষয়ে লিখিত কয়েকটি কিতাব

📄 কুরআনের অলৌকিকতা বিষয়ে লিখিত কয়েকটি কিতাব


১. ই'জাযুল কুরআন, মুহাম্মাদ বিন যায়দ ওয়াসাতী (মৃত: ৩০৭ হি.)
২. আন-নুকাতু ফিল ই'জায, আবুল হাসান আলি বিন হুসাইন আর-রুম্মানী (মৃত: ৩৮৪ হি.)
৩. ই'জাযুল কুরআন, আবূ সুলাইমান হামদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাত্তাবী (মৃত: ৩৮৮ হি.)
৪. ই'জাযুল কুরআন, আবূ বকর বাকিল্লানী (মৃত: ৪০৩)
৫. কিতাবুল আ’দাদ, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন সুরাকা** (মৃত: ৪১০ হি.)
৬. ই'জাযুল কুরআন, আব্দুল কাহের জুরজানী (মৃত: ৪৭১ হি.)
৭. নিহায়াতুল ই'জায ফি দিরায়াতুল ই'জায, ফখরদ্দিন রাযী (মৃত: ৬০৬ হি.)
৮. ই'জাযুল কুরআন, আল্লামা শাকীর আহমাদ উসমানী রহ. (মৃত: ১৩৬৯ হি.)
৯. আল-ই'জাযুল লুগাবী ওয়াল বায়ানী ফিল কুরআন, আলী বিন নায়েফ আশশাহিদ (সমকালীন)
১০. আল-মাওসুয়াতু যাহাবিয়্যা ফি ই'জাযিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ, আহমাদ মুস্তাফা মুতাওয়াাল্লী (সমকালীন)

** তিনি সংক্ষেপিত দিক থেকে কুরআনের অলৌকিকত্ব বর্ণনা করেছেন। (কাশফুয যুনুন)

ফন্ট সাইজ
15px
17px