📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 মহাবিচারের দিন

📄 মহাবিচারের দিন


মহাবিচারের দিন কি হবে
হাশরের ময়দানে মানুষ বিচিত্র অবস্থায় উত্থিত হয়ে আসার পর কতো দিন এভাবে থাকবে তা শুধু আল্লাহরই জানা। ওসব অবস্থার কথা আর কারো জানা নেই। আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী হাশরের ময়দানের সব কাজ সমাধার পর আল্লাহ মানুষের পরকালীন জীবনে স্থায়ী জান্নাত বা জাহান্নামে পাঠাবার জন্য আদালত কায়েম করে বিচার করবেন। এটাই মহাবিচারের দিন। এ বিচার দুনিয়ার কোনো বিচার-ফায়সালার পদ্ধতির সাথে তুলনীয় নয়। একমাত্র বিচারক থাকবেন আল্লাহ রব্বুল আলামীন। সেখানে কারো কোনো মামলা উপস্থাপন করার পক্ষ থাকবে না। কারো পক্ষ সমর্থনের জন্য, কারো সাফাই গাইবার জন্য কোনো উকিল মুক্তার ব্যারিস্টার থাকবে না।
মানুষের দুনিয়ায় করা আমলগুলো আগেই মুনকার নাকীর ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। এ অবস্থার ছবি আল্লাহ তাআলা সূরা ক্বাফ-এর ১৮ আয়াতে এভাবে বলেছেন: "مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ " “এমন কোনো শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না যা সংরক্ষিত করার জন্য একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না।” সেই আমলনামা ডিসপ্লে করে দেয়া হবে। তাছাড়া হাত-পা, চোখ, কানসহ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ দিতে থাকবে। মানুষ শুধু অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। নবী-রাসূলগণ তাঁদের উম্মতদের জীবনের কার্যক্রমের সাক্ষ দেবে। কারো ওপর এক বিন্দুও বেইনসাফী করা হবে না। আল্লাহর সকল ওয়াদা অঙ্গীকার পূরণ করা হবে। একজনের অপরাধের জন্য আরেকজনকে দায়ী করা হবে না। সেখানে কেউ কারো কাজে আসবে না। সকলকে একই সাথে এক জায়াগায় হাযির করা হবে। সূরা আলে ইমরানের ৩০ আয়াতে আল্লাহ পাক এ ছবিটি এভাবে এঁকেছেন:
يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَرًا ، وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ آمَدًا بَعِيْدًا ، وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ
“সেদিন নিশ্চয়ই আসবে, যখন প্রত্যেকটি ব্যক্তিই নিজের কৃতকর্মের ফল পাবে, সে ভাল কাজই করুক, আর মন্দই করুক। সেদিন প্রত্যেকেই এ কামনা করবে যে, এ দিনটি যদি তার নিকট হতে বহুদূরে থাকতো, তবে কতই না ভালো হতো। আল্লাহ তোমাকে তাঁর নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকামী।”
সূরা আল ইনফিতারের ১৫-১৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন :
يُصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَ وَمَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ، ثُمَّ مَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٍ لِنَفْسٍ شَيْئًا ، وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ
“বিচারের দিন সেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তা থেকে কক্ষণই অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। আর তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি ? হ্যাঁ, তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি ? এটা সেদিন যখন কারো জন্য কিছু করার সাধ্য কারো হবে না। সেদিন ফায়সালার চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারেই হবে।”
কারো পক্ষে কোনো কিছু করার কোনো শক্তি থাকবে না। সূরা আত তারিকের ৯-১০ আয়াতে এ চিত্রটি আল্লাহ পাক এভাবে তুলে ধরেছেন :
يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرِ
“যেদিন গোপন অজানা তত্ত্বসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে, তখন মানুষের নিকট না নিজের কোনো শক্তি থাকবে, না কোনো সাহায্যকারী তার জন্য আসবে।"
সেদিন খাটি বিচার হবে
সেদিন কৌশল করে, বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ও তীক্ষ্ণ যুক্তিতর্ক দিয়ে বিচারের রায় কোনো দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। এ ছবি আল্লাহ সূরা আয যুমারের ৬৮-৬৯ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে :
ونُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ
بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتٰبُ وَجَائَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ .
"আর সেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। আর তারা সবাই মরে যাবে, যারা আকাশজগত ও যমীনে আছে, সে লোকদের ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ জীবন্ত রাখতে চান। পরে আর একবার শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সহসা সকলেই উঠে দেখতে শুরু করবে পৃথিবী তার আল্লাহর নূরে ঝলমল করে উঠবে। আমলনামা সামনে এনে রাখা হবে। নবী-রাসূল ও সকল সাক্ষীদেরকে উপস্থিত করা হবে। লোকদের মধ্যে যথাযথভাবে সত্য সহকারে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের ওপর কোনো যুলম করা হবে না।"
সূরা আল মু'মিনের ১৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ، لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ ، إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ .
"আজ প্রত্যেকটি প্রাণীকেই তার উপার্জনের প্রতিফল দেয়া হবে। আজ কারো ওপর যুলম করা হবে না। আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহ খুব ক্ষীপ্র।"
সূরা আল কাহফ্ফের ৪৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَوُضِعَ الْكِتَبُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يُوَيْلَتَنَا مَالِ هُذَا الْكِتٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصُهَا ، وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ، وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا .
"আর তখন আমলনামা সামনে রেখে দেয়া হবে। তখন তোমরা দেখবে যে, অপরাধী লোকেরা নিজেদের কিতাবে লিখিত সব বিষয় সম্পর্কে খুবই ভয় পাচ্ছে। আর বলছে: হায়রে দুভার্গ্য এটা কেমন কিতাব যে, আমাদের ছোট বড় কোনো কাজই এমন থেকে যায়নি যা এতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি! তারা যে যা করেছিল তা সবই নিজের সামনে উপস্থিত পাবে, আর তোমার আল্লাহ কারো প্রতি এক বিন্দু যুলুম করবেন না।"
সূরা আল মায়েদার ৩৬-৩৭ আয়াতে বলা হয়েছেঃ
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيِّمَةِ مَا تُقْبِلَ مِنْهُمْ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخُرِجِينَ مِنْهَا ، وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ .
"ভালোরূপে জেনে নাও, যারা কুফরী নীতি অবলম্বন করেছে, সমগ্র দুনিয়ার ধন-সম্পদও যদি তাদের করায়ত্ত হয় এবং এর সাথে আরো অতো পরিমাণ একত্র করে দেয়া হয়, আর তারা যদি তা বন্ধক দিয়ে কিয়ামতের দিনের আযাব থেকে রক্ষা পেতে চায়, তবুও তা তাদের নিকট থেকে কবুল করা হবে না। তারা তীব্র যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করতে বাধ্য হবে। জাহান্নামের অগ্নি-গহ্বর থেকে বের হয়ে যেতে চাইবে তারা; কিন্তু তা থেকে তারা বের হতে পারবে না; তাদের জন্য স্থায়ী আযাব নির্দিষ্ট করা আছে।"
সূরা আল মায়েদার ১১৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
قَالَ اللَّهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّدِقِينَ صِدْقُهُمْ ، لَهُمْ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خَلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ، ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"তখন আল্লাহ বলবেন: আজ সেই দিন যেদিন সত্যপন্থীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা কল্যাণদান করবে। তাদের জন্য এমন দালান সজ্জিত হবে যার নিম্নদেশ থেকে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। এখানে তারা চিরদিন থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, আর তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হবে, বস্তুত এটাই বিশাল সাফল্য।"
সূরা আল আনআমের ২৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يُلَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِأَيْتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ .
"হায়! সেই সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে তখন তারা বলবে: হায়। আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর
নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান না করতাম ও ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতাম!"
সূরা আল আনআমের ২৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
بَلْ بَدَا لَهُمْ مَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِنْ قَبْلُ ، وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَذِبُونَ .
"মূলত একথা তারা শুধু এজন্যই বলবে যে, যে সত্যকে তারা আগে ঢেকে ও গোপন করে রেখেছিলো সে সময় তা উন্মুক্ত হয়ে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। তাদেরকে আগের জীবনের দিকেও যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলেও তারা সেসব কাজই করতো যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো বড়ই মিথ্যাবাদী।"
সূরা আল আনআমের ৩০ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ ، قَالَ الَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ ، قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا ، قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
"হায়! তোমরা যদি সেই দৃশ্য দেখতে পারো, যখন এদেরকে তাদের আল্লাহর সামনে দাঁড় করানো হবে তখন তাদের আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করবেন: এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের আল্লাহ! এটা প্রকৃত সত্য। তখন আল্লাহ বলবেন: তাহলে এখন তোমরা প্রকৃত সত্যকে অস্বীকার ও অমান্য করার ফলস্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।"
সূরা আল আনআমের ৭০ আয়াতে বলা হয়েছে:
لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ ، وَإِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لايُؤْخَذْ مِنْهَا ، أُولَئِكَ الَّذِينَ أَبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
"আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করার জন্য কোনো বন্ধু, সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না। আর যদি সম্ভাব্য সকল জিনিস বন্ধক দিয়ে নিষ্কৃতি পেতে চায় তাহলেও তা তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না। কেননা এসব লোক তো নিজেদের কর্মফলের কারণেই ধরা পড়ে যাবে।
সত্যকে অস্বীকার করার পরিণামে তাদেরকে ফুটন্ত গরম পানি পান করার জন্য এ পীড়নকারী আযাব ভোগ করতে দেয়া হবে।"
মহাবিচারের দিন দু ব্যাপারে হিসাব নেয়া হবে। একটি হিসাব নেয়া হবে আল্লাহর হকের ব্যাপারে। আর একটি হিসাব নেয়া হবে বান্দার হকের ব্যাপারে। দুনিয়ার কিছুদিনের জীবন চলার পথে আল্লাহ যেসব নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান বেঁধে দিয়েছিলেন আসমানি কিতাব পাঠিয়ে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে সেসব নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানগুলো সূচারুভাবে মেনে চলাই ছিলো বান্দাহর দায়িত্ব কর্তব্য, এগুলোই আল্লাহর হক। আল্লাহর হকের ব্যাপারে আল্লাহ দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করবেন। তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর হক অনাদায়ীদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন।
আর বান্দাহর হক হলো— বান্দাহর কাছে বান্দাহর দেনা-পাওনা, আচার-আচরণ, বান্দাহর প্রতি বান্দাহর কিছু আল্লাহর প্রদত্ত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা। বান্দাহর হকের ব্যাপারে কোনো বান্দাহ তা পালন করে না চললে এ অপরাধ আল্লাহ মাফ করবেন না। যতোক্ষণ পর্যন্ত যার হক নষ্ট হয়েছে সে তা মাফ না করবে।
সেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না
মহাবিচারের দিন হবে খুবই কঠিন ও সংকটময় মুহূর্ত। নিজের হিসাব নিয়েই নিজে ব্যস্ত। কারো দিকে কারো নজর দেয়ার সুযোগ হবে না। একথাটিই আল্লাহ তাআলা সূরা আল বাকারার ৪৮ আয়াতে অনুপম ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন:
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِى نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةً وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ .
"ভয় করো সেদিনকে, যেদিন কেউ কারো কোনো কাজে আসবে না। কারো সম্পর্কে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোনো কিছুর বিনিময়ে কাউকেও ছেড়ে দেয়া হবে না এবং পাপীদের কোনো দিক থেকেই সাহায্য করা হবে না।"
বিপথে পরিচালনাকারী নেতার অস্বীকৃতি
দুনিয়ায় যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে বিপথে চালিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে তারাও ওইদিন দায় মাথায় নিবে না। এ চিত্রটি কুরআনে
আল্লাহ এভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি সূরা ইবরাহীমের ২১ আয়াতে এভাবে বলেছেন:
وَبَرَزُوا لِلَّهِ جَمِيعًا فَقَالَ الضَّعَفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ ، قَالُوْا لَوْ هَدْنَا اللَّهُ لَهَدَيْنَكُمْ ، سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيْصِ
"আর এ লোকেরা যখন একত্রিত হয়ে আল্লাহর সামনে উন্মোচিত হবে, তখন এদের মধ্যে যারা পৃথিবীতে দুর্বল ছিল তারা যারা বড়লোক বনেছিল তাদেরকে বলবে: দুনিয়ায় আমরা তোমাদের অধীন ছিলাম, এখন তোমরা আল্লাহর আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাবার জন্যও কি কিছু করতে পারো? তারা জবাব দিবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকেই মুক্তির কোনো পথ দেখাতেন তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরও দেখাতাম। এখন আহাজারী করি কি ধৈর্য অবলম্বন করি উভয়ই আমাদের জন্য সমান। আমাদের রক্ষা ও মুক্তিলাভের কোনো উপায়ই নেই।"
সূরা আল আনআমের ৯৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَ كُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكُوا لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَّا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ .
"এখন আমরা তোমাদের সাথে তোমাদের সেই শাফায়াতকারীদেরকেও তো দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা মনে করছিলে যে, তোমাদের কার্যোদ্ধারের ব্যাপারে তাদেরও অংশ রয়েছে। তোমাদের পারস্পরিক সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করতে তা সবই আজ তোমাদের নিকট থেকে বিলীন হয়ে গেছে।"
সূরা আল আনআমের ১২৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
يُمَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِّنَ الْإِنْسِ وَقَالَ أَوْلِيَؤُهُمْ مِّنَ الْإِنْسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا ، قَالَ النَّارُ مَثْلُكُمْ خُلِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ، إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
“হে জিন সমাজ! তোমরা তো মানব সমাজের ওপর খুব বাড়াবাড়ি করলে। মানুষের মধ্যে যারা তাদের বন্ধু ছিল তারা নিবেদন করবে: হে পরোয়ারদিগার! আমরা পরস্পরের দ্বারা খুব ফায়দা লুটেছি এবং এখন আমরা সে অবস্থায় এসে উপস্থিত হয়েছি যা তুমি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলে। আল্লাহ বললেন: আচ্ছা, এখন তোমাদের চূড়ান্ত পরিণাম জাহান্নাম। এখানে তোমরা চিরদিন থাকবে। এটা হতে রক্ষা পাবে কেবল তারাই যাদেরকে আল্লাহ রক্ষা করতে চাইবেন। তোমাদের রব নিসন্দেহে সর্বজ্ঞ ও বিজ্ঞ।”
সূরা আল আরাফের ৮-৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذْنِ الْحَقُّ فَمَنْ تَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ، وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِايْتِنَا يَظْلِمُونَ
“আর ওযন সেদিন নিশ্চিতই সত্য সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে। কেননা তারা আমাদের আয়াতের সাথে যালেমদের ন্যায় আচরণ করছিলো।”
সূরা ইবরাহিমের ২২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَقَالَ الشَّيْطَنُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ ، وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَنٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَسْتَجَبْتُمْ لِي ، فَلَا تَلُومُونِي وَلُوْمُوا أَنْفُسَكُم مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ مِصْرِحَى إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّلِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“আর যখন চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়া হবে তখন শয়তান বলবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, তোমাদের প্রতি আল্লাহ যেসব ওয়াদা করেছিলেন তা সবই সত্য ছিল। আর আমি যত ওয়াদাই করেছিলাম তার মধ্যে কোনো একটিও পুরা করিনি। তোমাদের ওপর আমার তো কোনো জোর ছিল না। আমি এটা ছাড়া আর তো কিছু করিনি—শুধু
এটাই করেছি যে, তোমাদেরকে আমার পথে চলার জন্য আহ্বান করেছি। আর তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছো। এখন আমাকে দোষ দিও না-তিরস্কার করো না, নিজেকেই নিজে তিরস্কৃত করো। এখানে না আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনতে পারি, না তোমরা আমার ফরিয়াদ শুনতে পারো। ইতিপূর্বে তোমরা যে আমাকে খোদায়ীর ব্যাপারে শরীক বানিয়ে নিয়েছিলে, আমি তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। এরূপ যালেমদের জন্য তো কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি নিশ্চিত।”
সূরা ইউনুসের ২৮-২৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন :
يَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنْتُمْ وَشَرَكَاؤُكُمْ : فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُمْ مَّا كُنْتُمْ إِيَّانَا تَعْबुدُونَهُ فَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِنْ كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغْفِلِينَ )
“যেদিন আমরা এ সকলকে একত্রে (আমার বিচারালয়ে) উপস্থিত করবো তখন যারা দুনিয়ায় শিরক করেছে তাদের আমরা বলবো : থাম, তোমরা ও তোমাদের বানানো শরীক মাবুদেরা সকলেই। অতপর আমরা তাদের পারস্পরিক অপরিচিতির আবরণ তুলে ফেলবো। তখন তাদের শরীক মাবুদেরা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদাত করতে না। আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর সাক্ষই যথেষ্ট, আমরা তোমাদের এ ইবাদাত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।”
হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে
ভয়াবহ এ দিনেও কিছু ভাগ্যবান লোক হিসাব নিকাশ ছাড়াই আত্মতৃপ্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি পাবে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন:
يُحْشَرُ النَّاسُ فِي سَعِيدٍ وَاحِدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُنَادِ مُنَادٍ فَيَقُولُ أَيْنَ الَّذِينَ كَانَتْ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ فَيَقُومُونَ وَهُمْ قَلِيلٌ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّتَ بِغَيْرِ حِسَابٍ ثُمَّ يُؤْمَرُ سَائِرُ النَّاسِ إِلَى الْحِسَابِ
"হাশরের দিন মানুষকে একত্রিত করে উঠানো হবে। অতপর একজন আহ্বানকারী চিৎকার করে আহ্বান জানাবে, তারা কোথায়? যাদের
পিঠ বিছানায় লাগতো না। এ আহ্বান শুনে কিছু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। অবশ্য তাদের সংখ্যা হবে খুবই কম। তারপর তারা হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাবে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে অন্যদের হিসাব গ্রহণের।"-বায়হাকী

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 মীযান

📄 মীযান


আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, পরকালের জীবনের শুরু মানুষের মৃত্যু দিয়েই। আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন শেষ হলেই তিনি ইসরাফীলের শিঙার ফুঁকের মাধ্যমে গোটা পৃথিবী ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু লণ্ডভণ্ড ও তছনছ করে দেবেন। যারা দুনিয়ার সৃষ্টির শুরুতে ছিলেন তারা তো মৃত্যুবরণ করেছেন হাজার হাজার বছর আগে। আর যারা কিয়ামতের সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকবে তারা কিয়ামতের দিন মরে যাবে। এবার শুরু হবে কিয়ামতের মাধ্যমে মানুষের পরকালের জীবনের আল্লাহর করে রাখা স্তরের পর স্তর অতিক্রম করার পালা।
ইসরাফীলের তৃতীয় শিঙা ফুঁকার মাধ্যমে মানুষ স্ব স্ব স্থান থেকে উঠে আসবে। সে সময়টার নামই হাশর। সব মানুষ তার দুনিয়ার জীবনের আমল অনুযায়ী এক এক অবস্থায় এক একজন উঠে আসবে আল্লাহর ব্যবস্থাপনায় করে রাখা হাশরের ময়দানে। পূর্বে এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে।
এবার শুরু হবে মানুষের দুনিয়ার জীবনে করে আসা আমলের পরিমাপের জন্য মীযান অতিক্রম করার পালা। মীযান অর্থ হলো দাঁড়ি-পাল্লী। মানুষের নেক কাজ ও পাপ কাজ আল্লাহ তার সামনেই পরিমাপ করে দেখাবেন। মানুষ যেনো বুঝে আজ তার ওপর কোনো যুলুম ও অন্যায় করা হচ্ছে না। যা সে করেছে আজ তাই সে পাচ্ছে। মানুষের নেক ও বদ কাজের পরিমাপ হচ্ছে তা বুঝার জন্য মিযান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিমাপের ধরন কি হবে তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমরা দুনিয়ার জীবনে দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে জিনিস-পত্র পরিমাপ করি। অন্যান্য অনেক জিনিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস মাপি। কাজেই পরকালে পরিমাপ হবে এটা বুঝাবার জন্য আল্লাহ মীযান শব্দ কুরআনেও ব্যবহার করেছেন। সূরা আল আম্বিয়ার ৪৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ، وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ آتَيْنَا بِهَا ، وَكَفَى بِنَا حَسِبِيْنَ
"আমি সঠিক ও নির্ভুল ওযন করার জন্য কিয়ামতের দিন পাল্লা সংস্থাপন করবো। ফলে কোনো লোকের ওপরই এক কণা পরিমাণ
যুলুম করা হবে না। একবিন্দু পরিমাণ কৃতকর্মও সেদিন আমি সামনে নিয়ে আসবো। আর হিসাব সম্পন্ন করার জন্য আমিই যথেষ্ট।”
সূরা লুকমানের ১৬ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَوتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ ، إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيْرُهُ
“কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এরপর তা যদি পাথরের মধ্যে কিংবা আকাশ বা ভূগর্ভেও থাকে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী ও সবজান্তা।”
সূরা আল আ'রাফের ৮-৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِدْنِ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآيَتِنَا يَظْلِمُونَ
“আর ওযন সেদিন নিশ্চিতই সত্য সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে। কেননা তারা আমাদের আয়াতের সাথে যালেমদের ন্যায় আচরণ করছিলো।"
সূরা আল কারিআর ৬-১১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَهُوَ فِي عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ ، وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ، فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ، وَمَا أَدْرَاكَ مَاهِيَهُ نَارٌ حَمِيَةً
"অতপর যার পাল্লা ভারী হবে সে পসন্দ মতো সুখে থাকবে। আর যার পাল্লা হালকা হবে, গভীর গহ্বরই হবে তার আশ্রয়স্থল। তুমি কি জান তা কি জিনিস? জ্বলন্ত আগুন!”
সূরা যিলযালের ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ 8
"কেউ যদি দুনিয়ায় অণু-পরমাণু পরিমাণ সৎকাজ করে হাশরের ময়দানে তা সে দেখতে পাবে। অপর পক্ষে কেউ যদি দুনিয়ায় অণু- পরমাণু পরিমাণ বদ কাজ করে তাও সে সেখানে দেখতে পাবে।" সূরা আন নাহলের ১১১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلَ عَنْ نَّفْسِهَا وَتُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ .
"এসব কিছুরই ফায়সালা সেদিন হবে যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল নিজের বাঁচার চিন্তায় লেগে থাকবে এবং প্রত্যেককেই তার কৃতকর্মের বদলা পুরোপুরি দেয়া হবে। আর কারো ওপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম হতে পারবে না।”
আততারগীব ওয়াততারহীবে উদ্ধৃত হয়েছে: হযরত আনাস রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, কিয়ামতের দিন মীযানের কাছে একজন ফেরেশতাকে নিয়োগ দেয়া হবে। নিজ নিজ আমলের পরিমাপের জন্য মানুষ এ মীযানের কাছে আসবে। এখানে আসার পরই তাকে পাল্লার মাঝ খানে দাঁড় করানো হবে। পরিমাপে তার নেক আমলের পরিমাণ বেশী হলে ফেরেশতারা চিৎকার দিয়ে ঘোষণা করবে অমুক লোক আজ হতে চিরদিনের জন্য ভাগ্যবান হিসাবে চিহ্নিত হলো। আর কোনো দিন সে দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। তার এ উচ্চ স্বরের ঘোষণা সমস্ত সৃষ্টি শুনতে পাবে। আর পরিমাপে তার আমলের পরিমাণ কম হলে একজন ফেরেশতা বিকট শব্দে চিৎকার দিয়ে বলবে। অমুক ব্যক্তি চিরদিনের জন্য বিফল ও ব্যর্থ হয়ে গেলো। সে আর কোনো সময় ভাগ্যবান হবে না। এ চিৎকার ধ্বনীও সমস্ত সৃষ্টি শুনতে পাবে।
হাশরের ময়দানে এভাবে মীযান কায়েম করে আল্লাহ তাআলা মানুষের নেক আমল ও বদ আমলের পরিমাপ তাদেরকে দেখিয়ে দেবেন। কারো পক্ষেই সেদিন আল্লাহর এ সূক্ষ্ম ব্যবস্থার ব্যাপারে কিছু বলার ও করার থাকবে না। অসহায়ের মতো মানুষ শুধু পরকালের জন্য করে রাখা সোপানের পর সোপানের দিকে এগুতে এগুতে চূড়ান্ত ফল জান্নাত ভোগ করার দিকে এগিয়ে যাবে।

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 আদালত

📄 আদালত


আমলনামা
হাশরের ময়দানে মীযান কায়েম করে মানুষের নেক আমল ও বদ আমলের পরিমাপের পর আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের হাতে তার পরিমাপ করা আমলনামা দিয়ে দেবেন। কুরআনের ভাষায় এ আমলনামাকেই কিতাব বলা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানের এ সোপানের ছবি সূরা আল জাসীয়ার ২৮-২৯ আয়াতে এভাবে এঁকেছেন:
كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَبِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ هُذَا كِتَبُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
"প্রত্যেক দলকেই ডেকে বলা হবে, এসো ও নিজ নিজ আমলনামা দেখে নাও। তাদেরকে বলা হবে, আজ তোমাদেরকে সেইসব আমলের বদলা দেয়া হবে যা তোমরা করছিলে। এটা আমাদের তৈরি করা আমলনামা। এটা তোমাদের ব্যাপারে সঠিক ও নির্ভুল সাক্ষ দিচ্ছে। তোমরা যাকিছু করছিলে, আমরা তা লিখে রেখেছিলাম।"
সূরা আল মুজাদালার ৬ আয়াতে এর ছবি আল্লাহ এঁকেছেন এভাবে:
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللهُ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا أَحْصُهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ . وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
"সেদিন হবে, যখন আল্লাহ তাআলা এদের সকলকে পুনরায় জীবিত করে উঠাবেন এবং তারা যাকিছু করে এসেছে তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। তারা তো ভুলে গেছে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের যাবতীয় কৃতকর্ম হিসাব করে সংরক্ষিত করে রেখেছেন। আর আল্লাহ প্রত্যেকটি জিনিসের ব্যাপারে সাক্ষী।"
সূরা যিলযালের ৬-৮ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لا لَيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
“সেদিন লোকেরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফিরে আসবে, যেন তাদের আমল তাদেরকে দেখানো যায়। কেউ যদি দুনিয়ায় অণু-পরমাণু পরিমাণ সৎকাজ করে হাশরের ময়দানে তা সে দেখতে পাবে। অপর পক্ষে কেউ যদি দুনিয়ায় অণু-পরমাণু পরিমাণ বদ কাজ করে তাও সে সেখানে দেখতে পাবে।”
সূরা বনী ইসরাঈলের ১৩-১৪ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ القِيمَةِ كِتبًا يَلْقَهُ مَنْشُورًا اقْرَأْ كِتَبَكَ ، كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا .
“আর কিয়ামতের দিন আমরা একটি লিপিকা তার জন্য প্রকাশ করবো যাকে সে উন্মুক্ত গ্রন্থ হিসেবে পাবে। পড়ো নিজের আমলনামা, আজ নিজের হিসাব ঠিক করার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।”
সূরা আল ইনশিকাকের ৭-১২ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتْبَهُ بِيَمِينِهِ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يُسِيرًا وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا * وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتُبَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ ، فَسَوْفَ يَدْعُوا تُبُوْراهُ وَيَصْلَى سَعِيرًا
“অতপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব সহজভাবে গ্রহণ করা হবে। এবং সে তার আপনজনের দিকে সানন্দচিত্তে ফিরে যাবে। আর যে ব্যক্তির আমলনামা তার পিছন দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে ডাকবে ও জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিপতিত হবে।”
সূরা আল হাক্কার ১৯-২৪ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
. فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتُبَهُ بِيَمِينِهِ لا فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَبِيَهُ ، إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلْقٍ حِسَابِيَهُ ، فَهُوَ فِي عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ ، كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ
“সে সময় অর্থাৎ হাশরের দিন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, দেখ দেখ, পড় আমার আমলনামা। আমি মনে
করেছিলাম যে, আমার হিসাব অবশ্যই পাওয়া যাবে। ফলে তারা বাঞ্ছিত সুখ সম্ভোগে লিপ্ত থাকবে। উচ্চতম স্থানের জান্নাতে। যার ফলসমূহের গুচ্ছ ঝুলে থাকবে। এ লোকদেরকে বলা হবে, স্বাদ নিয়ে খাও, পান করো, তোমাদের সেইসব আমলের বিনিময়ে যা তোমরা অতীত দিনসমূহে করেছো।”
মীযানে নেক পাপের পরিমাপের পর যার ওযনের ফল—আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে তার ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হবে না। সে হাসি খুশী মনে আমলনামা নিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে যাবে। আর যার আমলনামা তার পেছন দিয়ে দেয়া হবে সে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।
আমলনামা হাতে পাবার এ ছবি আল্লাহ পাক সূরা আল হাক্কার ১৯-২০ আয়াতে এভাবে এঁকেছেন:
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتٰبَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتٰبِيَهُ إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلْقٍ حِسَابِيَة
"সে সময় অর্থাৎ হাশরের দিন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, দেখ দেখ, পড় আমার আমলনামা। আমি মনে করেছিলাম যে, আমার হিসাব অবশ্যই পাওয়া যাবে।”
সূরা আল কাহফ্ফের ৪৯ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
وَوُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يُوَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصٰهَا ، وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ، وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا .
"আর তখন আমলনামা সামনে রেখে দেয়া হবে। তখন তোমরা দেখবে যে, অপরাধী লোকেরা নিজেদের কিতাবে লিখিত সব বিষয় সম্পর্কে খুবই ভয় পাচ্ছে। আর বলছে: হায়রে দুভার্গ্য এটা কেমন কিতাব যে, আমাদের ছোট বড় কোনো কাজই এমন থেকে যায়নি যা এতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি! তারা যে যা করেছিল তা সবই নিজের সামনে উপস্থিত পাবে, আর তোমার আল্লাহ কারো প্রতি এক বিন্দু যুলুম করবেন না।”
শাফাআত
আমলনামা হাতে আসার পর কোনো কোনো মু'মিন নেক আমলের জন্য আটকে গেলে জান্নাতে প্রবেশের ফায়সালা না পেলে আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কিছু নেক বান্দা তাদের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। এ সুপারিশে ঈমানদারগণই উপকৃত হবেন। এখানে স্মরণ রাখতে হবে হাশরের ময়দানে সুপারিশের যোগ্য হবেন মু'মিনরা। কাফির মুশরিকদের জন্য কোনো সুপারিশ নেই।
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিনদল লোক শাফাআত করতে পারবেন: (১) নবী-রাসূলগণ (২) আলেমগণ, (৩) শহীদগণ।
তবে শাফাআত বা সুপারিশ করা খুবই কঠিন ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা সূরা আল বাকারার ২৫৫ আয়াতে এ চিত্র এঁকেছেন এভাবে:
مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ .
"কে এমন আছে যে, তাঁর দরবারে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারে?"
সূরা ত্বা-হার ১০৯ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
يَوْمَئِذٍ لا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ آذَنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَرَضِي لَهُ قَوْلاً
"সেদিন শাফাআত কার্যকর হবে না, অবশ্য স্বয়ং রহমান কাউকে তার অনুমতি দিলে এবং তার কথা শুনতে পসন্দ করলে অন্য কথা।"
সূরা আল মু'মিনের ১৮ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
مَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ
"যালেমদের কেউ দরদী বন্ধু হবে না, না এমন কোনো শাফাআতকারী, যার কথা মেনে নেয়া হবে।"
সূরা আনআমের ৯৪ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَ كُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيْكُمْ شُرَكَؤُوا ، لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَّا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ
"এখন আমরা তোমাদের সাথে তোমাদের সেই শাফাআতকারীদেরকেও তো দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা মনে করছিলে যে, তোমাদের
কার্যোদ্ধারের ব্যাপারে তাদেরও অংশ রয়েছে। তোমাদের পারস্পরিক সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করতে তা সবই আজ তোমাদের নিকট থেকে বিলীন হয়ে গেছে।"
সূরা আন নাজমের ২৬ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে:
لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى .
"তাদের শাফাআত কোনো কাজেই আসতে পারে না যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষে তার অনুমতি দিবেন, যার জন্য তিনি কোনো আবেদন শুনতে ইচ্ছা করবেন এবং তা পসন্দ করবেন।"
পুলসিরাত
আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, আখিরাতে হাশরের ময়দানের চারদিকে জাহান্নামকে দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে। হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত দীর্ঘ সেতু বা পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। এ পুলসিরাত হবে চুলের চেয়ে চিকন তরবারীর চেয়ে ধারালো। সকলকেই এ পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতে পৌঁছতে হবে।
সূরা মারইয়ামের ৭১ আয়াতে এ বিষয়টিকে এভাবে চিত্রিত করেছেন:
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا ، كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, জাহান্নামের ওপর উপস্থিত হবে না। এটাতো একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকৃত কথা। একে পুরা করা তোমার আল্লাহর দায়িত্ব।”
নেক আমলকারী যারা ডান হাতে আমলনামা পাবে তারা সহজেই চোখের পলকে পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতে চলে যাবে। আর বদ আমলকারীরা বাম হাতে বা পেছনের দিক দিয়ে আমলনামা পাবে। তারা পুলসিরাত পার হতে পারবে না। হাত-পা কেটে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সেদিন ঈমানের নূর ছাড়া আর কোনো নূর থাকবে না।
সূরা আল হাদীদের ১২-১৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ يَسْعَى نُورُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ شربكُمُ الْيَوْمَ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خَلِدِينَ فِيهَا ، ذَلِكَ هُوَ
الْفَوْزُ الْعَظِيمُ يَوْمَ يَقُولُ الْمُنْفِقُونَ وَالْمُنْفِقتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انْظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُّوْرِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا ، فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ ، بَاطِنُهُ فِيْهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ .
"সেদিন যখন তোমরা মু'মিন পুরুষ ও স্ত্রীলোকদেরকে দেখবে যে, তাদের আলো তাদের সামনে সামনে এবং তাদের ডান দিকে দৌড়াতে থাকে। আজ সুসংবাদ রয়েছে তোমাদের জন্য। জান্নাতসমূহ হবে যেসবের নিম্নদেশে ঝরণাধারাসমূহ প্রবহমান হয়ে থাকবে, যাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো বড় সাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের অবস্থা এই হবে যে, তারা মু'মিন লোকদেরকে বলবে: আমাদের দিকেও একটু দেখ, যেন আমরা তোমাদের আলো থেকে কিছুটা উপকার লাভ করতে পারি। কিন্তু তাদেরকে বলা হবে: পিছনে সরে যাও, অন্য কোথাও থেকে নিজেদের জন্য নূর সন্ধান করে নাও। অতপর তাদের মাঝে একটি প্রাচীরের আড়াল দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে, যাতে একটা দুয়ার থাকবে। সেই দুয়ারের ভিতরে রহমত থাকবে এবং বাইরে থাকবে আযাব।"

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 জান্নাত

📄 জান্নাত


'জান্নাত' শব্দটি আল্লাহ তাআলার ব্যবহৃত একটি শব্দ বা পরিভাষা।
জান্নাত বলতে এমন জায়গাকে বুঝায় যা অনুপম সুখ-শান্তি ও ভোগ বিলাসের জায়গা, যার পরিপূর্ণ বর্ণনা দেয়া কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জায়গাটি আখিরাতের জগতে আল্লাহ পাক দুনিয়ায় তাঁর অনুগত নির্দেশিত পথে চলার লোকদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন।
হাশরের ময়দানে আদালতের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত হয়ে যাবার পর যারা তাদের আমলনামা ডান হাতে পাবে তারা চোখের পলকে পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ জান্নাত মু'মিনদের স্থায়ী নিবাস। এ স্থায়ী নিবাস তথা জান্নাতে তারা হাসি-খুশী, আনন্দ আহলাদে থাকবে।
জান্নাতের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ সূরা আল বাকারার ২৫ আয়াতে বলেছেন:
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ ، كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا ، قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ ، وَأَتُوا بِهِ مُتَشَابِهَا ، وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ، وَهُمْ فِيهَا خَلِدُونَ )
"এবং হে নবী! যারা এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনে এবং নিজেদের কাজকর্ম সংশোধন করে নেয়, তাদের এ সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগিচা নির্দিষ্ট রয়েছে, যেগুলোর নিম্নদেশ থেকে ঝরণাধারা প্রবাহিত থাকবে। এসব বাগীচার ফল বাহ্যত দেখতে পৃথিবীর ফল-সমূহের মতোই হবে। যখনই কোনো ফল তাদের খেতে দেয়া হবে, তখনই তারা বলে উঠবে: এ ধরনের ফলই ইতিপূর্বে পৃথিবীতে আমাদেরকে দেয়া হতো। তাদের জন্য তথায় পবিত্রা স্ত্রী হবে এবং তারা সেখানে চিরদিন থাকবে।"
সূরা আলে ইমরানের ১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خَلِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ ، وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِةُ
"যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করবে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট বাগ-বাগিচা রয়েছে। যার পাদদেশ থেকে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে, পবিত্র রমণীগণ তাদের সাথী হবে। আল্লাহর সন্তোষ লাভ করে তারা ধন্য হবে। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাঁর বান্দাদের ওপর গভীর দৃষ্টি রাখেন।"
সূরা আলে ইমরানের ১৩৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
"সেই পথে তীব্র গতিতে চলো যা তোমাদের আল্লাহর ক্ষমা এবং আকাশ ও পৃথিবীর সমান প্রশস্ত জান্নাতের দিকে চলে গেছে। যা সেই আল্লাহভীরু লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।"
সূরা আলে ইমরানের ১৩৬ আয়াতে আছে:
أولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَّغْفِرَةً مِّنْ رَّبِّهِمْ وَجَنَّتُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خَلِدِينَ فِيهَا ، وَنِعْمَ أَجْرُ الْعُمِلِينَ هُ
"এ ধরনের লোকদের প্রতিফল তাদের আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট রয়েছে। তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন এবং এমন বাগানে তাদেরকে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয় এবং সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। নেক কাজ যারা করে তাদের জন্য কত সুন্দর প্রতিফলই না রয়েছে।"
সূরা আলে ইমরানের ১৯৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
لكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهِمْ لَهُمْ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خَلِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللَّهِ ، وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِه
"পক্ষান্তরে যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবনযাপন করে তাদের জন্য এমন বাগিচা নির্দিষ্ট রয়েছে যার নিম্নদেশ থেকে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হচ্ছে; সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। আল্লাহর নিকট থেকে মেহমানদারীর এটাই সরঞ্জাম তাদেরই জন্য, আর আল্লাহর কাছে যাকিছু আছে নেক লোকদের পক্ষে তাই উত্তম জিনিস।"
সূরা আন নিসার ১৩ আয়াতে তিনি বলেছেন:
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خَلِدِينَ فِيهَا ، وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
“যে লোক আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে তাকে আল্লাহ এমন বাগিচায় দাখিল করাবেন যার নিম্নদেশ থেকে ঝরণাধারা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং এ বাগিচায় সে চিরদিন বসবাস করবে। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে বিরাট সাফল্য।"
সূরা আন নিসার ৫৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ، لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ : وَنُدْخِلُهُمْ ظِلا ظليلاه
"আর যারা আমার আয়াত মেনে নিয়েছে এবং নেক কাজ করেছে তাদেরকে আমরা এমন বাগিচায় প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবহমান থাকবে। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। সেখানে পবিত্রা রমণী পাবে এবং তাদেরকে আমি ঘন ছায়ার আশ্রয় দান করবো।"
সূরা আন নিসার ১২২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ، وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا ، وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلاً
"পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, তাদেরকে আমরা এমন বাগিচায় স্থান দান করবো যার তলদেশে ঝরণাধারা প্রবহমান হবে এবং তারা তথায় চিরদিন অবস্থান করবে। বস্তুত এটা আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি এবং আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?"
আল্লাহ সূরা আল মায়েদার ১২ আয়াতে বলেছেন:
وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ ، فَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيْلِ
"তাদেরকে এমনসব বাগিচায় বসবাস করাবো যার তলদেশ থেকে ঝরণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। কিন্তু তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছে তারা সত্য-সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে।"
সূরা আত তাওবার ২১-২২ আয়াতে বলেছেন:
يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ .
"তাদের রব তাদেরকে নিজের রহমত ও সন্তোষ এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন, যেখানে তাদের জন্য চিরস্থায়ী সুখের সামগ্রী সুবিন্যস্ত রয়েছে।"
সূরা আত তাওবার ৮৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যান রচনা করে রেখেছেন যার তলদেশ থেকে নদ-নদী সতত প্রবহমান। এখানে তারা চিরদিন থাকবে। আর এটা বস্তুতই বিরাট সাফল্য।"
সূরা ইউনুসের ৯-১০ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيْمَانِهِمْ ، تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهُرُ فِي جَنَّتِ النَّعِيمِ دَعْوهُمْ فِيهَا سُبْحْنَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلْمٌ ، وَاخِرُ دَعْوهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ :
"আর এটা সত্য যে, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করতে মশগুল রয়েছে। তাদেরকে তাদের আল্লাহ তাদের ঈমানের কারণে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে, তাদের তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবহমান হবে। সেখানে তাদের ধ্বনি হবে এই: পবিত্র তুমি হে আল্লাহ! তাদের দোআ হবে শান্তি বর্ষিত হোক। আর তাদের সকল কথার সমাপ্তি হবে একথা: সমস্ত তা'রীফ-প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।"
সূরা আর রা'দের ২৩-২৪ আয়াতে তিনি বলেছেন:
جَنَّتُ عَدْنٍ يَدْخُلُوْنَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّتِهِمْ وَالْمَلَئِكَةُ يَدْخُلُوْنَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ ، سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِهِ
"এমন বাগ-বাগিচা, যা তাদের জন্য চিরদিনের বসবাসের জায়গা হবে। তারা নিজেরাও তাতে প্রবেশ করবে, আর তাদের বাপ-দাদা, তাদের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা নেক ও সৎ তারাও তাদের সাথে সেখানে যাবে। ফেরেশতাগণ চারদিক থেকে তাদের সম্বর্ধনার জন্য আসবে। এবং তাদের বলবে : তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক তোমরা দুনিয়ায় যেভাবে ধৈর্য অবলম্বন করেছিলে, তার দরুন আজ তোমরা এর অধিকারী হয়েছো। কাজেই কতোই না উত্তম পরকালের এ ঘর।"
সূরা আর রা'দের ৩৫ আয়াতে বলেছেন:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ، تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ ، أَكُلُهَا دَائِمُ وَظِلُّهَا ، تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَ وَعُقْبَى الْكَفِرِيْنَ النَّارُهُ
"আল্লাহভীরু লোকদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে তার পরিচয় এই যে, তার তলদেশ থেকে নদ-নদী প্রবাহিত হচ্ছে! তার ফল ফলাদি চিরন্তনের এবং তার ছায়া অবিনশ্বর। এটা মুত্তাকী লোকদের পরিণাম। আর সত্য অমান্যকারীদের পরিণতি এই যে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।"
সূরা আন নাহলের ৩১ আয়াতে বলেছেন:
جَنَّتُ عَدْنٍ يَدْخُلُوْنَهَا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُوْنَ . كَذَلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ
"চিরদিন অবস্থানের সব বাগ-বাগিচা, তাতে তারা প্রবেশ করবে। নীচ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত হবে। আর সবকিছু সেখানে ঠিক তাদের মনোবাঞ্ছা অনুযায়ীই সংঘটিত হবে। এ প্রতিফল দেন আল্লাহ মুত্তাকী লোকদেরকে।"
সূরা আল কাহফের ৩১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
أُولَئِكَ لَهُمْ جَنَّتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهُرُ يُحَلَّوْنَ فِيْهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِّنْ سُنْدُسٍ وَاسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكَ ، نِعْمَ الثَّوَابُ ، وَحَسَنَتْ مُرْتَفَقًا "তাদের জন্য চির সবুজ চির শ্যামল জান্নাত রয়েছে যার নিম্নদেশ থেকে ঝরণাধারা সদা প্রবহমান থাকবে। সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের কংকন দ্বারা অলংকৃত করা হবে। সূক্ষ্ম ও গাঢ় রেশমের সবুজ পোশাক তারা পরিধান করবে। এবং উচ্চ মসনদের ওপর তারা ঠেস লাগিয়ে বসবে। আর এটা অতি উত্তম কর্মফল ও উঁচুদরের অবস্থিতির স্থান।"
সূরা মারইয়ামের ৬২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
لا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَمًا ، وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا .
"সেখানে তারা কোনো বেহুদা কথা শুনবে না। যাকিছু শুনবে ঠিকই শুনবে। আর তাদের রিষ্ক তারা নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা লাভ করতে থাকবে।"
সূরা আল হজ্জের ১৪ ও ২৩ আয়াতে বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُه "যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে আল্লাহ তাদেরকে নিসন্দেহে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার নীচে ঝরণাধারা প্রবহমান থাকবে। আল্লাহ তাই করেন যা তিনি ইচ্ছা করেন।"
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ جَنَّتِ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا ، وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرُهُ "যেসব লোক ঈমান এনেছে এবং যারা নেক আমল করেছে তাদেরকে আল্লাহ এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যে সবের নীচে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে যেখানে তাদেরকে সোনার কংকন ও মতির মালা দ্বারা ভূষিত করা হবে। আর তাদের পোশাক হবে রেশমের।"
সূরা আল ফুরকানের ১০ আয়াতে আছেঃ
تَبْرَكَ الَّذِي إِنْ شَاءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِنْ ذَلِكَ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهرُ ، وَيَجْعَلْ لَّكَ قُصُورًا
"বরকতওয়ালা তিনি যিনি চাইলে তাদের প্রস্তাবিত জিনিসগুলোর অপেক্ষাও অধিক কল্যাণময় জিনিস তোমাকে দিতে পারেন। অসংখ্য বাগ-বাগিচাও দিতে পারেন, যার নীচে দিয়ে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়, আর দিতে পারেন, তোমাকে বড় বড় প্রাসাদ।"
সূরা আল ফুরকানের ৭৫ আয়াতে বলেছেন:
وَيُلَقَّوْنَ فِيْهَا تَحِيَّةً وَسَلْمًا .
"সাদর সম্ভাষণ ও শুভ সম্বোধন সহকারে তাদের সম্বর্ধনা হবে।"
সূরা আল ফাতিরের ৩৩-৩৫ আয়াতে বলেছেন:
جَنَّتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا : وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ ، إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ مِّنِ الَّذِي أَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهِ : لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوْب
"চিরকালীন জান্নাতে-যাতে এরা প্রবেশ করবে সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের কংকন এবং মণি-মুক্তায় সজ্জিত করা হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের। আর তারা বলবে: শোকর সেই আল্লাহর, যিনি আমাদের দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। আমাদের রব নিশ্চিতই ক্ষমাদানকারী এবং গুণগ্রাহী। যিনি আমাদেরকে নিজের অনুগ্রহে চিরন্তন বসবাসের জায়গায় এনে দিয়েছেন। এখন এখানে আমাদের না কোনো কষ্ট হচ্ছে, আর না ক্লান্তি লাগছে।”
সূরা ইয়াসীনের ৫৫-৫৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
إِنَّ أَصْحَبَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَكِهُونَ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظُلْلٍ على الأَرَائِكِ مُتَّكِنُونَ لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُمْ مَّا يَدْعُوْنَهُ سَلَّمَ قَف قَوْلاً مِّنْ رَّبِّ رَّحِيمٍ
"আজ জান্নাতী লোকেরা মজা গ্রহণের কাজে মশগুল হয়ে রয়েছে। তারা এবং তাদের স্ত্রীরা ঘন সন্নিবেশিত ছায়ার মধ্যে আসনসমূহের ওপর ঠেস লাগিয়ে রয়েছে। সব রকমের সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয় তাদের জন্য সেখানে মওজুদ রয়েছে। তারা যাকিছুই চাইবে, তাই তাদের জন্য রয়েছে। দয়াময় আল্লাহর তরফ থেকে তাদেরকে সালাম বলা হয়েছে।"
সূরা আস সাফফাতের ৪১-৫০ আয়াতে তিনি বলেছেন:
أُولَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ ، فَوَاكِهُ ، وَهُمْ مُّكْرَمُوْنَ فِي جَنَّتِ النَّعِيمِ عَلَى سُرُرٍ مُّتَقْبِلِيْنَ يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مَّنْ مِعِينَهُ بَيْضَاءَ لَذَّةٍ للشَّرِبِينَ الآفِيْهَا غَوْلٌ وَلَاهُمْ عَنْهَا يُنْزَفُوْنَ وَعِنْدَهُمْ قُصِرْتُ الطَّرْفِ عِيْنَهُ كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يُتَسَاءَلُونَ
"তাদের জন্য জানা-বুঝা রিস্ক রয়েছে, সর্বপ্রকার সুস্বাদু দ্রব্যাদি এবং নেয়ামতে ভরা জান্নাত-যাতে তারা সম্মান সহকারে বসবাস করবে। আসনে মুখোমুখি আসীন হবে। শরাবের ঝরণাসমূহ হতে পানপাত্র পূর্ণ করে তাদের মধ্যে ঘুরানো হবে। তা উজ্জ্বল পানীয় পানকারীদের জন্য সুপেয় সুস্বাদু। না তাদের দেহে তার দরুন কোনো ক্ষতি হবে, না তাদের জ্ঞান বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের নিকট দৃষ্টি সংরক্ষণকারী, সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট নারীগণ হবে। এমন স্বচ্ছ, যেমন ডিমের খোসার নীচে লুকানো ঝিল্লি। পরে তারা পরস্পরের দিকে মুখ ফিরিয়ে একে অপরের অবস্থা জিজ্ঞেস করবে।"
সূরা আস সোয়াদের ৫১-৫৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
مُتَّكِئِينَ فِيهَا يَدْعُوْنَ فِيْهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ وَعِنْدَهُمْ قُصِرْتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِهِ إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَالَهُ مِنْ نَّفَادِهُ
"তাতে তারা হেলান দিয়ে আসীন হয়ে থাকবে। প্রচুর ফল ও পানীয় চেয়ে পাঠাবে। আর তাদের নিকট লজ্জাবনত সমবয়স্কা স্ত্রী থাকবে। এসব জিনিস এমন যা হিসাবের দিন দান করার জন্য তোমাদের
নিকট ওয়াদা করা যাচ্ছে। এটা আমাদের দেয়া রিস্ক, এটা কখনই ফুরিয়ে যাবে না।"
সূরা আয যুমারের ২০ আয়াতে বলেছেন:
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ لَا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَه
"অবশ্য যারা নিজেদের আল্লাহকে ভয় করে চলে, তাদের জন্য উচ্চ ইমারত রয়েছে মনযিলের পর মনযিল বানানো, যেগুলোর নীচে ঝর্ণাধারা প্রবহমান হয়ে থাকবে। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ কখনো নিজের করা ওয়াদার খেলাফ কাজ করেন না।"
সূরা আয যুখরূফের ৭১ আয়াতে বলেছেন:
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيْهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَلِدُونَ
"তাদের সামনে সোনার থালা ও পানপাত্র আবর্তিত হবে, মন ভুলানো ও চোখের আস্বাদের জিনিসসমূহ সেখানে বর্তমান থাকবে। তাদেরকে বলা হবে: এখন তোমরা চিরদিন এখানেই থাকবে।"
সূরা আয যুখরূফের ৭৩ আয়াতে বলেছেন:
لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِّنْهَا تَأْكُلُونَ
"তোমাদের জন্য এখানে বিপুল ফল-ফলাদি রয়েছে, যা তোমরা খাবে।"
সূরা আদ দুখানের ৫১-৫৬ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامِ أَمِينِ فِي جَنَّتَ وَعُيُونٍ يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَاسْتَبْرَقٍ مُتَقْبِلِينَهُ كَذَلِكَ وَزَوَّجْنُهُمْ بِحُورٍ عَيْنٍ يَدْعُوْنَ فِيْهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ أَمِنِيْنَهُ لاَ يَذُوقُوْنَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
"আল্লাহভীরু লোকেরা নিরাপদ স্থানে হবে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে, পাতলা রেশমী ও মোটা রেশমী পোশাক পরিহিত, সামনা-সামনি
আসীন। এটাই হবে তাদের জাঁকজমক। আর আমরা সুন্দরী রূপসী ও হরিণ নয়না নারীদেরকে তাদের স্ত্রী বানিয়ে দিবো। সেখানে তারা পূর্ণ নিশ্চিন্ততায় সর্বপ্রকারের স্বাদপূর্ণ জিনিসসমূহ পেতে চাইবে। সেখানে মৃত্যুর স্বাদ তারা কখনই আস্বাদন করবে না। দুনিয়ায় একবার যে মৃত্যু তাদের হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন।"
সূরা মুহাম্মাদের ১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ، فِيهَا أَنْهَرٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ أَسِنٍ ، وَأَنْهُرُ مِنْ لَّبَن لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ ، وَأَنْهُرٌ مِّنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّرِبِينَ ، وَأَنْهُرٌ مِّنْ عَسَلٍ مُصَفَّى ، وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ ، كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوْا مَاءً جَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَ هُمْ
"মুত্তাকী লোকদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছিল, তার পরিচয়তো এই যে, তাতে ঝরণাধারা প্রবহমান হয়ে থাকবে স্বচ্ছ সুমিষ্ট পানির। ঝরণাধারা প্রবহমান থাকবে এমন দুধের যা কখনও বিস্বাদ হবে না। ঝরণাধারা প্রবহমান থাকবে এমন পানীয়ের যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুপেয় হবে। ঝরণাধারা প্রবহমান হবে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন মধুর। সেখানে তাদের জন্য সর্বপ্রকারের ফল থাকবে এবং তাদের আল্লাহর কাছ থেকে থাকবে ক্ষমা। সেই লোকদের মতো হতে পারে যারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে এবং তাদেরকে এমন উত্তপ্ত পানি পান করানো হবে যা তাদের অন্ত্র পর্যন্ত কেটে দিবে।”
সূরা আত তূরের ১৭-২৭ আয়াতে বলেছেন:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتِ وَنَعِيمِ فَكِهِينَ بِمَا آتَهُمْ رَبُّهُمْ ، وَوَقَهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ مُتَّكِئِينَ عَلَى سُرُرٍ مَّصْفُوفَةٍ ، وَزَوَّجْنُهُمْ بِحُورٍ عِيْنٍ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيْمَانِ الْحَقْنَابِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنُهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَيْءٍ ط كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينَ وَأَمْدَدْنُهُمْ بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لا لغو فِيْهَا وَلَا تَأْثِيمٌ وَيَطُوفُ عَلَيْمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَكْنُونٌ وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَ لُوْنَ قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِى أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقْنَا عَذَابَ السموم .
"মুত্তাকী লোকেরা সেখানে বাগানসমূহে ও নিয়ামত-সম্ভারের মধ্যে অবস্থিত হবে, মজা নিতে ও স্বাদ আস্বাদন করতে থাকবে সেইসব জিনিস থেকে যা তাদের আল্লাহ তাদেরকে দিবেন। আর তাদের আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তাদেরকে বলা হবে খাও ও পান করো স্বাদ ও মজা সহকারে, তোমাদের সেইসব কাজের প্রতিফলরূপে যা তোমরা করেছিলে। তারা সামনাসামনি বসানো আসনসমূহে ঠেস লাগিয়ে বসবে। আর আমরা সুলোচনা হুরদেরকে তাদের সাথে বিবাহ দিবো। যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের কোনো এক মাত্রায় তাদের পদাংক অনুসরণ করেছে; তাদের সেই সন্তানদেরকেও আমরা জান্নাতে তাদের সাথে একত্রিত করবো, আর তাদের আমলে কোনো হ্রাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় উপার্জনের বিনিময়ে গচ্ছিত রাখা আছে। আমরা তাদেরকে সর্বপ্রকারের ফল ও গোশত-যে জিনিসই তাদের মন চাইবে-খুব বেশী বেশী দিয়ে যেতে থাকবো। তারা পানপাত্র পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এগিয়ে এগিয়ে গ্রহণ করতে থাকবে। সেখানে কোনোরূপ হল্লা কোলাহল বা চরিত্রহীন হতে পারবে না। আর তাদের সেবাযত্নে সেইসব বালক দৌড়াদৌড়িতে নিযুক্ত থাকবে যারা কেবলমাত্র তাদের জন্যই হবে। এরা এমন সুন্দর সুশ্রী, যেমন লুকিয়ে রাখা মুক্তা। এরা পারস্পরিকভাবে একে অপরের কাছে দুনিয়ায় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া অবস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তারা বলবে যে, আমরা এর পূর্বে নিজেদের ঘরের লোকদের মধ্যে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জীবনযাপন করছিলাম, শেষে আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং আমাদেরকে ঝলসিয়ে দেয়া বাতাসের আযাব হতে রক্ষা করলেন।"
সূরা আল কামারের ৫৪-৫৫ আয়াতে বলা হয়েছে-
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتٍ وَنَهَرِهُ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلَيْكَ مُّقْتَدِرٍ
"আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকা লোকেরা নিশ্চিতরূপেই বাগানসমূহ ও ঝরণাসমূহের মধ্যে হবে; প্রকৃত সম্মান মর্যাদার স্থানে, মহাশক্তির সম্রাটের নিকট।"
সূরা আর রহমানের ৪৬-৫৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- (বেজোড় আয়াত ছাড়া)
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَنِ ذَوَاتَا أَفْنَانٍ إِنَّ فِيْهِمَا عَيْنِ تَجْرِينِ فِيهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجُنِ مُتَّكِسْنَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ اسْتَبْرَقٍ وَجَنَا الْجَنَّتَيْنِ دَانِ فِيهِنَّ قَصِرْتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِتُهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبْنُ
"আর আল্লাহর সামনে পেশ হবার ভয় পোষণ করে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই দুখানি বাগান রয়েছে। সবুজ সতেজ ডাল-পালায় ভরপুর। দুটি বাগানে দুই ধারা সদা প্রবহমান। উভয় বাগানে প্রত্যেকটি ফলের দুটি রকম হবে। জান্নাতী লোকেরা এমন শয্যার উপর ঠেস লাগিয়ে বসে থাকবে যার আস্তরণ মোটা রেশমের তৈরি হবে। আর বাগানের ডালপালা ফলের ভারে ঝুঁকে পড়া থাকবে। এ নিয়ামতের মধ্যে লজ্জাবনত নয়না ললনারাও থাকবে-তাদেরকে এ জান্নাতী লোকদের পূর্বে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শও করেনি। তারা এমনই সুন্দরী রূপসী যেমন হীরা ও মুক্তা। অতএব তোমরা তোমাদের আল্লাহর কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?"
সূরা আর রাহমানের ৬২-৭৬ আয়াতে বলেছেন (বেজোড় আয়াত ছাড়া)
وَمِنْ دُونِهِمَا جَنَّتْنِ مُنْهَا مَتْنِ فِيهِمَا عَيْنِ نَضَاخَتْنِ فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلُ ورُمَّانَ : فِيهِنَّ خَيْرَتٌ حِسَانٌ حُورٌ مَقْصُورَت فِي الْخِيَامِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ انْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِي حِسَانٍ *
"আর সেই দুটি বাগান ছাড়াও আরও দুটি বাগান হবে। ঘন সন্নিবেশিত সবুজ-শ্যামল সতেজ বাগান। দুটি বাগানে দুই ধারা ঝরণার মতো উৎক্ষিপ্তমান। তাতে বিপুল পরিমাণ ফল, খেজুর ও ডালিম থাকবে। এসব নিয়ামতের মধ্যেই থাকবে সচ্চরিত্রবান ও সুদর্শনা স্ত্রীগণ। তাঁবুসমূহের মধ্যে সুরক্ষিত হুরগণও হবে। এ জান্নাতী লোকদের পূর্বে কেউ কোনো
মানুষ বা জিন তাদেরকে স্পর্শও করেনি। এ জান্নাতবাসী লোকগণ সবুজ গালিচা এবং সুন্দর ও অমূল্য চাদরের উপর ঠেস লাগিয়ে বসবে।”
সূরা ওয়াকেয়ার ১৫-২৬ আয়াতে বলেছেন-
عَلَى سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقْبِلِينَ يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ ، بِأَكْوَابٍ وَآبَارِيقَ ، وَكَأْسٍ مِّنْ مَّعِينٍ هُ لا يُصَدَّعُوْنَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَهُ وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَهُ وَلَحْمٍ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَهُ وَحُورٌ عيْنُهُ كَامْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيْمَاهُ إِلَّا قِيلًا سَلْمًا سَلَمًا
"মণিমুক্তা খচিত আসনসমূহের ওপর হেলান দিয়ে মুখোমুখি হয়ে বসবে। তাদের মজলিসে চিরকিশোররা বহমান ঝরণার সুরায় ভরা পানপাত্র ও হাতলধারী সুরাপাত্র, হাতলবিহীন সুরা পাত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকবে। তা পান করায় তাদের মাথা ঘুরবে না, তাদের বিবেক-বুদ্ধিও লোপ পাবে না। আর তারা তাদের সামনে রকমারী সুস্বাদু ফল পেশ করবে। যেন যেটা পসন্দ সেটাই তুলে নিতে পারে। এটা ছাড়া পাখির গোশতও সামনে রাখবে, যেটির গোশত ইচ্ছা হবে নিতে পারবে। আর তাদের জন্য সুনয়না হুরগণও থাকবে। তারা সুশ্রী-সুন্দরী হবে—লুকিয়ে রাখা মুক্তার মতো। এসব কিছুই সেসব আমলের শুভ প্রতিফল স্বরূপ তারা পাবে, যা তারা দুনিয়ার জীবনে করছিলো। সেখানে তারা কোনো বাজে কথা ও পাপের বুলি শুনতে পাবে না। যে কথাবার্তাই হবে, তা ঠিক ঠিক ও যথাযথ কথা হবে।"
সূরা ওয়াকেয়ার ২৮-৩৭ আয়াতে বলেছেন:
فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ وَطَلْحٍ مَنْضُودِ وَظِلَّ مَمْدُودِ وَمَاء مَّسْكُوبٍ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ َلا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ، وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ إِنَّا أَنْشَأْنُهُنَّ إِنْشَاءُ هُ فَجَعَلْنَهُنَّ أَبْكَارًاهُ عُرُبًا أَتْرَابًا هُ
"তারা কাঁটাহীন কুল বৃক্ষসমূহ, থরে থরে সাজানো কলাসমূহ, বিস্তীর্ণ অঞ্চল ব্যাপী ছায়া, সর্বদা প্রবহমান পানি, শেষহীন অবারিত ও বপুল পরিমাণে পাওয়া যাবে এমন ফল, এবং উচ্চ আসন কেন্দ্রসমূহে অবস্থিত
হবে। তাদের স্ত্রীগণকে আমরা বিশেষভাবে সম্পূর্ণ নতুন করে সৃষ্টি করবো এবং তাদেরকে কুমারী বানিয়ে দিবো। নিজেদের স্বামীদের প্রতি আসক্ত এবং বয়সে সমকক্ষ।"
সূরা আল হাদীদের ২১ আয়াতে বলেছেন:
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
"দৌড়াও ও একে অপর থেকে অগ্রসর হয়ে মেতে চেষ্টা করো, তোমাদের আল্লাহর ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে যার বিশালতা ও বিস্তৃতি আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়, যা প্রস্তুত করা হয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা একান্তভাবে আল্লাহর অনুগ্রহ বিশেষ। এটা তিনি যাকে চান দান করেন। আর আল্লাহই বড়ই অনুগ্রহশীল।"
সূরা আল হাক্কার ২২-২৪ আয়াতে বলেছেন:
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ( قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ..
"উচ্চতম স্থানের জান্নাতে, যার ফলসমূহের গুচ্ছ ঝুলে থাকবে। স্বাদ নিয়ে নিয়ে খাও, পান করো- তোমাদের সেইসব আমলের বিনিময়ে যা তোমরা অতীত দিনসমূহে করেছো।"
সূরা আদ দাহরের ৫-৬ আয়াতে বলেছেন:
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا
"নেক্কার লোকেরা জান্নাতে শরাবের এমনসব পাত্র পান করবে যার সাথে কপূর সংমিশ্রণ হবে। এটা একটি প্রবহমান ঝরণা হবে, যার পানির সাথে আল্লাহর বান্দারা শরাব পান করবে এবং যেখানে ইচ্ছা অতি সহজেই তার শাখা-প্রশাখা বের করে নিবে।"
সূরা আদ দাহরের ১২-২১ আয়াতে বলেছেন:
وَجَزْلُهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا مُّتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ ، لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلْلُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا تَدْلِيلاً وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِانِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَاهُ قَوَارِيرًا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً ، عَيْنًا فِيْهَا تُسمى سَلْسَبِيْلاً وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنْثُورًا وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا عَلَيْهُمْ ثِيَابُ سُنْدُsٍ خضر واسْتَبْرَقٌ ، وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ ، وَسَقْهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا
"আর তাদের ধৈর্য-সহিষ্ণুতার বিনিময়ে তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোশাক দান করবেন। তথায় তারা উচ্চ আসনসমূহে ঠেশ দিয়ে বসবে। তারাদেরকে না সূর্য তাপ জ্বালাতন করবে, না শীতের প্রকোপ। জান্নাতের ছায়া তাদের উপর অবনত হয়ে থাকবে এবং তার ফলসমূহ সর্বদা তাদের আয়ত্তাধীন থাকবে (তারা ইচ্ছামত তা পাড়তে পারবে।) তাদের সামনে রৌপ্য নির্মিত পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা আবর্তিত করানো হবে। সেই কাঁচ যা রৌপ্য জাতীয় হবে এবং সেগুলোকে (জান্নাতের ব্যবস্থাপকরা) পরিমাণ মতো ভর্তি করে রাখবে। তাদেরকে তথায় এমন সূরাপাত্র পান করানো হবে যাতে খুঁটের সংমিশ্রণ থাকবে। এটা হবে জান্নাতের একটি নির্ঝরণী, একে 'সালসাবীল' বলা হয়। তাদের সেবাকাজে এমন সব বালক ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকবে যারা চিরকালই বালক থাকবে। তোমরা তাদেরকে দেখলে মনে করবে, এরা যেন মুক্তা—ছড়িয়ে দেয়া। তথায় যেদিকেই তুমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে, শুধু নিয়ামত আর নিয়ামত এবং একটি বিরাট সাম্রাজ্যের সাজ-সরঞ্জাম তুমি দেখতে পাবে। তাদের উপর সূক্ষ্ম রেশমের সবুজ পোশাক, কিংখাব ও মখমলের কাপড় থাকবে। তাদেরকে রৌপ্যের কংকন পরানো হবে এবং তাদেরকে আল্লাহ পবিত্র পরিচ্ছন্ন শরাব পান করাবেন।"
সূরা আল মুরসালাতের ৪১-৪২ আয়াতে বলেছেন:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَلٍ وَعُيُونَهُ وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ :
"মুত্তাকী লোকেরা আজ ছায়া ও প্রস্রবনে অবস্থান করছে। তারা যে ফলই চাইবে তাই তাদের সামনে উপস্থিত।”
সূরা আন নাবার ৩২-৩৫ আয়াতে বলেছেন:
حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا وَكَأْسًا دِهَاقًا لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّبًا
"বাগ-বাগিচা, আঙুর, ও নবোদ্ভিন্ন সমবয়স্কা মেয়েরা, এবং উচ্ছ্বসিত পানপাত্র। সেখানে তারা কোনোরূপ অপ্রয়োজনীয়, তাৎপর্যহীন ও মিথ্যা কথা শুনবে না।
সূরা আল মুতাফফিফিনের ২২-২৮ আয়াতে বলেছেন:
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ يُسْقَوْنَ مِنْ رَّحِيقٍ مَّخْتُومٍ خِتَمُهُ مِسْكُ ، وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ
"নিসন্দেহে নেক লোকেরা অফুরন্ত নিয়ামতের মধ্যে হবে। উচ্চ আসনের ওপর আসীন হয়ে দৃশ্যাবলী দর্শন করতে থাকবে। তাদের মুখাবয়বে তোমরা স্বাচ্ছন্দের ঔজ্জল্য অবলোকন করবে। তাদেরকে উত্তম-উৎকৃষ্ট মুখবন্ধ শরাব পান করানো হবে। তার ওপর মিল্ক এর সিল লাগানো থাকবে। যেসব লোক অন্যান্যদের ওপর প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চায় তারা যেন এ জিনিস লাভের জন্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চেষ্টা করে। সেই শরাবে তাসনীম মিশ্রিত হবে। এটা একটি ঝর্ণা, তার পানির সাথে নিকটবর্তী লোকেরা শরাব পান করবে।"
সূরা আল গাশিয়া ১০-১৬ আয়াতে বলেছেন:
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ وَأَكْوَابٌ مَوْضُوعَةٌ وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ .
"উন্নত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতে অবস্থান করবে। কোনো বাজে কথা সেখানে শুনবে না। তথায় ঝরণাধারা প্রবহমান হবে; তাতে উচ্চ
আসনসমূহ থাকবে; পানপাত্রসমূহ সুসজ্জিত হবে; ঠেশ বালিশসমূহ সারিবদ্ধ থাকবে এবং মূল্যবান সুকোমল শয্যা বিছানো থাকবে।"
আট শ্রেণীর জান্নাত
নেক আমলের পার্থক্যে মু'মিনের মর্যাদার যে পার্থক্য হবে সেই হিসাবে জান্নাতেরও স্তর বিন্যাস হবে। সেই স্তর হিসাবে জান্নাতের নাম নিম্নরূপ :
(১) জান্নাতুল ফিরদাউস (২) জান্নাতুন নায়ীম (৩) জান্নাতুল মাওয়া (৪) জান্নাতুল আদন (৫) জান্নাতু দারুস সালাম (৬) জান্নাতু দারুল খুলদ (৭) জান্নাতু দারুল মাকাম (৮) জান্নাতুল ইল্লিয়্যূন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00