📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 নাসেখ-মানসুখ

📄 নাসেখ-মানসুখ


'নসখ'-এর আভিধানিক অর্থ অপসারণ করা। পরিভাষায় নসখ হচ্ছে, কোনো শরয়ী হুকুমকে অপর শরয়ী হুকুম দ্বারা বিলুপ্ত করা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এক সময়ের অবস্থা বিবেচনায় কোনো শরয়ী হুকুম দেন, পরে আরেক সময় নিজ প্রজ্ঞা অনুযায়ী ওই হুকুমটিকে রহিত করে নতুন হুকুম দেন। এই কাজটিকে নসখ বলে। যে পুরনো হুকুমটিকে রহিত করা হয়, তাকে মানসুখ বলে আর নতুন হুকুমটিকে নাসেখ বলে।⁸⁰

মুতাকাদ্দিমীন বা প্রথমদিকের মুফাসসিরগণ নসখকে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করতেন। তারা কোনো ব্যাপক হুকুমকে সীমিত করা (تخصيص العام) বা উন্মুক্ত হুকুমকে শর্তযুক্ত করা (تقييد المطلق)-কেও নসখ বলতেন। নসখের অর্থের এই ব্যাপকতার কারণে তাদের মতে মানসুখ আয়াতের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু মুতাআখখিরীন বা পরবর্তী মুফাসসিরদের মতে নসখ বলা হয় কোনো হুকুমকে সম্পূর্ণরূপে রহিত করাকে। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানসুখ আয়াতের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি।

আল্লামা সুয়ূতী রহ. আল-ইতকানে মানসুখ আয়াতের সংখ্যা মাত্র উনিশটি⁸⁴ গণ্য করেছেন। এরপর শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. আল-ফাওযুল কাবিরে আলোচনা করে দেখিয়েছেন, সে উনিশটির মধ্যে মাত্র পাঁচটি আয়াত ছাড়া বাকিগুলোতে নসখ ছাড়া অন্য ব্যাখ্যাও সম্ভব। অর্থাৎ, শাহ ওয়ালীউল্লাহ মানসুখ আয়াতের সংখ্যা মাত্র পাঁচে নামিয়ে আনলেন।

এ বিষয়ে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হল, দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে ওরার সাবেক রোকন মাওলানা আব্দুস সামাদ রাহমানী একটি কিতাব লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'কুরআনে মুহকাম'। কিতাবটিতে তিনি দাবি করেছেন, কুরআনে কারীমের সব আয়াতই মুহকাম তথা মানসুখ নয়। তিনি শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. এর স্থিরীকৃত পাঁচ আয়াতেও নসখ ছাড়া ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রয়োগ করেছেন। 'কুরআনে মুহকাম' কিতাবটি ১৯৮৬ সালে দেওবন্দের মজলিসে মাআরিফুল কুরআন থেকে ছাপা হয়েছে। তার শুরুতে হযরত মাওলানা ক্বারী তাইয়িব রহ. এর অভিমতও রয়েছে। উদ্দেশ্য, মানসুখ আয়াতের সংখ্যা কমানোর এইসব প্রচেষ্টার অর্থ এই নয় যে, নসখ কোনো দূষণীয় বিষয়। বরং এগুলো কুরআনে কারীমকে নিয়ে ওলামায়ে কেরামের অব্যাহত গবেষণার অংশ। তারা শুধু দেখাতে চেয়েছেন, মানসুখ আয়াতগুলোতে এমন ব্যাখ্যাও সম্ভব, যার ফলে নসখের প্রয়োজন পড়ে না।

টিকাঃ
৮০ উলূমুল কুরআন, মুফতি তাকি উসমানী, পৃ: ১৫১।
৮৪ তবে সুয়ূতী রহ. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর মত অনুযায়ী আরেকটি নসখের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা সহ হিসেব করলে সংখ্যা হয় বিশ।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 কুরআনে কারীমের সুরার প্রকারভেদ

📄 কুরআনে কারীমের সুরার প্রকারভেদ


আয়াত-সংখ্যার দিক থেকে পবিত্র কুরআনের সুরাগুলো চার প্রকারে বিভক্ত:

১. আস-সাবউত তিওয়াল অর্থাৎ দীর্ঘতম সাতটি সুরা। এই সাত সুরা দৈর্ঘ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড়। সুরাগুলো এই, ১। বাকারা ২। আলে ইমরান ৩। নিসা ৪। মায়েদা ৫। আনআম ৬। আরাফ ৭। আনফাল ও তাওবা⁸¹।
২. মিউন বা শতকসমূহ। এই সুরাগুলো দৈর্ঘ্যের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তরের। এগুলোর আয়াত-সংখ্যা ১০০ এর বেশি বা তার কাছাকাছি।
৩. মাসানী বা অধিক পঠিত সুরাসমূহ। আয়াতসংখ্যার দিক থেকে এগুলো ‘মিউন’-এর পরবর্তী স্তরে। এই সুরাগুলোর নাম মাসানী (অধিক পঠিত) হওয়ার কারণ, আস-সাবউত তিওয়াল ও মিউনের তুলনায় এগুলো বেশি পড়া হয়ে থাকে।
৪. মুফাসসাল বা অধিক বিভক্ত সুরাসমূহের অংশ। এ অংশ সুরা হুজুরাত থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত। মুফাসসালের সুরাগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:
* তিওয়ালে মুফাসসাল বা মুফাসসালের বড় সুরাসমূহ। এই প্রকার সুরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত।
* আওসাতে মুফাসসাল বা মুফাসসালের মাঝারি সুরাসমূহ। এই প্রকার সুরা তারেক থেকে সুরা লাম ইয়াকুন পর্যন্ত।
* কিসারে মুফাসসাল বা মুফাসসালের ছোট সুরাসমূহ। এই প্রকার সুরা যিলযাল থেকে সুরা নাস পর্যন্ত।⁸²

এই অংশের নাম মুফাসসাল (অধিক বিভক্ত) রাখার কারণ, এই অংশ ছোট ছোট বহুসংখ্যক সুরায় বিভক্ত।⁴⁷

টিকাঃ
৮১ আনফাল ও তাওবার মাঝখানে যেহেতু বিসমিল্লাহ আনা হয়নি, তাই এই দুটি সুরাকে এক সুরাও ধরা হয়ে থাকে।
৮২ মুফাসসালের প্রকারভেদের শুরু ও শেষ সীমা নিয়ে কিছু মতভেদ আছে।
৪৭ দেখুন: মাওয়ারিস ফি উলুমিল কুরআন, মান্না আল কাতান, পৃ: ১০৬-১০৯।

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 নবীদের নামে যে সুরাগুলোর নাম

📄 নবীদের নামে যে সুরাগুলোর নাম


১. সূরা ইউনুস
২. সূরা হুদ
৩. সূরা ইউসুফ
৪. সূরা ইবরাহিম
৫. সূরা মুহাম্মদ
৬. সূরা নূহ

📘 কুরআনের জানা অজানা 📄 যেসব সুরার শুরু حروف مقطعات দিয়ে

📄 যেসব সুরার শুরু حروف مقطعات দিয়ে


হুরূফ মুকাত্তায়াত হলো, বিভিন্ন সুরার শুরুতে উল্লিখিত কিছু হরফ, যেগুলো আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করা হয়। মোট চৌদ্দটি হরফ মুকাত্তায়াত হরফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: ا-ل-ম-ص-র-ك-ه-ي-ع-ط-স-হ-ক-ন। মোট ২৯ টি সুরা মুকাত্তায়াত হরফ দ্বারা শুরু হয়েছে:

১. সূরা বাকারা (الم) - পারা ১
২. সূরা আলে-ইমরান (الم) - পারা ৩
৩. সূরা আ'রাফ (المص) - পারা ৮
৪. সূরা ইউনুস (الر) - পারা ১১
৫. সূরা হুদ (الر) - পারা ১২
৬. সূরা ইউসুফ (الر) - পারা ১২
৭. সূরা রা'দ (المر) - পারা ১৩
৮. সূরা ইবরাহীম (الر) - পারা ১৩
৯. সূরা হিজর (الر) - পারা ১৩
১০. সূরা মারইয়াম (كهيعص) - পারা ১৬
১১. সূরা ত্বা-হা (طه) - পারা ১৬
১২. সূরা শু'আরা (طسم) - পারা ১৯
১৩. সূরা নামল (طس) - পারা ১৯
১৪. সূরা ক্বাসাস (طسم) - পারা ২০
১৫. সূরা আনকাবূত (الم) - পারা ২০
১৬. সূরা রূম (الم) - পারা ২১
১৭. সূরা লুক্বমান (الم) - পারা ২১
১৮. সূরা সাজদাহ (الم) - পারা ২১
১৯. সূরা ইয়াসীন (يس) - পারা ২২
২০. সূরা সোয়াদ (ص) - পারা ২৩
২১. সূরা মু'মিন (حم) - পারা ২৪
২২. সূরা হা-মীম সাজদা (حم) - পারা ২৪
২৩. সূরা শূরা (حم عسق) - পারা ২৫
২৪. সূরা যুখরুফ (حم) - পারা ২৫
২৫. সূরা দুখান (حم) - পারা ২৫
২৬. সূরা জাসিয়া (حم) - পারা ২৬
২৭. সূরা আহক্বাফ (حم) - পারা ২৬
২৮. সূরা ক্বাফ (ق) - পারা ২৬
২৯. সূরা ক্বলাম (ن) - পারা ২৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px